সম্পাদকীয়

ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন

প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-১১-২০১৯ ইং ০০:৪৬:২১ | সংবাদটি ১৭৪ বার পঠিত


নিয়ন্ত্রণহীন ওষুধের বাজার। জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম বাড়ছে অহরহ। ওষুধ কোম্পানীগুলো নিজেদের খেয়াল খুশিমতো বাড়িয়ে দিচ্ছে দাম। এক্ষেত্রে নেই সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ। চলতি বছরের শুরুতেই বিভিন্ন ধরনের ওষুধের দাম বেড়েছে। এর পর থেকে সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের ওষুধের দাম পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। বিশেষজ্ঞদের মতে দেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ওষুধের দামের ক্ষেত্রে বাজার অর্থনীতির সুবিধা নিচ্ছে। অথচ ওষুধের দাম সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা। তাছাড়া ভোগ্যপণ্যের মতো ওষুধের বাজার প্রতিযোগিতামূলক নয়। আর এই ওষুধের দাম বৃদ্ধির ফলে ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের। খবরটি বিভিন্ন পত্রিকায় সম্প্রতি প্রকাশিত হয়।
নিত্য প্রয়োজনীয় আর দশটা পণ্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হচ্ছে ওষুধ। রোগ-শোকে কাবু হলে মানুষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়, ওষুধ খায়। আর ধনী গরীব সবার জন্যই রোগ থেকে মুক্তির জন্য ওষুধ ছাড়া বিকল্প নেই। তাই এই জীবন রক্ষাকারী পণ্যটির মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকা উচিত। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে এর উল্টো। প্রায় সব ধরনের ওষুধের দামই বাড়ছে কিছুদিন পর পর; যেভাবে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। যে কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ব্যয়ের পরিমাণ। জানা গেছে, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি আডট অব পকেট অর্থাৎ রোগীর অতিরিক্ত খরচ হয় এ দেশের মানুষের। আর এই চিকিৎসা ব্যয়ের দুই তৃতীয়াংশই ব্যয় হয় ওষুধের পেছনে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, এদেশে মাত্র একশ’ ১৭টি ওষুধের মূল্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অথচ দেশে আড়ই হাজারের বেশি ওষুধ উৎপাদন ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ হয়। উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯৮২ সালে প্রবর্তিত ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশে যেকোন ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ছিলো সরকারের। কিন্তু ১৯৯৪ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, অত্যাবশ্যকীয় তালিকাভুক্ত একশ’ ১৭টি ওষুধ ছাড়া অন্যান্য ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে নিজ নিজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
সব মিলিয়ে ওষুধের দাম নির্ধারণের ব্যাপারে এখন সরকারের ভূমিকা চোখে পড়ার মতো নয়। সর্বশেষ ২০১৬ সালে প্রণীত এই সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী কোম্পানীগুলো যে দাম চাইছে, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর সেই দামেই বিক্রির অনুমতি দিচ্ছে। অর্থাৎ ওষুধের দাম বৃদ্ধি বা হ্রাসের ব্যাপারটি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু সার্বিকভাবে অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধি ঘটলে সরকারের অবশ্যই বসে থাকার সুযোগ নেই। তাছাড়া, সাধারণ মানুষের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে কোম্পানীর স্বার্থ রক্ষাতো সরকারের কাজ হতে পারে না। তাই মাত্র একশ’ ১৭টি ওষুধ নয়, দেশের ৯৫ ভাগ মানুষের সুস্থতার জন্য ব্যবহৃত ওষুধগুলোর দাম নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসা উচিত।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT