সম্পাদকীয়

ঘুষ লেনদেনে শীর্ষে

প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-১১-২০১৯ ইং ০০:২৭:০৮ | সংবাদটি ১২৪ বার পঠিত

ঘুষ লেনদেনের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রথম স্থানে ওঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের জরিপে বেরিয়ে এসেছে এই তথ্য। জরিপ প্রতিবেদনে দু’শ দেশের নাম এসেছে। সেখানে ঘুষের ঝুঁকির ক্ষেত্রে আগের বছরের চেয়ে দুই পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ একশ ৭৮তম অবস্থানে আছে। তার মানে এদেশে ঘুষের ঝুঁকি বেড়েছে আগের চেয়ে। বাংলাদেশের এই স্কোর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। যেখানে ভারত ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে ২৮তম এবং পাকিস্তান ৬২ পয়েন্ট নিয়ে একশ ৫৩তম অবস্থানে রয়েছে। উল্লেখ্য, ঘুষ বিরোধী প্রতিরোধক ও প্রয়োগের বিচারে বাংলাদেশ পেয়েছে ৬৩ স্কোর। দেশে ঘুষ গ্রহণ দমনে পর্যাপ্ত পদক্ষেপের অভাব ও ঘুষ বিরোধী আইনের প্রয়োগ স্বল্পতার কারণে এই স্কোর দেয়া হয়। খবরটি প্রকাশিত হয় সম্প্রতি এই পত্রিকায়।
ঘুষ লেনদেনে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ এই খবরটি যখন প্রচারিত হচ্ছে তখন দেশব্যাপী চলছে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান। অবশ্য সেই অভিযানকে সর্বাত্মক বলা যাবে, এমন নয়। শুরুতে কিছু দুর্নীতিবাজকে পাকড়াও করা হয়েছে, এটা ঠিক, তবে সেই ধারা অব্যাহত থাকেনি। তবে সরকারের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য হচ্ছে-দুর্নীতি বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। আর এমনি সময়ে একটি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের জরিপে বেরিয়ে এসেছে ঘুষ লেনদেনে বাংলাদেশের শীর্ষস্থান দখল করার বিষয়টি। এখানে ঘুষ লেনদেন হয় সরকারি বেসরকারি সেক্টরে। সরকারি অফিস আদালতে ঘুষের লেনদেনের সীমা-পরিসীমা নেই। পিয়ন-দারোয়ান থেকে শুরু করে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা পর্যন্ত দেদার ঘুষ গ্রহণ করছে। এতে তাদের কোন সংকোচবোধ নেই, বরং প্রকাশ্যে ঘুষ নিচ্ছে তারা অনেক সময় গর্বভরে। আর ঘুষ দিচ্ছে যারা সেই নিরীহ সাধারণ মানুষ, তারাও অনেক সময় বাধ্য হয়ে ঘুষ দিচ্ছে; আবার তাদেরকে অনেক সময় ফাঁদে ফেলে ঘুষ প্রদানে বাধ্য করাচ্ছে ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী। এটাই বাস্তবতা যে, ঘুষ দুর্নীতি অতীতেও ছিলো; তবে বর্তমানে এর মাত্রা বেড়েছে। মানে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ঘুষ লেনদেন। আর বর্তমান সরকারের আমলে সরকারী চাকরিজীবীদের বেতন ভাতা প্রায় শতভাগ বৃদ্ধি করার পর ঘুষের হারও বেড়ে গেছে।
এদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ধারণা সৃষ্টি হয়েছে এ রকম যে, ঘুষ না দিলে সরকারি অফিস আদালতে কোন কাজ করানো সম্ভব নয়। অভিযোগ রয়েছে কিছু কিছু গণপ্রতিনিধির ওপর। তারা জনসেবামূলক নানান কাজের জন্যও জনগণের কাছ থেকে ঘুষ নিচ্ছে বলে বিভিন্ন সময় খবর আসে পত্র-পত্রিকায়। ঘুষের ছড়াছড়ি বন্ধ করতে দরকার সর্বাত্মক অভিযান। আর যথাযথ আন্তরিকতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিলে ঘুষখোরদের চিহ্নিত করা কোন দুরূহ কাজ নয়। আর এক্ষেত্রে জনসাধারণকে সচেতন হতে হবে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী সরকারি চাকরিজীবীরা জনগণকে সেবা দিতে বাধ্য, এর জন্য তাদেরকে সরকার বেতন ভাতা দিচ্ছে, আর এই বেতন ভাতাও দেয়া হচ্ছে জনগণের ট্যাক্স-এর টাকায়। এই ব্যাপারগুলো যতোদিন বুঝতে পারবেনা সাধারণ মানুষ, ততোদিন ঘুষের লেনদেন বন্ধ হবেনা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT