সম্পাদকীয় দুই ধরণের পাপ থেকে অন্যসব পাপের সৃষ্টি হয়-ধৈর্য্যহীনতা আর আলস্য। -ফ্রানজ কাফকা

স্বাস্থ্যসেবা আইন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-১১-২০১৯ ইং ০০:৪৯:৫৪ | সংবাদটি ১৫৭ বার পঠিত

চিকিৎসা সেবায় উন্নতির স্বার্থে সরকার প্রণয়ন করছে স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন। প্রথমে এটি ‘রোগী সুরক্ষা আইন’ নামেই পরিচিত ছিলো। নতুন আইনে রোগী ও চিকিৎসকের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, নতুন আইনে রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে দূরত্ব ঘোচানোর অনেক বিষয় বাদ দেয়া হয়েছে। যোগ হয়েছে বিতর্কিত অনেক বিষয়। এতে রোগী ও চিকিৎসকের অসন্তোষ ও দূরত্ব আরও বাড়ছে। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতে, খসড়া আইনে চিকিৎসক-রোগীর দূরত্ব ঘুচবে এবং আইনটি রোগীবান্ধব। একজন রোগী যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে সেবা নিতে পারেন, নতুন আইনে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। দিন দিন এই খাতে উন্নতির পরিবর্তে হচ্ছে অবনতি। বিশেষ করে সরকারী চিকিৎসা সেবায় বিরাজ করছে চরম অনিয়ম ও বিশৃংখলা। বেসরকারী খাতেও মানুষ কাড়ি কাড়ি অর্থ ব্যয় করেও পাচ্ছেনা সুচিকিৎসা। এই অবস্থায় সরকার উদ্যোগ নিয়েছে এই সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়নের। কিন্তু সেই আইন নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক।
আইনের খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত উল্লেখযোগ্য বিধান হচ্ছে সরকারী চাকরিতে কর্মরত কোন চিকিৎসক অফিস সময়ে বেসরকারী হাসপাতালে বা ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা দিতে পারবেন না। তা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের এক লাখ টাকা এবং বেসরকারী হাসপাতালকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড হবে। ছুটির দিনে চিকিৎসকদের নিজ নিজ কর্মস্থলের জেলার বাইরে বেসরকারী হাসপাতালে বা ব্যক্তিগত চেম্বারে টাকার বিনিময়ে সেবা দিতেও সরকারের অনুমতি নিতে হবে। তবে কর্তৃপক্ষ যে কোন সময় জনস্বার্থে সেই অনুমতি প্রত্যাহার করতে পারে। চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগীদের বসার স্থান থাকতে হবে। অন্যথায় চিকিৎসককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। চিকিৎসা ফি রসিদের মাধ্যমে আদায় করতে হবে। চিকিৎসকের ফি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা নিরীক্ষার মূল্যের তালিকা হাসপাতাল বা চেম্বারের দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে। ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগীর চিকিৎসা করানোর ক্ষেত্রে রোগ পরীক্ষার ন্যূনতম চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকতে হবে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও ভিজিটিং কার্ডে বিএমডিসি’র নিবন্ধন নম্বর লেখা থাকতে হবে। বেসরকারী হাসপাতালে জরুরী সেবার ব্যবস্থা থাকতে হবে। এইসব নির্দেশনা অমান্য করলে জেল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনটির আগে নাম ছিলো রোগী সুরক্ষা আইন। আর সেই খসড়ায় বলা হয়েছিলো, অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দন্ডবিধি ৩০৪ ধারায় মামলা করা যাবে। কিন্তু নাম পরিবর্তন করে তৈরী হওয়া বর্তমান খসড়ায় এই অংশটুকু বাদ দেয়া হয়েছে। নতুন খসড়ায় অবশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি সহিংস কাজ করলে, তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে উল্লেক করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে একটা শৃংখলার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। নিরীহ সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘেœ সুষ্ঠুভাবে সেবা পায়, সেটা নিশ্চিত করা জরুরী। আর সে ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেই আমরা মনে করি। তাই প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে আইনটি পাস করাই সবচেয়ে জরুরী।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT