উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

কর্মমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণ

রঞ্জিত কুমার দে প্রকাশিত হয়েছে: ২১-১১-২০১৯ ইং ০০:৩১:২০ | সংবাদটি ১২৭ বার পঠিত

শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষাকে জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষাই কর্মমুখী শিক্ষা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন-‘আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার সঙ্গে জীবনের কোনো সংযোগ নেই।’ প্রচলিত শিক্ষা আমাদের জীবনকে ভবিষ্যতের জন্যে প্রস্তুত করেনা। আমাদের জীবনের জন্যেও তাই সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে কর্মমুখী শিক্ষা অতীব প্রয়োজনীয়। যে শিক্ষা ব্যবস্থায় মানুষ কোনো একটা বিষয়ে হাতে কলমে শিক্ষা লাভ করে জীবিকা অর্জনের যোগ্যতা অর্জন করে, তা-ই কর্মমুখী শিক্ষা। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের দেশে বেকার সমস্যার সমাধান দিতে পারছে না। তাই দিন দিন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এ সমস্যার মোকাবিলা করতে হলে কর্মমুখী শিক্ষা চালু করা অতীব প্রয়োজন।
কর্মমুখী শিক্ষা দ্বিবিধ। একটি হলো চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং কৃষিবিদ; যাঁরা বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে উচ্চ ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁরা ইচ্ছেমতো স্বাধীন পেশায় নিয়োজিত হতে পারেন। চাকরির আশায় তাদের বসে থাকতে হয় না। অন্যটি হলো সাধারণ কর্মমুখী বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা। এ শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না। সাধারণত প্রাথমিক কিংবা মাধ্যমিক শিক্ষাই যথেষ্ট। এ শিক্ষায় শিক্ষিত হলে কাউকেই খাওয়া-পরার ব্যাপারে ভাবতে হয় না। এ জাতীয় শিক্ষার মধ্যে ধাত্রীবিদ্যা, সেলাই কাজ, কাঠমিস্ত্রির কাজ, দর্জির কাজ, ছাপাখানার কাজ, বই বাঁধাই, বিদ্যুতের কাজ, টেলিভিশন রেডিও মোটরযান মেরামতের কাজ, ওয়েল্ডিংয়ের কাজ, কারখানায় শ্রমিকের কাজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থা ডিগ্রীধারী শিক্ষিত ব্যক্তি তৈরি করছে বটে, কিন্তু তা কর্মভিত্তিক না হওয়ায় ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে না।
কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব অত্যধিক। এ শিক্ষা গ্রহণের পর একজন শিক্ষার্থীকে চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে জীবনক্ষয় করতে হয় না। এ শিক্ষা বেকারত্বের অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করে, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দারিদ্র্য মোচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এ শিক্ষায় কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়। কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত দক্ষ জনশক্তিকে আমরা বিদেশে পাঠিয়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি। তাই কর্মমুখী শিক্ষা আরও ব্যাপক ও বাস্তবমুখী হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নের প্রভূত অগ্রসর সর্বক্ষেত্রে বিরাজমান। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী শিক্ষা দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে শিল্প, বিজ্ঞান, কারিগরি উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধনের উপযোগী করে তুলতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার সমস্যার সমাধান হবে। কর্মমুখী শিক্ষার প্রতি যত বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে, ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সুদৃঢ় হবে। তাই আমাদের উচিত এ শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা। আমাদের দেশে বর্তমানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা প্রচলিত। তার সঙ্গে কারিগরি, প্রকৌশলী, ডাক্তারি, ভোকেশনাল ইত্যাদি কর্মমুখী পদ্ধতিও প্রচলিত আছে।
দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নের জন্যে কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটানো প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অধিক সংখ্যক কর্মমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। ইস্পাত শিল্প, জাহাজ শিল্প ইত্যাদিতে দক্ষ কারিগর হিসেবে কাজ করতে পারে এমন সহায়ক কর্মমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ওপরও জোর দিতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যুগোপযোগী নতুন নতুন বিষয়ে কর্মমুখী শিক্ষা প্রবর্তন করতে হবে।
বর্তমান যুগে কর্মমুখী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। একমাত্র কর্মমুখী শিক্ষাই দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি বয়ে আনতে পারে। সাধারণত শিক্ষার দ্বারা মানবিক বিকাশ ঘটলেও কর্ম ও জীবিকার নিশ্চয়তা থাকেনা। কর্মমুখী শিক্ষা সেই নিশ্চয়তা বিধান করে জীবনকে হতাশামুক্ত করে।
লেখক : অব: শিক্ষক।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সড়ক দুর্ঘটনা এবং সড়ক আইন-২০১৮
  • বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গ
  • বাঙালির ধৈর্য্য
  • সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার অবকাঠামো
  • শিক্ষকদের অবদান ও মর্যাদা
  • ১৯৭০ এর নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধ
  • একাত্তর :আমার গৌরবের ঠিকানা
  • সড়ক দুর্ঘটনা কি থামানো যায় না?
  • চিকিৎসা সেবা বনাম ব্যবসা
  • নীরব ঘাতক প্লাস্টিক
  • সার্থক জীবন মহত্তর অবদান
  • প্রযুক্তির বিশ্বায়ন বনাম তরুণ সমাজ
  • মানবিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশ
  • খাদ্য চাহিদা পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধি অপরিহার্য
  • শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কিছু কথা
  • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
  • বৃটিশ সাধারণ নির্বাচন-২০১৯
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রযাত্রা সফল হোক
  • লক্ষ্য হোক সুষম সামাজিক উন্নয়ন
  • জননী ও জন্মভূমি
  • Developed by: Sparkle IT