পাঁচ মিশালী

খাদ্যতালিকায় পেয়াজ কি অপরিহার্য

রমেন্দ্র চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-১১-২০১৯ ইং ০০:২৬:১৯ | সংবাদটি ২০৭ বার পঠিত

জীবন ধারণের জন্য খাবার সকল প্রাণীর জন্যই অনিবার্য। মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত ভাত, রুটি, আলু প্রধান খাদ্য। এর সাথে মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, শাকসবজি ইত্যাদি পুষ্টিযুক্ত তরি তরকারি কোন কোনটি রেখে ও বাদ দিয়ে সামর্থ্যানুযায়ী আমরা খাবার খেয়ে থাকি। এসব খাবার মুখরোচকের জন্যে সাধারণত পেয়াজের ব্যবহার হয়। পেয়াজ যখন ক্রয় সামর্থ্যরে বাইরে এই অবস্থায় এটি কি অন্তত মাসখানেক বর্জন করা অসম্ভব?
আহার অবশ্যই করতে হবে। পেয়াজ কি এমন কিছু যা ভাতের মত আহারের অভাব পূরণ করে? দেশে এখনও অনেক সমস্যা আছে যা ফেলে রেখে পেয়াজ নিয়ে টকশো, হৈ হুল্লোড়, মনে হয় যেন প্রাণ গেল গেল। এইসব নিরর্থক এবং আমরা এতটুকুও সংযমী নই তারই প্রমাণ দিচ্ছি। কটা দিন সংযমী হলে পচনশীল পেয়াজের নাকালে অবস্থা দেখতে অধিক কালাতিপাত করতে হতো না। মিডিয়ায় এর এত গুরুত্ব পেয়েছে যা অন্যভাবে এর বর্জন নিয়ে সমধিক গুরুত্ব দিলে মানুষকে সংযমী হতে সাহায্য করত।
আমরা সর্বাবস্থায় রাজী এ অভ্যাসে অভ্যস্ত হতে পারলে কোন সমস্যাই আমাদের জন্য সমস্যা হয়ে থাকবে না। বর্তমান স্বাস্থ্য বিধানে সবজি নিরোগ জীবন যাপনে অন্যতম। তবে চাইলে পেয়াজ ছাড়াও মাছ, শাকসবজি, দই, দুধ দিয়ে নিরেট জীবিকা নির্বাহ সহজ সাধ্যের মধ্যে রেখে অনায়াসে চলতে পারি। যেমন সনাতন ধর্ম অনুসারীদের বেশ একটা অংশ নিরামিষাশী। তারা মাছ, মাংস, ডিম, পেয়াজ, রসুন খান না। আমাদের শরীরে দৈনন্দিন বাঁচার জন্য ৪৬-৫৭% প্রোটিনের প্রয়োজন পড়ে। আমরা যদি কেবল ডাল, ভাত খাই এর মধ্যে প্রোটিন সহজেই পেয়ে যাই। এমনকি প্রয়োজনের তুলনায় অধিকই পাই। তাহলে পেয়াজ কতটুকু জরুরি। হিন্দু ধর্মের একজন অবতার পুরুষ শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের সুস্থ জীবন ধারণের অন্যতম বাণী ‘মাছ মাংস খাসনে আর, পেয়াজ রসুন মাদক ছাড়’। এই ধর্মে কোটি কোটি মানুষ দীক্ষিত এবং অধিকাংশ শিষ্য এগুলি পরিত্যাগ করে অনায়াসে সুন্দর জীবন যাপন করছেন।
আজকের আলোচ্য বিষয় পেয়াজ। নিরামিষ আহারে উৎসাহী করার জন্য নয়। কেবল পেয়াজ কিছুদিনের জন্য কেন বর্জন করা যাবে না, বাচার জন্য খাওয়া কিন্তু পেয়াজ বাঁচার জন্য অপরিহার্য কোন খাদ্যবস্তু নয়। এক সময় ডাল ভাত সবজি ছিল গরীব মানুষের খাবার। আজ স্বাস্থ্য সচেতন সকল মানুষ খাবারের তালিকায় পাল্টে সবজি হয়েছে অনিবার্য এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে রসুন, পেয়াজও বর্জন করে চলছে। এর স্বাস্থ্যগত ব্যাখ্যাও আছে। মানুষ জেনেশুনে অনেক কিছুই খায় যা ক্ষতিকর। ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তারপরও চলছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স তাও কার্যকর হচ্ছে না। পেয়াজ এর পরিবর্তে মেথি ব্যবহার করে যে সংখ্যক মানুষ তারা অনেক ভাল আছেন। মেথির অনেক গুণাগুণ আছে যেমন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ভালো হজমেও কাজ করে।
পেয়াজের মূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে যেন অনেক মূল্যবান যা হাতের নাগালের বাহিরে গেলেও বাঁচার জন্য খেতেই হবে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। পেয়াজ খাবার হিসাবে অত্যন্ত উত্তেজক সেটা গবেষণা ছাড়াও সাদামাটা মানুষই নির্দিধায় বলতে পারে। শুধু রসনা বিলাসের জন্য এটার ব্যবহার অনেক মূল্য দিয়ে কিনতে হবে তা অনেক মানুষই মনে করেন না।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT