উপ সম্পাদকীয়

নাসায় মাহজাবীন হক

রাজু আহমেদ প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-১১-২০১৯ ইং ০১:০৭:১২ | সংবাদটি ১৪৪ বার পঠিত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা। যার পূর্ণরুপ ন্যাশনাল এ্যারোনটিক্স এন্ড স্পেস এডমিনিস্ট্রেশন। পৃথিবীর বিখ্যাত এই মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের একটি মেয়ে স্পেস সিস্টেম সফটওয়্যার প্রকৌশলী সেটা কল্পনা করা যায়? হ্যাঁ সেই কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন মাহজাবীন হক। বলছিলাম বাংলাদেশের মেয়ে আমাদের সিলেটের মেয়ে মাহজাবীন হকের কথা। একজন অলরাউন্ডার মাহজাবীন হকের চিন্তা চেতনা আর মননে সব সময় বড় অনেক বড় কিছু হওয়ার যে বাসনা ছিলো তার সেই মনোবাসনা বাস্তবে রূপায়িত করে দিয়েছে নাসা। লেখাপড়া, নাচ, গান, আবৃত্তি, সমাজসেবা, সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড সর্বক্ষেত্রে পারদর্শী একজনকে খুজছিলো তারা। সেই সবকিছুকে পূর্ণ করে নাসায় নিয়োগ বাগিয়ে এনে এই তরুণী নিজেকে পৃথিবীর বেস্ট অবদা বেস্টদের তালিকাভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। মাহজাবীন আমাদের গর্ব। সিলেটের গর্ব সর্বোপরি পুরো বাংলাদেশের গর্ব। কৃতি এই অলরাউন্ডারের জন্য সিলেটকে আবার নতুন করে চিনলো বিশ^বাসী। ক্লাশ থ্রীতে পড়ার সময় সিলেট শহরের কাজিটুলার বাসায় বসে টেলিভিশনের পর্দায় দেখা অনুষ্ঠান নিয়ে মনের মধ্যে যে স্বপ্ন লালন করা শুরু করেছিলেন তখনকার ছোট মেয়ে মাহজাবীন স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় পাড়ি দিয়ে তা বাস্তবে রূপায়িত করেছেন তিনি। তাকে নিয়ে এখন পুরো বাংলাদেশ পুলকিত।
নাসায় একজন স্পেস সিস্টেম সফটওয়্যার প্রকৌশলী নিয়োগ দেয়া হবে। এমন বিজ্ঞপ্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অনলাইনে দেখলেন পৃথিবীর কয়েক কোটি চাকুরীপ্রার্থী। এদের মধ্যে মাহজাবীন হকও ছিলেন একজন। কয়েক লাখ আবেদন পড়লো সেখানে। সেই লক্ষ লক্ষ চাকুরী প্রত্যাশীদের মধ্য থেকে মাত্র একজনকে বেছে নেয়া হলো নাসায়। আর সেই একজনই হয়ে গেলেন আমাদের মাহজাবীন হক। সিলেটের মাহজাবীন হক। বাংলাদেশের মাহজাবীন হক। পুরো পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়লো এই একটি নাম সিলেটের মাহজাবীন হক। সেই মাহজাবীন হকের জন্ম সিলেট শহরের কাজিটুলায়। তার গর্বিত পিতা সৈয়দ এনামুল হক পূবালী ব্যাংক লিমিটেড এর সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার। মা ফেরদৌসি চৌধুরী একজন উচ্চশিক্ষিত গৃহিনী। আর একমাত্র ভাই সৈয়দ সামিউল হক যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে কর্মরত। তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার কদমরসুল গ্রামে। শৈশব আর কৈশোর কেটেছে সিলেট শহরের কাজিটুলায়। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন সিলেট শহরের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল খাজাঞ্চিবাড়ি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজে।
কিভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন এমন প্রশ্ন করেছিলাম এই বিখ্যাত তরুণীর পিতা আমার শ্রদ্ধাভাজন সহকর্মী সৈয়দ এনামুল হককে। তিনি বল্লেন সে নাকি আরেক ইতিহাস। ২০০৯ সালে ডিভি (ডাইভার্সিটি ভিসা) চালু হলে এই মাহজাবীন হকের অনেক অনুনয় বিনয়ের পর তিনি একটি ডিভি ছাড়েন। তাতে কি যে আনন্দ মেয়ের সেটা ভাষায় নাকি প্রকাশ করা যাচ্ছিলোনা। অথচ তখন সবে মাত্র ডিভি ছেড়েছেন। মেয়ে নাকি কনফিডেন্স নিয়ে বলেছিলো ‘আমাদের ডিভি লাগবেই’। সত্যি হলোও তাই। ডিভি লটারি বিজয়ীর চিঠি এলো মাহজাবীনদের বাসায়। ২০০৯ সালের শেষের দিকে তারা পাড়ি জমালেন যুক্তরাষ্ট্রে। ভর্তি হলেন নিউইয়র্কের উইলিয়াম কলেন ব্রায়ান্ট হাইস্কুলে। নানা কারণে তারা স্থানান্তর হন মিশিগান শহরে। চাকুরীর সুবাদে পিতা সৈয়দ এনামুল হক দেশে চলে আসেন। যোগ দেন তার প্রিয় কর্মস্থল পূবালী ব্যাংকে। মায়ের সাথে মিশিগান শহরে থেকে যান মাহজাবীন এবং তার একমাত্র ভাই সৈয়দ সামিউল হক। পিতার ইচ্ছে ছিলো মেয়ে তার নাম করা ডাক্তার হবে। বাড়িয়ে দেবে আর্ত পীড়িতের সেবায় তার দুই হাত। পিতার সেই ইচ্ছে পুরনের দিকেও এগুচ্ছিলেন মাহজাবীন হক। মিশিগান শহরে প্রি মেডিকেলে ক্লাশও শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শৈশবে দেখা স্বপ্নটি যেন কোন ভাবেই পিছু ছাড়ছিলোনা তার। সব সময় তাড়া করে ফিরছিলো তাকে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়িত করতে পিতা মাতাকে ম্যানেজ করে ২০১৪ সালে মেডিকেল পড়ার প্রোগ্রাম ছেড়ে ভর্তি হন মিশিগান শহরের ওয়েন স্টেইট বিশ^বিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে। এই বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ার সময় পর পর দু মেয়াদে নাসায় ডাটা এনালিস্ট হিসেবে কাজ করেন এই তরুণ সফটওয়্যার প্রকৌশলী। ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাস থেকে শিক্ষানবীশ হিসেবে নাসায় কাজ করার সুযোগও পেয়ে যান তিনি। আর বর্তমানে মাহজাবীন নাসার স্পেস সিস্টেম সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে স্থায়ীভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। গত ৭ অক্টোবর থেকে পৃথিবী বিখ্যাত এই মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী জীবন শুরু করেছেন মাহজাবীন। তার এই সাফল্যে গর্বিত পিতা সৈয়দ এনামুল হক যেমন পুলকিত ঠিক তেমনি পুলকিত সমগ্র সিলেটবাসী-সমগ্র বাংলাদেশ। আর পুলকিত বাংলাদেশ পূবালী ব্যাংক পরিবার। কেননা মাহজাবীন হক এই পরিবারেরই একজন।
লেখক : সিলেট প্রতিনিধি বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার অবকাঠামো
  • শিক্ষকদের অবদান ও মর্যাদা
  • ১৯৭০ এর নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধ
  • একাত্তর :আমার গৌরবের ঠিকানা
  • সড়ক দুর্ঘটনা কি থামানো যায় না?
  • চিকিৎসা সেবা বনাম ব্যবসা
  • নীরব ঘাতক প্লাস্টিক
  • সার্থক জীবন মহত্তর অবদান
  • প্রযুক্তির বিশ্বায়ন বনাম তরুণ সমাজ
  • মানবিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশ
  • খাদ্য চাহিদা পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধি অপরিহার্য
  • শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কিছু কথা
  • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
  • বৃটিশ সাধারণ নির্বাচন-২০১৯
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রযাত্রা সফল হোক
  • লক্ষ্য হোক সুষম সামাজিক উন্নয়ন
  • জননী ও জন্মভূমি
  • অপরূপ হেমন্ত
  • বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চাই
  • শ্যামারচরের বধ্যভূমি ও দিরাই-শ্যামারচর রাস্তা
  • Developed by: Sparkle IT