উপ সম্পাদকীয়

ব্যবসার নামে ডাকাতি বন্ধ করতে হবে

মো. রফিকুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ২১-১১-২০১৯ ইং ০০:৩২:২৯ | সংবাদটি ২৭৬ বার পঠিত
Image

আমাদের দেশের এক শ্রেণির ব্যবসায়ী মুনাফাখোর এবং কালোবাজারী। তারা প্রায়ই কারণে-অকারণে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে জনসাধারণকে শোষণ করে। কিভাবে জিনিস-পত্রের দাম বাড়িয়ে মুনাফা লোটা যায় তারা সর্বদা এই ধান্দায় থাকে। তারা সর্বদা অহেতুক এবং অযৌক্তিক ভাবে যখন ইচ্ছা তখনই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে জনসাধারণকে কষ্ট দেয়। তাদের মধ্যে দেশপ্রেম থাকলে এবং জনগণের প্রতি ভালবাসা থাকলে কখনো এহেন জঘন্য কাজ করতে পারত না। মুনাফাখোরী, মজুতদারী পণ্যে ভেজাল দেওয়া বিদেশে অর্থ পাচার করা ইত্যাদি নানা অপকর্ম আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা করে যাচ্ছেন। তারা বিদেশ থেকে পণ্যদ্রব্য আমদানী করে কয়েকগুণ বেশী দামে জনগণের নিকট বিক্রি করে অবৈধ মুনাফা লোটে। পবিত্র রমজান মাস এলে অসৎ ব্যবসায়ীরা আরো বেসামাল হয়ে উঠে। তখন তারা দ্রব্যমূল্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে অবৈধ মুনাফা লোটে। ত্যাগের মাসে তারা ভোগী হয়ে উঠে। পবিত্র মাহে রমজানকে তারা মুনাফা অর্জনের মাস মনে করে। তাছাড়া তারা প্রায়ই বাজারে অহেতুক কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এতে জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়ে যায় কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা এদিকে মোটেই ভ্রƒক্ষেপ করেনা। তারা কালো টাকা অর্জনের ধান্দায় বিবেকহীন হয়ে যায়। মরহুম কবি শারিক শামসুল কিবরিয়া এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে যথার্থই বলেছেন-রমরমা ব্যবসায় নেই কোন চিন্তা/কড়কড়ে কালো নোট নাচে মন ধিনতা।
সম্প্রতি পেঁয়াজ নিয়ে অসাধু সিন্ডিকেট যে ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে এতে তাদেরকে ব্যবসায়ী না বলে বরং ডাকাতই বলতে হবে। কারণ, ৩০/৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনে তারা এই পেঁয়াজকে বর্তমানে ২/৩ শত টাকা কেজি দরে জনগণের কাছে বিক্রি করছে। ৩০/৩৫ টাকা কেজির পেঁয়াজ কোন অবস্থাতেই বা কোন যুক্তিতেই ২/৩ শত টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায় না। অসাধু ব্যবসায়ীরা মুনাফাখোরীর সকল সীমা অতিক্রম করেছে। কাজেই ব্যবসার নামে তাদের এহেন জঘন্য কাজকে ডাকাতি এবং তাদেরকে ডাকাতই বলতে হবে। এসব তথাকথিত ব্যবসায়ীরা দেশের দরিদ্র-অসহায় জনগণের পকেট কেটে নিজেদের পকেট ভারি করছে। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের মূল্য অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। তিনশত টাকা পেঁয়াজের কেজি অতীতে কোন দিন শুনিনি। দেশে পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুদ আছে। আড়ত এবং পাইকারী দোকানগুলোতে পেঁয়াজের কোন ঘাটতি নেই। তারপরও অসাধু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের যে অস্বাভাবিক এবং অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি করেছে,তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এভাবে প্রতি বছরই অসাধু ব্যবসায়ীরা অহেতুক পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণের পকেট কাটে এবং নিজেরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়। কিন্তু এবারের মূল্যবৃদ্ধি অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ নয় বরং বটগাছ হচ্ছে।
আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। এ কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে গিয়ে কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করেনা। তারা প্রায়ই অহেতুক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে জনগণকে কষ্ট দেয়। তারা সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে বারবার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে যদি দেশপ্রেম থাকত এবং জনগণের প্রতি যদি তাদের দায়বদ্ধতা থাকত, তাহলে তারা যখন-তখন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে জনগণকে কষ্ট দিত না। কাজেই সরকারের উচিত এসব অসাধুু ব্যবসায়ীদেরকে আইনের আওতায় আনা, যাতে তারা আইন মেনে ব্যবসা করে এবং যখন তখন অহেতুক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে জনগণকে কষ্ট দিতে না পারে। সাথে সাথে অসাধু এবং মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদেরকে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। তাহলে তারা আর ব্যবসার নামে অবৈধ মুনাফা লোটতে পারবে না।
ইসলামের দৃষ্টিতে সততার সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করা পুণ্যের কাজ। পক্ষান্তরে ব্যবসা করতে গিয়ে প্রতারণা করা, মিথ্যা বলা, পণ্যে ভেজাল দেওয়া, ভেজাল মিশ্রিত পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণরূপে হারাম। অবৈধভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করে যে টাকা পয়সা অর্জন করা হবে, সে টাকা-পয়সা সম্পূর্ণ হারাম। কাজেই ব্যবসায়ীদের উচিত হালাল বা বৈধ উপায়ে ব্যবসা করা এবং অবৈধ উপায়ে ব্যবসা করা থেকে বিরত থাকা। মুনাফাখোরী, কালোবাজারী, পণ্যে ভেজাল দেওয়া এসব কাজ থেকে ব্যবসায়ীদের বিরত থাকা উচিত। সুতরাং অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি করে ১০ টাকার মাল ১০০ টাকা এবং ১০০ টাকার মাল ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হারাম। কাজেই বর্তমানে যারা ৩৫/৪০ টাকা কেজি দরে কেনা পেঁয়াজ ২০০/৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে, তারা নিঃসন্দেহে অবৈধ ব্যবসা করছে এবং অন্যায় কাজ করছে। তাই সরকারের উচিত এসব অসাধু ও মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে পেঁয়াজের বাজারকে স্থিতিশীল করা এবং পেঁয়াজের দাম জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • বদলে যাওয়া পৃথিবী
  • কৃষিতে আমাদের অগ্রযাত্রা
  • মানুষের জীবনে বৃক্ষের অবদান
  • শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপ
  • বাংলাদেশ পারে, আমরা ভুলে যাই
  • সমাজ, সময় এবং মানুষের লড়াই
  • করোনাকালে শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা
  • বিশ্বনেতৃত্বে চীনের সম্ভাবনা কতটুকু
  • প্রসঙ্গ : হিন্দু ব্যক্তির মরদেহ সৎকার
  • সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে করণীয়
  • করোনা ও মানবিক সহযোগিতা
  • চীন-ভারত স্নায়ুযুদ্ধ : বাংলাদেশে প্রভাব
  • মানব পাচার আইনের প্রয়োগ
  • কৃষিই হোক একুশ শতকের প্রধান অবলম্বন
  • স্বাস্থ্যবিধি মানলে প্রশমিত হবে করোনা
  • তিস্তা ও ফারাক্কা চুক্তিই এখন জীয়ন কাঠি
  • দার্শনিক মানুষ ও বেপরোয়া মানুষ
  • প্রসঙ্গ : শিশুদের অভ্যাস
  • আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্কে নতুন মেরুকরণ
  • হারিয়ে যাচ্ছে মিঠে পানির মাছ
  • Image

    Developed by:Sparkle IT