স্বাস্থ্য কুশল

টেস্টিং সল্ট: মানবদেহের নীরব ঘাতক

মোঃ জহিরুল আলম শাহীন প্রকাশিত হয়েছে: ০২-১২-২০১৯ ইং ০০:৩১:৩৬ | সংবাদটি ৯৫ বার পঠিত

টেস্টিং সল্ট নামের রাসায়নিক পদার্থটির সাথে আমরা সবাই তত বেশি পরিচিত নয়। কিন্তু বেশি ভাগ মানুষই তা মনের অজান্তে গ্রহণ করে যাচ্ছে। এর ফলে শরীরে কী হচ্ছে তা সম্পর্কে অবগত নই। খাবার স্বাদ বা মজাদার করতে বিভিন্ন পরিবার বাড়িতে, বিভিন্ন হোটেলে, রেস্টুরেন্ট খাবার দোকানের তরকারিতে বহুল ব্যবহার করা হয়। টেস্টিং সল্ট বা স্বাদ লবণ খাদ্যের স্বাদ ও গন্ধকে আকষণীয় করে তুলে। তখন খাওয়ার স্বাদও অনেক গুণ বেড়ে যায়। আর এজন্যই হোটেলের খাবারগুলো আমাদের নিকট মজাদার মনে হয়। টেস্টিং সল্টের রাসায়নিক নাম সোডিয়াম গ্লুকোমেট। যা মানুষের ¯œায়ুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তা হয়ত আমরা অনেকেই জানি না। তাই আসুন এ সম্পর্কে পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে কিছু জেনে নেই। টেস্টিং সল্ট আসলে খাবারকে মুখরোচক করার জন্য ব্যবহার করা হয়। কৃত্রিমভাবে স্বাদ বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত এ উপাদানটির কোন পুষ্টিগুণ নেই। এটি বেশি ব্যবহার করলে মানব শরীরের নিউরন বা ¯œায়ুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। তাই বিজ্ঞানীরা ‘¯œায়ু বিষ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তবে জানা যায় টেস্টিং সল্ট যেসব খাবারে বেশি ব্যবহার করা হয় তা হল স্যুপ, মাংসের তরকারি, নুডলস, চানাচুর, বিস্কুট, ¯œ্যাকস, চায়নিজ জাতীয় খাবার, হোটেলের খাবার, ফাস্ট ফুড, বেকারির খাদ্যপণ্য, প্যাকেট জাত শিশু খাবার, পটেটো চিপস, বিয়ে বাড়ির অনুষ্টানের খাবার, বাড়ি ঘরের নানা খাবারে ব্যবহার করা হয়। বাজারে ৫০ গ্রাম ওজনের সাদা এ লবণটি প্যাকেটে পাওয়া যায়। আর রান্না বার্বুচিরা এ লবণটি বেশি ব্যবহার করে থাকে। পুষ্টি বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা বলছেন শরীরের জন্য বিষ। টেস্টিং সল্ট বেশি ব্যবহার করলে বা নিয়মিতভাবে খেয়ে গেলে মানব দেহের কিডনি, লিভার বা কলিজাসহ বিভিন্ন অঙ্গে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। দেহের ¯œায়ু তন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলতে পারে। দেহের এই নিউরন বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের কাজের সমন্বয় সাধনে বিরাট ভূমিকা পালন করে। আমাদের দেহের ¯œায়ু তন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী এককেই বলা হয় নিউরন। ¯œায়ু তন্ত্রের মাধ্যমে উদ্দীপনা আমাদের শরীরে প্রবাহিত হয়। ফলে আমরা বুঝতে পারি। এই ¯œায়ু তন্ত্র যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে দেহের উদ্দীপন পরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে মানব দেহের ভিতরে ও বাহিরে পরিবেশের সাথে সংযোগ রক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে দেহের অঙ্গগুলোর মধ্যকার ভারসাম্য বজায় থাকবে না। এতে মানুষে ধীরে ধীরে অচল মানুষে পরিণত হবে। টেস্টিং সল্ট সেবনের ফলে নানা সমস্যাগুলো আমাদের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। তাছাড়া মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, ঘুম ঘুম ভাব, অনিদ্রা, খাবারে অরুচি, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, বুকে ব্যথা, দুর্বল লাগা, চামড়া র‌্যাশ দেখা দেওয়া, গলা জ্বালা পোড়া করা, অলসতা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ করা, হাটের সমস্যা, কিডনি ও ক্যান্সারসহ নানা রোগ হতে পারে। এসব সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে টেস্টিং সল্ট ব্যবহারে সতর্ক থাকা অতি প্রয়োজন। যতটুকু জানা যায় টেস্টিং সল্টের ভাল মন্দ দেখার সরকারি কোন অথরিটিও নেই। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডর্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বি এসটিআই) যেসব খাদ্য দেখাশুনা করে থাকেন তা হল ১৫৪টি। সেই তালিকাতে টেস্টিং সল্ট এর নাম নেই। সুতরাং এর ভাল মন্দ কতটুকু তা বিস্তারিত জানা যায় নি। আসুন এর ব্যবহারে সচেতন হই নিরাপদ স্বাস্থ্য গড়ে তুলি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT