পাঁচ মিশালী

ফুল বিক্রির গল্প

সঞ্জয় দত্ত প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-১১-২০১৯ ইং ০০:৩৩:২৯ | সংবাদটি ৪৪৬ বার পঠিত

-একটা ফুল কিনবেন স্যার?
-দাম কতো?
-তিরিশ টাকা।
-এই ফুলের দাম তিরিশ টাকা? টাকা গাছে ধরে?
-আচ্ছা থাক কিনতে হবে না।
-এই শোনো, আচ্ছা দাও একটা ফুল দাও।
-এই নিন।।
-তুমি তো ছোটো, পড়াশোনা রেখে ফুল বেচো কেন?
-ভালো লাগে স্যার। ফুল বেচতে আমার খুব ভালো লাগে। আর আমি তো পড়াশোনাও করি ক্লাস ফোরে।
-তাই? খুব ভালো খুব ভালো।
-আচ্ছা স্যার এই ফুল আপনি কাকে দিবেন?
-তুমি তো ছোটো, বোঝবে না ওসব। এটা তোমার সিলেবাসের বাইরে।
-বুঝেছি, আপনিও সবার মতোই। কেউই মায়ের জন্য ফুল কিনে না, স্যার আপনি আপনার মা'কে ফুল কিনে দিতে পারেন না?
সন্দীপনের চোখের এককোণে ব্যক্তিগত কিছু দুঃখ স্পষ্টত। ফুল বিক্রেতা ছোট্ট মেয়েটির একটি কথায় সন্দীপনকে ভেতরে ভেতরে খুব পোড়াচ্ছে।
-আচ্ছা, তুমি তোমার মা’কে প্রতিদিন ফুল দাও?
-আমার মা অনেকজন স্যার।
-অনেকজন? তুমি থাকো কোথায়?
-ঐ যে পুকুরটার পাশে একটা মসজিদ দেখছেন, ওটার পাশে একটা লম্বা ঘর আছে, ওখানেই আমি থাকি।
-ওটা তো এতিমখানা, তুমি ওখানে কেন থাকো?
-একজন বললো এতিমখানায় নাকি যাদের কেউ নেই তারা থাকে, আমার তো ষোলোজন মা, তবু আমি কেন থাকি কে জানে।
-ষোলোজন? এ কেমন কথা।
-বিশ্বাস হচ্ছেনা স্যার? আপনার এখন সময় হবে? আমার সব মায়ের সাথে আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেবো।
-আচ্ছা চলো।
-একটু হাঁটতে হবে স্যার। ছোটো ভাঙ্গাচুরা একটা টেবিল। তার উপর খুব যতœ করে রাখা একটি ছবি, ছবিটির মধ্যখানে ছোটবেলার সন্দীপন আর একপাশে মা অন্যপাশে বাবা। প্রতিটি রুমের দরোজায় বড় করে লেখা ‘লতিফ বৃদ্ধাশ্রম’। রুম নাম্বার...
-স্যার ও স্যার, আপনি কাঁদছেন কেন? স্যার ও স্যার..।
-আচ্ছা, এই বিছানায় কোনও লোক নেই কেন?
-গত পরশুদিন আমার এই মা মারা গেছেন স্যার। খুব আদর করতো আমাকে। আর ঐ যে ছবিটা, ওটা রোজ মুছতেন। উনার ছেলে নাকি বিদেশে। আচ্ছা স্যার, উনার ছেলেটা কি খুব খারাপ না? মা থেকে কেউ এতো দূরে থাকে?

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT