শেষের পাতা কুক-কুরু-কু ডাকে মুখরিত

দেশি মুরগির জাত উন্নয়নে সিকৃবিতে চলছে গবেষণা

সিকৃবি প্রতিনিধি প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-১১-২০১৯ ইং ০১:৫৬:০৮ | সংবাদটি ১৩১ বার পঠিত

মোরগের কুক-কুরু-কু... কুক-কুরু-কু দীর্ঘ থেকে সরু হয়ে এক সময় প্রকৃতিতে মিশে যায়। শোনামাত্রই দারুণভাবে শিহরিত হয় মন। এ কোন গ্রামীণ পরিবেশের বর্ণনা নয়। পূব আকাশে সূর্য ওঠার সময়ে এমন পরিবেশের দেখা মেলে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সিলেট কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ে এলাকায়।
দেশী মুরগি সংরক্ষণ, লালন-পালন এবং ক্রস ব্রিডিং এর মাধ্যমে নতুন লাইন উদ্ভাবন করার মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করার লক্ষ্যে সফলভাবে গবেষণা করছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে দেশি মুরগির সংরক্ষণের লক্ষ্যে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক্সি এ্যান্ড এনিম্যাল ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে ও এ বিভাগে অধ্যয়নরত এমএস ছাত্র-ছাত্রীদের সহযোগিতায় গবেষণা প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।
সিকৃবি গবেষণা খামার গুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহকৃত সাত ধরণের পিউর লাইন (মুরগির উৎপত্তির সময়ের আদি জাত) আছে। যার মধ্যে রাঙামাটি ও মৌলভীবাজার থেকে সংগ্রহকৃত মুরগির আদি জাত রেড জাঙ্গল ফাউল (বন মোরগ), সিলেট পাহাড়ী এলাকা থেকে সংগ্রহকৃত হিলি, নেকেড নেক (গলা চিলা), ফ্রিজেল (উল্টা পালক), দেশি, সিলেট অঞ্চলের আচিল এবং কাদাকনাথ। এখানে গবেষণাগারে ইনকিউবেটর এর মাধ্যমে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো হয় এবং একদিনের বাচ্চাগুলোকে তিন থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত ব্রুডিং করানো হয়। পরবর্তীতে তাদেরকে শেডে স্থানান্তরিত করা হয় এবং তাদের জাত উন্নয়নের বিভিন্ন ধরণের জেনেটিক ও রিপ্রোডাকটিভ গবেষণা চালানো হচ্ছে।
গবেষণা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিলুপ্ত প্রায় দেশী মুরগীর পিউর ব্রিড সংগ্রহ করে একটি(foundation parent) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এরপর বিভিন্ন (parameter) এর উপরে ভিত্তি করে উন্নত জাতের মুরগীর মাধ্যমে ন্যাচারাল ব্রিডিং করানো হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে মোরগ ও মুরগীর মাধ্যমে ন্যাচারাল ব্রিডিং করানো হয়েছে। যার মাধ্যমে দুইটি ভিন্নজাতের মোরগ ও মুরগীর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো একসাথে সন্নিবেশিত করে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উন্নত জাত তৈরি করা যায়। অর্থাৎ (genetics basic principal) গুলো প্রয়োগ করার মাধ্যমে দেশী মুরগী জাত উন্নায়ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে যা দেশী মুরগির জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসাবে কাজ করবে।
তারা বলেন, দেশি মুরগীর একটি জিন পোল সৃষ্টি করা হয়েছে-যা দেশী মুরগীর জেনিটিক ইরোশন প্রতিরোধের ক্ষেতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পরিকল্পিত ব্রিডিং এর মাধ্যমে মুরগীগুলো থেকে প্রাপ্ত ডিমগুলো সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরণের ডাটা লিপিবদ্ধ করা হয়। এছাড়া প্রাকৃতিক ভাবে ও ডিম থাকে বাচ্চা ফুটানো হয়। পরবর্তিতে সেগুলো থেকে ইনকিউবেটরের মাধ্যমে কৃত্রিম ভাবে বাচ্চা ফুটানো হয়। এ পর্যন্ত কৃত্রিমভাবে দুই ব্যাচের মোট ১৮০ টির মত বাচ্চা ফুটানো হয়েছে। এর মধ্যে কিছু বাচ্চা আশেপাশের হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে যাতে উন্নতজাতের মুরগীগুলো জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর মাধ্যমে হতদরিদ্র মহিলারা কিছু আয় করতে পারে।
বাচ্চা ছাড়াও অসংখ্য ডিম আশেপাশের জনসাধণের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে-যাতে করে বাচ্চা উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারে। দেশী মুরগীর পাশাপাশি কাদাকনাথ মুরগী পালন করা হচ্ছে যা উৎপত্তি ভারতের মধ্যপ্রদেশে ‘কালা মাসি’ নামে পরিচিত। এই মুরগীর ডিম ছাড়া সবকিছুই কালো এবং এর মাংস অনেক পুষ্টি গুণ স¤পন্ন। এর মাংসে চর্বির পরিমাণ ০ দশমিক ০৭ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ০৩ শতাংশ। যা অন্যান্য মুরগীতে ১৩ থেকে ২৫ শতাংশ। সেজন্য এর মাংসের চাহিদা অনেক বেশী। এর মাংসে ম্যালালিন উপাদান থাকার কারণে এর মাংসের রং কালো। সর্বোপরি এই বিদেশী জাত যদি সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়-তাহলে আমাদের গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অনেক বেশী অবদান রাখবে।
জেনেটিক্সি এ্যান্ড এনিম্যাল ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হক বলেন, দেশী জাতের মুরগীগুলোর মধ্যে বিচ্ছিন্ন প্রজনন এবং বিদেশী মুরগীর সাথে অপরিকল্পিত প্রজনন জিনগত ক্ষয়ের অন্যতম কারণ। এর ফলে দেশী মুরগীর মূল বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দেশী মুরগীর মুল্যবান জিনগত বৈশিষ্ট্য চিরদিনের জন্য হারিয়ে যাচ্ছে। তাই, ভবিষ্যতের প্রয়োজনের জন্য এদের সংরক্ষণ খুবই গুরুত্বপুর্ণ। বাংলাদেশে দেশী মুরগীর জেনিটিক্স প্রোটেনসিয়াল খুবই অনুর্বর। সে কারণে তারা দেশের মাংস ও মুরগীর চাহিদা পূরণে অক্ষম। আর এজন্য উপযুক্ত ব্রিডিং এর মাধ্যমে দেশী মুরগীর জেনিটিক্স উন্নয়ন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, গ্রাম অঞ্চলে এসব মুরগীগুলো বেশী পালন করা হয় মাংস এবং ডিমের জন্য কারণ এদের তুলনামূলক কম পুষ্টি বা খাবারের প্রয়োজন এবং অনেক বেশী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন এবং এরা অবদান রাখে ১৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ২৫ দশমিক ০৪ শতাংশ মাংস ও ডিম উৎপাদনে। বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবে দেশী মুরগীর সমৃদ্ধশালী জার্মপ্লাজম আছে। যা এর জেনিটিক্স রির্সোচ পরিমাপ করার জন্য অধিক সমর্থন দিচ্ছে। দেশী মুরগীর ফেনোটাইপের উপর ভিত্তি করে, জিনগতভাবে ৬০ শতাংশ বিবর্তন হয়ে গেছে।

 

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • ভারতে ধর্ষণ-হত্যায় গ্রেপ্তার চারজন পুলিশের গুলিতে নিহত
  • হামে এক বছরে ‘দেড় লাখ’ মানুষের মৃত্যু
  • শাহী ঈদগাহের পবিত্রতা রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
  • রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব
  • ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যঙ্গ ॥ জিন্দাবাজার থেকে একজন আটক
  • শফিক চৌধুরীর কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন
  • জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটিকে বিভিন্ন মহলের অভিনন্দন
  • দিরাইয়ে সংযোগ সড়ক না থাকায় ঝুলে আছে ব্রিজ
  • কমলা বদলে দিয়েছে জুড়ীর চাষীদের জীবন
  • সিলেট জেলা বিএনপির রোববারের বিক্ষোভ কর্মসূচি বাতিল
  • বিশ্বনাথে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০
  • কিশোরীকে ১০ দিন আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ
  • নানা আয়োজনে সুনামগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস পালিত
  • বানিয়াচংয়ে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার
  • হেতিমগঞ্জে দুর্ঘটনায় মোটর সাইকেল আরোহীর মৃত্যু
  • শাবিতে বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
  • সরকারি দফতর ও ভবনে প্রতিবন্ধীদের জন্য র‌্যামসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সংরক্ষিত থাকতে হবে-- মো.মোস্তাফিজুর রহমান
  • ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ আবিদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
  • খালেদা জিয়ার জামিনে খোদ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ: ফখরুল
  • দোয়ারাবাজারে ইউপি সদস্যের অস্বাভাবিক মৃত্যু
  • Developed by: Sparkle IT