শেষের পাতা নগরীর হাউজিং এস্টেটে আজ চালু হচ্ছে ॥ মূল লক্ষ্য তথ্য প্রযুক্তিগত শিক্ষাদান

ব্যতিক্রমী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ক্রিয়েটর ল্যাব’

কাউসার চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-১১-২০১৯ ইং ০৩:০৮:০৩ | সংবাদটি ১২২ বার পঠিত

শিশুদের সৃজনশীল ও তথ্য প্রযুক্তিগত শিক্ষাদানের লক্ষ্যে নগরীতে ‘ক্রিয়েটর ল্যাব’ নামের একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানে ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের প্রোগ্রামিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, গেইম ডিজাইন ও গেইম তৈরি, ওয়েব ডিজাইন ও ওয়েব তৈরির গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখানো হবে। বৃটিশ প্রশিক্ষকের পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠানের সাথে কয়েকজন বৃটিশ-বাংলাদেশীও সম্পৃক্ত রয়েছেন। নগরীর হাউজিং এস্টেটের ৪নং লেনের ২৩ নম্বর বাসায় আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক মানের এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৯ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্রিটিশ নাগরিক লোক ডয়েল এই প্রতিষ্ঠানের এডুকেশন এন্ড টেকনোলজি এ্যাডভাইজার হিসাবে যোগ দিয়েছেন। তথ্য প্রযুক্তিতে পারদর্শী মুহাম্মদ কবির উদ্দিন এই প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং ডাইরেক্টরের দায়িত্বে রয়েছে। ব্রিটিশ বাংলাদেশী জিল্লু মিয়া রয়েছেন চীফ এক্সিকিউটিভ হিসেবে। এরই মধ্যে লোক ডয়েলের তত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা একটি গেইমিং চেয়ার তৈরি করেছে। এ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হলে কোনো ধরণের অভিজ্ঞতা লাগবে না।
প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান যুগে শিক্ষার্থীদেরকে তথ্য প্রযুক্তিগত শিক্ষা প্রদান খুবই জরুরী। তাদের মতে, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক (সিলেট ইলেকট্রনিক্স সিটি)। এ পার্কে দক্ষ লোকবলের প্রয়োজন হবে। এর বাইরে দেশে তথ্য প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত লোকেরও বিপুল চাহিদা রয়েছেন। সামগ্রিক দিক বিবেচনায় এ প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হচ্ছে বলেও জানান তারা। উদ্যোক্তাদের মতে, কেবল সিলেটে নয়, বাংলাদেশের মধ্যে এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রথম।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা লোক ডয়েল বলেন, শিশুদেরকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমাজের সমস্যা সমাধান করতে শেখানোই হচ্ছে আমাদের মূল উদ্দেশ্য। যারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমস্যা সমাধানে আগ্রহী ‘ক্রিয়েটর ল্যাব’ এমন ছাত্র-ছাত্রী খুঁজছে।
ক্রিয়েটর ল্যাব’র ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুহাম্মদ কবির উদ্দিন সিলেটের ডাককে বলেন, বর্তমানে ৭ থেকে ১৬ বছরের শিশুরা এখানে ভর্তি হতে পারবেন। ভবিষ্যতে বয়স্কদেরও পড়ালেখার সুযোগ থাকবে। প্রতি বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার প্রতিষ্ঠানের ক্লাস চলবে। তিনি জানান, গত ৮ নভেম্বর ‘ক্রিয়েটর ল্যাব’-এ ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে ৬ ঘণ্টার একটি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারীরা একটি গেইমিং চেয়ার তৈরী করেছে। যাদের হাত নেই, যারা বেশী নাড়াচড়া করতে পারে না, তারা এই চেয়ার ব্যবহার করে খেলতে পারবে। এই চেয়ারে ব্যবহৃত হয়েছে আরডুইনে বোর্ড (একটি ওপেন সোর্স মাইক্রো কন্ট্রোলার ডেভেলপম্যান্ট বোর্ড), তিনটি বাটন যা চেয়ারের ডান, বাম ও পেছনে লাগানো হয়েছে। এই বাটন বা বোতাম দিয়েও গেইম খেলা যায়।
বিদ্যুৎ অপচয় রোধ সম্পর্কেও শিক্ষা নেবে শিক্ষার্থীরা ॥ এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যে সকল বিষয়ে শিক্ষা নেবে তার একটি হচ্ছে বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করার পদ্ধতি। সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক সময় দিনের বেলায় সড়ক বাতি জ্বললেও তা বন্ধ করেন না কেউ। অনেক দোকানেও দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুতের বাতি জ্বলে। এমন প্রেক্ষাপটে বিদ্যুতের সুইচে একটি সেন্সর স্থাপন করে দিলেই বাতির নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে সেন্সরের নিয়ন্ত্রণে। সন্ধ্যা নামার পরপরই বাতি জ্বলে উঠবে আবার ভোরের আলোর দেখা পাওয়ার পরই বাতি বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমান সময়ের প্রচলিত ৫ টাকার কয়েলের সমপরিমানের এই সেন্সর নানা কাজেও গতি আনতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পালকে রয়েছে সয়েল ময়েশ্চার সেন্সর উদ্ভাবন ॥ ক্রিয়েটর ল্যাবের সাফল্যের পালকে রয়েছে-সয়েল ময়েশ্চার সেন্সর অর্থাৎ মাটির আদ্রতা মাপার এক ধরণের যন্ত্রের উদ্ভাবন। এটি দিয়ে কখন মাটিতে পানি দিতে হবে, কতটুকু পানির প্রয়োজন তা সহজেই জানা যাবে। সিস্টেম করে দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোবাইলে এসএমএস-এও বিষয়টি জানা যাবে । পানির পাম্পের সাথে সংযোগ করে দিলে এই সেন্সর স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পানি দিয়ে দেবে। বৃহৎ আকারের পাম্প ও ট্যাংকীর সাথে হাওরের কৃষি জমিতেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি দেবে এই সেন্সর। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষকদের কষ্টের মাত্রাও কমে আসবে। কেবল হাওরই নয় এই সেন্সর দিয়ে বাসা-বাড়ির, বাগান, নগীরির সড়কগুলোর মধ্যভাগে লাগানো গাছেও পানি দেয়া যাবে।
অভিজ্ঞতা থেকে তারা বলেন, অনেক সময় ইলেকট্রিক সুইচ অন করার পর বিভিন্ন স্থানে পানির পাম্পসমূহ পানি তুলে ট্যাংকী পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর পানি নিচে পড়ে। সুইচ অফ না করলে মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ অপচয় হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত পানিও নষ্ট হয়। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ ও পানির অপচয় রোধে পানির ট্যাংকীর উপরে একটি সেন্সর স্থাপন করা যায়। এই সেন্সরের মাধ্যমে ট্যাংকীতে পানি পরিপূর্ণ হয়ে গেলে অটোমেটিক ভাবেই সুইচ অফ হয়ে যাবে। আবার ট্যাংকীতে পানির পরিমাণ কমে গেলে সেন্সর অটোমেটিকভাবেই মোটর চালু করে দেবে। এর ফলে ট্যাংকী পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। পরিপূর্ণ হওয়ার পর পুনরায় সুইচটি অফ করে দেবে ইলেকট্রিক্যাল এই সেন্সর। এ ধরণের প্রযুক্তি সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও ধারণা দেয়া হবে বলে জানান উদ্যোক্তারা।

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • ঋণ জালিয়াতি : এস কে সিনহার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
  • দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাজ করতে হবে
  • দ্বিতীয় দিনেও অভিযান ॥ ১৪টি মামলা
  • ছাদে গাঁজার চাষ বাগান মালিক আটক
  • লিডিং ইউনিভার্সিটি’র ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সেরা শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদান
  • হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আজ
  • আওয়ামী লীগ মানবাধিকার হরণের মহোৎসবে মেতে উঠেছে ...সিলেট জেলা বিএনপি
  • নগরবাসীকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে ‘নগর এক্সপ্রেস’ চালু হচ্ছে ---------মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী
  • দানবীর ড. রাগীব আলীর শোক
  • সিলেটের ডাক এর অফিস সহকারী ইকবাল আহমদের পিতার ইন্তেকাল
  • বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত সৈনিকদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হবে
  • দেশবাসী কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়
  • অভিজিতের বাবা অজয় রায় আর নেই
  • চিকিৎসক-ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ নেবে জাপান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
  • ছবি
  • দুর্নীতি প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নেই
  • বেগম রোকেয়ার সংগ্রামের পথ ধরে নারীদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে
  • দৈনিক সিলেটের ডাক বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথিকৃত
  • ‘হুমকি’ হয়ে উঠতে পারে নিপা ভাইরাস
  • কমলগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবক নিহত
  • Developed by: Sparkle IT