উপ সম্পাদকীয়

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলন ও কিছু কথা

মো. রফিকুল হক প্রকাশিত হয়েছে: ২০-১১-২০১৯ ইং ০০:৩৪:৫৬ | সংবাদটি ১৫৫ বার পঠিত

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ৫ ডিসেম্বর/২০১৯। দীর্ঘ আট বৎসর পর কাক্সিক্ষত জেলা সম্মেলন দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কে হবেন জেলার কান্ডারী। দলকে সুসংগঠিত ও নেতাকর্মী বান্ধব নেতা পাওয়া বড় দুষ্কর। তারপরও ত্যাগী-সৎ-শিক্ষিত যোগ্য নেতা তো বেছে নিতেই হবে। জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সফল ও সার্থক করার জন্য দলের হাই কমান্ড থেকে দায়-দায়িত্ব বিলি বন্টন করা হয়েছে। সে অনুযায়ী ২০-২১শে ডিসেম্বর/২০১৯ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষ করে এশিয়ার গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলোর প্রধানকে নিমন্ত্রন করা হচ্ছে। জাতীয় কাউন্সিলের পূর্বে সকল জেলা ও উপজেলার সম্মেলন নিশ্চিত করতে হবে। তাই সারা দেশের যে সকল জেলা ও উপজেলার কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ তাদেরকে জাতীয় কাউন্সিলের আগে আগে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই মোতাবেক আমাদের সিলেট জেলা-মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী যথাসময়ে সম্মেলন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করলে সারা দেশের প্রতিটি উইংসে প্রাণসঞ্চার শুরু হয়। দলের যারা ইতিমধ্যে অপকর্ম করেছে, চাঁদাবাজি করেছে এবং দলকে জাতির সামনে হেয় করার চেষ্টা করেছে, প্রধানমন্ত্রী কোন ছাড় না দিয়ে তাদেরকে আইনের আওতায় নে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। যে ছাত্রলীগকে সংগঠনের প্রাণভোমরা মনে করতেন, তাদেরকে নানা ধরনের বিচার বিশ্লেষণ করে দায়িত্বে আনার কিছু দিনের মধ্যেই তারা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়লেও নিজেকে আইনের উর্ধ্বে মনে করার সাথে সাথে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ত্যাগী নেতাকর্মীরা দুঃসহ জীবন যাপন করে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে নেত্রী তাদের কাছে দলের দায়িত্ব দিতে চাচ্ছেন। যে তার নেতাকর্মীকে মূল্যায়ন ও সম্মান করবে, দলের জন্য যারা নিজের স্বার্থকে বলি দিয়েছেন, দলকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে কাক্সিক্ষত স্বপ্নকে অবজ্ঞা করে সাদামাটা জীবনে অভ্যস্ত হয়েছেন। যাদের জীবনে দেশপ্রেম ছাড়া চাওয়ার কিছু নেই, সেইসব ত্যাগী, নির্লোভ ও যোগ্য শিক্ষিত কর্মীর খোঁজ নিচ্ছেন, যেন তারা দলের কমিটিগুলোতে দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়। সকল ধরণের ক্লিন ইমেজের নেতা দলের জন্য প্রয়োজন। সকল রিপোর্ট সংগ্রহ করে যাকে ত্যাগী ও ক্লিন ইমেজ মনে করবেন নেত্রী সেই সকল নেতাকে দলের দায়িত্বে আনতে নেতাকর্মীদের আহবান জানিয়েছেন। দীর্ঘ দিনের পুরানো নেতৃত্ব পরিহার করে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করতে অনুরোধ জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় সোনার মানুষ তৈরী করতে চাচ্ছেন।
কিন্তু আজকাল ‘যে লংকায় যায়, সে রাবণ হয়ে যায়’ সেই গোলক ধাঁ ধাঁ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় সম্মেলন হলেও কাউন্সিলারদের মত প্রকাশ করতে পারছেন না। কেন্দ্রের কিছু দায়িত্বশীলরা জেলার কিছু লোভী স্বার্থবাদী নেতার কারণে সম্মেলনে কাউন্সিলের পরিবর্তে পুরানো প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারীকে চাপিয়ে দিয়ে নাম ঘোষণা করে এসেছেন। কাউন্সিলররা তাদের মতামত প্রদান করতে পারেন নাই। যারা বিভিন্ন সময় মার্ডার, মামলা, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অনৈতিক কারণে জেল খেটেছেন, সেইসব নেতাদের বহাল রেখেছেন নেত্রীর নির্দেশনার বাহিরে। এতে ইতিমধ্যে প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যার উদাহরণ স্বরূপ সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলায় জোর করে কমিটি চাপিয়ে দিতে চাইলে কাউন্সিলররা কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দকে অপমান করে কাউন্সিল পন্ড করে দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত কমিটি ব্যতিরেকে পুলিশ প্রহরায় নেতৃবৃন্দ জেলায় ফেরত আসেন। যা সিলেট জেলা তথা সারা দেশের টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয়। নেত্রী নিশ্চয় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে খবর পেয়েছেন। এখানে মোদ্দা কথা হলো সর্ষে ভূত আছে। প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন ত্যাগী ও যোগ্য নেতা। যাতে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়। পুরানো এবং অধিকতর জেষ্ঠ্য যারা বয়সের ভারে ক্লান্ত, তাদেরকে বাদ দিয়ে তরুণ উদ্যোমী এবং কর্মীবান্ধব, যারা নিরলসভাবে দলকে সময় দিতে পারবে। কিন্তু দায়িত্বশীল জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নেত্রীর নির্দেশের প্রতিকূলে গিয়ে যেন জোর জবরদস্তি শুরু করেছেন। যা নেতাকর্মীরা তা কোনভাবে মেনে নিচ্ছেন না। কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব গঠন হবে ঘোষণা দিয়ে যারা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন, ভোট প্রার্থনা করছেন মাসখানিক যাবত ভোটারের কাছে গিয়ে ধর্ণা দিচ্ছেন তাদের সেই সাধনা, কষ্ট, শ্রম সব বিফলে গেছে। সিলেট জেলার এ পর্যন্ত ৭টি উপজেলার মধ্যে মাত্র ১টি উপজেলা বিয়ানীবাজার ছাড়া বাকীগুলোতে কাউন্সিলারদের অমতে কমিটি দিয়েছেন। যা ইতিমধ্যে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।
৫ ডিসেম্বর ২০১৯ সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি যাতে কাউন্সিলারদের মতামত প্রতিফলনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়, সে দিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। নেত্রী যেভাবে শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে ক্লিন ইমেজের নেতা খুঁজছেন সেভাবে যেন প্রতিষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের রাজনীতি হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণ করা। বঙ্গবন্ধু আজীবন সংগ্রাম করেছেন এদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। তারই ঔরসজাত কন্যা তার লালিত স্বপ্ন নিয়ে বাস্তবে দিনরাত কাজ করে চলেছেন। দেশকে আজ মধ্যম আয়ের দেশে ইতিমধ্যে রূপান্তরিত করে ফেলেছেন। শতভাগ বিদ্যুতের কাছাকাাছি ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছেন। বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছেন। রূপপুর পারমানবিক প্রকল্প, মাতার বাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ, মেট্টোরেল ও দৃষ্টিনন্দন ওভার বাইপাস ঢাকা নগরীসহ অনেক বিভাগীয় শহরেও বাইপাস রোড নির্মাণ করে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে ধাবিত। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চতুর্থবারের মত টানা ক্ষমতার সুফল যাতে বিফলে না যায় সে দিকে খেয়াল রেখে দেশপ্রেমিক, ত্যাগী ও অধিকতর শিক্ষিত ও যোগ্য নেতৃত্ব দ্বারা যেন জেলা কমিটি গঠিত হয়, সম্মেলনের প্রাক্কালে তাই প্রত্যাশা করছি।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সড়ক দুর্ঘটনা এবং সড়ক আইন-২০১৮
  • বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গ
  • বাঙালির ধৈর্য্য
  • সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার অবকাঠামো
  • শিক্ষকদের অবদান ও মর্যাদা
  • ১৯৭০ এর নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধ
  • একাত্তর :আমার গৌরবের ঠিকানা
  • সড়ক দুর্ঘটনা কি থামানো যায় না?
  • চিকিৎসা সেবা বনাম ব্যবসা
  • নীরব ঘাতক প্লাস্টিক
  • সার্থক জীবন মহত্তর অবদান
  • প্রযুক্তির বিশ্বায়ন বনাম তরুণ সমাজ
  • মানবিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশ
  • খাদ্য চাহিদা পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধি অপরিহার্য
  • শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কিছু কথা
  • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
  • বৃটিশ সাধারণ নির্বাচন-২০১৯
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রযাত্রা সফল হোক
  • লক্ষ্য হোক সুষম সামাজিক উন্নয়ন
  • জননী ও জন্মভূমি
  • Developed by: Sparkle IT