ধর্ম ও জীবন

বেহেস্তের সিঁড়ি নামাজ

রফিকুর রহমান প্রকাশিত হয়েছে: ২২-১১-২০১৯ ইং ০০:৩৪:০৮ | সংবাদটি ১৫৩ বার পঠিত

মুসলমানদের ধর্ম ইসলামে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। নামাজকে দ্বীনের স্তম্ভ (পিলার) বলা হয়। নামাজ মুসল্লিদের মনে শান্তি আনে। দ্বীনের বা ইসলাম ধর্মের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম নামাজ সঠিকভাবে আদায় করতে হয়। নামাজ প্রতিষ্ঠা করা বা নামাজ পড়া প্রায় সমান কথা হলেও তার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। নামাজ প্রতিষ্ঠা করা বলতে বুঝায় যথাযথ মনোযোগ এবং একনিষ্টভাবে নামাজের ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত আদায় করা। নামাজ পড়ার জন্য অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বিচার দিবসে হাশরের দিনে সর্ব প্রথম নামাজের হিসেব নেওয়া হবে।
প্রতিদিন আমরা (পুরুষরা) পাঁচবার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে মসজিদে যাই। খেয়াল করলে দেখা যায় আমরা নামাজে খুব তাড়াহুড়া করে থাকি। এমনই তাড়াহুড়া যে নামাজ যেনো ছেলে খেলা। ফরজ নামাজে ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর সাথে সাথে কিছু নামাজী তৎক্ষণাৎ উঠে পড়েন এবং বেহুশের মতো মুসল্লিদের ডিঙ্গিয়ে, ঠেলাধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে যেতে শুরু করেন। মসজিদ থেকে তাদের দ্রুত চলে যাওয়ার ধরণ দেখে মনে হয় কেউ চাবুক হাতে তাদের তাড়া করছে। জুমআর নামাজে তো কিছু নামাজী বেপরওয়া ও ফ্রি স্টাইল হয়ে উঠেন। জুমআকে সাপ্তাহিক ঈদ বলা হয়। অথচ জুমআর নামাজে আমরা কি করে থাকি? জুমআর নামাজ ১২ রাকাত পড়তে হয়। জুমআর নামাজে মসজিদগুলো মুসল্লিতে ভরে যায়। একতলা, দু’তলা, ৩য় তলা, ৪র্থ তলা ভরে উপরের ছাদও পরিপূর্ণ হয়ে যায়। জুমআবারে আসেন সাপ্তাহিক নামাজীরা। তারা খুতবার আগে বয়ান শুনেন না, সুন্নাত পড়েন না, খুতবার প্রতি মনোযোগী হন না। অন্য নামজে না এলেও জুমআ তারা মিস্ করেন না। কিন্তু নামাজে কোনো ভাব বা গুরুত্ব থাকে না। যদিও দুই রাকাত ফরজ নামাজে তারা শরীক হন। কিন্তু বয়ানে কান তো দেনই না, খুতবার সময়ও তারা ফিস ফিস করে কথা বলেন। বয়ান বা খুতবার সময় তারা অধৈর্য হয়ে উঠেন। কোনো রকমে দু’রাকাত ফরজ পড়েন। এরপর দে দৌড়। দোয়া নামাজের অংশ না হলেও জুমআর নামাজ শেষে আল্লাহ তা আলার কাছে সুখ-শান্তি, ইহলোকে পরকালে শুভ ও কল্যাণ কামনা করা হয়, রোগ-বিপদ-বালাই থেকে নিরাপত্তা কামনা করা হয়, গোনাহ্-পাপ থেকে অকল্যাণ থেকে মাফ চান, নিরাপদ থাকতে চান।
মা-বাপের জন্য, মুর্দেগানের জন্য কল্যাণ কামনা করেন। ওরা কিন্তু হাত তুলেন না, নিজেদের জন্য, মা বাবার জন্য, মুর্দেগানের জন্য দোয়া করেন না, কল্যাণ কামনা করেন না। ইমাম সাহেবের সঙ্গে সবাই হাত তুলেন, দোয়া করেন। দোয়া ছাড়া মাবুদের কাছে চাওয়ার আর কি পথ আছে? তা হলে তারা কি তাদের মুর্দেগানের মাগফেরাত চান না? দোয়ার মাধ্যমে ইমাম সাহেব যা প্রার্থনা করেন, তারা কি তা চান না? ইসলামে সৃষ্টিকর্তার কাছে চাওয়ার যে একটা বিশেষ মাধ্যম তা অস্বীকার করলে তারা কোনো কিছু চাইবে কিভাবে? ভাবখানা এমন যে, তারা তা চান না। বরং তারা দোয়া বা মোনাজাতের প্রতি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেন। কোনো কোনো মাজহাবে হয়তো আছে রুকুর আগে এবং রুক থেকে উঠে সেজদায় যারবার আগে তকবিরে তাকরিমার মতো কান পর্যন্ত দুই হাত তোলা। কিন্তু কোনো মাজহাবে তো দোয়া চাইতে নাই বা মাগফেরাত চাইতে বা মাগফেরাত চাইতে নাই, এমন কথা কোথাও বলা হয় নাই।
কিছু নামাজী অতিদ্রুত নামাজ পড়েন, নিমিষে তাদের নামাজ শেষ হয়ে যায়। তারা রুকু থেকে উঠে না দাঁড়িয়ে রুকু থেকেই সেজদায় চলে যান। সেজদায় সোজা হয়ে না বসে পরপর দু’সেজদা দিয়ে নামাজ সারেন।
নামাজের শেষে তাশাহহুদ (তাওাহিয়্যাতু...), দুরূপ শরীফ, দুয়ায়ে মছুরা পড়তে হয়। তারপরে সালাম ফেরানো। এগুলো পড়তে কমপক্ষে দেড়-দুই মিনিট সময় লাগার কথা। কিন্তু তারা যে সময় নেন তা তাশাহুদ পড়ার জন্যও দ্রুত নয়। তবুও এর মধ্যে তারা শেষ করে দ্রুত চলে যান।
দেখা যায় কেউ কেউ নামাজ পড়তে মাথায় টুপি পরেন না। অথচ টুপি পরে নামাজ আদায় করা নিয়ম। তারা একদিকে টুপি পরেন না, অন্য দিকে রঙ্গীন ছবিওয়ালা, ইংরেজি-বাংলায় লিখাযুক্ত গেনজি গায়ে দিয়ে মসজিদে আসবেন। নিচে পরেন জিন্স প্যান্ট হাটুর নিচ পর্যন্ত লম্বা। দেখতে বিশ্রী লাগে এরকম কাপড় পরা এবং এতে মুসল্লিদের বিরক্তি উদ্রেক করে।
ইদ্যানিং কিশোর-যুবকরা মসজিদে আসে নামাজ পড়ে। তারা বড়দের অনুসরণ করে। তারা দেখে বড়রা সুন্নত পড়েন না। তারাও তাই সুন্নত না পড়ে চলে যায়। অন্য মুসল্লিরা তাদের সুন্নত পড়ার তাগিদ দিতে বিব্রত বোধ করেন। কিশোর-যুবকরা যারা নতুন নামাজ ধরেছে, তারা অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে সুন্নত না পড়ে। তারা মনে করছে সুন্নত পড়ার দরকার নেই।
মসজিদে আমরা যাই আল্লাহর নির্দেশ মানতে, নামাজ পড়তে। নামাজ বেহেস্তের সিঁড়ি। এই সিঁড়ি তৈরি হয় নামাজের মাধ্যমে, নামাজে পাবন্দি’র মাধ্যমে। মসজিদ ইবাদত করার জন্য, ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য, নৈকট্য লাভের জন্য। কিন্তু নামাজ পড়ার নিয়ম কানুন, আদব-কায়দা না মানলে কিংবা মনগড়া কিছু করলে, নেকির বদলে হয় পাপ। পাপীদের স্থান তো বেহেস্তে হবে না। পাপীদের জায়গা নরকে, দোজখে।
জুম্মারদিন বয়ানে এবং সালাম ফিরানোর পরে ইমাম সাহেব ও খতিবগণ সুন্নতে মুয়াক্কাদা ও এশার নামাজে বিতির, যা ওয়াজিব, পড়ার গুরুত্বের ব্যাখ্যা দিতে পারেন দয়ালু মহান আল্লাহ্ আমাদের তার নির্দেশ মতো, নবীর (সা.) সুন্নত অনুযায়ী নামাজ পড়ার ইবাদত করার তৌফিক দান করুণ।

শেয়ার করুন
ধর্ম ও জীবন এর আরো সংবাদ
  • হাদীস সংগ্রহকারী ইমাম মুসলিম ও তিরমিজি
  • নবীজিকে ভালোবাসার দাবী সমূহ
  • বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী (র:)
  • জৈন্তা অঞ্চলে হিফজুল কোরআন পরিক্রমা
  • তাফসিরুল কোরআন
  • হাদীস সংগ্রাহক ইমাম বুখারী (রহ.)
  • জৈন্তা অঞ্চলে হিফজুল কোরআন পরিক্রমা
  • কুরআন চর্চা অপরিহার্য  কেন 
  • একদিন নবীজির বাড়িতে
  • বেহেস্তের সিঁড়ি নামাজ
  • দেন মোহর নিয়ে যত কথা
  • তাফসিরুল কোরআন
  • মানব সভ্যতায় মহানবীর অবদান
  • মানব সভ্যতায় মুহাম্মদ (সা.) এর অবদান
  • দেনমোহর নিয়ে যতো কথা
  •   উম্মাহাতুল মুমিনীন
  • ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম
  • তাফসিরুল কোরআন
  • রাসূল (সা.) এর প্রতি মুহব্বত ও আহলে বাইত প্রসঙ্গ
  • মহানবীর প্রতি ভালোবাসা
  • Developed by: Sparkle IT