উপ সম্পাদকীয়

মধ্যপ্রাচ্যে নারীশ্রমিক প্রেরণ কেন বন্ধ হবে না?

ফকির ইলিয়াস প্রকাশিত হয়েছে: ২১-১১-২০১৯ ইং ০০:৩৯:৫৪ | সংবাদটি ১৫৮ বার পঠিত

হ্যাঁ-এটা বলা যেতেই পারে আমাদের নারীসমাজ এগোচ্ছেন। এগোচ্ছেন, নৈতিক শক্তি নিয়ে। অসুর শক্তির সাথে যুদ্ধ করার একটা প্রক্রিয়া আছে। মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে কতেক হায়েনাশক্তির সাথে সংগ্রাম করার কোনো শক্তি বাংলাদেশের কেন, কোনো দেশের পুরুষরাই অর্জন করতে পারেননি। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে আইন হলো দুইপ্রকার। একটি তাদের নিজেদের জন্য। অন্যটি ‘আজনবি নফর’ (বহিরাগত চাকর) দের জন্য। যে দেশে আইন মানবতাবাদী নয়- সেই দেশের মানুষ, চলন, বলন, আচরণ নিয়ে কথা বলাই বৃথা।
বাংলাদেশের নারীসমাজ কাজ করতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিগৃহীত হচ্ছেন। এটা খুবই শংকার কথা। বিশেষ করে সৌদী আরবের মানবরূপী কিছু দানবের আচরণ বিশ্বের গণমাধ্যমে এসে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আলোচনায় বার বার আসছে, সৌদী আরব। যে আরব ভূমিতে ঘুমিয়ে আছেন বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ)। এর চেয়ে বিষাদ আর কী হতে পারে?
সৌদী আরব থেকে সুমি আক্তার নামে একজন নারী দেশে ফিরেছেন নির্যাতিত হয়ে। সুমি আক্তারের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নভেম্বর মাসের শুরুতে। সেই ভিডিওতে তিনি সৌদি আরবে তার ওপর নির্যাতনের যে বিবরণ দিয়েছিলেন, তা নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছিল।
তাকে উদ্ধারের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলছিলেন, “আমার ইমো নাম্বার যেটা ছিলো, জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তা সেই নাম্বার ট্রাক করে সৌদি আরবের পুলিশ নিয়ে গিয়ে ইয়ামেন বর্ডারের কাছের সৌদি শহর নাজরানে একটি পরিবারের কাছ থেকে আমাকে উদ্ধার করেছেন।”
তিনি বলেন, প্রথমে তাকে সৌদি আরবের রিয়াদে একটি পরিবারে গৃহকর্মীর কাজ দেয়া হয়েছিল। চার মাস পর সেই পরিবার তাকে নিয়োগকারী বা কফিলের মাধ্যমে ১২ হাজার রিয়েলের বিনিময়ে নাজরান শহরে আরেকটি পরিবারের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয় তাকে। ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে সুমি মিডিয়াকে বলেছেন, ‘প্রতি রাতেই শরীরের ওপর চলত নির্যাতন। প্রতিবাদ করলেই মারধর। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়তাম। কিন্তু তাতে তারা থেমে যেত না। ওই অবস্থায়ই শরীরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। জ্ঞান ফিরলে বুঝতে পারতাম সেটা। আমি প্রথমে যেই বাসায় ছিলাম, সেই বাসার মালিক চালাত এমন নির্যাতন। একপর্যায়ে ওই মালিক আমাকে বিক্রি করে দেয় আরেক বাসায়। ওই বাসায় গিয়ে পড়ি আরেক বিপদে। সেখানেও শারীরিক নির্যাতন। নতুন মালিক বলল, বাংলাদেশি প্রায় ৪ লাখ টাকায় আমাকে কিনেছে সে। আত্মরক্ষায় প্রতিবাদ করলে নতুন মালিক বলে, “তোকে কিনে এনেছি। তোর সঙ্গে যা ইচ্ছা তা-ই করব।” এভাবে প্রতি রাতে আমার ওপর চলত নির্যাতন।’ সুমি জানান, সৌদিতে তাকে একটি রুমে আটকে রেখে দিনের পর দিন নির্যাতন করা হয়েছে। সৌদিতে নির্যাতিত হয়ে আমি ভেবেছিলাম আর কোনদিনে দেশে ফিরতে পারব না। সেখানে যাওয়ার পর প্রথম কর্মস্থলে মালিক তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করত, মারধর করত, হাতের তালুতে গরম তেল ঢেলে দিত এবং কক্ষে আটকে রাখত। সুমি আরও জানান, এক পর্যায়ে সুমি অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই মালিক তাকে না জানিয়ে সৌদি আরবের ইয়ামেন সীমান্ত এলাকায় নাজরানের এক ব্যক্তির কাছে প্রায় ২২ হাজার রিয়ালে বিক্রি করে দেয়। ওই মালিকও তাকে নির্যাতন করেন।
উদ্ধার হওয়ার আগে ১৫ দিন তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল। ঠিকমতো খাবার দেয়া হয়নি। একসময় খুব কান্নাকাটি করে স্বামীর সঙ্গে একটু কথা বলার জন্য ফোনটি চেয়ে নেন সুমি।
তারা ফোন ফিরিয়ে দিলে বাথরুমে গিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করেন সুমি। সেই ভিডিওতে নিজেকে নির্যাতনের কথা জানিয়ে তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেন তিনি। পরে ওই ভিডিওটি তার স্বামী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন এবং বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করেন। এটি একটি দৃশ্য নয়। এমন ঘটনা প্রায় প্রতি সপ্তাহেই ঘটছে। এর কোনো প্রতিকার করা হচ্ছে না। কিংবা বাংলাদেশ সরকার করতে পারছে না।
বিবিসি জানাচ্ছে, এপর্যন্ত ২০১৯ সালে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে এবছর ৯০০ জনের মতো বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মি দেশে ফেরত এসেছেন। অভিবাসন নিয়ে কাজ করে এমন একটি বেসরকারি সংস্থা এই তথ্য দিয়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে নারী শ্রমিকদের মৃতদেহ দেশে আসার সংখ্যাও বেড়েছে। এই বিষয়টিকেই বেশি উদ্বেগজনক বলে বলা হচ্ছে। ফেরত আসা নারী শ্রমিকরা ধর্ষণসহ নানাভাবে নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ করছেন। সরকারি কর্মকর্তারাও বলছেন, এসব অভিযোগের কিছুটা সত্যতা আছে। কিন্তু এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে-এই প্রশ্ন অনেকে তুলছেন। এ বছর সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মির ৪৮ জনের মৃতদেহ দেশে আনা হয়। তাদের মধ্যে ২০ জনই সৌদি আরবে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আত্মহত্যা করেছেন। বেসরকারি সংস্থা ব্রাক এর অভিভাসন কর্মসূচির কাছ থেকে এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। সংস্থাটি বলেছে, সৌদি আরবে গৃহকর্মির কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশী নারীদের মৃত্যুর ঘটনাগুলোর কোন বিচার হচ্ছে না। খুলনার খালিসপুর এলাকা থেকে সালমা বেগম বলছিলেন, সৌদি আরবে নির্যাতনের কারণে তার ছোট বোনের মৃত্যু হয়েছে। কোন বিচার তারা চাইতেই পারেননি। মৃতদেহও পেয়েছেন ঘটনার অনেক পরে। তার ভাষ্যমতে- "নির্যাতনে কারণে আমার ছোট বোন সৌদিতে একটা পরিবারের কাছ থেকে পালিয়ে থানায় গিয়েছিল। কিন্তু পরিবারটি থানা থেকে ফেরত নিয়ে আবার নির্যাতন চালিয়েছিল।তখন তার মৃত্যু হয় বলে আমরা জানতে পেরেছি।" তিনি বলেছেন- "আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে মার্চের ৪ তারিখে। কিন্তু আমরা মৃতদেহ পেয়েছি সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখে। যদিও হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদের সার্টিফিকেট দিয়েছে, কিন্তু মাথার পিছনটা ছিল ভাঙা এবং বিভৎস। নির্যাতনের চিহ্ন ছিল শরীরেও।" সৌদি আরবে একজন গৃহকর্মিকে নিয়ে যাওয়ার পর একটি পরিবার থেকে আরেকটি পরিবারের কাছে বিক্রি করে দেয়ার জন্য 'মক্তব' নামের কিছু প্রতিষ্ঠানও আছে। এমন বিক্রির শিকার বাংলাদেশের প্রত্যন্ত একটি এলাকার ২৬ বছরের একজন নারী। স্বামী এবং এক শিশু সন্তান দেশে রেখে ভাগ্য বদলের জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য বাড়ির দুই তলা হতে লাফ দিয়েছিলেন।
মেরুদন্ডের হাড় ভেঙে পঙ্গু হলেও তিনি অন্তত জীবনটা নিয়ে দেশে ফিরতে পেরেছেন। তার কথা হচ্ছে- "সৌদিতে যাওয়ার পর এক পরিবারে থাকলাম ৭ মাস। সেখানে প্রতিদিন মারধোর এবং নির্যাতন চলে। আর বেতন চাইলে নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে ঐ পরিবার আমাকে মক্তবের মাধ্যমে আরেকটা পরিবারের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেখান থেকে পালানোর জন্য ঐ বাড়ির দুই তলার জানালা দিয়া বাইরে লাফ দিয়েছিলাম। তখন রাস্তার লোক আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।"
প্রিয় পাঠক, আর কত শুনবেন এমন হৃদয় বিদারক ঘটনা? এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নারীশ্রমিক পাঠানো কতটা যৌক্তিক- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে খুব সঙ্গত কারণেই। আমরা জানি, বাঙালী রমণীরা আরবীতে কথা বলতে পারেন না।আরব'রা যে খাবার খায়- তার রন্ধনপ্রণালীও অধিকাংশ শ্রমজীবি নারীরা জানেন না। তাহলে কেন, কার স্বার্থে বাংলাদেশী এজেন্সিগুলো মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিক পাঠাচ্ছে? সত্যকথা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে একজন ভারতীয়, পাকিস্তানী, শ্রীলংকান, ফিলিপিনো শ্রমিক যে বেতন পান-বাঙালী শ্রমিককে এরচেয়ে কম বেতন দেয়া হয়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে অধিকতর খাটনি খেটেও একজন বাঙালী শ্রমিক ভদ্র, শালীন এবং কর্মঠ আচরণ করেন। ফলে তাদের 'কফিল' (চাকরিদাতা)রা এটাকে দুর্বলতা মনে করে। না না ধরনের নির্দয় আচরণ করে। বাঙালী শ্রমিকরা নিজেদের প্রয়োজন,আপনজনের রেখে যাওয়া মুখছবির দিকে তাকিয়েই নীরবে সবকিছু হজম করেন। মানবতা এমন পাষাণ আচরণ গ্রাহ্য করে না। এখানে একটা বিষয় আমি তুলে ধরতে চাই। রিয়াদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেছেন- ''সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে ধর্ষণসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার নারীদের বেশিরভাগই নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী থাকেন না।ফলে সৌদি সরকার কিংবা সে দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের কিছু করার থাকে না।'' তিনি বিবিসি'কে বলেছেন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের প্রতিটি কেস সৌদি শ্রম দফতরে জানানো হয়। রাষ্ট্রদূত আরও বলেছেন- "কিন্তু ৯০% ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার নারী তার নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের করতে চান না।এই ধরনের ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর তারা দ্রুত বাড়ি ফিরতে চান। দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চলবে, সে আশঙ্কায় তারা আর সৌদিতে কালক্ষেপণ করতে চান না।"
আমরা তো বাংলাদেশের নারীদের চিনি,জানি। তারা যে বাংলাদেশে জন্মেছেন। সেই নিজ দেশেই ধর্ষণের মামলা তারা করতে চান না! কত শতাংশ করেন, তা কি দেশবাসী জানেন না? তাহলে তারা বিদেশে এমন ন্যাক্কারজনক কাজের বিরুদ্ধে মামলা করার সাহস দেখাবেন কি করে?
বাংলাদেশ সরকারের 'ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ড' এর ওয়েবসাইট আমাদের জানাচ্ছে- ‘প্রবাসে কর্মরত নারী কর্মীরা বিভিন্ন সময় নিয়োগকর্তা কর্তৃক নানা ধরণের নির্যাতন, হয়রানি অথবা নিরাপত্তা জনিত সমস্যায় পড়েন। এ সকল বিপদগ্রস্থ নারী কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশে সেইফ হোম স্থাপন করা হয়েছে। কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত এ সকল সেইফ হোম বাংলাদেশ মিশন সমূহের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করা হয়। সেইফ হোমে আশ্রয় গ্রহণকারী নারী কর্মীদের খাবার, চিকিৎসাসহ অন্যান্য সকল ধরণের সহায়তা করা হয়। বর্তমানে সৌদি আরবের রিয়াদে একটি, জেদ্দায় দুটি, ওমান ও লেবাননে একটি করে সেইফ হোম বিদ্যমান রয়েছে।’ কিন্তু এরপরও নির্যাতন কি থামছে? আমরা একটি জাতীয় দৈনিকের একটি রিপোর্ট পড়তে পারি যা, ২০ জানুয়ারি ২০১৮তে ছাপা হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছে- 'নির্যাতনের শিকার হয়ে সৌদি আরব থেকে ৩২৪ নারী গৃহশ্রমিক দেশে ফিরেছেন। সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ৮ জানুয়ারি থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এই নারীদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের অনেকেই তিন মাস পর্যন্ত সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেফ হোমে ছিলেন।'
আমরা জানি, অন্যান্য দেশ সৌদী আরবে নারীশ্রমিক পাঠানো বন্ধ করেছে দিয়েছে। যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনসহ কয়েকটি দেশ মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ রেখেছে। অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একাধিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সংসদীয় ককাস বলেছে, সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সির দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি না বাড়ালে এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরবেনা।
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গৃহ খাতে কর্মী নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে সৌদি আরব।
সবকিছু বিবেচনা করে, আমি যে কথাগুলো বলতে চাই, বাংলাদেশের মানসম্মান রক্ষার খাতিরেই মধ্যপ্রাচ্যে নারীশ্রমিক পাঠানো বন্ধ করা উচিৎ। বাংলাদেশ এগোচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম গার্মেন্টস রপ্তানীকারক দেশ। ন্যায্য পাওনা পেলে, এই গার্মেন্টস খাতেই লাখো নারীর কর্মসংস্থান হতে পারে। এছাড়া,কুঠির শিল্প,খামার, ক্ষুদ্রব্যবসা অনেক নারীর ভাগ্য ফেরাতে পারে আজকের বাংলাদেশে।
আমি বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের স্বার্থে কিছু করণীয় বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।
১। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যৌথ সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হোক। যে টিমটি বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুবিধা-অসুবিধা দেখবেন।সংকট নিয়ে স্থানীয় চাকুরিদাতাদের সাথে আলোচনা করবেন।
২। বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর নথিপত্র, কর্মযজ্ঞ পরখ করে দেখা হোক নিয়মিত। তারা যাতে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করতে না পারে- এর জন্য সরকারের কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করা হোক।
৩। দক্ষ শ্রমিক নির্মাণে স্বল্প অথবা বিনামূল্যে বিভিন্ন হাইস্কুলগুলোতে নৈশকালীন অথবা সপ্তাহান্তে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক। ড্রাইভার, প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান, অটো মেকানিক, মেশন (রাজমিস্ত্রী), কার্পেন্টার, পেইন্টার, পোর্টার, হোটেল ম্যানেজম্যান্ট এন্ড ক্যাটারিং সার্ভিস-এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ পেশায় জনবল গড়ে তোলা যায় খুব সহজেই। উদ্যোগটা নীতিগতভাবে সরকারের এই দুইটি মন্ত্রণালয় নিতে পারে, যৌথভাবে।
আবারও বলি, বিদেশে বাঙালী নারীর অসম্মান খুবই বেদনার বিষয়। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ভাববেন বলেই আমি আশা করছি।
লেখক : কবি, কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার অবকাঠামো
  • শিক্ষকদের অবদান ও মর্যাদা
  • ১৯৭০ এর নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধ
  • একাত্তর :আমার গৌরবের ঠিকানা
  • সড়ক দুর্ঘটনা কি থামানো যায় না?
  • চিকিৎসা সেবা বনাম ব্যবসা
  • নীরব ঘাতক প্লাস্টিক
  • সার্থক জীবন মহত্তর অবদান
  • প্রযুক্তির বিশ্বায়ন বনাম তরুণ সমাজ
  • মানবিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশ
  • খাদ্য চাহিদা পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধি অপরিহার্য
  • শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কিছু কথা
  • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
  • বৃটিশ সাধারণ নির্বাচন-২০১৯
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রযাত্রা সফল হোক
  • লক্ষ্য হোক সুষম সামাজিক উন্নয়ন
  • জননী ও জন্মভূমি
  • অপরূপ হেমন্ত
  • বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চাই
  • শ্যামারচরের বধ্যভূমি ও দিরাই-শ্যামারচর রাস্তা
  • Developed by: Sparkle IT