ধর্ম ও জীবন

একদিন নবীজির বাড়িতে

মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী প্রকাশিত হয়েছে: ২২-১১-২০১৯ ইং ০০:৩৬:০৫ | সংবাদটি ১৬১ বার পঠিত

নবীজির এক স্ত্রীর কাহিনী যখন ভাবছিলাম তখন পেয়ে গেলাম নবীজির প্রিয়তমা স্ত্রী আম্মাজান আয়েশা (রা.) এর মুখে বলা এক টুকরো ঘটনা। তিনি বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) এসে বললেন, ‘তোমার কাছে কি সকালের খাবার কিছু আছে?’ তখন আমি বললাম, না। তখন নবী (সা.) বললেন, ‘তাহলে আমি রোজাদার। রোজা রাখলাম।’ (মুসনাদ আহমাদ : ৭/২৯৭)।
এমন ঘটনা একদিন-দুদিন হয়নি। হয়েছে অনেকবার। অনেক দিন। নবীজির খাবারের কষ্টের কথা শুনে চোখ বেয়ে পানি চলে আসছিল। তা সামলে নিলাম কোনো রকম। এদিকে মনে অনেক প্রশ্ন রয়েই গেল। ১. নবীজি অনেক দান করেন। এত করুণ অবস্থা হলে দান করেন কীভাবে? ২. হাদিয়া পান, গনিমত পান, এগুলো কী করেন? আরও কয়েকটি প্রশ্ন যখন মনে উঁকিঝুঁকি করছে তখন উকবা বিন হারিস (রা.) এর মুখে বর্ণিত একটি ঘটনা আমাকে ঠান্ডা করে দিল। বুঝলাম তাহলে এই কাহিনি?
তিনি বললেন, একদিন নবীজি আমাদের সঙ্গে আসরের নামাজ পড়লেন। খুব জলদি ঘরে চলে গেলেন। খুব বেশি দেরি করেননি আবার বের হয়ে এলেন। এমন করার কারণ জিজ্ঞেস করা হলো তাকে। তখন নবী (সা.) বললেন, ‘আমি ঘরে সদকার এক টুকরা স্বর্ণ ছেড়ে এসেছিলাম। আমার কাছে তা থাকবে আর এ ভাবে সন্ধ্যা নেমে আসবে আর আমি তা নিয়ে রাতযাপন করব তা আমার কাছে খারাপ মনে হলো। তাই নিয়ে এসে তা লোকদের মাঝে দানের উদ্দেশ্যে বণ্টন করে দিলাম।’ (বোখারি : ২/২২৯)।
ব্যাপারটি আমি স্পষ্ট বুঝলাম। নবীজি (সা.) প্রায়ই বিভিন্নজন থেকে হাদিয়া পেয়ে থাকেন। এ হাদিয়া নিজে নিজেই ভোগ করেন না। তা দান করে দেন অভাবীদের মাঝে। দান করে দেওয়ার পর আবার হাত শূন্য। খাবারশূন্য হয়ে পড়ে ঘর। এভাবেই চলে যায় দিন।
নবী (সা.) অনেক সময় দান করতে গিয়ে অঢেল দান করে ফেলেন। আনাস (রা.) বলেন, আল্লাহর নবীর কাছে ইসলামের নামে কেউ কিছু চাইলে তাকে অবশ্যই দেন। একবার এক লোক এলো রাসুল (সা.) এর কাছে। তাকে দুই পাহাড়ের মাঝ থেকে একপাল ভেড়া-বকরি দান করে দিলেন। সে লোক তার গোত্রের কাছে ফিরে গেল মহাখুশিতে। তার গোত্রের লোকদের বলতে লাগল, ‘হে আমার কওম! আমার বংশের লোকজন! তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর। কেননা মুহাম্মদ লোকদের এমনভাবে দান করেন যে পাছে অভাবের ভয় করেন না।’ (মুসলিম : ১৫/৭২)।
নবীজির আর্থিক অবস্থা বুঝলাম ওঠানামা করে। কখনও অনেক বেশি সম্পদ এসে যায়। আবার কখনও শূন্য হাত। তিনি আসলে বৈরাগী-সন্যাসীদের মতো না খেয়ে থাকেন এমন নয়। আবার রাজা-আমিরদের মতো খাবার নষ্ট করেন, আর কিছু খান এমনও নয়। খাবার ব্যাপারে তার স্বভাব হলো যা ব্যবস্থা হয় তা থেকে যতটুকু মন চায় তা খেয়ে নেন। কোনো খাবার উপস্থিত করা হলে তা ফিরিয়ে দেন না। যে খাবার সামনে নেই তা হাজির করার জন্য কাউকে কষ্টও দেন না। যদি তার সামনে গোশত-রুটি আনা হয় তাহলে তা খান। যদি ফল, গোশত-রুটি আনা হয় তাহলে তাও খান। যদি শুধু খেজুর খেতে দেওয়া হয় তাও খান। আবার শুধু রুটি খেতে দিলেও তা খেয়ে নেন। তবে দুই আইটেমের খাবার (যেগুলো একসঙ্গে খেলে হজম হতে সমস্যা হয় তা) খান না। তখন একটা খেয়ে আরেকটা সম্পর্কে বলে দেন এমন দুই ধরনের খাবার একসঙ্গে খাই না। (ইবনে মাজাহ : ২/১১০৫, ১১১৫)।
অনেকেই জানালেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনও খাবার নিয়ে সমালোচনা করেন না। (বোখারি : ৭/১৩৩)। খাবার ভালো হলে তা খেয়ে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেইসঙ্গে খাবারের আয়োজকেরও প্রশংসা করেন। খাবার রান্নায় খারাপ হলে কারও বদনাম করেন না। খাবারের বদনাম করেন না। খাবার প্রস্তুতকারীরও বদনাম করেন না। নতুন খাবার আনার জন্য কাউকে বাধ্যও করেন না।
তাহলে নবীজি (সা.) কী অপরের ওপর নির্ভর করেন? খাবার ব্যবস্থার জন্য নিজে কিছুই করেন না? নিজে কোনো উপার্জন করেন না? ইত্যাদি প্রশ্ন শয়তান আমার মনে এনে ঢেলে দিল। একটু দম নিলাম। পড়ে নিলাম লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম। শয়তানের জাল ছিন্ন হয়ে গেল। একের পর এক আমার নজরে আসতে থাকল নবীজির শৈশব, যৌবন ও বয়োবৃদ্ধ সময়ের উপার্জনের অবস্থা। কিশোর বয়সে তিনি মক্কার এক লোকের ছাগল চরিয়েছেন। (তাবকাত কাবির : ১/১৮৪)।
যৌবনে ব্যবসা করেছেন সিরিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে। নবুয়তের পর যখন দায়িত্ব বেড়ে গেল, তখনও সময় বের করে কাজ করেছেন।

 

শেয়ার করুন
ধর্ম ও জীবন এর আরো সংবাদ
  • হাদীস সংগ্রহকারী ইমাম মুসলিম ও তিরমিজি
  • নবীজিকে ভালোবাসার দাবী সমূহ
  • বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী (র:)
  • জৈন্তা অঞ্চলে হিফজুল কোরআন পরিক্রমা
  • তাফসিরুল কোরআন
  • হাদীস সংগ্রাহক ইমাম বুখারী (রহ.)
  • জৈন্তা অঞ্চলে হিফজুল কোরআন পরিক্রমা
  • কুরআন চর্চা অপরিহার্য  কেন 
  • একদিন নবীজির বাড়িতে
  • বেহেস্তের সিঁড়ি নামাজ
  • দেন মোহর নিয়ে যত কথা
  • তাফসিরুল কোরআন
  • মানব সভ্যতায় মহানবীর অবদান
  • মানব সভ্যতায় মুহাম্মদ (সা.) এর অবদান
  • দেনমোহর নিয়ে যতো কথা
  •   উম্মাহাতুল মুমিনীন
  • ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম
  • তাফসিরুল কোরআন
  • রাসূল (সা.) এর প্রতি মুহব্বত ও আহলে বাইত প্রসঙ্গ
  • মহানবীর প্রতি ভালোবাসা
  • Developed by: Sparkle IT