সম্পাদকীয় তুমি যদি সর্বোচ্চ আসন পেতে চাও, তবে সর্বনিম্ন স্থান থেকে শুরু করো। - ডেল কার্নেগি

বিশ্ব সহিষ্ণুতা দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-১১-২০১৯ ইং ০০:২৮:১৩ | সংবাদটি ১৪৮ বার পঠিত

বিশ্ব সহিষ্ণুতা দিবস পালিত হয় গতকাল। মূলত ইউনেস্কোর উদ্যোগে এই দিবসটি পালিত হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৯৬ সালের ১২ই ডিসেম্বর গৃহীত এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ই নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক সহিষ্ণুতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই ঘোষণার ভিত্তিতে ১৯৯৫ সালকে জাতিসংঘ সহিষ্ণুতা বর্ষ হিসেবে পালন করে। ১৯৯৫ সালের ১৬ই নভেম্বর ইউনেস্কোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর এক বৈঠকে সহিষ্ণুতা সংক্রান্ত নীতি এবং সহিষ্ণুতা বর্ষের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে। ব্যক্তি, দল, প্রতিষ্ঠান, সমাজ, রাষ্ট্রকে পারস্পরিক সম্পর্ক সংরক্ষণ ও শান্তি বজায় রাখার জন্য যে বৈশিষ্ট্যকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে তা হলো সহিষ্ণুতা। ক্ষমতা, শক্তি, প্রভাব, নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র দিয়ে যা সম্ভব নয়, সহিষ্ণুতা দিয়ে তা সম্ভব। মূলত এই নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষে প্রতি বছর ১৬ই নভেম্বর দেশে দেশে পালিত হয় বিশ্ব সহিষ্ণুতা দিবস।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শান্তি, সহাবস্থান ও নিরাপত্তা দিতে পারে সহিষ্ণুতা। তাছাড়া জাতিসংঘ সনদে পরস্পর সুপ্রতিবেশী হিসেবে শান্তিতে বসবাস এবং সহিষ্ণুতার অনুশীলনের কথা বলা হয়েছে। ভবিষ্যৎ বংশধরদের যুদ্ধের অভিশাপ থেকে বাঁচাতে মৌল মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, মানুষের মর্যাদা ও সম্মান, অধিকার, বিভিন্ন চুক্তি ও আইনের বাধ্যবাধকতার প্রতি সম্মান, ব্যাপকতর স্বাধিকারের মাধ্যমে সামাজিক অগ্রগতি সাধন ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য সহিষ্ণুতার অনুশীলন অপরিহার্য্য। যুদ্ধে প্রতিরোধ ও শান্তি সংরক্ষণে কাজ করার ক্ষেত্রে সহিষ্ণুতা প্রয়োগ জাতিসংঘের অন্যতম নীতি। জাতিসংঘ তার উদ্দেশ্য সাধনে বিশেষ করে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অথবা মানবিক সমস্যা সমাধানে এবং ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা নির্বিশেষে মানবাধিকার, ব্যাপকতর স্বাধিকার-এর মাধ্যমে অধিকার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে উৎসাহ প্রদান ও অর্জনে প্রয়োগ করছে সহিষ্ণুতা।
ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে সাফল্যের জন্য সহিষ্ণুতা একটি অতি অপরিহার্য্য বিষয়। সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা, মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন ১৯৯৩ সালে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত মানবাধিকার সংক্রান্ত সম্মেলনের ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনায় সহিষ্ণুতা বিষয়ে পর্যবেক্ষণ বিবেচনায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এই মর্মে সিদ্ধান্তে আসে যে, অন্যের স্বীস্কৃতি ও প্রশংসা, এক সঙ্গে বসবাস, অন্যের বক্তব্য মনোযোগের সঙ্গে শ্রবণ সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা ও শান্তি দৃঢ় ভিত্তি। এটাই জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য। চলমান বিশ্বে নানা অশান্তির মূলে রয়েছে এই সহিষ্ণুতার অভাব। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যাবে সব ধরণের অশান্তি-বিশৃক্সক্ষলার সৃষ্টি হচ্ছে মানুষের মধ্যে এই অসহিষ্ণু মনোভাবের জন্য। তাই বিশ্ব সহিষ্ণুতা দিবসের প্রাক্কালে প্রত্যাশা আমাদের সকল ক্ষেত্রে অসহিষ্ণু মনোভাব দূরীভূত হোক।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT