উপ সম্পাদকীয় দৃষ্টিপাত

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রযাত্রা সফল হোক

আতাউর রহমান খান শামছু প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-১২-২০১৯ ইং ০১:৪৫:৩৮ | সংবাদটি ৬১৮ বার পঠিত
Image

আজ ২৮তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস। প্রতিবছর ৩ ডিসেম্বরকে বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৯২ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শারীরিকভাবে অসম্পূর্ণ মানুষদের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতা প্রদর্শন ও তাদের কর্মকান্ডের প্রতি সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যেই এই দিবসটির সূচনা। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় “অভিগম্য আগামীর পথে”।
বিশ্বজুড়ে প্রতিবন্ধী দিবসের অনুগামিতার পিছনে আছে এক ঘটনাবহুল জীবনস্মৃতি। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে বেলজিয়ামে এক সাংঘাতিক খনি দুর্ঘটনায় বহু মানুষ মারা যান। আহত প্রায় পাঁচ সহ¯্রাধিক ব্যক্তি চিরজীবনের মতো প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাদের প্রতি সহমর্মিতায় ও পরহিতপরায়ণতায় বেশ কিছু সামাজিক সংস্থা চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কাজে স্বত:স্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে। এর ঠিক পরের বছর জুরিখে বিশ্বের বহু সংগঠন সম্মিলিতভাবে আর্ন্তঃদেশীয় স্তরে এক বিশাল সম্মেলন করেন। সেখান থেকেই প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের হদিশ মেলে। সেখানে সর্বসম্মতভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে বেশ কিছু প্রস্তাব ও কর্মসূচী গৃহীত হয়। খনি দুর্ঘটনায় আহত বিপন্ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস পালন করতে আহবান জানানো হয়। সেই থেকেই কালক্রমে সারা পৃথিবীর প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর দিন হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও আগামী ৩ ডিসেম্বর ২৮তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও সেই সাথে বাংলাদেশে এ দিবসটি ২১তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস হিসাবে পালিত হবে। দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে উন্নয়নের মূল ধারায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের একীভূতকরণ এবং ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সমূহের উদ্যোগে দেশব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।
তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল এই দেশটির এক বিশাল জনগোষ্ঠী প্রতিবন্ধীতার শিকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের শতকরা ১০% লোক কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। এই বিশাল প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭৫% লোকই দরিদ্র। তারা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ন্যায় মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমস্যা যত ব্যাপক সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্ব দেওয়া হলেও বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ততটা মূল্যায়ন করা হয় না। ব্যক্তিগতভাবে অনেক মহৎ ব্যক্তি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখলেও ব্যাপক পরিসরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমস্যা দূর করতে সামাজিক উদ্যোগ লক্ষ করা যায় না।
বাংলাদেশের সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি মানুষ হিসেবে তাদের অধিকার ও মর্যাদার কথা যুগ যুগ ধরে নিদারুণ অবহেলা জুলুম আর অন্যায়ের নিচে চাপা পড়ে আছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে সমাজের মূল ধারায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তাদের মর্যাদার সঙ্গে জীবন যাপনের সুযোগ করে দেওয়া আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নয়। সুযোগ পেলে তারাও তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে। বিশ্বে এমন অসংখ্য উদাহরণ আছে যারা প্রতিবন্ধী ছিলেন অথচ সকলের সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় তারা জগৎ বিখ্যাত হয়েছেন। মানবতার কল্যাণে নিজের মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে তরান্বিত করেছেন মানব জাতির অগ্রযাত্রাকে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব হলেন-বিখ্যাত লেখক হেলেন কেলার, গায়ক ও সুরকার বিটোফ্যান, বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন, আইনস্টাইন, স্টিফেন হকিংসহ আরো অনেকে। যারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হয়েও সকলের সহযোগিতায় নিজের অদম্য ইচ্ছা শক্তিতে আজ বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বিছিন্ন কোনো অংশ নয়। তারা এ সমাজ-রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূল ¯্রােত ধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবেই দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব।
লেখক : প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি-রহমানিয়া প্রতিবন্ধী কল্যাণ ফাউন্ডেশন, সভাপতি সিলেট ব্লাইন্ড ক্রিকেট ক্লাব।

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • বঙ্গবন্ধুর সাংবাদিকতা
  • সমকালীন কথকতা
  • চামড়া শিল্প কি ধ্বংস হয়ে যাবে!
  • ‘সিসা বিষে’ আক্রান্ত শিশু
  • ‘সিসা বিষে’ আক্রান্ত শিশু
  • সম্ভাবনাময় যুব সমাজ : অবক্ষয় এবং উত্তরণের উপায়
  • নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে সচেতন হতে হবে
  • কোভিড-১৯ মানব ইতিহাসে বড় চ্যালেঞ্জ
  • একটি খেরোখাতার বয়ান
  • পরিবেশ রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
  • পর্নোগ্রাফির বিষবাষ্প থেকে মুক্তি মিলবে কবে?
  • জীববৈচিত্র এবং মনুষ্য সমাজ
  • করোনার ছোবলে জীবন-জীবিকা
  • মানুষ কেন নিমর্ম হয়
  • করোনায় আক্রান্ত শিক্ষা ব্যবস্থা
  • প্রসঙ্গ : ব্যাংকিং খাতে সুদহার এবং খেলাপি ঋণ
  • করোনা, ঈদ এবং ইসলামে মানবতাবোধ
  • ত্যাগের মহিমায় চিরভাস্বর ঈদুল আযহা
  • করোনাকালে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
  • আনন্দযজ্ঞে আমন্ত্রণ
  • Image

    Developed by:Sparkle IT