উপ সম্পাদকীয়

বৃটিশ সাধারণ নির্বাচন-২০১৯

অ্যাডভোকেট আনসার খান প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-১২-২০১৯ ইং ০১:৪৬:২৭ | সংবাদটি ১৫৫ বার পঠিত

ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসার প্রশ্নে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ব্রেক্সিট গণভোটের পরবর্তী সময়ে বৃটিশ রাজনীতিতে সৃষ্ট অস্থিরতায় ডেভিড ক্যামেরুন সরকার ও তেরেসা মে-এর সরকার পদত্যাগের পরে বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে ব্রেক্সিট সংকটের চূড়ান্ত কোনো সমাধান দিতে না পারায় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে বৃটিশ জনগণের মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে গণভোটের পরিবর্তে মধ্যবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং আগামী ১২ ডিসেম্বর সে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
১২ ডিসেম্বরে বৃটিশ জনগণ ৬৫০-সদস্যের হাউস অব কমন্স বা পার্লামেন্ট নির্বাচনের জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এবং সে নির্বাচনে একক সরকার গঠনের জন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে কমপক্ষে ৩২৬-আসনে বিজয়ী হতে হবে। নির্বাচনে বেশ কয়েকটা রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি দলের তালিকায় রয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টি, প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিস পার্টি, ব্রেক্সিট পার্টি ইত্যাদি দল।
আসন্ন এ নির্বাচনের লক্ষণীয় দু’টো দিক হলো, ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পরবর্তী মাত্র আড়াই বছর পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ ২০১৭ সালে নির্বাচিত পার্লামেন্ট পূর্ণমেয়াদ পূরণ করতে পারেনি। আর দ্বিতীয় দিকটি হলো, ১৯২৩ সালের পরে এবারই ডিসেম্বর মাসে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ ১৯২৩ সালের পরে এবং ২০১৯ সালের আগে ব্রিটেনে আর কখনো ডিসেম্বর মাসে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
ব্রিটেনের আসন্ন নির্বাচনকে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এসব পর্যবেক্ষকদের মতে, ১৯৪৪ সাল পরবর্তী সময়ে জন্মগ্রহণকারী বৃটিশ নাগরিকদের জন্য ১২ ডিসেম্বরের নির্বাচন সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ এ কারণে যে, এ নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ব্রেক্সিটের ভবিষ্যত নির্ভর করছে। প্রায় চার বছর আগে ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা-না থাকার প্রশ্নে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি গণভোটের আয়োজন করেছিলো এবং কনজারভেটিভ পার্টি তখন ই.ইউ থেকে বের হয়ে আসার অঙ্গীকারও করেছিলো। গণভোটের রায় ব্রেক্সিটের পক্ষে এলেও ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয় টোরী সরকার। বরং ব্রেক্সিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে বৃটিশ জাতির অস্তিত্ব সংকট দেখা দিয়েছে এবং পর্যবেক্ষকরা তাই বলছেন, আসন্ন নির্বাচনে ব্রেক্সিট সংকটের একটা সমাধানের পথ বের হয়ে আসতে পারে; বিজয়ীরা ব্রেক্সিটের ভাগ্য স্থির করে ব্রিটেনকে অস্তিত্ব সংকটের কবল থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই এ নির্বাচনের প্রধান ইস্যুই হলো ব্রেক্সিট। এ কারণে, আসন্ন এ নির্বাচনকে ‘ব্রেক্সিট নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা।
আসন্ন এ নির্বাচনকে তাৎপর্যময় বলে অভিহিত করার পেছনে অন্যতম কারণ হলো-লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবিনের ন্যায় চরম বামপন্থী নেতার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা। বৃটিশ ভোটাররা ১২ ডিসম্বরে নির্ধারণ করবেন বামপন্থী এই নেতা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হবেন কিনা, যদি তেমনকিছু ঘটে তবে তা হবে দেশটার ইতিহাসে অনন্য এক ঘটনা-অভিমত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
বৃটিশ রাজনীতিতে দ্বিদলীয় ব্যবস্থা একটা ঐতিহ্যের স্থান দখল করে আছে। আসন্ন নির্বাচনে দ্বিদলীয় ব্যবস্থার ভিত্তি নড়ে ওঠতে পারে বলে অনেক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে ভোটারদের মধ্যে যে নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে তাতে এটা মনে করার অনেক যুক্তি রয়েছে যে, হয়তো ভোটাররা দ্বিদলীয় ব্যবস্থার ওলটপালট ঘটিয়ে দিতে পারেন। হয়তো এমন হতে পারে কনজারভেটিভ পার্টি ও লেবার পার্টির বাইরের দলগুলো মিলে কোয়ালিশন সরকার গঠিত হতে পারে। এ কারণে বলা হচ্ছে, ১২ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ব্রিটেনের ভোটাররা দ্বিদলীয় ব্যবস্থা টিকে থাকবে কীনা তাও নির্ধারণ করতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন-স্বাধীনতার প্রশ্নে স্কটিশ জাতীয়তাবাদীরা দ্বিতীয় গণভোট পাবে কিনা সে প্রশ্নেরও একটা জবাব পাওয়া যেতে পারে ১২ ডিসেম্বরের নির্বাচনে। তাই স্কটিশ জনগণও সামগ্রিক অর্থে, বৃটিশ জনগণের জন্য আসন্ন সাধারণ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।
স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি বা এসএনপি স্কটল্যান্ডের শাসন ক্ষমতায় রয়েছে। স্কটল্যান্ডের বৃহৎ ও রাজনৈতিক দলের মূল দাবি হচ্ছে স্কটল্যান্ডের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা এবং স্কটল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে থাকতে চায় তাও পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে এসএনপি।
স্কটিশের স্বাধীনতার প্রশ্নে ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর স্কটল্যান্ডে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিলো এবং ৫৫% শতাংশ ভোটার স্বাধীনতার বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলো। যেহেতু মার্জিনাল ভোটে স্বাধীনতার বিষয়টা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলো, সে কারণে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির সরকার দ্বিতীয় গণভোটের দাবি জানায় বৃটিশ সরকারের নিকট। স্কটিশ পার্লামেন্টে দ্বিতীয় দফায় গণভোটে আয়োজনের জন্য বৃটিশ সরকারের নিকট আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানোর জন্য একটা প্রস্তাব অনুমোদন করে এবং সে প্রস্তাবে ৩০ মার্চ ২০১৭ সালে স্বাক্ষর করেন স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার এসএনপি নেতা নিকোলো স্টুয়ারজন। এ অনুরোধ পত্রের মাধ্যমে ২০১৮ সালের শেষে অথবা ২০১৯ সালের প্রথমার্ধে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার বিষয়টা মীমাংসার প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোট আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছিলো। তবে বৃটিশ সরকার সে অনুরোধের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি।
এদিকে, গ্লাসগোর জর্জ স্কয়ারে অনুষ্ঠিত বৃহৎ এক সমাবেশে (৫ নভেম্বর ২০১৯) বক্তব্য দানকালে স্টুয়ার্জন ২০২০ সালের মধ্যে দ্বিতীয় গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন ১২ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দ্বিতীয় গণভোটের দাবির স্বপক্ষে স্কটিশ ভোটাররা আরো ব্যাপকভাবে এসএনপি সংকটকে ভোট দিয়ে এর নেতা নিকোলো স্টুয়ারজনের হাতকে অত্যন্ত শক্তিশালী করে তুলতে পারে। যদি আসন্ন এ সাধারণ নির্বাচনে স্টুয়ার্জনের দল ব্যাপকভাবে জিতে যায়-তবে দ্বিতীয় গণভোট আটকানোর কোনো সুযোগ হয়তো থাকবে না বৃটিশ সরকারের। এ কারণেই স্কটিশ ভোটার এবং এমনকি, বৃটিশ ভোটারদের নিকট স্কটল্যান্ডের প্রশ্নে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে।
ব্রেক্সিট ইস্যু বা স্কটিশদের দ্বিতীয় রেফারেন্ডাম প্রশ্নে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে বৃটিশ ভোটারকে যেমন প্রভাবিত করবে, তেমনি অন্যান্য বিষয়গুলো, যেমন-জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি, অভিবাসন, অবরোধ প্রবণতার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি ইত্যাদি ব্যাপারগুলোও ভোটারদের প্রভাবিত করবে-এটা নিশ্চিত। কাজেই, ডিসেম্বরের নির্বাচন বৃটিশ জাতির সামগ্রিক সংকট মোচনের একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান বলে মনে করা হচ্ছে। কোন দল বা দলগুলো দ্বারা সামগ্রিক সংকটের সমাধান করা সম্ভব হতে পারে সেদিকটা বিচার-বিশ্লেষণ করেই ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এটা প্রায় নিশ্চিত। কোনো অর্থেই যেমন ভোটারগণ, তেমনি বৃটিশ রাজনৈতিক দলগুলো আসন্ন নির্বাচনকে একটা যেনতেন প্রকারের নির্বাচন হিসেবে ভাবছে না। কারণ, বৃটিশ জাতি একটা অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছে এবং এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব না হলে বৃটিশ জাতির অস্তিত্ব সংকট দেখা দিতে পারে।
আসন্ন ডিসেম্বরের নির্বাচনে অনেকগুলো বিষয়ই ভোটারদেরকে প্রভাবিত করবে বলে মনে করা হলেও ব্রেক্সিট ইস্যুই হবে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমগ্র বৃটিশ জাতি ও জনগণ দ্বিধাবিভক্ত। তাই আসন্ন নির্বাচনে বৃটিশ জাতির সংকট উত্তরণে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ওপর নির্ভর করছে ব্রেক্সিট সংকটের সমাধান এবং ভোটের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে বৃটিশ জাতির বিভক্তির অবসানের সম্ভাবনা কতটুকু আছে। সংকটময় এ সময়কালে ব্রিটেনের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ব্রেক্সিট প্রশ্নে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ ও লক্ষ্য সামনে রেখেই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সংক্ষেপে বলা যায়;
ক্স কনজারভেটিভ পার্টিকে ভোট প্রদানের অর্থই হলো-ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করা।
ক্স লেবার পার্টির পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগের মানে দাঁড়াবে ব্রেক্সিটের জন্য দ্বিতীয় গণভোট আয়োজনের পক্ষে সম্মতি দান করা।
ক্স লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষে ভোট পড়ার অর্থ হবে-আর্টিক্যাল ৫০ বাতিল এবং ব্রেক্সিট রদ করা।
ক্স ব্রেক্সিট পার্টির পক্ষে ভোট হওয়ার মানে হলো কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট কার্যকর করা।
ক্স গ্রীণ পার্টির সমর্থনে প্রয়োগকৃত ভোটাররা ব্রেক্সিট প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোটের পক্ষেই দাঁড়াবেন।
এখানে পাঁচটা প্রধান রাজনৈতিক দলের ব্রেক্সিট সংক্রান্ত নির্বাচনী লক্ষ্য ও প্রচারনার বিষয়ে নির্বাচনী চিত্র সম্পর্কে যে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে তাতে এটা স্পষ্ট যে-ব্রেক্সিট নিয়ে বৃটিশ রাজনৈতিক দলের মধ্যে অভিন্ন কর্মসূচী নেই। ফলে বৃটিশ ভোটাররাও বিভক্ত এবং বিভ্রান্ত। তা সত্ত্বেও ডিসেম্বরের নির্বাচনে ব্রেক্সিট সংকটের সমাধানের একটা পথ বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন ভোটাররা সহ রাজনৈতিক ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা।
সময় যাচ্ছে, নির্বাচন যতোই এগিয়ে আসছে ভোটাররা ভোট প্রদানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং বিভিন্ন নির্বাচনী পুল ট্যাকাররা জনমত সংগ্রহ করছেন, ভোটের আগাম ফলাফল সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। সব জরিপেই এখনো পর্যন্ত কনজারভেটিভ পার্টি বেশ এগিয়ে আছে দ্বিতীয় প্রধান দল লেবার পার্টি থেকে। তবে এটা বলা সঙ্গত যে, জরিপের পূর্বাভাস সঠিক নাও হতে পারে। নির্বাচনে হয়তো ভিন্ন ফলাফল অপেক্ষা করছে।
রাজনীতি ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ডিসেম্বরের নির্বাচনে ঠিক কোন দল বিজয়ী হয়ে আসতে পারে সেটা বলা একেবারেই অসম্ভব। এর পক্ষে অনেক যুক্তি, উদাহরণ, তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা।
যেমন-অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউফিল্ড কলেজের প্রফেসর জোন গ্রীণ বলেছেন, ‘নির্বাচনের দিনে ব্রেক্সিট ইস্যু কী পর্যায়ে ভোটারদের প্রভাবিত করবে সেটা আমরা জানিনা। কার ওপর বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার দায় বর্তাবে বা কারা বিজয়ী হবে সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়। কারণ, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনী ধাক্কা বা ইলেক্টোরাল শক্ এর কারণে ভোটাররা বিরক্ত, ভোটারদের মন এখন দ্রুত পরিবর্তনশীল; ভোট কাকে দেবে সেটা নিয়ে ভোটাররা নিশ্চিত থাকতে পারছে না।’
অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনগুলোর পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেছে ব্রিটেনের ভোটাররা দলীয় পছন্দের চেয়ে নিজের পছন্দ দ্বারা তাড়িত হয়ে বা উপস্থিত যেকোনো ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভোট দিতে থাকেন। এটাকে ‘ইলেক্টোরাল শক্স ‘হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রফেসর জিওফরি ইভানস ও প্রফেসর ফিন্ডৌজ তাঁদের বই ‘ইলেক্টোরাল শক্স : দ্য ভলটাইল ভোটার ইন এ টারবুলেন্ট ওয়ার্ল্ড’-এ। লেখকদ্বয় মনে করেন ইলেক্টোরাল শক্স-যেমন ব্রেক্সিট ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দা, অভিবাসন ভোটারদের, বিশেষ করে ভলাটাইল ভোটার (পরিবর্তনশীল ভোটার) সাধারণকে ভোটদান প্রভাবিত করে থাকে ব্যাপকভাবে। ফলে ভলাটাইল ভোটাররা কোনো দলকেই ধারাবাহিকভাবে ভোট দেননি অতীতের নির্বাচনগুলোতে। আর এদিকটাও লক্ষণীয় যে, পরিবর্তনশীল ভোটারের সংখ্যা কিন্তু বেড়েই চলেছে ব্রিটেনে-যে কারণে ব্রিটেনের দ্বিদলীয় ব্যবস্থায়ও ভাঙ্গন ধরেছে।
উপরোক্ত লেখকদ্বয়ের মতে, নির্বাচনী ধাক্কা ও বৃটিশ নির্বাচনের ভোটারদের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা ইত্যাদি কারণে নির্বাচনের মধ্যে দলীয় পছন্দ পরিবর্তন করার প্রবণতা অবিচ্ছিন্নভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন ২০১০-১৭ সালের ৩টা নির্বাচনে প্রায় অর্ধেক ভোটার (৪৯% শতাংশ) একই দলের পক্ষে ভোট দেননি। ২০১৫-২০১৭ সালের দু’টি নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্তরে বা পরিমাণের ভোটারদের মধ্যে অস্থিরতা ছিলো। ২০১৫ সালের নির্বাচনে এক-তৃতীয়াংশ এবং ২০১৭ সালের নির্বাচনে দু-পঞ্চমাংশ অস্থির বা স্যুইচিং বা ভলাটাইল ভোটার ছিলো বলে গবেষণা সংস্থা বৃটিশ ইলেকশন স্টাডির অভিমত। ব্রেক্সিট, ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দা এবং অভিভাসনের মতো নির্বাচনী ধাক্কা ভোটের পছন্দ নির্ধারণ করেছিলো এবং অস্থির ভোটারগণের ওপর বেশি মাত্রায় প্রভাব ফেলেছিলো।
বৃটিশ ইলেকশন স্টাডি উদাহরণ দিয়ে বলেছে, ২০১০ সালের নির্বাচনে স্কটল্যান্ড ছিলো লেবার পার্টির হার্টল্যান্ড স্বরূপ। অথচ ২০১৫ সালের নির্বাচনে স্কটল্যান্ডের ভোটারগণ ঝুঁকে পড়েছিলেন স্কটল্যান্ড ন্যাশনাল পার্টির প্রতি। আর ডিসেম্বরের নির্বাচনে স্কটল্যান্ডের ভোটাররা কোন দিকে ঝুঁকে পড়বে সেটা বলা একেবারেই অসম্ভব-কারণ এবার অস্থির ভোটারের সংখ্যা আরো বেশি। এছাড়া, ব্রেক্সিট শক্ এখনো অব্যাহত আছে-যা ভোটারদেরকে ভোটদানে প্রভাবিত করবে।
বৃটিশদের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক অস্থির ভোটার থাকা এবং ভোটারদের ভোটদানের আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন আসার কারণে কোনো রাজনৈতিক দলের বা রাজনৈতিক ভাষ্যকারের পক্ষে অনুমান করা প্রায় অসম্ভব ভোটাররা ডিসেম্বরের নির্বাচনের দিনে কী আচরণ করেন’-বলেছেন মানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এডওয়ার্ড ফিল্ডৌজ। তবে ব্রেক্সিট প্রশ্ন অব্যাহত থাকায় ভোটারদের ভোটদানে উচ্চতর পর্যায়ে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন প্রফেসর ফিল্ডৌজ। বি.ইএস মনে করেন ব্রেক্সিট প্রশ্নই নির্বাচনে বড় ভূমিকা পালন করবে ভোটারদের ভোটদানের ক্ষেত্রে। কাজেই নির্বাচনী ফলাফল অনিশ্চিত।
লেখক : আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে
  • মানবাধিকার দিবস ও বাস্তবতা
  • বুয়েটের শিক্ষা
  • পাল্টে গেল শ্রীলঙ্কার ভোটের হিসাব
  • গড়ে তুলতে হবে মানবিক সমাজ
  • পাখি নিধন, অমানবিকতার উদাহরণ
  • দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান সফল হোক
  • সড়ক দুর্ঘটনা এবং সড়ক আইন-২০১৮
  • বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গ
  • বাঙালির ধৈর্য্য
  • সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার অবকাঠামো
  • শিক্ষকদের অবদান ও মর্যাদা
  • ১৯৭০ এর নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধ
  • একাত্তর :আমার গৌরবের ঠিকানা
  • সড়ক দুর্ঘটনা কি থামানো যায় না?
  • চিকিৎসা সেবা বনাম ব্যবসা
  • নীরব ঘাতক প্লাস্টিক
  • সার্থক জীবন মহত্তর অবদান
  • প্রযুক্তির বিশ্বায়ন বনাম তরুণ সমাজ
  • মানবিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশ
  • Developed by: Sparkle IT