উপ সম্পাদকীয়

অপরূপ হেমন্ত

মো. মঈনুল হক প্রকাশিত হয়েছে: ০২-১২-২০১৯ ইং ০০:১৯:৩৬ | সংবাদটি ৩৯৩ বার পঠিত
Image

হেমন্ত বাংলার প্রকৃতিতে অপরূপ সৌন্দর্য আর বিশেষ মহিমায় বিরাজমান। শরৎকালের পরই প্রকৃতিতে নেমে আসে হেমন্ত ঋতু। সে সময় হালকা ঠান্ডা আর ভোরের রৌদ্র মাখা সোনালী কুয়াশার আবরণে আগমন হয় তার। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে সোনালী ধানের কাটা শুরু হয়। হেমন্ত এ সময়ে এসে দেয় নতুন দিনের ডাক। চাষিদের মনে ব্যাপক আনন্দ আর উদ্দীপনার সঞ্চার সৃষ্টি হয়। নানা রকমের পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে। মাঠে ময়দানে জমে ওঠে ধানের স্তুপ আর স্তূপ। চাষিদের মুখে হাসি আর প্রাণে খুশির বান। মনের সুখে চাষিরা কাটে ধান, গায় গান আর খায় পান।
হেমন্তের আগমন মানেই নব উচ্ছ্বাস নব শিহরণ নব উৎসব। হেমন্তের নব জাগরণে ফুটে ওঠে নানা রকমের ফুল গন্ধরাজ, শিউলি, চামেলি, হাছনাহেনা সহ নানা রং ও ঘ্রাণের অসংখ্য জাতের ফুল। সেসব ফুলের পাপড়ি ও গাছের পাতায় পাতায় ভোরের মৃদু শিশিরের স্পর্শ জানিয়ে দেয় শীতের আগমনের বার্তা। হেমন্ত ঋতুতে শীতের পূর্বাভাসও পাওয়া যায়। কার্তিক ও অগ্রহায়ণ দুই মাস হেমন্তকাল। এ সময় নবান্ন উৎসবে নানা রকমের পিঠা পায়েস তৈরী করে খাওয়ার রীতি অনেক পূর্ব থেকে বিদ্যমান। আত্মীয় স্বজনের জন্য হরেক রকম নিত্য নতুন পিঠা তৈরি আয়োজন করা হয়। কুয়াশাযুক্ত শীতের সবজি খেতে অন্য রকম স্বাদ। হেমন্ত কালে প্রচুর শাক সবজি ফলানো হয়। তখনই মনে হয় চির সবুজ ঘেরা শস্য শ্যামল এই বাংলাদেশ।
বাংলার প্রকৃতি অতি মায়াময়। হেমন্তে দিন দুপুরে, ঘুঘু আনন্দ চিত্তে ধান ক্ষেতে ঝাপিয়ে পড়ে। বিল হাওরে নেমে আসে বালি হাসের পাল। জ্যোৎ¯œামাখা রাত মানব মনে প্রফুল্লতা জাগিয়ে দেয়। মানব মনে জেগে ওঠে ঐশ্বরিক প্রেম। হেমন্তের প্রতিটি প্রহর মুগ্ধতায় ভরপুর। হেমন্ত প্রকৃতিতে মনে হয় আনন্দ ও মুগ্ধতার প্রতিমূর্তি রূপে আবির্ভূত হয়। দু’মাস পরে ভিন্ন ঋতু ভিন্ন রূপে নতুন পোশাকে নতুন সাজে জেগে ওঠে। হেমন্ত ঋতু বাংলার কৃষকের জন্য নিয়ে আসে আনন্দের বার্তা। ঘরে ঘরে চলে নবান্নের উৎসব। সকালে সোনালী রোদে শিশির ভেজা ফসলে মনে হয় মাঠের সর্বত্র সোনা ছড়িয়ে রয়েছে।
হেমন্ত এমনই এক মায়াময়ী যার তুলনা নেই। শরৎ যে আয়োজন করে হেমন্ত তার পূর্ণতা দেয়। কৃষকের জন্য হেমন্ত সোনালী দিন। বাংলার গ্রামাঞ্চল নবান্ন উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠে। কৃষকের চোখে মুখে জাগে নতুন স্বপ্ন। তাই কবির ভাষায়-পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে আয়রে চলে আয় আয় / ডালা যে তার ভরে গেছে আজ পাকা ফসলে মরি হায় হায় হায়।
হেমন্তের এই গৌরবকে বিরাজমান রাখতে হলে কৃষি খাতকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করতে যা প্রয়োজন তা করতে হবে। কৃষি ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সার্বিক সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কৃষকেরা আমাদের প্রাণ, কৃষকেরা মানুষের মুখে অন্ন যোগায়। রাষ্ট্রকে খাদ্যে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলে। তারা দেশের অন্যতম চালিকাশক্তি কৃষি পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি কাজে উৎসাহিত করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় যোগান দিতে হবে।
বাংলার এমন বৈচিত্রময় ঋতু প্রকৃতি আর কোথাও পরিলক্ষিত হয় না। বাংলাকে হেমন্ত আলাদা বৈশিষ্ট্যে মুগ্ধ করেছে। বাংলার ছয়টি ঋতুর মধ্যে হেমন্তের আলাদা সৌন্দর্য ও বৈচিত্র কানায় কানায় ভরিয়ে তুলেছে। বাংলার প্রকৃতিতে এবং বাঙালির হৃদয়ে দারুণভাবে এর সৌন্দর্য নাড়া দেয়। হেমন্ত মানুষের মনকে নানা রঙ্গের আলপনায় বিচিত্রভাবে জাগরিত করে তোলে। তাই হেমন্তের এই প্রাকৃতিক সুখ সৌন্দর্য অনুভব অব্যাহত থাকুক।

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ইতিহাসের আলোকে অর্থনৈতিক মুক্তি
  • পাখি, মশা, ভাইরাস, অতঃপর আরো কিছু!
  • বিশ্বজনসংখ্যা দিবস
  • উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা প্রসঙ্গ
  • বদলে যাওয়া পৃথিবী
  • কৃষিতে আমাদের অগ্রযাত্রা
  • মানুষের জীবনে বৃক্ষের অবদান
  • শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপ
  • বাংলাদেশ পারে, আমরা ভুলে যাই
  • সমাজ, সময় এবং মানুষের লড়াই
  • করোনাকালে শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা
  • বিশ্বনেতৃত্বে চীনের সম্ভাবনা কতটুকু
  • প্রসঙ্গ : হিন্দু ব্যক্তির মরদেহ সৎকার
  • সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে করণীয়
  • করোনা ও মানবিক সহযোগিতা
  • চীন-ভারত স্নায়ুযুদ্ধ : বাংলাদেশে প্রভাব
  • মানব পাচার আইনের প্রয়োগ
  • কৃষিই হোক একুশ শতকের প্রধান অবলম্বন
  • স্বাস্থ্যবিধি মানলে প্রশমিত হবে করোনা
  • তিস্তা ও ফারাক্কা চুক্তিই এখন জীয়ন কাঠি
  • Image

    Developed by:Sparkle IT