ধর্ম ও জীবন

কুরআন চর্চা অপরিহার্য  কেন 

মাওলানা আব্দুল হান্নান তুরুকখলী প্রকাশিত হয়েছে: ২৯-১১-২০১৯ ইং ০১:১৩:০১ | সংবাদটি ১৫৯ বার পঠিত

 

মানব মুক্তির দর্পণ মহাগ্রন্থ আল-কুরআন। এতে রয়েছে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনেতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সহ সকল সমস্যার সুস্পষ্ট সমাধান। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে-‘কিতাবে (কুরআনে) আমি কোনো কিছুই বাদ দেই নাই’ (সূরা মায়িদা : আয়াত-৩৮)। অন্য আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে ‘আমি এই কিতাব তোমার প্রতি নাজিল করেছি যাতে রয়েছে সকল সমস্যার সুস্পষ্ট সমাধান’ (সূরা নাহল : আয়াত-৮৯)। এ সম্পর্কে আল্লাহপাক আরো ইরশাদ করেন, ‘তারা তোমার নিকট এমন কোন সমস্যা উপস্থিত করে নাই যার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আমি তোমাকে দান করি নাই’ (সূরা ফুরকান : আয়াত-৩৩) আল্লাহপাক মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষের শান্তি-মুক্তি কোন পথে তা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন। আর মানুষের শান্তি ও মুক্তির পথ বর্ণিত হয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনেই। আল্লাহপাক কুরআন চর্চাকে মানুষের জন্য অপরিহার্য করে দিয়েছেন এজন্য যে, কুরআন চর্চা করলেই মানুষ তাদের শান্তি ও মুক্তির পথ সহজে খুঁজে পাবে। আগেকার মুসলিম মনীষীগণ জ্ঞান-বিজ্ঞানে যেসব বিস্ময়কর অবদান রেখেছেন তা কেবল পবিত্র কুরআন চর্চা করেই সম্ভব হয়েছে। মানুষের শান্তির মূল উৎসই হচ্ছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন। আমরা কুরআন পড়িনা, বুঝিনা, বুঝার চেষ্টাও করিনা। অথচ পবিত্র কুরআনে যে ‘এ্যাটমিক পাওয়ার’ লুকিয়ে আছে তা যদি আমরা জানতাম তাহলে আমরা জীবন দিয়ে হলেও কুরআন চর্চায় লিপ্ত থাকতাম। প্রশ্ন করা হবে, কুরআনের ভাষা তো আরবী। আমরা অন্য ভাষাভাষী লোক। আমরা আরবী বুঝবো কী করে? আমি এর জবাবে বলবো কুরআন বুঝার জন্য যে শুধু আরবী ভাষা শিখতে হবে এমন নয়; বরং নিজ নিজ ভাষা চর্চার মাধ্যমেই কুরআন বুঝতে হবে, কুরআন চর্চা করতে হবে। আল্লাহপাক প্রত্যেক নবী-রাসুলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে-‘আমি প্রত্যেক রাসুলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি তাদের নিকট পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য (সূরা ইব্রাহীম : আয়াত-৪)। রাসুল (সা.) এর ভাষা ছিল আরবী। তাঁর জাতির ভাষাও ছিল আরবী তাই তো আল্লাহপাক আরবী ভাষায় কুরআন নাজিল করেছেন। যাতে আরবীরা নিজ নিজ ভাষায় কুরআন বুঝতে পারে, কুরআন চর্চা করতে পারে। এভাবে বিশ্বের সকল জাতিই কুরআন চর্চা করবে নিজ নিজ ভাষায়। এজন্য কুরআনের অনুবাদ করা হয়েছে, তাফসীর করা হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ভাষায়। কুরআন চর্চা করতেই হবে নিজের শান্তি ও মুক্তির জন্য নিজ নিজ মাতৃভাষায়, সেই সাথে আরবী ভাষায় দক্ষতা থাকলে তো অত্যন্ত ভাল কথা।
আমরা বাংলা ভাষাভাষী লোক। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি। কিন্তু দুঃখজনক কথা হল, আমাদের মাতৃভাষা বাংলায়ও আমরা অনেকে শুদ্ধ করে কথা বলতে পারি না, শুদ্ধ করে বাংলায় লিখতে পারি না। অথচ আমরা সবাই ইংরেজি ভাষা চর্চা নিয়ে ব্যস্ত। ইরেজি ভাষা চর্চায় আমরা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করি। মাতৃভাষা বাংলায় আমরা শুদ্ধ করে কথা বলতে-লিখতে পারিনা-এতে আমাদের কারো মাথা ব্যথা নেই। কিন্তু আমরা ইংরেজি চর্চা নিয়ে মহাব্যস্ত! হ্যাঁ, আমরা সবাই বলবো, আমরা প্রয়োজনের তাগিদে ইংরেজি ভাষা চর্চা করি। একথা সত্য, আমরা প্রয়োজনে ইংরেজি ভাষা চর্চা করি। আমার প্রশ্ন হল, যে অতি প্রয়োজনটি (কুরআন চর্চা) না হলেই নয় সেই কুরআন চর্চায় আমরা পিছিয়ে কেন? বাংলায় কুরআন চর্চা করতে আমাদের অসুবিধা কোথায়? সেই কুরআনের সঠিক চর্চার তাগিদে আরবী ভাষা চর্চা করতে আমাদের অসুবিধা কোথায়? ইংরেজি শিখতে ও বুঝতে পারলে আরবী ভাষা শিখতে ও বুঝতে পারবো না কেন? যেভাবেই হোক কুরআন চর্চায় আমাদেরকে আত্মনিয়োগ করতে হবে। আমাদের শান্তি ও মুক্তির পথ সুগম করতে হবে। শান্তি ও মুক্তির পথে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন আমাদেরকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
সরল-সঠিক পথ খুঁজে পাবার জন্য আল্লাহপাক তাঁর বান্দারদেকে বারবার কুরআন চর্চা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং যারা কুরআন চর্চা করেনা তাদেরকে ধমকি দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে (১) ‘কুরআনকে আমি সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য, উপদেশ গ্রহণ করার মত কেউ আছে কি?’ (সূরা কামার : আয়াত-১৭, ২২, ৩২, ৪০)। (২) ‘তবে কি তারা কুরআন সম্বন্ধে অনুধাবন করেনা’? (সূরা নিসা : আয়াত-৮২)। (৩) ‘তবে কি তারা কুরআন সম্বন্ধে অভিনিবেশ সহকারে চিন্তা করেনা? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ? ’সূরা মুহাম্মদ : আয়াত-২৪)। যারা কুরআন চর্চা করেনা তাদের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। তাদের বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন রাসুলে পাক (সা.) অভিযোগ দায়ের করবেন। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘রাসুল বলবেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় তো এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য করে রেখেছে’ (সূরা ফুরকান : আয়াত-৩০)। কুরআন চর্চা ছাড়া মানবতার মুক্তির কোনো উপায় নেই। আল-কুরআন চর্চা-মানব মুক্তির পূর্বশর্ত।

শেয়ার করুন
ধর্ম ও জীবন এর আরো সংবাদ
  • হাদীস সংগ্রহকারী ইমাম মুসলিম ও তিরমিজি
  • নবীজিকে ভালোবাসার দাবী সমূহ
  • বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী (র:)
  • জৈন্তা অঞ্চলে হিফজুল কোরআন পরিক্রমা
  • তাফসিরুল কোরআন
  • হাদীস সংগ্রাহক ইমাম বুখারী (রহ.)
  • জৈন্তা অঞ্চলে হিফজুল কোরআন পরিক্রমা
  • কুরআন চর্চা অপরিহার্য  কেন 
  • একদিন নবীজির বাড়িতে
  • বেহেস্তের সিঁড়ি নামাজ
  • দেন মোহর নিয়ে যত কথা
  • তাফসিরুল কোরআন
  • মানব সভ্যতায় মহানবীর অবদান
  • মানব সভ্যতায় মুহাম্মদ (সা.) এর অবদান
  • দেনমোহর নিয়ে যতো কথা
  •   উম্মাহাতুল মুমিনীন
  • ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম
  • তাফসিরুল কোরআন
  • রাসূল (সা.) এর প্রতি মুহব্বত ও আহলে বাইত প্রসঙ্গ
  • মহানবীর প্রতি ভালোবাসা
  • Developed by: Sparkle IT