ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ইতিহাসের আলোকে নবাব সিরাজ উদ-দৌলা

মোঃ মোস্তফা মিয়া প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-১১-২০১৯ ইং ০০:০৫:২৬ | সংবাদটি ৮৫৭ বার পঠিত
Image

নবাব আলীবর্দী খানের ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে নাতি সিরাজকে ভবিষ্যত ক্ষমতার যোগ্য উত্তরাধিকার হিসেবে গড়ে তুলেন এবং ১৯ বছর বয়সে নিজের পরিবারের সুশিক্ষিতা পরমা সুন্দরী লুৎফুন্নেসার সাথে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে বিপুল উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে বিবাহ দেন। বিবাহের পর লুৎফুন্নেসা বেগম সিরাজের প্রথম সহচরে পরণতি হন। সিরাজের প্রথম স্ত্রী উমদাতুন্নেসা সব সময় আনন্দ-উল্লাসেই মগ্ন থাকতেন। পলাশীর বিপর্যয়ের পর সিরাজ একাকী পলায়নের সিদ্ধান্ত নিলে লুৎফুন্নেসা তাকে সঙ্গী করার জন্য আকুল আবেদন জানান। সিরাজ তার এই বিশ্বস্ত স্ত্রী লুৎফুন্নেসা, তাদের একমাত্র কন্যা জোহরা এবং একজন অনুগত খোঁজাসহ ১৭৫৭ সালের ২৪ জুন গভীর রাতে নিভৃতে মুর্শিদাবাদ শহর ত্যাগ করেন।
হতভাগ্য সিরাজ পলায়ন করতে গিয়ে মীর জাফরের ভ্রাতা মীর দাউদরে হাতে অচিরেই ধরা পড়েন। মীরজাফরের জামাতা মীর কাসেম সেখানে গিয়ে তাকে ধরে নিয়ে আসেন মুর্শিদাবাদে। নবাব সিরাজউদ্দৌলা গ্রেপ্তাতার হওয়ার পর মীর কাসেম লুকানো সোনাদানার সন্ধান চেয়ে লুৎফুন্নেসার ওপর অত্যাচার করেন। এ দিকে মীরজাফরের পুত্রের আদেশে মুহাম্মদী বেগ ১৭৫৭ সালের ৩ জুলাই নবাব সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং মীরজাফরের পুত্র মিরণের নির্দেশে তার মৃতদেহ হাতির পিঠে করে মুর্শিদাবাদ নগরে অত্যন্ত অপমানজনক অবস্থায় প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেন।
স্বামীর শাহাদতের পর নবাব সিরাজের বিধবা স্ত্রী লুৎফুন্নেসাকে মীরজাফর মিরণকে বিবাহ করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সারা জীবন স্বামীর কবরের পাশে সময় অতিবাহিত করেছেন। আসলে নবাব সিরাজের চরিত্রের ওপর লুৎফা বেগমের বিরাট প্রভাব ছিল। উন্নত চারিত্রিক গুণাবলীর অধিকারিণী লুৎফা সারা জীবন সিরাজউদ্দৌলার প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। নবাবের পতনের পর লুৎফুন্নেসা সীমাহীন কষ্টের মধ্যে দিন অতিবাহিত করেন। এক মুহূর্তের জন্যও সিরাজকে ভুলতে পারেননি।
লুৎফুন্নেসা খোশবাগে সিরাজের কবরের পাশে একটি কুঁেড়ঘর তৈরি করে বাকি জীবন সেখানেই কাটিয়ে দেন। কত বড় মহীয়সী নারী হলে সব লোভ ও আয়েশ পরিত্যাগ করে জীবনের বেশির ভাগ সময় প্রাণপ্রিয় স্বামী নবাব সিরাজের ধ্যানে কাটিয়ে দেন। লুৎফুন্নেসা মাসিক যে টাকা পেতেন তা দিয়ে প্রতিদিন কাঙ্গালি ভোজের ব্যবস্থা করতেন। সুদীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে স্বামীর সেবা করে ১৭৯০ সালের নভেম্বর মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন। মুর্শিদাবাদে নবাব সিরাজের পদতলে কবর দেয়া হয়। লুৎফুন্নেসার স্বামীর প্রতি যে একনিষ্ঠপ্রেম, ভালোবাসা এবং ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
দুঃখ জনক হলেও সত্য যে, পলাশীর ইতিহাসে লুৎফুন্নেসার কাহিনী কখনো দৃপ্ত সরব হয়ে ওঠেনি। কিন্তু পলাশী কখনো তাকে পাশ কাটিয়ে যেতেও পারেনি। তিনি এক নারী তার নাম বেগম লুৎফুন্নেসা। নবাব সিরাজউদ্দৌলার সহধর্মীনি। পলাশী ২৬২ বছর অতিক্রম করছে। কিন্তু তেমনি সরব হয়ে আসতে পারেননি হতভাগা নারী লুৎফুন্নেসা । ইতিহাসে তিনি বার বার উপেক্ষিত। সিরাজকে হত্যা করে নবাব হলো মিরজাফর। ক্লাইভ তাকে নবাব বানালেন। সিরাজউদ্দৌলার কনিষ্ঠ ভ্রাতা ১৫ বছরের মির্জা মেহেদীকে হত্যা করা হলো মির্জাফর ও মিরণের নির্দেশে। কারাগারে আবদ্ধ হলেন সিরাজের মা আমেনা বেগম, নবাব আলীবর্দী খানের (১৭৪০-১৭৫৬ খ্রঃ) পতœী সরফুন্নেসা, নবাব সিরাজউদ্দৌলার অর্ধাঙ্গিনী লুৎফুন্নেসা ও তার ৪ বছরের শিশু কন্যা জোহরাকে। ঘষেটি বেগমকেও কারাগারে বন্ধি করলেন। আজকের ঢাকার গা ঘেঁষে বয়ে চলা বুড়িগঙ্গার ওপাড়ে জিনজিরা প্রাসাদে নির্বাসনে পাঠালেন।
১৭৫৮ সালে নবাব পরিবারের এই সদস্যদেরকে ঠাসাঠাসি করে তোলা হলো একটি সাধারণ নৌকায়। তাদের খাওয়া-দাওয়া বাবদ অনিয়মিতভাবে সামান্য অর্থ প্রদান করা হতো। ফলে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন যাপন করতে হয়েছিল। ১৭৬৩ সালে রেজা খাঁকে ঢাকার নায়েব সুবাদার করা হলো। তিনি নবাব পরিবারে এই নারীদের জন্য সামান্য ভাতা বরাদ্দ করতেন। সাত সাতটি বছর পর ১৭৬৫ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকার জিনজিরা বন্দিখানা থেকে মুক্তি পেয়ে মুর্র্শিদাবাদ এলেন লুৎফুন্নেসা, তার কন্যা জোহরা এবং আলীবর্দী খাঁর পতœী শরফুন্নেসা। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লুৎফুন্নেসা ও তার কন্যার ভরণপোষণের জন্য মাসিক ৬০০ টাকা বরাদ্দ করলেন। ক্লাইভ এর নির্দেশে লুৎফুন্নেসা ও তার কন্যা জোহরাকে মুর্শিদাবাদে আনা হয়েছিল। ক্লাইভ এর নির্দেশের বিরুদ্ধে যাওয়ার দুঃসাহস ছিল না মীর জাফরের।
পাপিষ্ঠ মীরজাফর ১৭৬৫ সালের ১৭ জানুয়ারি দুরারোগ্য কুষ্ঠ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে ১৭৬০ সালের ২৬ জুন মিরণ কয়েকজন অনুচরকে পাঠিয়েছিলেন জিনজিরায়। মুর্শিদাবাদের নাম করে দুই বোন আমেনা বেগম ও ঘসেটি বেগমসহ সিরাজের নিকট আত্মীয়দের নৌকায় তুলে বুড়িগঙ্গা-ধলেশ্বরীর সঙ্গমস্থলে ঠিক মাঝনদীতে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক মীরণের অনুচর আসফ খাঁ নৌকার তলার খলগুলো খুলে দিয়েছিল। সলিল সমাধি হয়েছিল বুড়িগঙ্গা নদীতে সিরাজের মাতা ও খালার। এর ঠিক এক সপ্তাহ পরে ১৭৬০ সালের ৪ জুলাই মীরজাফরের পুত্র মীরণের বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছিল।
বিপর্যস্ত জীবন-ব্যথা, বেদনা, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা যেনো অনুষঙ্গ হয়ে গেল লুৎফুন্নেসার জীবন। মুর্শিদাবাদে আসার কয়েক বছর পর একদমই ভেঙ্গে পড়লেন লুৎফুন্নেসা। এরই মধ্যে মেয়ে জোহরার বিয়ের বয়স হয়ে গেল। শেষে অতি সাধারণ ঘরনায় মেয়ের বিয়ে হলো। জামাই মীর আসাদ আলী খান। মীর আসাদ আলীর ঔরসে জোহরার এক পুত্র ও চার কন্যা জন্মগ্রহণ করলেন। জোহরার পুত্রের নাম শমসের আলী খান। কন্যাদের নাম সরযুন্নাসি, আমাতুন্নাসি, সকিনা ও আমাতুল মাহদী। দরিদ্রসীমার মধ্যেও জীবন একরকম কাটছিল। কিন্তু জামাই মীর আসাদ আলী খান যখন হঠাৎ মারা গেলেন, তখন তাদের জীবন হুমকীর মধ্যে পড়ল। বিপদ কাটতে না কাটতে এলো আরেকটি আঘাত- ১৭৭৪ সালে বিধবা কন্যা জোহরা তাকে ছেড়ে চিরদিনের মতো চলে গেলেন। বিধবা কন্যার মৃত্যুতে এবার লুৎফুন্নেসা ভেঙে পড়লেন।
৬০০ টাকা মাসোয়ারায় পাঁচ-পাঁচটি পিতৃ-মাতৃহারা নাতি ও নাতনীকে নিয়ে জীবন যে চলছিল, তা নয়। কিন্তু একে একে চারজন বিবাহযোগ্যা মেয়েদের দেখা দিল সমস্যা। কোথায় টাকা পাবেন?ে কে তাকে সাহায্য করবে? উপায়ান্তর না দেখে ১৭৮৭ সালের মার্চ মাসে গভর্ণর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস এর কাছে ভাতা বাড়িয়ে দেয়ার জন্য আবেদন করলেন। আবেদন পত্রে বললেন, নবাব সিরাজউদ্দৌলার মুত্যু এবং তার যাবতীয় মালামাল ও সম্পদ লুণ্ঠিত হওয়ায় এবং আমি বার বার চরম নিষ্ঠুরতা ও নির্যাতনের স্বীকার হয়েছি। ঝড়-ঝঞ্ঝার প্রবল তরঙ্গ বইয়ে দেয়া হয়েছে আমার ওপর। লুৎফুন্নেসার আবেদন নাকচ করে দিলেন লর্ড কর্নওয়ালিস। ঐ ভাতা বাদে মাসে আরো ৩০৫ টাকা পেতেন কুরআনখানি, দানখয়রাত এবং খোশবাগে আলীবর্দী খাঁ ও সিরাজউদ্দৌলার সমাধি দেখা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য। ১৭৯০ সালের নভেম্বর মাসে স্বামীর কবরের পাশে নামাজরত অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দুর্ভাগা এই নারীর শেষ শয্যা রচিত হলো স্বামীর কবরের পাশে। ইতিহাস এ পর্যন্ত এসে নীরব হয়ে গেছে, থেমে গেছে। এই ভাগ্যহীনা নারীর অসহায় এক নাতি ও চার নাতনীর আর খোঁজ-খবর রাখেনি ইতিহাস। যদিও জীবনের কঠিন বাস্তবতায় সংগ্রাম, ভয়-আতংককে অতিক্রম করে সিরাজ ও বেগম লুৎফুন্নেসার বংশধররা আজও খুলনা ও ঢাকায় বসবাস করছেন।
ঢাকার জিনজিরা প্রাসাদ কয়দ খানার প্রতিটি ইটে মিশে থাকা লুৎফুন্নেসা, আমেনা বেগম, শরফুন্নেসা ও ঘষেটি বেগমের বুকভাঙা দীর্ঘশ্বাস, আর্তনাত ও আহাজারি কান্নার আওয়াজ আজও শুনতে পাওয়া যায়। ইতিহাসের শিক্ষার্থীগণ কান পাতলেই শুনতে পাবে। সেই ইতিহাস আমাদের পূর্ব পুরুষের ইতিহাস। সেই ইতিহাস এক অব্যক্ত বেদনার ইতিহাস।
তাই আজ এতদিনে জেগে উঠেছে সিরাজউদ্দৌলার বংশধরদের ইতিহাস। ইতিহাস কখনোই থেমে থাকেনি। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে সিরাজউদ্দৌলার একমাত্র নাতি জোহরার পুত্রের নাম শমসের আলী খান। শমসের আলীর এক মাত্র পুত্র লুৎফে আলী। ১৮৩৩ সালে লুৎফে আলীর মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারী হন একমাত্র কন্যা ফাতিমা। ফাতিমা বেগমের গর্ভে জন্ম নেয় ৩ কন্যা লুতফুন্নিসা, হাসমত আরা বেগম ও উলফুন্নেসা। ফাতিমা বেগম মারা যান ১৮৭০ সালে। ফাতিমা বেগমের কন্যা হাশমত আরা বেগমের বিয়ে হয় বঙ্গ, বিহার, উড়িষ্যার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীতে নিযুক্ত দেওয়ান কুখ্যাত অত্যাচারী দেব সীংহের (দেব সীংহ রংপুর, দিনাজপুর যুক্ত জেলার অর্থমন্ত্রী ছিলেন) পালনকর্তা মোহাম্মদ রেজা খানের ভাই আহমদ খানের এক অধস্তন পুরুষ সৈয়দ আলী রেজার সাথে। সৈয়দ আলী রেজা ও হাশমত আরা যথাক্রমে ১৮৯৭ ও ১৯৩১ সালে মারা যান। এই আলী রেজার পুত্র জাকি রেজা ও কন্যার নাম হলো তিলা তারা বেগম। এই জাকি রেজা মুর্শিদাবাদের সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন। এই পরিবারের দূর্গতির কথা ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহর কর্ণগোচর হলে তিনি ১৯১৩ সালে তৎকালীন বাংলার গভর্ণরকে অনুরোধ করেছিলেন জাকিকে একটি ভালো চাকরি দেয়ার জন্য। জাকি রেজার চার পুত্র গোলাম হায়দার মহসিন রেজা, গোলাম আহমদ, গোলাম মর্তুজা, রেজা আলী এবং দুই কন্যা হলেন খুরশিদা বেগম ও মুগরা বেগম। এরা দীর্ঘ সময় মুর্শিদাবাদে ছিলেন। এরা চলে আসেন ১৯৪৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে। গোলাম হায়দার ও গোলাম আহমদ বদলি হয়ে চলে যান করাচি, রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরে। রেজা আলী থেকে যান খুলনা কাস্টমে। গোলাম মর্তুজা এসে যোগ দেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার অফিসে।
“সাপ্তাহিক পলাশী” পত্রিকায় ১৪ আগস্ট ১৯৯২ সংখ্যায় প্রকাশিত এক সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে (সম্পাদক : ড. মুহাম্মদ ফজলুল হক) “বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার সপ্তম বংশধর গোলাম মর্তুজা ৮২ বছর বয়সে গত ১৯ জুলাই ১৯৯২ খ্রী. বিকাল ৫টা ২৫ মিনিটে খুলনার মিউনিসিপ্যালি ট্যাংক রোডস্থ তার নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুইপুত্র, কন্যা, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাকে খুলনার টুটপাড়া গোরস্থানে ২০ জুলাই ১৯৯২ খ্রীষ্টাব্দে দাফন করা হয়। গোলাম মর্তুজা সাহেবের পুত্র গোলাম মোস্তফা ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের। বর্তমানে আছেন ঢাকায়। অন্য পুত্র গোলাম মোহাম্মদ খুলনাতেই ব্যবসা করছেন।
সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রী লুৎফুন্নেসার একমাত্র গর্ভজাত কন্যা জোহরার একমাত্র পুত্র শমসের আলী খানের দৌহিত্র ফাতিমা বেগমের মেয়ে উলফুন্নেসার বিয়ে হয় মুর্র্শিদাবাদের সুলতান আম মির্জার সাথে। তাদের পাঁচ পুত্র ও পাঁচ কন্যার এক পুত্রের বংশধর সৈয়দ আহমদ মির্জা তিনি পুত্র ওয়াসক আলী মির্জা, ইশতিয়াক মির্জা ও ইমতিয়াজ মির্জা। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর এরা সবাই খুলনাতেই আসেন। ছোটখাটো চাকরি করছিলেন খুলনা কালেক্টর অফিসে।
বাংলাদেশ থেকে কোনো সরকারি সাহায্য বা ভাতা তারা আজ পর্যন্ত পাননি। এ এক ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। আমাদের জাতীয় জীবনে সিরাজউদ্দৌলার বংশধররা আজো অবহেলিত ও উপেক্ষিত। জাতির জন্য সত্যই এ এক চরম বেদনাদায়ক ঘটনা। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো এই যে, ইতিহাস থেকে কেউ কিছু শিখে না। নিয়তির কঠিন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে নবাব সিরাজের বংশধররা যে, আজো টিকে আছে, এর সফলতাও কম কিসের।
তথ্য সূত্র ঃ অক্ষয় মৈত্র: মুর্শিদাবাদ কাহিনী : নিখিল নাথ রায়ঃ আলীবর্দী এন্ড হিজ টাইমস : কে কে দত্ত, ৫. বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস : আব্দুর রহীম, ৬. নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও বাংলার মসনদ : ড. মুহাম্মদ ফজলুল হক, ৭. চেপে রাখা ইতিহাস : আল্লামা গোলাম আহমাদ মোর্তজা, ৮. এক টুকরো পলাশী (প্রবন্ধ : দৈনিক ইত্তেফাক) : মাসুদুল হক।

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বালাগঞ্জের বাতিঘর বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়
  • বঙ্গবন্ধু ও গান্ধীজী
  • সিলেটের দ্বিতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন ‘মেশিনম্যান’
  • একটি যুদ্ধ : একটি শতাব্দী
  • বালাগঞ্জের প্রাচীন জনপদ শিওরখাল গ্রাম
  • ভাটিপাড়া
  • সময়ের সোচ্চার স্বর সোমেন চন্দ
  • বঙ্গবন্ধুর সিলেট সফর ও কিছু কথা
  • বায়ান্নতেই লিখেছিলেন ‘ঢাকাই কারবালা’
  • জীবনের শেষক্ষণে অর্থ-স্বর্ণ সবই জড়পদার্থ
  • কমরেড বরুণ রায়
  • বঙ্গবন্ধু ও রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
  • নারী ভাষাসৈনিকদের কথা
  • মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবীর ওসমানী
  • ভাটির বাতিঘর সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ
  • মাওয়ের লংমার্চের ৪ বছর পর সিলেটিদের লং মার্চ
  • শহীদ মিনারের ইতিকথা
  • সিলেটের লোকসংগীত : ধামাইল
  • পর্যটক ইবনে বতুতার কথা
  • বই এল কোথা থেকে?
  • Image

    Developed by:Sparkle IT