উপ সম্পাদকীয়

ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ বিতর্ক

চৌধুরী শাহেদ আকবর প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-১১-২০১৯ ইং ০০:২৪:০৬ | সংবাদটি ২১২ বার পঠিত

লন্ডনের গ্রেট রাসেল স্ট্রীটে অবস্থিত ব্রিটিশ মিউজিয়ামে আমি বেশ কয়েকবার গিয়েছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনেক ঐতিহাসিক ও মূল্যবান জিনিস রয়েছে এই মিউজিয়ামে। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ মিলিয়নের মতো বিভিন্ন সামগ্রী তাদের সংগ্রহে রয়েছে, যার শতকরা ১ ভাগ একসাথে দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীতে রাখা হয়। ব্রিটিশরা পৃথিবীর যে দেশগুলোতে শাসন করেছিল বা তাদের উপনিবেশ বানিয়েছিল, সেসব দেশের অনেক মূল্যবান ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন জিনিস মিউজিয়ামটিতে রয়েছে। আমি যতবার মিউজিয়ামটি দেখতে গিয়েছি, ততবার আমার মনে হয়েছে এই মিউজিয়ামের অনেক জিনিসেরই প্রকৃত মালিক অন্য দেশ। নিশ্চয়ই এগুলো উপনিবেশ আমলে জোর, লুট বা অন্য কোন উপায়ে সংগ্রহ করা হয়েছে। সুতরাং এর ইতিহাস উপনিবেশ দেশগুলোর জন্য নিশ্চয়ই সুখকর নয়।
তবে অধিকাংশ ব্রিটিশদের কাছে বিষয়টি সেরকম নয়। তারা বরং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ এবং এর অতীত ইতিহাস নিয়ে গর্বিত। ২০১৪ সালের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, শতকরা ৫৯ ভাগ ব্রিটিশ মনে করেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ তাদের জন্য গৌরবের বিষয়। শতকরা ৪৯ ভাগ এটিও মনে করেন যে ব্রিটিশরা তাদের উপনিবেশ দেশগুলোকে বেশ ভাল অবস্থায় রেখে এসেছিলো। এমনকি উপনিবেশ শাসনের অবসানের পর প্রায় গত অর্ধশতকের বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং ইতিহাসবিদগণ একই সুরে কথা বলে যাচ্ছেন। ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ নিয়াল ফারগুনসন মনে করেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বৈশ্বিক কল্যাণের জন্য ভালো ছিলো। ২০১৩ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন ভারত সফরকালে বলেছিলেন, ব্রিটিশ শাসন ভারতবর্ষের জন্য নীট সাহায্য ছিল। এককথায় ব্রিটিশরা তাদের অতীত সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কে সবাইকে ভাল ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি ব্রিটেনের স্কুল, কলেজের ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে ব্রিটিশ উপনিবেশকে দেখানো হয়Ñদাস প্রথার বিলুপ্তির কারণ হিসেবে, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মূলে, রেল পথ ও ব্রিজ নির্মাণ সহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে এবং সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণসহ আরো অনেক মহৎ কাজের কারণ হিসেবে। যদিও তাদের এই মনোহরী দাবি অনেকেই খুব সহজে গ্রহণ করেননি। এমনকি খোদ ব্রিটেনে অনেকেই বিষয়টিকে মানতে রাজি নন বহু আগে থেকে। যেমন, আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস এর কথা ধরি। তিনি ছিলেন একজন ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ। ১৮৯৮ সালে তিনি একটি বই লিখেছিলেন ‘দি ওয়া-ারফুল সেঞ্চুরি’ নামে। বইটিতে তিনি বিগত একশ বছরে ব্রিটেনের অর্জন, সফলতা, উন্নতি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। বইটির শেষ দিকে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ব্রিটিশরা তাদের শাসনাধীন জাতিগুলোর সাথে ভাল ও মন্দ মিশ্রিত এক ধরনের অদ্ভুত আচরণ করেছিলো।
আমাদের এই উপমহাদেশে ব্রিটিশরা এসেছিলো বণিকের বেশে। ব্যবসা বাণিজ্য করার অজুহাতে ১৬০৮ সালের ২৪ আগস্ট ব্রিটিশ ক্যাপ্টেন উইলিয়াম হকিন্স এর নেতৃত্বে একদল বণিক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যানারে ভারতের পশ্চিম উপকূলে এসে নোঙ্গর ফেলে। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন কূটকৌশলে আমাদের শাসন করে গেছে ২০০ বছর। ব্রিটেনের সবচেয়ে দীর্ঘতম উপনিবেশ ছিল এই ভারতীয় উপমহাদেশ। এই উপমহাদেশে তাদের শাসনকাল নিয়ে তাদের গর্বের শেষ নেই। ব্রিটিশরা বলে যে, ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করেছে কোনো অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য নয়, বরং এটি তাদের জন্য একটি খরচের খাত ছিল। তারা দীর্ঘসময় ভারত শাসন করেছিল তাদের উদারতার জন্য। তারা সতীদাহ প্রথার মতো মারাত্মক বর্বরতার হাত থেকে ভারতীয় নারীদের বাঁচিয়েছে, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সূচনা করেছে এবং করেছে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন। সব থেকে গর্বের সাথে তারা যেটা বলে থাকে তা হচ্ছে এই উপমহাদেশে রেল ব্যবস্থার প্রচলন।
ভারতীয় রাজনীতিবিদ, জাতিসংঘের সাবেক কূটনৈতিক এবং লেখক শশী থারুর ‘এন এরা অব ডার্কনেস’ নামে একটি বই লিখেছেন। বইখানা পরবর্তীতে ব্রিটেন থেকে ‘ইনগ্লোরিয়াস এম্পায়ারÑহোয়াট দি ব্রিটিশ ডিড টু ইন্ডিয়া’ নামে প্রকাশিত হয়। তার মতে, ২০০ বছর ভারতবর্ষ শাসনকালে ব্রিটিশরা যা করেছিলো তা রীতিমতো দানবীয় অপরাধ। ব্রিটিশরা আসার আগে এখানকার অর্থনীতির আয়তন বিশ্ব অর্থনীতির মোট ২৩ শতাংশ ছিলো। ব্রিটিশরা এখান থেকে যাওয়ার সময় যার পরিমাণ ৪ শতাংশে নেমে এসেছিলো। ব্রিটিশরা ভারতে আসার আগে বিশ্বের বস্ত্র শিল্পের মোট ২৭ শতাংশ রপ্তানী হতো ভারত থেকে, যা ব্রিটিশ শাসনের সময়কালে ২ শতাংশে নেমে গিয়েছিলো। ব্রিটিশ শাসন আমলে তাদের নীতি প্ররোচিত দুর্ভিক্ষে প্রায় ১৫ থেকে ২৯ মিলিয়ন ভারতীয় মারা গেছেন। আমরা জানি যে, ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতীয় উপমহাদেশে অনেকগুলো দুর্ভিক্ষের মুকাবিলা করেছে। এবং ঐ সময় দুর্ভিক্ষ সবচেয়ে বেশি আঘাত এনেছিল বাংলাতে। প্রথমে ১৭৮৩ সালে এবং পরবর্তীতে ১৮৬৬, ১৮৭৩, ১৮৯২, ১৮৯৭ এবং ১৯৪৩-১৯৪৪ সালের দুর্ভিক্ষ। ১৯৪৩-১৯৪৪ সালের দুর্ভিক্ষে প্রায় ৪ মিলিয়ন বাঙালি মারা যান।
শশী থারুর আরো লিখেছেন, ব্রিটিশরা উপমহাদেশে রেলের প্রচলন করেছিলো তাদের লাভের জন্য। ভারতের লাভের জন্য নয়। ১৮৪৩ সালে গভর্নর জেনারেল লর্ড হার্ডিনজ এবং পরে ১৮৫৩ সালে লর্ড ডালহৌসি এই যুক্তি দেখান যে, ভারতবর্ষকে রেল নেটওয়ার্ক এ যুক্ত করতে পারলে ভারতে ব্রিটিশ পণ্যের প্রবেশ ও বাজারজাত সহজ হবে। সেই সাথে ভারতবর্ষ থেকে কাচামাল সংগ্রহ করে ব্রিটেনের শিল্প কারখানাগুলোতে পাঠানো যাবে। এই রেললাইন নির্মাণে ও ছিলো চুরি ও লুণ্ঠন। বার্ষিক ৫ শতাংশ নিশ্চিত লাভে রেললাইন তৈরির প্রকল্পে টাকা খাটিয়ে ব্রিটিশ মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা প্রচুর অর্থের মালিক হন। সেই সময়ে ভারতে প্রতি মাইল রেললাইন নির্মাণে খরচ হয়েছিলো ১৮০০০ পাউন্ড। অথচ আমেরিকাতে তখন প্রতি মাইল নির্মাণে খরচ হয়েছিলো ২০০০ পাউন্ড।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে এ বছর প্রকাশিত ভারতীয় অর্থনীতিবিদ উষা পাটনায়েক-এর গবেষণায় দেখা যায় যে, ১৭৬৫ সাল থেকে ১৯৩৮ সালের মধ্যে ব্রিটিশরা আত্মসাত করেছে প্রায় ৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার। আর এই অর্থ পাচার হয়েছিলো বাণিজ্যের আড়ালে। অর্থের এই অংক বর্তমানে ব্রিটেনের মোট জিডিপির ১৭ গুণ বেশি। ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতীয়দের মাথাপিছু আয় বাড়েনি বরং কমে গিয়েছিলো। ১৮৭০ সাল থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে ভারতীয়দের গড় আয়ুকাল কমে গিয়েছিলো এক পঞ্চমাংশ। সুতরাং ব্রিটিশ শাসন ভারতবর্ষকে উন্নত করেনি, বরং বহু সমস্যার মধ্যে রেখে গিয়েছিলো।
আমরা এখন দেখছি যে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল না এমন অনেক দেশ প্রচুর উন্নতি করেছে। যেমনÑজাপান এবং থাইল্যান্ডের কথাই ধরা যাক, এরা ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল না। কিন্তু তারা শিক্ষাব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং রেল নেটওয়ার্ক সবকিছুই তাদের দেশে প্রতিষ্ঠা করেছে। ব্রিটিশ উপনিবেশ না হয়েও জাপান পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুততম রেলওয়ে ব্যবস্থা নির্মাণ করেছে। তাই উপনিবেশ না হলেও হয়তো আমাদের এই উপমহাদেশে তার বর্তমান অবস্থা থেকে আরো অনেক উন্নত থাকতো।
ব্রিটিশরা হয়তো অনেক জায়গায় অর্থনৈতক উন্নতি এনেছিল। শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলো। কিন্তু এইগুলো মূলত করেছিলো তাদের স্বার্থের জন্যে। যার জন্য তারা অনেক জায়গায় যুদ্ধ বিগ্রহ ও করেছে। তারা ভারতের সতীদাহ প্রথা বা নাইজেরিয়ার জমজ সন্তান হতা বিলুপ্ত করেছে একদিকে। আবার তারা যখন শোষণের কারণে প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে তখন খুবই নিষ্ঠুর আচরণ করেছে। লাখ লাখ মানুষ হত্যা করেছে। আসলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য সৃষ্টি হয়েছিল নিজ দেশ ব্রিটেনকে সমৃদ্ধ করার জন্য। কোন মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে নয়। তাই উপনিবেশ দেশগুলোকে লুণ্ঠন, অত্যাচার, নিপীড়ন, শোষণ, লোভী ও মুনাফাখোর ব্যবসায়ী, ব্যক্তিগত লোভ লালসা, জাতিগত বিভেদ এই সব অনেক কিছুই মোকাবেলা করতে হয়েছে।
স্কটিশ ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডারলিম্পায়ার এর ‘দি এনার্কি-দি রিলেন্টলেস রাইজ অব ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ নামে একটি বই এই বছর ১০ সেপ্টেম্বর ব্রিটেন থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বইখানাতে তিনি কিভাবে একটি সমৃদ্ধশালী সাম্রাজ্য একটি অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেট কোম্পানি দ্বারা, যার প্রধান কার্যালয় হাজার হাজার মাইল দূরে ছিলো, ধ্বংস হয়েছিল সেই কাহিনি বর্ণনা করেছেন। এই সাম্রাজ্য হচ্ছে মোঘল সাম্রাজ্য আর কোম্পানিটি হচ্ছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। বহুজাতিক কোম্পানির ছদ্মবেশে ব্যবসা করতে এসে তারা নিজেদের একটি উপনিবেশ শক্তিতে রূপান্তর করেছিলো। আগমনের প্রায় ৪ দশকের মধ্যে প্রথমে বাংলা ও ১৮০৩ সালে দিল্লি দখল করে পরবর্তীতে এই উপমহাদেশকে শোষণ করে গেছে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত।
আবার শশী থারুর এর কথায় ফিরে আসি। তিনি মনে করেন, ব্রিটেনের এই উপনিবেশবাদ-এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য তাদের ভারত উপমহাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। তিনি মূলত কোন আর্থিক ক্ষতিপূরণের কথা বলেননি। তার দাবী, ব্রিটেনের উচিত তার অতীতের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়া। তিনি এটাও মনে করেন, বর্তমান ব্রিটেন তার অতীতের কৃতকর্মের জন্য দায়ী নয়। তাই তার মতে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি বর্তমান ব্রিটেন নীতিগতভাবে মেনে নিলেই যথেষ্ট।
সাম্রাজ্যবাদের জন্য ব্রিটেনের এই ক্ষমা চাওয়ার দাবি অনেক পুরোনো। কিন্তু ব্রিটেন বরাবরই তা উপেক্ষা করে এসেছে। ২০১৩ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন অমৃতসার গণহত্যার স্থান পরিদর্শনকালে ব্রিটিশদের হুকুমে হাজার হাজার ভারতীয় হত্যার বিষয়টিকে তিনি লজ্জাজনক ঘটনা বলে অভিহিত করলেও ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি তিনি প্রত্যাখান করেন। চ্যান্সেলর থাকাকালীন সময় আরেক সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন বলেছিলেন, ব্রিটেনের উপনিবেশবাদ এর জন্য ক্ষমা চাওয়ার দরকার নাই। বরং ব্রিটেনের উচিত স্বাধীনতা এবং সহনশীলতার বিষয়ে ব্রিটিশ মূল্যবোধর বিষয়টিকে প্রচার করা। আবার অনেকেই বলেন স্থান, কাল ও পাত্র ভেদে সব সাম্রাজ্যবাদের ধরন একই। ব্রিটিশরাও ৪০০ বছর রোমান দারা শাসিত হয়েছে। তাই বলে তারা রোমানদের কাছে এইরকম কিছু দাবি করেনি।
রাশিয়ান লেখক লিও টলন্তয় মহাত্মা গান্ধীকে দেয়া একটি চিঠিতে বলেছিলেন, তিনি ভেবে অবাক হন যে কিভাবে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করতে এসে ২০০ বছর শাসন করে গেলো। তিনি আরো লিখেছিলেন, এটি হয়ত সম্ভব হয়েছে মানবতার মধ্যে নিহিত ভালোবাসাকে সম্পূর্ণভাবে হৃদয়ঙ্গম না করার কারণে। হয়তো বিষয়টি সেটাই। খোদ ব্রিটেনের তৎকালীন সাধারণ জনগণ বা এখনকার সাধারণ জনগণ উপনিবেশবাদের সঠিক ইতিহাস জানলে বিষয়টি হয়তো সানন্দে গ্রহণ করত না বা করবে না।
শেষ করার আগে একটি প্রশ্ন । ধরি, একদল দুস্কৃতকারী লোক একটি বহুতল ভবনে এসে হঠাৎ করে আগুন লাগিয়ে দিলো। এতে ভবনটির ভিতরে বসবাসকারী অনেক লোক মারা গেলো। কিছু লোক আগুন থেকে বাঁচার জন্য ভবনটির বাইরে আসতে চাইলে দুস্কৃতকারী লোকগুলো জোর করে ওই লোকগুলোকে আবার ভিতরে পাঠিয়ে দিলো। অবশেষে বহুসময় পরে দুষ্কৃতকারী লোকগুলো হঠাৎ করে ভবনটির ভিতরে ও বাইরে যারা আগুন নিভানোর চেষ্টা করছেন তাদের সাথে আগুন নিভাতে যোগ দিলো। আমরা কি তখন বলতে পারি, লোকগুলো যদিও আগুন লাগিয়েছিলো, প্রচুর মানুষকে হত্যা করেছিলো তবুও শেষে এসে আগুন নিভানোর চেষ্টা তো করেছিলো? উপনিবেশবাদ নিয়ে তাই ব্রিটেনের আত্মপক্ষ সমর্থন এর সুযোগ কি তেমন আছে? এখন দেখা যাক সময়ের সাথে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক কোন দিকে যায়।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ছায়াসঙ্গিনী
  • রাবেয়া খাতুন চৌধুরী এক প্রবাহিত নদী
  • বলিভিয়া : ইভো মোরালেসের উত্থান-পতন
  • সিলেট অঞ্চলের পর্যটন ভাবনা
  • মিড-ডে মিল
  • যৌতুক প্রথা নিপাত যাক
  • সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে
  • মানবাধিকার দিবস ও বাস্তবতা
  • বুয়েটের শিক্ষা
  • পাল্টে গেল শ্রীলঙ্কার ভোটের হিসাব
  • গড়ে তুলতে হবে মানবিক সমাজ
  • পাখি নিধন, অমানবিকতার উদাহরণ
  • দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান সফল হোক
  • সড়ক দুর্ঘটনা এবং সড়ক আইন-২০১৮
  • বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গ
  • বাঙালির ধৈর্য্য
  • সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার অবকাঠামো
  • শিক্ষকদের অবদান ও মর্যাদা
  • ১৯৭০ এর নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধ
  • একাত্তর :আমার গৌরবের ঠিকানা
  • Developed by: Sparkle IT