স্বাস্থ্য কুশল

নাক কান গলার ক্যান্সার

ডা. নূরুল হুদা নাঈম প্রকাশিত হয়েছে: ০২-১২-২০১৯ ইং ০০:২৭:১৩ | সংবাদটি ৯০ বার পঠিত

স্বরভঙ্গ মানেই যে ক্যান্সার তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন কারণে গলায় স্বরভঙ্গ হতে পারে। তবে ৩ সপ্তাহের অধিক সময় যদি এ স্বরভঙ্গ স্থায়ী থাকে, তা হলে তা নিয়ে ভাবা উচিত। নাক ও কান দিয়ে রক্ত আসাও কিন্তু ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে মাথা ও মুখগহ্বর থেকে শুরু করে গলার নিচ অর্থাৎ বুকের শুরু পর্যন্ত অঞ্চলে কোনো ক্যান্সার হলে তা হেড-নেক ক্যান্সার হিসেবে গণ্য। মুখের ভেতরে ক্ষত, ঘা, টিউমার ইত্যাদি কারণে স্বাভাবিক খাবার বাধাগ্রস্ত হয় বা খেতে গেলে ব্যথা হয়- এমনটি হলে বুঝতে হবে মুখের ভেতরে খারাপ রোগের লক্ষণ শুরু হয়েছে। এমনকি গলার ভেতরেও এ রকম সমস্যা হলে অবশ্যই একজন ভালো নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া বাঞ্ছনীয়। নাক-কান-গলার ক্যান্সারের মূল কারণ তামাক ও মদপান বিবেচ্য হলেও আমাদের দেশের জন্য পান-সুপারি অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার মুখগহ্বরের ক্যান্সারের জন্য অনেকাংশে দায়ী। বলা হয়ে থাকে, নাক-কান-গলার ক্যান্সারের মধ্যে ৭৫ শতাংশই তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের কারণে হয়। হিউম্যান প্যাপিলমা ভাইরাস নামে এক ধরনের ভাইরাসকে ইদানীং ক্যান্সারের জন্য দায়ী বলে ধরা হচ্ছে। এ ছাড়া প্যাকেটজাত খাবার, লবণাক্ত খাবার বা কাঠ ও রংয়ের কাজ যারা করেন, তাদের ক্ষেত্রে নাক ও গলার ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রেডিয়েশন, জেনেটিকস বা এঊজউ-কে কারণ হিসেবে ধরা হয়। নাক, কান ও গলার ক্যান্সারের উপসর্গগুলো সাধারণত গলায় কোনো টিউমার বা লাম্প অথবা গলার ভেতরে বা বাইরে কোনো ক্ষত বা ঘা যা সহজে শুকায় না, যে কারণে খাওয়ার সময় কষ্ট হয়। কোনো কোনো সময় গলার স্বরভঙ্গও হতে পারে।
চিকিৎসা পদ্ধতি
ক্যান্সার চিকিৎসায় সার্জারি, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, টারগেটেড থেরাপি এবং কম্বাইন্ড থেরাপি প্রচলিত এবং রোগমুক্তির হার দিন দিন বাড়ছে। জনসচেতনতা ও চিকিৎসা পদ্ধতির প্রসারই এখানে ভূমিকা পালন করছে। তার পরও যে হারে ক্যান্সার বাড়ছে সেই তুলনায় চিকিৎসা সুবিধা অপ্রতুল। ক্যান্সার ধরা পড়লে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করানো উচিত এবং অপারেশন করা সম্ভব হলে অপারেশনই প্রথম অপশন আর সম্ভব না হলে দ্বিতীয় অপশন হিসেবে সেঁক বা রেডিওথেরাপি নিতে হবে। প্রতিরোধের উপায় একেকটা ক্যান্সারের জন্য একেক ধরনের। যদিও পুরোপুরি প্রতিরোধ অসম্ভব, তবুও ঝুঁকি কমানোর জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি।
-প্রথমেই তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য যেমন- কাঁচা তামাক, জর্দা, ধূমপান একদম বন্ধ করতে হবে।
-মদপান ও কোল্ড ড্রিংকস এবং প্যাকেট জাত পানীয় সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে।
-টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল বেশি বেশি খেতে হবে।
-নিয়মিত ব্যায়াম ও শৃঙ্খলামাফিক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।
-রোদে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং ভাইরাস সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে হবে। এ জন্য অবাধ মেলামেশা থেকে বিরত থাকতে হবে।
-ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।
-মুখে কৃত্রিম দাঁত থাকলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যেন দাঁত ভালো মতো ফিট থাকে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT