ধর্ম ও জীবন

মানব সভ্যতায় মুহাম্মদ (সা.) এর অবদান

আহমদ যাকারিয়া প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-১১-২০১৯ ইং ০১:১০:০০ | সংবাদটি ২১৮ বার পঠিত

মুহাম্মদ (সা.) এর আবির্ভাবে পুরো পৃথিবীব্যাপি এক নতুন রেনেঁসার সূত্রপাত ঘটে। পুরো পৃথিবীর দৃষ্টি আপতিত হয় তাঁর দিকে। তিনি ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত কুহেলিকাচ্ছন্ন আরব সমাজে ইসলামের সঠিক চর্চার মাধ্যমে সভ্যতার সুবিমল জ্যোতি বিকিরণ করেন। তখনকার আরবের ঘুণেধরা আরব সমাজের সার্বিক উন্নয়নে তিনি যে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন তার কোন তুলনা হয় না।
মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহ তা’আলার প্রেরিত সর্বশেষ নবী। তার পূর্বের সকল নবী ছিলেন নির্দিষ্ট কিছু লোকের জন্য নির্দিষ্ট সময়, নির্দিষ্ট অঞ্চল ও নির্দিষ্ট জাতির জন্য ধর্ম প্রচারক ও সংস্কারক হিসেবে প্রেরিত। অপরদিকে মুহাম্মদ (সা.) সকল কাল, সকল গোত্র, সকল জাতির মুক্তির দূত হিসেবে প্রেরিত। তার নবুওয়াত বিশেষ কোন জাতির সাথে সীমিত নয়। তাঁর আগমন পুরো জাতির সার্বিক কল্যাণের জন্য। তাঁর আবেদন সার্বজনীন, তাঁর বাণী শাশ্বত চিরন্তন। তার আদর্শিক জীবনধারায় মানব, দানব, জ্বীন, ফেরেশতা, পশু-পাখি, জ্বীব-জন্তু সবকিছুই কল্যাণকর অবস্থানের বিধানপ্রাপ্ত হয়ে থাকে।
তাঁর আগমন ছিল অধঃপতিত মানবতাকে উদ্ধারের জন্য। নিপীড়িত মানুষের মুক্তির মশাল প্রজ্বলিত করতে।
তিনি ছিলেন আদর্শ চরিত্রের ধারক ও বাহক। তিনি আদর্শ পথপ্রদর্শক, আদর্শ ধর্ম-প্রচারক, আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক, আদর্শ নেতা, আদর্শ ইমাম, আদর্শ যুদ্ধা, আদর্শ পিতা, আদর্শ প্রতিবেশী, আদর্শ স্বামী, আদর্শ দায়ী, আদর্শ বক্তা; এক কথায় অসাধারণ নিঁখুত আদর্শের পতাকাবাহী এক মহামানব। মানুষকে তাঁর প্রকৃত মর্যাদা প্রদান করে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অবহিত করে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে মানুষের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন সৃষ্টি করে দিয়েছেন। পারষ্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে কিভাবে চলতে হবে তার পূর্ণাঙ্গ একটা ক্ষেত্র তৈরী করে দিয়েছেন। মানুষের গুণাবলীর মধ্যে যেখানে ছিলো ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্যপ্রাপ্ত সেই জায়গাতে মানুষকে আধ্যাত্মিক অনুশীলনের দ্বারা পরমতসহিষ্ণু ও সহাবস্থানের নীতি অবলম্বন দীক্ষা প্রদান করেছেন।
ধুলোমলিন মাটির পৃথিবীতে অসংখ্য জটিলতায় বসবাস করেও তার গায়ে কলঙ্কের কোন কলুষ স্পর্শ করেনি। সংসারের মায়াজালে আবদ্ধ থেকে ইসলামের দাওয়াত থেকে নিবৃত্ত থাকেননি। নির্মোহ মুত্তাকির জীবনের শুধুমাত্র ঘোষণাই দেননি নিজে তা আমল করে জাতিকে কাজেকর্মে তা বাস্তবায়নের পথ তৈরি করে দেখিয়ে দিয়েছেন। সমাজের সর্বত্র সুষম বন্টনের ক্ষেত্রে আল্লাহ্ প্রদর্শিত নির্ধারিত সীমারেখার ভেতরে থেকে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন।
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য :
মানব জাতির অমূল্য সম্পদ হচ্ছে তাঁর চরিত্রের উৎকৃষ্টতা। চারিত্রিক উৎকর্ষতা ব্যতিরেকে কোন মানুষ উন্নতির স্বর্ণশিখরে আরোহণ করতে সক্ষম হবে না। পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত যতো চরিত্রবান লোকের আবির্ভাব ঘটেছে তন্মধ্যে মুহাম্মদ (সা.) হলেন আদর্শের মূর্তপ্রতিক। আল্লাহ্ তাঁর চরিত্রকে কুরআনে ‘খুলুকুন আজীম’ অর্থাৎ ‘মহান চরিত্র’ বলে উল্লেখ করেছেন। অপর জায়গায় বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই রাসুল (সা.) এর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ’। (আহযাব)
রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছি যাতে পরিপূর্ণ করে দিতে পারি চরিত্রের সদগুণাবলীকে’।
তাঁর আচার-আচরণ ছিলো অত্যন্ত অমায়িক ও মাধুর্যপূর্ণ। জীবনে কোন মুসলিম তো দূরের কথা একজন অমুসলিম লোকের সাথেও তিনি অশুভ কার্যকলাপ করেননি।
মূলত জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাঁর সুমহান কৃতিত্ব বিরাজমান। জীবনের সকল স্তরে তাঁর সুমহান চরিত্র ও উত্তম আদর্শের ভাস্কর উজ্জ্বল্যমান। তিনি ছিলেন উত্তম চরিত্র, উন্নত নীতি নৈতিকতা ও শিষ্টাচারের জ্বলন্ত উদাহরণ। তাঁর মধুমাখা ব্যবহার শত্রুকেও মোমের মতো বিগলিত হতে বাধ্য করতো। আত্মগর্ব, আত্মঅহমিকা, আত্মঅহংকার, ঘৃণা, ক্রোধ, লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ প্রভৃতি দোষ থেকে নবী (সা.) ছিলেন দূরে-বহুদূরে। বিনয় ও নম্রতা ছিলো তাঁর চরিত্রের এক চিত্তাকর্ষক ভূষণ। অপ্রতিরোধ্য রাজঅধিপতি হওয়া সত্ত্বেও অনাড়ম্বর জীবন যাপন ও সহজ-সরল দিনাতিপাতে ছিলেন তিনি সন্তুষ্ট। পৃথিবীর সর্বত্র বিরাজ করছে আজ অশান্তি, অরাজকতা। নিক্ষেপিত হচ্ছে মানুষ জুলুম, নির্যাতনে। নৈতিক অবক্ষয় আর চারিত্রিক বিপর্যয় আজ সমাজ জীবনকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। দুর্দশার দাবানলে পুরো পৃথিবী নৈরাশ্যের অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে আছে। তার একমাত্র কারণ হলো নবী (সা.) এর আদর্শ থেকে মানব জাতির বিচ্যুতি। এ অধঃপতন থেকে মুক্তি পেতে আজ যদি পৃথিবীবাসী মুহাম্মদ (সা.) এর উন্নত আদর্শকে মেনে চলে, তাঁর আদর্শিক আচার-আচরণের স্নিগ্ধ ছায়া সমন্বিত শাখাতলে উপবেশন করে, তাহলে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, পৃথিবীতে আবার ফিরে আসবে সুখ-শান্তির মনোরম আবহাওয়া। সমাজে বইবে প্রশান্তিকর বেহেশতি সুবাতাস।
আদর্শ ও নৈতিকতা :
মুহম্মদ (সা.) এর জীবন সাধনা মক্কার চরম বৈরী পরিবেশেই শুরু হয়েছিল। মক্কায় যেদিন থেকে তিনি পবিত্র কোরআনের বাণী উচ্চারণ করেছিলেন সেদিন থেকেই সমগ্র আরব তাঁর সে কালজয়ী মুক্তির আবেদনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য পণ করে। তাকে হত্যা করার জন্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায় হিংস্রতা প্রদর্শনের নিমিত্তে এক জায়গায় সবাই জড়ো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ব্যর্থ হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, যাদের মধ্যে শিক্ষা-দীক্ষা, নীতি-নৈতিকতা, সভ্যতা-ভব্যতা আর আদর্শের কোন চিহ্ন ছিলো না; সেই লোকগুলোই নবী (সা.) এর সংস্পর্শে এসে তাঁর পরশে ধন্য হয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত আদর্শবান মানুষে রূপান্তরিত হয়ে পৃথিবীর নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হলো।
মানুষ যখন আত্মমর্যাদা ও আত্মপরিচয় বিস্মৃত হয়ে অধঃপতনের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছিলো, মানবতার এমন দুর্দিনে মানবতার প্রকৃত সুহৃদ ও কল্যাণকামী, ত্রাণকর্তা ও মুক্তিদাতা হিসেবে মুহাম্মদ (সা.) মুক্তির ঐতিহাসিক পয়গাম নিয়ে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। আত্মভোলা লোককে আত্মোপলব্ধির পথ দেখিয়ে দেন, পথভ্রষ্ট অভিযাত্রীদেরকে প্রদান করেন সঠিক পথের সন্ধান, তাঁর প্রদর্শিত পথের পথিক হয়েই বিশ্ব মানব আত্মপরিচয় লাভে ধন্য হয়। অবহেলিত, অপমানিত, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত জীবনের গ্লানিমুক্ত হয়ে উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের স্বাদ গ্রহণ করে বিশ্ববাসী।
নির্মল হাসি ও রসিকতা :
মুহাম্মদ (সা.) এর পবিত্র জীবন ছিলো একটি পূর্ণাঙ্গ আদর্শের প্রতিক। তিনি পুরো পৃথিবীর জন্য হিদায়াতের প্রদীপ্ত মশাল ও মানবতার মুক্তির দিশারী হয়ে আগমন করেছিলেন। তার গুরুদায়িত্ব পালনে স্বার্থে অধিকাংশ সময় তিনি চিন্তামগ্ন থাকতেন। এতো চিন্তাযুক্ত ও ভাবগাম্ভীর্য থাকা সত্ত্বেও কখনো কখনো প্রিয় সহধর্মিণী ও সাহাবায়ে কেরামের সাথে রসাত্মক বাক্যালাপ ও অনুমোদিত হাসি-কৌতুক করে হৃদয়ের প্রফুল্লতা প্রকাশ করতেন। কিন্তু এটা কখনো অতিরঞ্জন বা সীমাতিরিক্ত হতো না। বরং তাঁর কৌতুকের মধ্যেও বাস্তবতা বিরাজমান থাকতো। হাসি-রসিকতার উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আনন্দ দান এবং নিজের চিত্তের বিনোদন। এতে করে মনে কষ্ট পুঞ্জীভূত হলে, হৃদয়ে ব্যথা অনুভূত থাকলে তা আর নির্মল থাকে না। আর মিথ্যা ও প্রতারণার সংমিশ্রণ হলে তো এ রসিকতা বৈধই নয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত ‘লোকেরা রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞেস করলো; আপনি কি হাস্য-রসিকতাও করেন? নবী (সা.) উত্তরে বললেন; অবশ্যই আমি হাসি-রসিকতা করি তবে তা শুধুমাত্র সত্য কথা ও সত্য বিষয়কে অবলম্বন করেই এমন করে থাকি’। মূলত হাসি-কৌতুক ও রসিকতা দ্বারা মনের বৈপরীত্য নয়, চাই হৃদয় থেকে হৃদয়ের সেতুবন্ধন। হাসি-কৌতুক করে কাউকে বিব্রত করা নয়, চাই আত্মার প্রশান্তি। কৌতুকের মধ্যে অট্টহাসি নয় চাই মৃদু ও মুচকি হাসি। এটাই রাসুলের সুন্নাহ। এটাই রাসুলের শিক্ষা।
পারিবারিক জীবন :
আজকের উন্নত বিশ্বে মানবসন্তান উন্নতির চরম উৎকর্ষতার চূড়ায় উন্নীত। কিয়ামত পর্যন্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নবউন্মেষের যে ধারাবাহিকতার কুরআন ও হাদীসের মাধ্যমে জানা গেছে তা যেনো একের পর এক মানবসন্তান আবিষ্কার করেই চলেছে। মহাশূন্য আবিষ্কারের অভিযানের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে গগণচুম্বী অট্টালিকা আর প্রাসাদ নির্মাণের প্রতিযোগিতা। প্রগতিশীল এ দুনিয়ার মধ্যে পূর্ণ কুটীরখানিতে যেনো গিদগিদ করছে প্রাচুর্যের এ অশুভ প্রতিযোগিতা। ক্ষণস্থায়ী এ পৃথিবীর সাময়িক জীবনের মোহে মানুষ গড়ে তুলছে বিলাসবহুল প্রাসাদ আর মনোরঞ্জনের জন্য মনোরম অট্টালিকা।
অথচ রাসুল (সা.) এর নয়টি রুমের মধ্যে চারটি ছিলো কাঁচা ইটের দেয়াল দ্বারা নির্মিত এবং অবশিষ্টগুলো ছিলো শুধুমাত্র খেজুর ডানার দ্বারা নির্মিত। প্রতিটি রুমের আলাদা দরজা ছিল এবং দরজার পর্দা হিসেবে ব্যবহার করা হতো চট বা ছেড়া কম্বল। ‘আয়শা (রা.) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো যে, নবী (সা.) এর বিছানা কেমন ছিলো? তিনি বলেন যে, রাসুল (সা.) এর বিছানা ছিলো চামড়ার। যার ভেতর খর্জুরের ছাল ভর্তি ছিলো’।
রাসুল (সা.) এর মদিনা জীবনে নয়জন বিবির সংসার ছিলো। প্রত্যেকেই ছিলেন অভিজাত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে। আবার অনেকেই ছিলেন ঐশ্বর্য আর প্রাচুর্যের মধ্যে লালিত-পালিত। কয়েকজন ছিলেন কোমলমতি অল্পবয়ষ্কা। কিন্তু নবী (সা.) এর সুমহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের জীবনের সকল ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়। দুনিয়ার জগত থেকে আখেরাতের জগত তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। তাদের মন-মানসিকতার এমন পরিবর্তন ঘটে যে, ন্যূনতম বিলাসিতা ও জাঁকজমকপূর্ণ জীবনের দিকে তাদের কোন দৃষ্টি ছিলো না। পরিবার-পরিজনের প্রতি তাঁর স্নেহ-মমতা, প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা, হৃদ্যতা, সখ্যতা ও আন্তরিকতা ছিলো সীমাহীন। তিনি তাঁর প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিধানসমুহ প্রয়োগ করে বাস্তবে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন আদর্শ পারিবারিক জীবন যাপনের পদ্ধতি। তিনি নিজে যেভাবে ভোগ-বিলাসের দিকে আকৃষ্ট হননি ঠিক সেভাবে পরিবারের কাউকেও সেদিকে মোহিত হবার সুযোগ দেননি। তাঁর সুমহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রভাবে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের মধ্যে সততা, ধৈর্য ও সহনশীলতার সর্বোত্তম বিকাশ ঘটেছিলো।

শেয়ার করুন
ধর্ম ও জীবন এর আরো সংবাদ
  • হাদীস সংগ্রহকারী ইমাম মুসলিম ও তিরমিজি
  • নবীজিকে ভালোবাসার দাবী সমূহ
  • বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী (র:)
  • জৈন্তা অঞ্চলে হিফজুল কোরআন পরিক্রমা
  • তাফসিরুল কোরআন
  • হাদীস সংগ্রাহক ইমাম বুখারী (রহ.)
  • জৈন্তা অঞ্চলে হিফজুল কোরআন পরিক্রমা
  • কুরআন চর্চা অপরিহার্য  কেন 
  • একদিন নবীজির বাড়িতে
  • বেহেস্তের সিঁড়ি নামাজ
  • দেন মোহর নিয়ে যত কথা
  • তাফসিরুল কোরআন
  • মানব সভ্যতায় মহানবীর অবদান
  • মানব সভ্যতায় মুহাম্মদ (সা.) এর অবদান
  • দেনমোহর নিয়ে যতো কথা
  •   উম্মাহাতুল মুমিনীন
  • ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম
  • তাফসিরুল কোরআন
  • রাসূল (সা.) এর প্রতি মুহব্বত ও আহলে বাইত প্রসঙ্গ
  • মহানবীর প্রতি ভালোবাসা
  • Developed by: Sparkle IT