সম্পাদকীয় অসত্যের দাপট ক্ষণস্থায়ী এবং সত্যের দাপট দীর্ঘস্থায়ী। -হজরত সোলায়মান (রহ.)।

ফিলিস্তিন সংহতি দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ২৯-১১-২০১৯ ইং ০১:০২:২৩ | সংবাদটি ১৪৮ বার পঠিত

ফিলিস্তিন সংহতি দিবস আজ। ১৯৮৭ সালের আজকের এই দিনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইউনাইটেড ন্যাশন্স পার্টিশন প্ল্যান ফর প্যালেস্টাইন প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এরপর থেকে এই দিনটি আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিনি সংহতি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘ প্রস্তাব অনুযায়ী ইসরাইল ও ফিলিস্তিন আলাদা দু’টি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা হয়নি। তাই ফিলিস্তিন বা প্যালেস্টাইন পরাধীনতার শৃঙ্খল পরা একটি যুদ্ধাহত দেশ। ইহুদি সা¤্রাজ্যবাদ থেকে নিজ দেশ বাঁচাতে যারা প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছে। সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে ও নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠে ফিলিস্তিন জনগণ যাতে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা পায়, ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে সেই লক্ষে সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস পালিত হয়।
ফিলিস্তিন এক সময় প্যালেস্টাইন নামে পরিচিত ছিলো। তখনকার জনগোষ্ঠীর দুই তৃতীয়াংশ ছিলো আরব জাতিভুক্ত বা মুসলিম। আর একভাগ ছিলো ইহুদি। ব্রিটিশ শাসনভুক্ত দেশটিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা করা হয়। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধ শেষে ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশেষ কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনের জেরুজালেম শহরকে আন্তর্জাতিক শহরের মর্যাদা দিয়ে ফিলিস্তিন ভূ-খ-কে আরব ও ইহুদি অধ্যুষিত দু’টি রাষ্ট্রে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই চক্রান্তেরই অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনের একাংশে ইসরায়েল নামে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়। অপরদিকে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠন হয়নি, বরং তারা নিজ আদি নিবাস থেকে বিতাড়িত হতে থাকে। তখন থেকেই ফিলিস্তিন ভূ-খ-ে আরব ও ইহুদি দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। যা বর্তমানে বিশ্ব সংকটের রূপ নিয়েছে। ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২৯ এ নভেম্বরকে ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস হিসেবে গ্রহণ করে। এর দশ বছর পর ১৯৮৭ সালের আজকের এই দিনে ইউনাইটেড ন্যাশন্স পার্টিশন প্ল্যান ফর প্যালেস্টাইন প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে ফিলিস্তিনকে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয়া হয়।
ফিলিস্তিন বিশ্বের নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর একটি প্রতিক। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্বের মানবতাবাদী মানুষদের আবেগ-অনুভূতি। নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিন নামক রাষ্ট্রটি টিকে আছে। টিকে আছে সেই দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষেরা। ইতিহাস স্বীকৃত বিষয় হচ্ছে, কোনো জাতি, ভূ-খ- স্বাতন্ত্র্যবোধ নিয়ে টিকে থাকলে, নিজের বিশ্বাস ও আদর্শের প্রতি অটল থাকলে তাদের অবস্থান দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হতে থাকে। এমনই একটি আদর্শবান জাতি হচ্ছে ফিলিস্তিনী। [আমরা আশাবাদী যে, ফিলিস্তিনীরা একদিন তাদের কাক্সিক্ষত লক্ষে পৌঁছুতে পারবে। ফিরে পাবে হারানো ভূ-খ-। প্রসঙ্গক্রমে এটাও বলা যায় যে, বাংলাদেশে আশ্রয়রত মিয়ানমারের নিজ ভূ-খ- থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যেন অচিরেই নিজ ভূ-খ-ে ফিরে যায়। শুধু তাই নয়, বিশ্বের অন্যান্য স্থানে অনুরূপভাবে নির্যাতিত নিপীড়িত জাতি গোষ্ঠীর মুক্তি ত্বরান্বিত হোক, আজকের ফিলিস্তিন সংহতি দিবসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।]

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT