উপ সম্পাদকীয় দৃষ্টিপাত

দ্রব্যমূল্যর উর্ধগতি রুখবে কে?

আমীরুল হোসেন খান প্রকাশিত হয়েছে: ২০-১১-২০১৯ ইং ০০:৩০:১৬ | সংবাদটি ১৬০ বার পঠিত

এই চ্যানেল ওই চ্যানেল ঘুরতে ঘুরতে বিটিভিতে সরাসরি সংসদে আটকে গেল! গালাগালি গলাগলির সেই মেজাজ নাই! তারপরও কৌতুহল! আশ্চর্যজনক ভাবে প্রশ্নোত্তর পর্বে পিয়াজ! সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী থেকে শুরু করে সংসদ সদস্যরা কিন্তু ঐ যে বললাম সেই মেজাজ টা নাই। কেমন যেন পানসে পিকনিক পিকনিক মুড! গৎবাধা প্রশ্নোত্তর পর্ব। সমালোচনা প্রায় ঘরোয়া আলোচনা! জবাবদিহিতা দেয়ার দায় নাই। কি আশ্চর্য নির্লিপ্ততা।প্রায় মাসখানেক ধরে নৈরাজ্য চলছে! সমগ্র বিশ্বজুড়ে যেখানে পিঁয়াজের গড়মূল্য ত্রিশ থেকে চল্লিশ টাকা সেখানে আমাদের মত উৎপাদনশীল দেশে দুইশ টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রী যেদিন সগর্ব ঘোষণা দিলেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আছে তার পরদিন একলাফে দেড়শ থেকে দুইশ টাকা। মোবাইল কোর্ট জরিমানা খানা তল্লাশী সব কিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আপন মহিমায়! সরকারের ঘোষণা ছাড়া বাস্তবে কোথাও এর প্রয়োগ নাই! নৈরাজ্য চলছে চলবে। সরকার থেকে বলা হচ্ছে মাসখানেক সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু লক্ষণ তা বলে না। কোথায় গিয়ে ঠেকবে কেউ জানে না। খুচরা দোকানদার দুই চার পাঁচ কেজি রিসিট সহ রেখেছে দোকানের বাইল! কখন আবার মোবাইল কোর্ট আসে! কারসাজি যাদের তাদের এসবের পরোয়া নাই। চট্টগ্রাম ঢাকার সিন্ডিকেট অজানা বা অচেনা নয়! বিভিন্ন বিখ্যাত গ্রুপের নামে আমদানীর পুরোটাই নিয়ন্ত্রন করে ওরা! শুধু পিয়াজ নয় ঈদ রমজান পূজোসহ সহ মৌসুম অনুযায়ী সব কিছু কারসাজি করে কয়েকদিনে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নেয়! ফি বছর ফি মৌসুমেই তা ঘটে! আজ পর্যন্ত এদের কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
তাদের শক্তির উৎস কোথায়? সরকারদলের শীর্ষ পর্যায়ে এদের অহরহ আনাগোনা। কখনো সরাসরি মালিক পক্ষ আবার কখনো দলীয় প্রভাব! সুপ্রাচীন কাল থেকে এই সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীরা ছিল থাকবে। এমনকি একাত্তুর ও তৎপরবর্তী দুর্ভিক্ষের সময় যখন সারা দেশে লাশের পাহাড় তখনো লুটপাট করে কামিয়ে নিয়েছে! বর্তমান চিত্র এক অভিন্ন। অসৎ অবৈধ উপায়ে অর্জিত কাড়িকাড়ি টাকা নিয়ে রাজনৈতিক ভাবে পুনর্বাসিত! পেয়াজের আকাল কাটাতে আবার এদের শরণাপন্ন হতে হবে! শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ ঋণপত্রের মাধ্যমে আমদানী করে আবারো কাড়ি কাড়ি টাকা কামিয়ে নিবে তথাকথিত ক্ষমতাধর বিখ্যাত গ্রুপগুলো! ধারে কাটে ঘড়িতে ও কাটে। এ চক্র থেকে মুক্তির কোন পথ খোলা নেই।
সাধারণ মানুষ পাগলের মত হয়ে গেছে! শুধু পেঁয়াজ হলে কথা ছিল, গত দশকের তুলনায় সব জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ! নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ছাড়া আয় বাড়েনি কারো! হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি কারো কারো কাছে শতকোটি টাকা ব্যাপার না! প্রায় প্রতিদিন নতুন নতুন শত কোটির রথী মহারথী দের দেখা মিলে। কয়েক গুণ বেতন বেড়েছে সরকারী চাকুরেদের! মোট জনসংখ্যার নব্বুই ভাগ এসব সুবিধাভোগী দের মধ্যে পড়ে না! কৃষক তার ন্যায্যমূল্য না পেয়ে প্রতিবছর লোকসান গুণে। সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দিনকে দিন নিঃস্ব! খেটে খাওয়া শ্রমিক দিনমজুরদের আয় তো বাড়ে নি! খাদ্যসামগ্রী ঔষধ শিক্ষা চিকিৎসাসেবা রাষ্ট্রীয় নাগরিক পরিসেবা ব্যয় বেড়েছে কত গুণ! এসব মানুষ বাঁচবে কেমন করে! এক টাকা দুই টাকা কম পাওয়ার জন্য বাজারের এ মাথা উদভ্রান্তের মত ঘুরে বেড়ায় দরিদ্র মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত! বৌ বাচ্চা ঘুমিয়ে গেলে গভীর রাতে বাড়ী ফিরে! কারো কাছে কথা রাখতে পারে না! এইসব দীন হীন মলিন নিঃস্ব নিঃসঙ্গ মানুষ গুলো ওপরওয়ালার আশায় বেঁচে থাকে! অবচেতন মনে সুখ স্বপ্ন দেখে হয়তো কোন একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে! আসলে তা কি সম্ভব? শোষক এবং শোষিতের এ চক্র ভাঙবে কে???
লেখক : কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সড়ক দুর্ঘটনা এবং সড়ক আইন-২০১৮
  • বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গ
  • বাঙালির ধৈর্য্য
  • সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার অবকাঠামো
  • শিক্ষকদের অবদান ও মর্যাদা
  • ১৯৭০ এর নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধ
  • একাত্তর :আমার গৌরবের ঠিকানা
  • সড়ক দুর্ঘটনা কি থামানো যায় না?
  • চিকিৎসা সেবা বনাম ব্যবসা
  • নীরব ঘাতক প্লাস্টিক
  • সার্থক জীবন মহত্তর অবদান
  • প্রযুক্তির বিশ্বায়ন বনাম তরুণ সমাজ
  • মানবিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশ
  • খাদ্য চাহিদা পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধি অপরিহার্য
  • শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কিছু কথা
  • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
  • বৃটিশ সাধারণ নির্বাচন-২০১৯
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রযাত্রা সফল হোক
  • লক্ষ্য হোক সুষম সামাজিক উন্নয়ন
  • জননী ও জন্মভূমি
  • Developed by: Sparkle IT