মহিলা সমাজ

ফেসবুক ফাঁদ

জুঁই ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-১২-২০১৯ ইং ০১:৩৩:২৬ | সংবাদটি ১৪৪ বার পঠিত

মিথিলা রাস্তা দিয়ে হাঁটছে একাকী মনে। মনটা আজ খুব ফুরফুরে। কেন এত ভাল লাগছে সে আজ নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করেছে মনে মনে। আচ্ছা কেন আমার প্রতিদিন এ রকম ভাল লাগে না? মিথিলা আজ বেশ সাজগোজ করেই বের হয়েছে। ঠোঁটে কড়া লাল লিপস্টিক। লাল সবুজ শেলোয়ার কামিজ, হাতে কালো রঙের ব্যাগ, চোখে সানগ্লাস। একরাশি চুলগুলো খোলা মনে হাওয়ায় দোলছে। সাথে যেন ওর মনটাও আজ দোলছে।
অন্যদিন বাইরে বের হলে রিক্সা না পেলেও দাঁড়িয়েই থাকে সে, হাঁটার অভ্যাস একেবারে নেই। কিন্তু আজ সে হাঁটছে, হাঁটতে তার আজ খুব ভাল লাগছে। সকালের কড়া রোদে হাঁটতে বেশ লাগছে। চারিদিকে কত রিক্সা ড্রাইভার আজ জিজ্ঞেস করছে আপা রিক্সা লাগবে? মিথিলা না বলে আর মনে মনে ভাবে প্রতিদিন তো কত রিক্সা খুঁজতে হয় রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। কিন্তু বেশির ভাগ ড্রাইভারই বলে টিপ, টিপ আছে রোজ রোজ এ কথা শুনে একদিন মিথিলা এক ড্রাইভারকে হেসে হেসে তো বলেই দিল আপনার কপালে তো কোন সাদা, কালো কিংবা লাল টিপ নাই ভাই। মাঝে মাঝে সে এমনই করে অবাক করেই কথা বলে এটা তার অভ্যাস। আজ রিক্সার প্রয়োজন নেই তাই ড্রাইভারদের দরদ বেড়ে গেছে।
মিথিলা আবার হাঁটা শুরু করলো আর আর বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। একটু পর পরই ঘড়ি দেখছে কিন্তু একই সময় দেখছে ঘড়িতে বারবার ৯.৩০, এর মানে কি? ঘড়ির কাটা কি লাইফ সাপোর্টে আছে নাকি? ঘড়ির কাটা তো চলছেই না।
সে রাস্তায় হাঁটছে আর কেন জানি মনে হচ্ছে তার দিকে আজ সবাই তাকিয়ে আছে, ধুর ছাই এসব কেন মনে হচ্ছে? আমি তো এমন কিছু না কেনে সবাই আমার দিকে তাকাবে? মনে মনে আবার ভাবে ধুর এসব আমার মনের ভুল, আশপাশের মানুষগুলো তাদের ব্যস্ততা নিয়ে আছে বরং আমিই হয়তো ওদের দিকে বারবার তাকাচ্ছি।-মিথিলা নিজেকে শুধরিয়ে আবারও হাঁটছে।
হঠাৎ তার মোবাইলটা বেজে উঠলো!
দেখলো অপরিচিত নাম্বার। জিজ্ঞেস করল কে বলছেন? অপরপ্রান্ত থেকে উত্তর এলো আমি। মিথিলা ঃ আমিটা কে? আবার অপর প্রান্ত থেকে আবার বলে উঠলো আমি, এভাবে মিথিলা যতবার বলছে কে? ততবারই অপরপ্রান্ত থেকে বলে উঠছে আমি, আমি, আমি। মিথিলার মেজাজ খারাপ হল-অহ আপনার নাম কি আমি?। আ”্ছা বলেনতো কাকে চাচ্ছেন? আপনাকে। মানে? জি সত্যি আপনাকে চাচ্ছি। মিথিলা এবার কড়া গলায় বললো কি দরকার বলেন, না হয় ফোন রাখেন। অপরপ্রান্ত থেকে বলে উঠলো কিছু মনে করবেন না আপনাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে, আপনাকে আমার খুব ভাল লাগে। মানে কী আপনি কি আমাকে দেখতে পাচ্ছেন। মিথিলা প্রশ্ন করে আপনি কি আমার আশ-পাশে আছেন। জি আপনার আশপাশেই আছি, আপনাকে দেখতে পাচ্ছি। অহ ঠিক আছে আমার সামনে আসেন তো, আপনাকে দেখতে চাই। অপরপ্রান্ত থেকে বললো কাছে আসলে কি মারবেন? যেমন করে বাংলা সিনেমায় নায়িকা চড় মারে। মিথিলা বলে আমি তো বাংলা সিনেমার পপি না আর আপনি শাকিব খানও না। সুতরাং সামনে আসতেই পারেন, মানুষকে আমি সম্মান করি, মারবো কেনো? সত্যি বলছেন তো? মিথিলা বলে জি সত্যি বলছি আসেন সামনে। এভাবে কথা বলে বলে সে হাঁটছিল হঠাৎ একটা মোটর বাইক সামনে এসে থামলো, মিথিলা ভয় পেয়ে হাতের ব্যাগটা বেশ জোরেই ধরে নিল, ভাবলো যা দিনকাল কোন ছিনতাই কারী কি-না পথরোধ করলো। ছেলেটা অভয় দিয়ে বলল আমি-ই টেলিফোনের ঐ ব্যক্তি যার সাথে এত সময় কথা বলছিলেন, আমার নাম শোভন চৌধুরী ইংলিশ ডিপার্টমেন্টে আছি ফাইনাল ইয়ার, আপনাকে ভার্সিটিতে দেখেছি অনেকদিন। কথা বলার চেষ্টা করলেও সাহস হয়নি। আজ হঠাৎ কোথা থেকে যে এতো সাহস এলো একেবারে আপনার সামনে চলে আসলাম। মিথিলাও শোভনকে চিনতে পারলো ভার্সিাটতে দেখেছে। তাছাড়া তার এক বান্ধবীর বড় ভাইও শোভন। কিন্তু সরাসরি কথা হয়নি কখনো। শোভন বলে উঠলো তোমার বান্ধবীর কাছ থেকে ফোন নাম্বার নিয়েছি। আমি তোমার অনেক কিছুই জানি কিন্তু সামনে এসে কথা বলতে সাহস হয় না। আজ হঠাৎ করেই তোমাকে রাস্তায় দেখে ভাবলাম একটু চমকে দিই। সাহস করেই তাই ফোন দিলাম। আর যেহেতু তুমি অভয় দিয়েছ যে মারবে না তাই সামনে চলে আসা। যদিও আমি শাকিব খান না। মিথিলা শোভনের কথা শুনে কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না। শোভন বললো কোথায় যাবে আমি কি তোমাকে ড্রপ দিতে পারি? নতুন বাইক কিনেছি তাই ভাবলাম একটু হাওয়া খাই। আমি আপনার বাইকে উঠব না, অপরিচিত কারো গাড়িতে উঠি না। শোভন বললো আমি তো তোমার অপরিচিত না, আমি অনেকদিন থেকে তোমাকে চিনি। বলতে পার তোমাকে আমার খুব ভাল লাগে সেই সুবাধে তোমার সম্পর্কে আমার জানা শোনার দরকার ছিল। তাই ফলোও করেছি। বলতে পার অনেকদিন, তাছাড়া তোমার বান্ধবীর কাছ থেকেও সব সময় খবর নিয়েছি। যদিও এভাবে বলা ঠিক না হয়তো ভাবছ রাস্তায় ইভটিজিং করছি। কিন্তু না সত্যি বলছি, মিথ্যে কিছু না। আমার মা খুব অসুস্থ, তাই বাবা-মার খুব ইচ্ছা আমাকে একটা টুকটুকে বউ এনে আমার পায়ে শিকল পরিয়ে দেওয়ার। তোমার কথা মাকেও বলেছি।
মিথিলা বলে উঠলো আপনি আমাকে চিনেন কিন্তু আমি তো আপনাকে চিনি না। শোভন বলে উঠলো চল আজ থেকে দু‘জনার মাঝে চেনা জানা হোক। আমার নাম্বার টা সেইভ করে নিবে। ভাল লাগলে কথা বলবে, তাছাড়া একই ডিপার্টমেন্টে আছি তোমার কোন সাহায্যেও তো লাগতে পারি। বলা তো যায় না নাম্বারটা রাখা দরকার আছে। একজন ভাল বন্ধুও ভাবতে পারেন আমাকে। মিথিলা শোভনের এসব কথা শুনে বললো ঠিক আছে সেইভ করে রাখছি। শোভন বললো আমাকে ফোন দিও আজ আমি অপক্ষোয় থাকবো তোমার ফোনের।
মিথিলা আর কোন কথা না বলে বললো আপনি ভাল থাকুন পরে কথা হবে আপনার সাথে এই বলেই মিথিলা আবার হাঁটতে শুরু করলো। মিথিলা কিছুক্ষণ হাঁটার পর মেইন রোডে আসলো দেখলো ইরফান কার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মিথিলা ইরফানকে দেখে দুর থেকে হাসলো. সাথে ইরফানও।
ইরফানের সাথে পরিচয় ফেসবুকের মাধ্যমে বেশ কিছুদিন হল। ইরফানকে সে ভালো বন্ধুই মনে করে। এর আগেও ইরফানের সাথে দু, একবার দেখা হয়েছে চা-কফি খাওয়া হয়েছে কিন্তু দূরে কোথাও যায়নি। ইরফান প্রায়ই বলে চলো লং ড্রাইবে যাই কিন্তু মিথিলা রাজি হয় না, নানা কাজে ব্যস্ত থাকে, এছাড়া লং ড্রাইবে যেতে কেনো জানি তার ভয়ও কাজ করে। প্রতিদিন কত কি ঘটছে আজকাল। কিন্তু আজ সে ইরফানকে না বলতে পারেনি কারণ আজ ইরফানের জন্মদিন। সে জন্মদিনটাতে কেবল মিথিলার সাথে সময় কাটাতে চায় অনেক আগ থেকেই এ কথা বলে আসছে। কোনো উপায় না দেখে মিথিলা রাজি হলো। ইরফান বলেছে তার খালার বাড়িতে যাবে, খালার বাড়িতে পুকুর আছে সেখানে সে মাছ ধরবে মিথিলাকে নিয়ে। মিথিলারও খুব শখ মাছ ধরতে তাই ভাসির্টি ফাঁকি দিয়ে আজ ইরফানের প্রস্তাবে লং ড্রাইবে। ইরফান একজন ব্যবসায়ী। ফেসবুকের মাধ্যমে ওর সাথে পরিচয় হয় মিথিলার।
আজ ইরফান একটা লাল গেঞ্জি পড়েছে, চোখে সানগ্লাস। গাড়ি চলছে মিথিলা আর ইরফান গল্প করছে।
ইরফান বলে উঠলো মিথিলা তোমাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে, মিথিলা লজ্জা পায়। তোমার হাতটা দাও ধরি, মিথিলা বলে না তুমি এখন গাড়ি চালাচ্ছো এক্সিডেন্ট হবে, না হবে না। দাও না হাত এই বলেই ইরফান নিজেই মিথিলার হাতটা ধরে নিল তার কাছে।
ইরফান বললো আমরা কই যাচ্ছি জানো? কেনো তোমার খালার বাসায় যে বললে। না খালার বাড়িতে না যাবো আমার এক বন্ধুর ফ্ল্যাটে। মিথিলা বলে উঠে না আমি তোমার বন্ধুর ফ্ল্যাটে যাবো না। ইরফান বলে কোন সমস্যা নাই লক্ষীটি সে একা থাকে। না আমি তোমার বন্ধুর একা ফ্ল্যাটে যাব না, তুমি আমার সাথে মিথ্যে বললে কেনো? এমনতো কথা ছিল না, মিথ্যে বলে কেন আমাকে নিয়ে এলে? তুমি গাড়ি থামাও আমি নেমে যাবো, ইরফান মিথিলার কোন কথা না শুনে গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয়- মিথিলা বলে কি হচ্ছে ইরফান এসব? তুমি মিথ্যে বলে আমাকে যেখানে সেখানে নিয়ে যেতে পার না। প্লিজ তুমি গাড়ি থামাও। কিন্তু ইরফান মিথিলার কোন কথাই শুনে না। এবার মিথিলা ভয় পেয়ে যায়, ইরফানকে এখন অনেক অচেনা অজানা লাগছে, কেন ইরফান এমন করছে আজ সে ভেবে পাচ্ছে না। বন্ধু মানে তো বিশ্বাস, ভাললাগা এখন তো মিথিলা এসব কিছুই দেখতে পাচ্ছে না ইরফানের কাছে। কত অপরিচিত লাগছে তাকে, কি করবে সে মনে মনে ভয় পাচ্ছে। সে বারবার বলার পরও কোন ইরফানের কোন পরিবর্তন নেই সে স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছে। যেন পাশে বসা এক দানব। মিথিলা ভয়ে কাপছে কিন্তু সে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছে। তার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে ! ইরফান হাসিমুখে বললো আসো আমার বুকে কিছু আদর দেই সোনা, কিছু রোমান্টিক সেল্ফি তুলি। মিথিলা কিছুই ভেবে পাচ্ছে না কি বলবে। তারপর অনেকক্ষণ নীরব থাকার পর বললো ঐ যে সামনে দোকান আছে ঐখান থেকে পানি কিনো খুব তৃষ্ণা পেয়েছে। ইরফান কি যেন একটু ভাবলো পরে বললো ওকে তুমি গাড়িতে বস পানি নিয়ে আসছি। সে একটার পর একটা সিগারেট ধরাচ্ছে। মিথিলা ভাবে আগেতো কখনো দেখেনি ইরফান এত স্মোক করতে। তবে আজ কেন এত স্মোক করছে? ইরফানকে আজ উগ্র আর বখাটে কেন লাগছে। এই ইরফানের রূপতো আগে দেখেনি, মিলাতে পারে না মিথিলা কিছুই। ইরফান দোকানের দিকে যাচ্ছে আর মোবাইলে কার সাথে যেনো কথা বলছে মিথিলা খুব ভয় পাচ্ছে, আজ ইরফানকে তার পর পর মনে হচ্ছে। অচেনা লাগছে, যেনো এই ইরফানের সাথে কোন ভালবাসার লেনদেন নাই। সে গাড়ি থেকে বের হওয়ার চিন্তা করলো কিন্তু দেখলো গাড়ি লক করা আরও ভয় পেয়ে গেলো। কি করবে এখন সে? এর আগেও ইরফানের সাথে দু‘বার দেখা হয়েছে পাশে বসে ফাস্টফুড খেয়েছে কত আপন মনে হয়েছে কিন্তু আজতো তার পুরো উল্টো দেখাচ্ছে ইরফানকে। বুঝে উঠতে পারে না কি করবে. কাকে ফোন দিয়ে সাহায্য নিবে বুঝে উঠতে পারছে না কিছুই। ঠিক তখন মনে হলো সকালে যে শোভন চৌধুরীর সাথে কথা হয়েছিল তাকেই ফোন দিই যেই ভাবা সেই কাজ সাথে সাথেই ফোন দিলো- কোন ভনিতা না করেই বলে দিল আমাকে একটু সাহায্য করবেন আমি একটা সমস্যায় পড়ছি। শোভন বললো কি করতে হবে? মিথিলা সবকিছু খুলে বলে। শোভন বলে যদি পার ছেলেটার একটা ছ্িব দাও। সব শুনে শোভন বলে তুমি ভয় পেয়ো না আমি আসছি আর যে জায়গার কথা বলছো সেখানে আমার অনেক পরিচিতজন আছে আমি ওদের ফোন দিচ্ছি। তুমি শুধু স্বাভাবিক থাকো। ইরফান মিথিলাকে পানি দিয়ে গাড়ির বাইরে খুব আস্তে আস্তে যেনো কার সাথে কথা বলছে কিছু বুঝতে না পারলে মিথিলা বুঝতে পারছে সে কোনো সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে।
গাড়ি থেকে মিথিলা বের হওয়ার জন্য লক খুলতে বললেও ইরফান খুলে দিল না। আবার গাড়ি চলতে শুরু করলো খুব স্পিডে। মিথিলা বলে আস্তে চালাও এ কথা শুনে ইরফান ওর দিকে তাকিয়ে বেশ বড় গলায় হেসে বলে তুমি কি ভয় পাচ্ছো? মিথিলা বলে না তবে তোমাকে খুব অন্য রকম লাগছে। ইরফান বলে শুনো ভয় পেয়ো না আমি তোমাকে খাবো না।
কিছুক্ষণ ওরা নীরব! মিথিলা দেখছে ইরফানের ফোন বাইব্রেশনে রাখা বারবার ফোন আসছে কিন্তু সে ফোন ধরছে না। সে কেনো ফোন ধরছে না, কার ফোন হতে পারে মিথিলাকে খুব ভাবাচ্ছে। মিথিলা বললো ফোন ধরো বারবার ফোন আসছে দরকারী হতে পারে। হঠাৎ ইরফান গাড়ি থামালো, গাড়ি থেকে বের হয়ে ফোন ধরে আবার কথা বলা শুরু করল আবারও দেখতে পায় মিথিলা গাড়ী লক করা। কেনো সে বারবার গাড়ী লক করছে। এবার মিথিলা বলে উঠলো লক খুলো বাইরে বের হবো-ইরফান গাড়ির লক খুলে না দিয়ে সে বাইরে দাড়িয়ে সিগারেট টানছে একটার পর একটা আর ফোনে কথা বলছে। যেখানে দাঁড়িয়েছে সে জায়গাটা একটু নীরবই বলা যায়। মাঝে মাঝে দু’একটা টা গাড়ি বাস্তায় আসা যাওয়া করছে। এবার মিথিলা বেশ জোরে কঠিন গলায় বললো ইরফান কি হয়েছে তোমার গাড়ি লক করে কেনো রাখছো? আর রাস্তায় দাঁড়িয়ে কেনো আছো, কি এমন গোপন কথা তোমার যা আমার সামনে বলা যাবে না? বারবার প্রশ্ন করে যাচ্ছে কিন্তু ইরফান নীরব। সে ফোনে কথা বলছেই বলছে মিথিলার কথা শুনছেই না যেনো সে। মিথিলার ভয়ের মাত্রা বাড়তে থাকে সে আবারও শোভনকে মেসেজ দেয় যে জায়গায় গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। শোভন সাথে সাথে মেসেজ রিপ্লে করে আমি বাইকে আসছি তোমার প্রায় কাছাকাছি। হঠাৎ করেই ইরফান গাড়ী খুলে মিথিলার পাশে বসলো বেশ একটু জড়িয়ে ধরে মিথিলাকে বলে তোমার ফোন টা দাও। মিথিলা বলেউঠে কেনো? ইরফান উত্তর দেয় আমার ফোনের বেলেন্স শেষ তাই। মিথিলা কিছু বলার আগেই হাত থেকে ফোনটা নিয়ে নেয় ইরফান। ভাগ্যিস শোভনের মেসেজগুলো সে কেটে দিয়েছিল। মিথিলা ইরফানকে বলে কেনো তোমাকে আজ অন্যরকম লাগছে? ইরফান গলা ছেড়ে হাসে। মিথিলা ভয়ে মনে মনে কাঁপতে থাকে। দেখো তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ তোমার ডাকে সারা দিয়ে ভার্সিটি ফাঁকি দিয়ে বাসায় মিথ্যে বলে বের হয়েছি কিন্তু তোমার মাঝে তো আজ কোনো ভালবাসার ছোঁয়া দেখতে পাচ্ছি না, তোমাকে আমার ভয় লাগছে! এবার ইরফান আবারও বড় করে হেসে বললো- তোমাকে ভালবাসি বলেই তো তোমাকে আজ ওদের হাতে তুলে দিচ্ছি। মিথিলা বলে মানে কি? কার হাতে দিবে? কি বলছো এসব? ইরফান কোন উত্তর দেয় না। মিথিলা বলে আমার ফোনটা দাও আমি চলে যাবো বাড়িতে। বাড়ি থেকে কত কষ্ট করে বের হয়েছি শুধু তোমাকে ভালবাসি বলে কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আমি অনেক বড় ভুল করেছি ইরফান। প্লিজ তুমি আমার মোবাইলটা দাও ্আমি চলে যাই। ধমকের সুরেই ইরফান বলে বেশি কথা বলো না চুপ করে বসে থাকো, মিথিলা বলে কেন চুপ করে থাকবো। আমি কি অপরাধ করেছি? ইরফান বলে বেশি কথা বলো ন, না হয় কালকের পত্রিকায় শিরোনাম হবে তোমার নাম, তোমাকে নিয়ে আমার ৬ মাসের প্লান নষ্ট হবে, আমার এতগুলো টাকা কে দিবে? এসব কি বলছো ইরফান? মিথিলা জোরাজরি শুরু করে সে গাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য, চিৎকার করতে থাকে কিন্তু রাস্তা ফাঁকা কে তাকে এখন বাঁচাবে? মিথিলাও বাঁচার তাগিদে ইরফানকে ধাক্কা মারে, চড় মারে কিন্তু কোন কিছুতে কাজ হয় না। ইরফান বারবার বলতে থাকে তুমি জানো না আমি কে? অনেক কষ্টে তোমাকে আজ এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছি। সে জোরে জোরে মিথিলাকে চড় মারতে থাকে। মিথিলা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে- বলতে থাকে ইরফান আমি জানি না তুমি কে তবে তোমাকে ভালবাসি এ কথা সত্য। কেনো তুমি এমন করছো আমার সাথে? আমাকে বাড়ি যেতে দাও, আমি অনেক বড় ভুল করেছি তোমাকে বিশ্বাস করে-তোমার ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করে। শুধু লোকমুখে শোনা যেত ফেসবুকের ভয়ঙ্কর কাহিনী কিন্তু আমার জীবনের এরকম কাহিনী ঘটবে ভাবতেও পারিনি, তুমি ভালবাসার অভিনয় করে আমাকে ট্রেপে ফেলবে। হ্যাঁ তুমি ঠিকই বলেছ তুমি আমার ট্রেপেই পড়েছ সোনা। শোন আমি কোন বড় ব্যবসায়ী না আমার ব্যবসা মেয়েদের সাথে প্রেমের অভিনয় করে মেয়েদের ফাঁদে ফেলে টাকা ইনকাম। তোমার মোবাইল, গলায় স্বর্ণের চেইন আছে ওটা দাও। ঠিক আছে নিয়ে যাও আমাকে বাড়িতে যেতে দাও। না ফ্ল্যাটে যেতে হবে সেখানে আমার দু‘বন্ধু তোমার অপেক্ষায় আছে তাদের কাছ থেকে আমি টাকা নিয়েছি। এ কথা শুনে মিথিলা ইরফানের গালে চড় মারে। সাথে সাথে ইরফানও বেশ জোরে জোরে মারতে থাকে মিথিলাকে। মিথিলা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। ভয়ে চিৎকার করতে থাকে এমন অবস্থায় হঠাৎ একটা বাইক এসে ইরফানের গাড়ির গতি রোধ করে। ইরফান গাড়িকে ওভারটেক করে যেতে চাইলেও পারে না। দেখে পিছনে আরো ২টা বাইক। গাড়ি থামিয়ে ওরা ইরফানকে গাড়ি থেকে বের করে আনে। কিল ঘুষি কিছু মারার পর পুলিশকে ফোন দেয় যদিও শোভন আগ থেকেই পুলিশকে ইনফর্ম করে রেখেছিল এ ব্যাপারটি। পুলিশ এসে ইরফানকে ধরে নিয়ে যায়।
খোলা আকাশের ফাঁকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে মিথিলা কাঁদছে আর ভাবছে কি বিপদ থেকেই না আল্লাহ বাঁচিয়েছেন। ফেসবুকের মাধ্যমে অল্পদিনের পরিচয়ে ইরফানকে ভালোবেসে আজ এভাবে লং ড্রাইবে বের হওয়া কত বড় বোকামি ছিল তার। আজ জীবনের সুন্দর সুন্দর স্বপ্নগুলোর মৃত্যু হতে পারতো, কলঙ্খিত হতে হতো তার পরিবার। ভাগ্যিস আজ শোভনের সাথে সকালে দেখা। সে তো ফেরেস্তা, সে না বাঁচালে আজ কি হতো ভাবতেই পারছে না মিথিলা।
শোভন মিথিলার হাত ধরে বললো উঠো বাইকে, বাসায় পৌঁছে দিবো। মিথিলা ইতস্ততো করে বাইকে উঠতে কিন্তু শোভন প্রায় ধমকের সুরেই বলে ভয় নেই আমি ইরফান না, আমি শোভন চৌধুরী।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT