সম্পাদকীয়

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-১১-২০১৯ ইং ০১:৩১:৪৮ | সংবাদটি ১৫৮ বার পঠিত

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ। বিশ্ব জুড়ে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর আজকের এই দিনে পালন করা হয় বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব ডায়াবেটিস ফেডারেশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৯১ সালে ১৪ই নভেম্বরকে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস ঘোষণা করে। উল্লেখ করা যেতে পারে, বিত্তশালী ফেডরিক বেনটিং এর জন্ম দিন এই ১৪ই নভেম্বরকেই বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই ফেডরিক বেনটিংই ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইনসুলিন আবিষ্কার করেন। অবশ্য এই ইনসুলিন আবিষ্কারের সঙ্গে আরেকজন বিজ্ঞানী চার্লস বেস্টও সম্পৃক্ত ছিলেন। ডায়াবেটিসকে মানুষের জন্য একটা ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবেই অভিহিত করেছেন বিজ্ঞানীগণ। আর বাংলাদেশে যেহেতু ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে, তাই এখানে দিবসটি পালনের গুরুত্ব অপরিসীম।
এখানে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। নারী-পুরুষ-শিশু সব বয়সী মানুষই এখন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। শহরাঞ্চলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গ্রামাঞ্চলেও এই ঘাতক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। পরিসংখ্যানের তথ্য হচ্ছে দেশে বর্তমানে ৮৪ লাখের বেশি লোক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এর মধ্যে ৪৫ লাখ রোগীকে চিকিৎসা সেবার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না। জরিপে বেরিয়ে আসা আরেকটি ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, আক্রান্ত হয়েও প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষই জানেন না যে তিনি ডায়াবেটিস বহন করছেন। এর মূল কারণ সচেতনতার অভাব। কারণ বড় ধরনের অসুস্থতা ছাড়া এদেশের বেশির ভাগ মানুষই শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অভ্যস্থ নন। বিশ্বের অনেক দেশ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট উদ্যোগী এবং বিভিন্ন মাত্রায় সফল। কিন্তু বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন। ডায়াবেটিসের দীর্ঘকালীন জটিলতায় বাংলাদেশের রোগীরা বেশি ভুগছে। সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে, অতি অল্প বয়সীরা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমানে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দশম স্থানে। রোগী বৃদ্ধির বর্তমান হার অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ হবে বলে আশংকা রয়েছে।
ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ। মানবদেহে ইনসুলিন নামক হরমোনের ঘাটতি হলে কিংবা উৎপাদিত ইনসুলিন কার্যকরভাবে শরীরে ব্যবহৃত না হলে বা শরীরের ইনসুলিন নিস্ক্রিয়তা থাকলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। যা প্র¯্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। এই অবস্থার নামই ডায়াবেটিস। এটি কোন সংক্রামক রোগ নয়; তবে এটি সংক্রামক রোগের মতোই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আর সচেতনতার মাধ্যমে তথা খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচারে একটা সুশৃঙ্খল নিয়ম মেনে চললে ডায়াবেটিসকে দূরে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এ রোগের চিকিৎসা যাতে রোগীরা সহজে পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT