স্বাস্থ্য কুশল

শীতের শুরুতে...

আবদুল্লাহ শাহরিয়ার প্রকাশিত হয়েছে: ০২-১২-২০১৯ ইং ০০:২৫:৩৮ | সংবাদটি ১০৬ বার পঠিত

ঘুম থেকে উঠলেই দেখা যায় প্রকৃতি যেন শীতের রূপ নিচ্ছে। ঋতু পরিবর্তনের শুরুর এই সময়টা উপভোগ্য হলেও দেখা দিতে পারে স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যা। শুষ্ক আবহাওয়ার সঙ্গে কম তাপমাত্রার সংযোজন, ধুলাবালির প্রকোপ; সব মিলিয়ে সৃষ্টি করে কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা। একটু সতর্ক হলেই এসব অনাকাক্সিক্ষত স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারেন। শীতে প্রধানত বাড়ে শ্বাসতন্ত্রের রোগ। শীতের শুরুতেই জ্বর, সর্দি ও কাশি যেন আঁকড়ে ধরে। অনেক সময় একবার কাশি শুরু হলে পিছু ছাড়তে চায় না। একটানা খুক্্খুক্্ কাশি বিরক্তিকর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাশি কয়েক সপ্তাহ থাকতে পারে। শীতে যেসব রোগ সবচেয়ে বেশি হয় তা হলো সর্দি-কাশি, ঠান্ডা জ্বর। সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং প্যারা ইনফ্লুয়েঞ্জার মাধ্যমে এ রোগ হয়। রোগটি ভাইরাসজনিত কারণে ছড়ায়। ঠান্ডার অন্যান্য উপসর্গ ছাড়াও এ রোগের ক্ষেত্রে জ্বর ও কাশি খুব বেশি হয় এবং শ্বাসকষ্টও হতে পারে। এ ছাড়া ভাইরাসে আক্রান্ত দেহের দুর্বলতার সুযোগে অনেক সময় ব্যাকটেরিয়াও আক্রমণ করে থাকে। বিশেষ করে সর্দি যদি খুব ঘন হয় বা কাশির সঙ্গে হলুদাভ কফ আসতে থাকে, তা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণকেই নির্দেশ করে। এ রোগে আক্রান্ত হলে বিশ্রাম, প্রচুর পানীয় ও ফলের রস পান করতে হবে। খুব বেশি জ্বর, গলাব্যথা ও কাশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সর্দি-কাশি ও হাঁপানি প্রতিরোধে করণীয়
-কুসুম গরম পানি পান করা।
-ঠান্ডা খাবার ও পানীয় পরিহার করা
-ধুলাবালি ও ধূমপান এড়িয়ে চলা।
-তাজা ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা।
-প্রয়োজনমতো গরম কাপড় পরা।
-চোখ বা নাক মোছার পর হাত ধোয়া।
-রাস্তায় চলাচলের সময় মাস্ক পরা।
-হাঁপানি রোগীরা শীত শুরুর আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
বয়স্ক ও শিশুরা ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ থেকে রেহাই পেতে চিকিৎসকের পরামর্শে ভ্যাক্সিন নিতে পারেন। শীতে অনেকে সাইনোসাইটিসের সমস্যায় ভোগেন। অনেকে ফুসফুসের সংক্রমণের শিকার হন। নিউমোনিয়াও এ সময় প্রচুর দেখা দেয়। শীতকালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা বেশি প্রয়োজন। এ সময় ধুলাবালি ও রোগজীবাণুর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দেয় ফলে অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বেশি থাকে। তাই অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। প্রত্যেকের প্রতিরোধমূলক জীবন যাপন করা উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।
[সহযোগী অধ্যাপক শিশু বিভাগ, এনআইসিভিডি]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT