উপ সম্পাদকীয়

চোরাকারবার বন্ধে চাই কৌশল

মো. তাজ উদ্দিন প্রকাশিত হয়েছে: ০১-১২-২০১৯ ইং ০০:১৮:০৫ | সংবাদটি ১৮৬ বার পঠিত

দেশে বাণিজ্যিক সুবিধা নিতে কিছু পেশাদার চোরাকারবারি সীমান্ত এলাকায় জীবনের ঝুঁকি, বৈধ-অবৈধ ও দেশের লাভ-ক্ষতির চিন্তা না করে ক্ষতিকর পণ্য ফেন্সিডিল, ইয়াবা, আফিম, হেরোইন, মদ-গাঁজা আমদানি করছে। আর দেশের মানুষকে করছে নেশাগ্রস্ত, তার পরিবারকে করছে ধ্বংস। এদের মধ্যে চিহ্নিত কিছু অপরাধী ভারতীয় তীর খেলার এজেন্ট দেশে এনে যুব সমাজকে পথের ভিখারি করছে। ইদানিং আইন শৃংখলা বাহিনী কঠোর হওয়ায় তীর জুয়াড়ী গা ঢাকা দিলেও চোরাকারবারিরা সিংহের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা ভারতীয় চোরাকারবারির যোগসাজসে দেশের শুল্ক ফাকি দিয়ে পণ্যের পাশাপাশি গরু আমদানি করা শুরু করছে, আর বিড়ম্বনায় ফেলছে সীমান্ত বিজিবি ও থানা পুলিশ সদস্যদেরকে।
অন্যদিকে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল গোদামজাত করে সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ইদানিং পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও চাল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের হঠাৎ দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষকে ফেলেছে হয়রানীতে। তাদের কু মতলবে দেশের জনগণকে সরকার বিরোধী করার হীন ষড়যন্ত্র ও দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেওয়া ও ক্যাসিনো দমনে মুখ ফেরানো ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ। যা দেশের জন্য মোটেই কাম্য নয়। তাই দেশ-বিদেশে লুকিয়ে থাকা অসাধু ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা জরুরি। না হয় চোরাকারবারি ও সিন্ডিকেট গোষ্ঠির হাতে জিম্মি থাকতে হবে আমাদের।
বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশ বানাতে হলে প্রথমে পরনির্ভরশীল পণ্য আমদানি বন্ধ করতে হবে। তারপর কৃষকের দায়িত্ব সরকারের হাতে নিতে হবে। কৃষককে সার-বীজ আর ক্ষতিপূরণ দিলে কৃষিবান্ধব দেশ বানাতে পারে। দেশের শিক্ষিত বেকার যুবসমাজ ১০০% মধ্যে ৩০% কৃষি কাজে অংশ নিয়েছে বলে মনে হয়না। বহিরাগত দেশ কানাডা রাষ্ট্রে কৃষি উৎপাদন হচ্ছে কোম্পানীর অধীনে এবং সরকারি ভাবেও। বাংলাদেশ সরকার বেকারত্ব দূরিকরণে কৃষি উৎপাদনে শিক্ষিত যুবসমাজে সরকারিভাবে নিয়োগ নিয়ে কৃষি উৎপাদনের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। যদি করা যায় তাহলে কম সময়ে কৃষি সম্পদে ভরপুর হতে পারে বাংলাদেশ। প্রয়োজনে রপ্তানি হবে পার্শবর্তী দেশগুলোতে। বিগত বৎসর আমার লিখা কৃষি উন্নয়নে যুবসমাজের ভূমিকার কথা বারবার পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও ক’জন পত্রিকা পড়ছে, আর কে শুনছে কার চিৎকার। ফেসবুকে ব্যস্ত থাকা যুবসমাজ পত্রিকা পড়ার চাহিদা কতটুকু আছে বলা কঠিন। বাংলাদেশ উন্নত হয়েছে শুনা গেলেও দেশের সীমান্ত এলাকা সহ সারা দেশে দরিদ্র পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। একদিকে পাহাড়ি অঞ্চলে মানুষ উঁচু টিলা আর বাগানের গাছপালা ছাড়া তাদের চোখে আর কিছু পড়ছেনা। অন্যদিকে কৃষিপণ্য বিক্রয় করে কৃষকেরা প্রকৃত মূল্য পাচ্ছেনা। কৃষি উন্নয়নের স্বার্থে কোন কোন কৃষি পণ্য সরকারিভাবে দাম নির্ধারণ করা যায় কি-না তা নিয়ে ভাবতে হবে সরকারকে।
সরকার এবার ক্ষমতায় আসার পর গ্রামকে শহরে পরিণত করার যে প্রস্তাব দিয়েছে, সে প্রস্তাবটি যথাযথ বাস্তবায়ন করলে গ্রামের কিছু পরিবার দারিদ্র্যতা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও চাকুরী পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে, হতে পারে স্বাবলম্বী। না হয় বেঁচে থাকার জন্য মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে কোন কোন ব্যক্তি-গোষ্ঠি অবৈধ পথে ও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মটর বাইক, গরু, টেক্সি, মোবাইল, এয়ারগান সহ বিভিন্ন প্রকার পণ্য ও খাদ্য দ্রব্য আমদানি করতে পারে।
বিগত দিনে ভারতের মৎস্যজীবীরা দেশের ভিতরে প্রবেশ করে ইলিশ মাছ ধরার ঘটনা নিয়ে বিএসএফ এর তান্ডবলীলা শুনেছি, সে সময় বিজিবি আত্মরক্ষার্থে গুলি চোড়লে ভারতীয় এক বিএসএফ নিহত হয়। এ ঘটনায় বিএসএফ দেশের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা করার কথা বলে। জানা যায় দশ বছরে ৩০০ জনের। বেশি বাংলাদেশী নাগরিক গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ, তাদের বন্দুকের গুলিতে কত মানুষ “করেছে, কিন্তু আমাদের সরকার এখন পর্যন্ত কোন মামলা করার কথা বলেনি। তাই সরকারকে মানুষকে নিয়ে ভাবতে হবে, উভয় দেশে কে ক-জন হত্যা করছে তা এখন জানা প্রয়োজন। ইদানিং দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় ও মিয়ানমারের চোরাচালানের কারণে র‌্যাবের হাতে ইয়াবা ও ফেন্সিডিল সহ গ্রেফতার হচ্ছে অপরাধী এবং দেশের মধ্যে কোন কোন অপরাধী মরছে। কিন্তু অপরাধীর দায় অপরাধকারীকে নিতে হচ্ছে, রপ্তানীকারককে দায়ী করা হচ্ছে কিনা জানা প্রয়োজন। তাই চোরাচালান ব্যবসা উভয় দেশ থেকে বন্ধ না করলে নেশা জাতিয় খাদ্যে ক্ষতি হবে বাংলাদেশের বেশি।
নেশাজাতিয় খাদ্য যুবসমাজ প্রতিনিয়ত খেলে এক সময় দেশ থেকে চিন্তাবিদ, গুণিজন, সাহিত্যিক বৈজ্ঞানিক সহ সকল শ্রেণীর সম্মানিত সু-নাগরিক ব্যক্তি খোজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। মানুষের ক্ষতিকর ব্যবসা করা কোন ধর্মে স্বীকৃতি দেয়নি। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) অভাবগ্রস্তকে পাহাড় থেকে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করার কথা বলেছেন। আর শিক্ষা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনে চীন দেশ সফরের কথা বলেছেন। কিন্তু শিক্ষায় শিক্ষিত কিছু লোক মানুষের ক্ষতিকারক বসায় জড়িত। এসব পণ্য কোন ধর্মে ব্যবসার কথা বলা আছে মনে হয়না। আজ দেশে প্রতিহিংসামূলকভাবে নেশা জাতিয় দ্রব্য ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসছে। যার ফলে ক্ষতি হচ্ছে দেশ এবং জাতির। এসব দিক বিবেচনায় আমাদেরকে চোরাচালান পণ্য আমদানিতে সচেতন হতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে অন্য দেশ থেকে কি কিনে আনছি, আর রপ্তানি করছি কি, যে গুলো কিনে আনছি সেগুলো মানুষের উপকার হবে না ক্ষতি হবে তা চিন্তা করছি কি না। আজ অন্য দেশকে করিডোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা কি পেলাম আর কি দিলাম সেটা মনে রাখা দরকার। না হয় আগ্রাসনের বিস্তার ঘটলে দেশ এবং জাতির ক্ষতি ছাড়া আর কোন উপায়ান্তর থাকবেনা।
লেখক : কলাম লেখক

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • নতুন সূর্যের প্রত্যাশায়
  • ভেজাল ও নকল ওষুধের দৌরাত্ম্য
  • বকুল ফুলের মালা
  • লিবিয়ায় তুরস্কের সেনা মোতায়েনের কারণ
  • প্রসঙ্গ ফসলের ন্যায্যমূল্য
  • প্রসঙ্গ : ভিক্ষাবৃত্তি
  • নৈতিক অবক্ষয় প্রতিকার
  • অসহায় প্রবীণদের দেখাশোনার দায়িত্ব কে নেবে?
  • আজকের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
  • একাডেমিক শিক্ষা বনাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
  • শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কী হবে?
  • বাংলাদেশের শীতকাল
  • মাটির উৎকর্ষ ও সংরক্ষণ সাধন সরকার
  • নারী নিপীড়ন প্রসঙ্গ
  • আপন শ্রম ও মেধা ভাগ্য নির্মাণের নিয়ামক
  • ফেসবুক ও আমাদের সন্তান
  • পুলিশ জনগণের বন্ধু
  • প্রাথমিক শিক্ষার এক দশক : পরিপ্রেক্ষিত
  • শুদ্ধি অভিযানের শুদ্ধতা
  • বিপন্ন নদনদী ও খালবিল
  • Developed by: Sparkle IT