সম্পাদকীয়

ধান কেনা হবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে

প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১১-২০১৯ ইং ০০:১০:০২ | সংবাদটি ১৭২ বার পঠিত

সোনালী অগ্রহায়ন সামনে। আর কিছুদিনের মধ্যেই বাংলার কৃষক-গৃহস্থ ঘরে ব্যস্ততা শুরু হয়ে যাবে মাঠের ফসল ঘরে তোলার। ঘরে ঘরে হবে নবান্ন উৎসব। পিঠাপুলির আয়োজনে মুখরিত হয়ে উঠবে সবাই। বাঙালির এই চিরায়ত আনন্দ-উৎসবে কিছুটা হলেও ছেদ পড়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। আর সেটা হলো ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া। প্রতিটি মওসুমেই কৃষকদের ধান বিক্রি করতে হচ্ছে উৎপাদনমূল্যের চেয়ে কম মূল্যে। তাছাড়া, সরকার ধান ক্রয় করে যে মূল্যে, সেটাও যথাযথ নয় এবং তা-ও কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হয় না। যে কারণে কৃষকেরা ক্ষতির সম্মুখী হচ্ছেন। এবার অবশ্য কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আর এই উদ্যোগ প্রথমবারের মতো নেয়া হলো বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আসন্ন আমন মওসুমে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ছয় লাখ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। আর তা প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কেনা হবে। সংগ্রহ শুরু হবে আগামী ২০-এ নভেম্বর। অব্যাহত থাকবে ২৮-এ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সরকার বলছে কৃষকের প্রতি নজর রেখে এবার প্রথম আমন ধান সংগ্রহ করা হবে; যা আগে করা হয়নি। ধানের সঙ্গে চাল কেনা হবে ৩৬ টাকা কেজি দরে সেদ্ধ এবং ৩৫ টাকা কেজি দরে আতপ। এই ধরনের চাল চার লাখ টন কেনা হবে মিলারদের মাধ্যমে। এবার আমন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক কোটি ৫৩ লাখ মেট্রিক টন। এবার ধানের উপাদন ব্যয় ২১ টাকা ৫০ পয়সা, এই দাবী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর। সে হিসেবে কৃষকেরা ২৬ টাকা দরে বিক্রি করলে তাদের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে না। খোলা চোখে সরকারের ধারণা ঠিকই আছে। তবে বাস্তবে কৃষকেরা সরাসরি ধান বিক্রির সুযোগ কি আদৌ পাবে? সেটাই বড় প্রশ্ন। সরকার ধান কেনার আগে প্রান্তিক চাষীদের তালিকা তৈরি করে তাদের কাছ থেকে ধান কিনবে। এই তালিকায়ই নিরীহ কৃষকদের স্থলে দালাল ফড়িয়া চক্র প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার আশংকা রয়েছে। তারা ভুয়া কৃষক সেজে প্রান্তিক চাষীদের কাছ থেকে কম মূল্যে ধান-চাল কিনে সরকারের কাছে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করবে বলেই আশংকা করছেন অনেকে।
এ কথা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই যে, আমাদের কৃষিতে একটা বিপ্লব সাধিত হয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। দেশে সার্বিকভাবে কৃষি জমির পরিমাণ দ্রুত কমতে থাকলেও ফসল উৎপাদন বেড়ে চলেছে। বার্ষিক চাল উৎপাদন সাড়ে তিন কোটি মেট্রিকটন ছাড়িয়ে গেছে। আর এই সাফল্য অর্জনের পেছনে অবদান রয়েছে কৃষকদের। তাই কৃষকদের বাঁচাতে হবে। তারা যাতে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এই প্রসঙ্গে উৎপাদন কমানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এবারের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানে যাতে কৃষক নির্বিঘেœ উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারে, সেদিকে নজর দিতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT