উপ সম্পাদকীয়

পরিবেশ সচেতন মানুষ চাই

মো. লোকমান হেকিম প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-১১-২০১৯ ইং ০০:৩০:৫৮ | সংবাদটি ১৫৮ বার পঠিত

প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে একটি দেশের মোট আয়তনের প্রায় শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ, পরিবেশ দূষণ কমানো, জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন সরবরাহ, কাঠের যোগান, প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ ইত্যাদি কারণে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বর্তমানে পৃথিবী উত্তপ্ত হচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে। শত সহ¯্র বছর ধরে জলবায়ুতে প্রাকৃতিক কারণেই সব সময় ঘাত প্রতিঘাত সৃষ্টি হয় এবং পরিবর্তন ঘটায়। তবে এসব পরিবর্তন ঘটে অতি ধীরে ধীরে। এক একটি পরিবর্তনের জন্য ১০ হাজার বছর থেকে লক্ষ বছর কেটে গেছে। কিন্তু বর্তমানে জলবায়ুর যে পরিবর্তন ঘটছে তা মূলত মনুষ্য সৃষ্টি এবং অতি দ্রুত হারে। এই পরিবর্তন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সারা পৃথিবীতে তোলপাড় চলছে। জলবায়ুর অতি সামান্য যে পরিবর্তন ইতিমধ্যে লক্ষ্য করা গেছে তার প্রাথমিক কুপ্রভাব পৃথিবাসীকে চমকে দিয়েছে। এই কারণেই বিশ্বের নেতৃবৃন্দ একজোট হয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমিয়ে ফেলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। মানুষ কর্তৃক পরিচালিত উৎপাদন, পরিবহন, জ্বালানিসহ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার, ভূমি ও বন ব্যবহার, ভোগবিলাস ইত্যাদি নানা কর্মকা-ের ফলে দীর্ঘদিন ধর উৎসারিত গ্যাস ও বায়ুম-লে পুঞ্জিভূত গ্রীনহাউজ গ্যাসের কারণে বৈশ্বিক ঊষ্ণতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও দ্রুত বাড়বে বলে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। এই বৈশ্বিক ঊষ্ণতা বৃদ্ধির কারণেই নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হচ্ছে। ঝড়, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদির সংখ্যা ও তীব্রতা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনই মেরু অঞ্চলের জমাট বাঁধা তুষার ও হিমালয়ের তুষারাবৃত চূড়া ও হিমবাহ থেকে বরফগলা শুরু হয়েছে। যে পরিমাণ গ্রীন হাউস গ্যাস বায়ুম-লে পুঞ্জিভূত আছে তাতে যদি আর নতুন গ্রীন হাউজ গ্যাস নাও যোগ করা হয় তবুও বর্তমান শতাব্দী ধরে বৈশ্বিক ঊষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তন হতে থাকবে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে গ্রীন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ বেড়েই চলেছে এবং বাড়তেই থাকবে। এটি কমিয়ে আনার তেমন যথাযথ উদ্যোগ উন্নত বিশ্ব এখনও বাস্তবায়ন করছে না।
বিশ্বব্যাপী পরিবেশ নিয়ে মাথা ঘামানোর যত কথাই বলা হোক না কেন পরিবেশ সচেতন মানুষের বড়ই অভাব। নিজেদের হাতে নিজেরা পরিবেশ দূষণের কাজটি জ্ঞাত এবং অজ্ঞাতসারে করেই চলেছি। প্রতিদিন লাখ লাখ পেট্রোল, ডিজেল চালিত যানবাহনের পরিত্যাক্ত বিষে বাতাস বিষাক্ত হচ্ছে। সেই সাথে যুক্ত হচ্ছে হাজার হাজার কলকারখানার বিষ বাষ্প ও বিষাক্ত বর্জ্য। রেফ্রিজারেটরের ব্যবহৃত বিশেষ গ্যাসের ধাক্কায় ফুটো হয়ে যাচ্ছে বায়ুম-লের ওজন স্তর। যে কারণে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি সোজা ঐ ফুটো দিয়ে পৃথিবীতে এসে পড়ছে। ফলে হু হু করে বাড়ছে পৃথিবীর তাপ। বৈজ্ঞানিকরা বারবার সাবধান বাণী উচ্চারণ করে চলেছেন। বাতাসে বিষ বাড়ছে, পৃথিবীর উত্তাপ বাড়ছে, আলোতে চলে আসছে মরন রশ্মি, পানি দূষিত হচ্ছে, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সারা বিশ্বে পানীয় জলের চরম সংকট দেখা দিতে পারে। পৃথিবীতে প্রতিদিন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে প্রায় তিন লাখ। এই বর্ধিত মানুষের প্রতিদিনের চাহিদা পূরণের জন্য আরও বেশি করে সবুজের আচ্ছাদন বাড়ানো প্রয়োজন কিন্তু বাস্তবে প্রতি মিনিট ৪টি ফুটবল মাঠের সমান সবুজের আস্তরন পৃথিবী থেকে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। উদ্ভিদ ও প্রাণীর ৯৯:১ সুষম অনুপাতটিকে বলা হয় প্রাণী ও উদ্ভিদের বেঁচে থাকার অনুপাত। জীব জগতের জন্য এই অনুপাতের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ শুধু মানুষ নয়, সমস্ত প্রাণী জগতের অস্তিত্ব এর উপর নির্ভর করে।
প্রকৃতিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া সাধারণত আপন নিয়মেই চলে। প্রাণীকূল নিঃশ্বাসের সাথে বায়ুম-লে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস ছেড়ে দেয়। গাছপালা এই গ্যাস গ্রহণ করে এবং বিনিময়ে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন ছাড়ে যা মানুষসহ সকল প্রাণীর জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য । এভাবেই বাতাস, পানি, গাছপালা,ফলমূল সব মিলে একদিন মানুষ পেয়েছিল তার জীবন উপযোগী ভারসাম্য পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ। কিন্তু বর্তমানে মানুষ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকৃতির রূপান্তরে এক বড় নিয়ন্ত্রক। সবকিছু জানার পরও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার আমরা বন্ধ করতে পারি না। জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা ইট তৈরি করা, রান্না করা ইত্যাদি কাজগুলো আমরা করে থাকি। তারপরও সারা পৃথিবী জ্বালানি সংকটে ভুগছে। জ্বালানি সংকট এখন পৃথিবীব্যাপী সমস্যা। এতে পৃথিবীর পরিবেশ আরও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। কাজেই এখন থেকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করে বায়ু, পানি, বায়োগ্যাস ও সৌর শক্তিকে জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বাতি জ্বালানো, পানি তোলা/সেচ যন্ত্র ব্যবহার, রান্না করা, নগরায়নের জন্য ইট তৈরি করা ইত্যাদি সকল কাজগুলো সম্পাদন করলে জ্বালানি সমস্যার যেমন সমাধান হবে তেমনই সূর্যের তাপকে কিছুটা হলেও সংকুচিত/হ্রাস করা সম্ভব হবে। জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মতে শিল্প বিপ্লবের পর এবং বিশেষ করে বিগত ২০০ বছরে ব্যাপক হারে বন উজাড় ও জ্বালানি হিসাবে খনিজ তৈল ব্যবহারের কারণে বায়ুম-লে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ বেড়েছে তিনগুণ। আর মাত্র ২৮ বছর পরই আপনি জাহাজে চড়েই জিকি আকর্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে পারবেন। বর্তমানে এই এলাকা বরফ আচ্ছাদিত এবং এর ভিতর/উপর দিয়ে জাহাজ চালানো অসম্ভব।
বৈশ্বিক ঊষ্ণায়নের কারণে দ্রুত বরফ গলে যাচ্ছে এবং আগামী ২৮ বছরের মধ্যেই এর ৮০% বরফই গলে যাবে বলে গবেষকগণ জানিয়েছেন। খবর এএফপির। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগরীয় ও পরিবেশ সংক্রান্ত প্রশাসনের (এনওএএ) কর্মকর্তা জেমস ওভারল্যান্ড বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্বাভাবিক গরম গড়ায় এবং বৈশ্বিক ঊষ্ণায়নের প্রভাবে আর্কটিকের বরফ পূর্বের ধারণার চেয়ে বহুগুণে দ্রুত গলছে। জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটতে চলেছে তবে এখনও তা পুরো মাত্রায় ঘটেনি। আগামী ৩ থেকে ৫ দশকের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযান ভয়াবহন আকার ধারণ করবে। কাজেই যেটুকু সময় আমাদের হাতে আছে তার সদ্ব্যবহার করা জরুরি। আপদকে ভয় পেলে চলবে না। তার মোকাবিলা করা একান্ত আবশ্যক। আমাদের দেশের জনগণ শত সহ¯্র বছর ধরেই সাহসিকতার সহিত নানা ধরনের প্রাকৃতিক বিপদাপদ মোকাবিলা করে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক অভিঘাত হ্রাস করার জন্য এই সম্পদকে পরিবর্তনের অভিঘাতের বিষয়ে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি দিতে হবে। আমাদের কৃষি অর্থনীতি আর টেকসই উন্নয়নের জন্য আবহাওয়ার এই ঊষ্ণতা রোধে করণীয় সম্পর্কে বিশেষজ্ঞণ বলেন, ‘জ্বালানি সাশ্রয়ী শক্তির দক্ষ ব্যবহার, প্রাকৃতিক গ্যাসের অপচয় রোধসহ কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষনের জন্য প্রচুর বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। পাশাপাশি আবহাওয়া ও পরিবেশ উপযোগী শস্য বীজ চাষাবাদে উপযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। জ্বালানি সাশ্রয়ী শিল্প কারখানা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি গড়ে তুলতে হবে। জ্বালানির জন্য মানুষ যে বৃক্ষ নিধন যজ্ঞে মেতে উঠেছে তাতে অচিরেই প্রকৃতি তার ভারসাম্য রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে পৃথিবীব্যাপী চরম আঘাত হানবে।’ প্রাণী এবং বৃক্ষের মাঝে শ্বাস প্রশ্বাস বিনিময়ের মাধ্যমে জীবনচক্র চলে আসছে। তাছাড়া গাছ হলো মাটির উপর পুকুর তুল্য, প্রকৃতির দান। বৃষ্টির পানিকে মানব কল্যাণে জমা রেখে নিজেও বাঁচে পরিবেশকেও বাঁচায়। কিন্তু মানুষের অপরিনামদর্শী কার্যকলাপের কারণে বন উজাড়, জলাশয় ভরাট, নদীর প্রবাহে বাধা প্রদান, অপরিকল্পিতভাবে শিল্প বর্জ্য নিক্ষেপণ, শব্দ দূষণ ইত্যাদি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। কাজেই পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে পৃথিবীবাসীকে দূষণমুক্ত ও সময় উপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণে সচেষ্ট হতে হবে। তাহলে পরিস্থিতি আয়ত্বে রাখা সম্ভব হতে পারে। নগরায়ণের প্রয়োজনে ইট পোড়ানো হয়। কিন্তু এই কাজে প্রাকৃতিক পরিবেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একদিকে কৃষি জমির উৎকৃষ্ট মাটি ধ্বংস হয়ে পোড়া মাটিতে পরিণত হয়। অপরদিকে ইটের কাঁচামালের জন্য উৎকৃষ্ট মাটি ব্যবহারে ভূমির ক্ষয় হয়। পোড়ানোর জন্য জ্বালানি হিসেবে বৃক্ষরাজির ধ্বংসযজ্ঞ পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করে একদিকে অক্সিজেন প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করে অপরদিকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণের পরিবেশ ব্যবহৃত হয়। ইট পোড়ানোর এই তাপ ভূপৃষ্ঠের যেমন অনেক গভীর স্তর পর্যন্ত উত্তপ্ত করে তেমনই বায়ুম-লকেও প্রচ-ভাবে উত্তপ্ত করে। ফলে পৃথিবীর ঊষ্ণায়নের গতি ত্বরান্বিত হচ্ছে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের পথ উন্মুক্ত হচ্ছে। কাজেই ইটের বিকল্প ব্যবহার অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন কোন এক দেশের জন্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কোন দেশের পক্ষে এককভাবে এর প্রতিরোধ করাও সম্ভব নয়। তার পরও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পরিস্থিতি আয়ত্বে রাখা সম্ভব হতে পারে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। তাতে পৃথিবীর সকল দেশই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উত্তরাঞ্চলে দেখা দিবে খরা ও মরু প্রবণতা, দক্ষিণাঞ্চলে হবে ঝড় ও সাইক্লোন। আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আমাদের সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ পৃথিবীর ঊষ্ণতা বৃদ্ধি ও বরফ গলা রোধ বিলম্বিত করতে পারবে। বিশ্বব্যাপী সচেতনতাই পারে বিশ্ব ঊষ্ণায়ন ও বরফ গলা থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে। নতুন প্রজন্মকে সুন্দর ও দূষণমুক্ত পৃথিবী উপহার দেয়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার। ‘আসুন পৃথিবী বাঁচাই, পৃথিবীর ধ্বংসের গতি শ্লথ করি, কেও নই মোরা নিজের তরে, প্রত্যেকে আমরা প্রকৃতির তরে।
লেখক : কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার অবকাঠামো
  • শিক্ষকদের অবদান ও মর্যাদা
  • ১৯৭০ এর নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধ
  • একাত্তর :আমার গৌরবের ঠিকানা
  • সড়ক দুর্ঘটনা কি থামানো যায় না?
  • চিকিৎসা সেবা বনাম ব্যবসা
  • নীরব ঘাতক প্লাস্টিক
  • সার্থক জীবন মহত্তর অবদান
  • প্রযুক্তির বিশ্বায়ন বনাম তরুণ সমাজ
  • মানবিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশ
  • খাদ্য চাহিদা পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধি অপরিহার্য
  • শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কিছু কথা
  • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
  • বৃটিশ সাধারণ নির্বাচন-২০১৯
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রযাত্রা সফল হোক
  • লক্ষ্য হোক সুষম সামাজিক উন্নয়ন
  • জননী ও জন্মভূমি
  • অপরূপ হেমন্ত
  • বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চাই
  • শ্যামারচরের বধ্যভূমি ও দিরাই-শ্যামারচর রাস্তা
  • Developed by: Sparkle IT