সম্পাদকীয়

পেঁয়াজের দাম নিয়ে যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-১১-২০১৯ ইং ০০:৩৬:৪৫ | সংবাদটি ১৮৩ বার পঠিত

একশ টাকার নিচে নামবে না পেঁয়াজের দাম। খোদ বাণিজ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি; তবে পেঁয়াজ একশ টাকার নিচে পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। তবে এ মাসের শেষের দিকে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে আসলে দাম কমবে। তার আগে হয়তো সম্ভব হবে না। তিনি আরও বলেন, ভারত থেখে আমরা মূলত পেঁয়াজ আমদানি করে থাকি। সেখানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। সেখানেই পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি দরে কিনতে হবে। আমাদের দেশে আসার পর তা একশ’ টাকা দর পড়ে যাবে। ফলে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে আপাতত কোন লাভ হবে না। তিনি বলেন, মিশর থেকে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আসার কথা। সেটা আসলেও দাম একটু কমতে পারে বলে মনে হয়। সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায় এই খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর সর্বত্র আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।
পেঁয়াজ নিয়ে দেশে চলছে তুলকালাম কা-। সর্বনি¤œ তেরো-চৌদ্দ টাকায় যে পেঁয়াজ বিক্রি হতো সেটা একশ ৫০, একশ ৬০ টাকায় পৌঁছেছে। ভোক্তা সাধারণের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম লাফিয়ে সর্বোচ্চ চূড়ায় কেন উঠলো, সেটা নিয়ে অনেকে অনেক কথাই বলছেন। প্রধানত ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হওয়ার কারণেই পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে বলে মনে করছেন একটি মহল। ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা রপ্তানী বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ভারত রপ্তানী বন্ধ করলেও আরও একাধিক দেশ পেঁয়াজ রপ্তানী শুরু করে দেয়। দাম বৃদ্ধির সাথে সাথেই বেশ কয়েকটি দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানী শুরু হয়। প্রতি দিনই আসছে পেঁয়াজ বিদেশ থেকে। জানা গেছে, ভারত থেকে রপ্তানী বন্ধের পর থেকে দিনে গড়ে ছয়শত টন পেঁয়াজ আমদানি হতো। বর্তমানে আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে দিনে দেড় হাজার টন-এ পৌঁছেছে। কিন্তু বাজারে এর কোন প্রভাব নেই। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ইতোপূর্বে ভারত থেকে প্রতিটন সাতশ’ দুই ডলার দামে পেঁয়াজ আমদানি করা হতো; বর্তমানে আমদানি হচ্ছে দু’শ থেকে দু’শ ৫০ ডলার-ও। সে হিসেবে প্রতি কেজি পেঁয়াজের আমদানি মূল্য ১৭ টাকা ২১ পয়সা। তাই যদি হয় তবে পেঁয়াজের দাম আমদানি মূল্যের প্রায় দশগুণ দামে কেন কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের, এই প্রশ্নের জবাব পায় না সাধারণ মানুষ।
তবে ব্যবসায়ীরা সি-িকেটের মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে ইচ্ছে মতো, এই অভিযোগটি কোন অবস্থাতেই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। আর দেশের বিভিন্নস্থানে ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যে অপচেষ্টা করেছে, তা তো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে বেরিয়ে এসেছে। সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের দূরভিসন্ধিতেই পেঁয়াজের বাজারে এই আগুন লেগেছে, এমনটি বলা অত্যুক্তি হবে না। আর বাণিজ্যমন্ত্রী পেঁয়াজের দাম একশ টাকার নিচে নামবে না’ বলে ঘোষণা দিয়ে সেই আগুনেই ঘি ঢেলেছেন বলে অনেকে মনে করছেন। এতে করে অসাধু ব্যবসায়ীদেরই উৎসাহিত করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে উচিত হবে ব্যবসায়ীদের সি-িকেট ভেঙ্গে দেয়ার জন্য সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT