সম্পাদকীয় দেশকে ভালো না বাসলে তাকে ভালো করে জানবার ধৈর্য্য থাকে না, তাকে না জানলে তার ভালো করতে চাইলেও তার ভালো করা যায় না। -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

চিকিৎসায় সরকারি সাহায্য

প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-১১-২০১৯ ইং ০০:১৪:৪৩ | সংবাদটি ৮৩ বার পঠিত

দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত রোগীরা সরকার থেকে পাবেন চিকিৎসা সহায়তা। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত নীতিমালা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। মূলত দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে চায় সরকার। প্রকাশিত নীতিমালায় বলা হয়েছে- ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, থ্যালাসেমিয়া ও জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীরা পাবেন সরকারের এই চিকিৎসা সহায়তা। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রত্যেক রোগীকে দেয়া হবে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা। সহায়তা পাবার ক্ষেত্রে ভূমিহীন, নিঃস্ব, উদ্বাস্তু, শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, বিপতিœক, নিঃসন্তান ও পরিবার বিচ্ছিন্ন রোগীরাই অগ্রাধিকার পাবেন। দেশে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্তের সংখ্যা। এই রোগের চিকিৎসাও ব্যয়বহুল। এই প্রেক্ষিতে সরকার চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। খবরটি প্রকাশিত হয় সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বর্তমানে দুঃস্থ রোগীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান কর্মসূচী চালু রয়েছে। ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের প্রত্যেককে দেয়া হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা সহয়তা। দেশের ৯৪টি হাসপাতাল এবং চারশ’ ৯২টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চলছে। এই কর্মসূচীকেই নিয়ে আসা হয়েছে নীতিমালার আওতায়। আর সেই সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের সহায়তা প্রদান। বর্তমানে এই দুই ধরণের রোগীদের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে না। নতুন নীতিমালায় আরও সংযুক্ত করা হয়েছে থ্যালাসেমিয়া রোগী। দেশে বর্তমানে সংক্রামক রোগের মাত্রা বাড়লেও এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি হওয়ায় এগুলো ভয়াবহ আকার ধারণ করছেনা। কিন্তু নানা কারণে অসংক্রামক রোগের মাত্রা বেড়ে চলেছে। ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি রোগ ইত্যাদি বলা যায় ‘মহামারি’ আকারে ছড়াচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ। অপর্যাপ্ত চিকিৎসা আর অসচেতনতার জন্য রোগীদের ৬৬ শতাংশেরই অকাল মৃত্যু হয়। আর দেশে দুই কোটির বেশি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। এদের ৪০ শতাংশেরই কিডনি বিকল। স্ট্রোকে আক্রান্ত হাজারে ১২ জন। আর বিপুল সংখ্যক রোগী রয়েছে লিভার, হৃদরোগ ও থ্যালাসিমিয়া রোগে আক্রান্ত।
সবকিছু পরে এক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা খুব ভালো নয়। বর্তমানে পরিচালিত চিকিৎসা সহায়তা প্রদান কর্মসূচীর আওতায় যারা সহায়তা পাচ্ছেন, তাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে। অর্থাৎ বর্তমান প্রক্রিয়ায় আবেদন করা থেকে অর্থ বরাদ্দ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া জটিল এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। [অনেক সময় রোগী সহায়তার জন্য আবেদন করে অপেক্ষা করতে করতে এক পর্যায়ে রোগীর বিনা চিকিৎসায় জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছে। অথচ জটিল প্রক্রিয়া সম্পাদন করে অর্থ বরাদ্দ আর হচ্ছে না। তাছাড়া, দূরারোগ্য জটিল রোগের চিকিৎসা খুবই ব্যয় বহুল। যেখানে চিকিৎসা ব্যয় লাখ লাখ টাকা, সেখানে ৫০ হাজার টাকা খুবই নগন্য। তাই সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ানো দরকার।] সর্বোপরি, সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে জটিল রোগের উন্নততর চিকিৎসা সহজলভ্য করা জরুরী বলে আমরা মনে করি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT