শেষের পাতা

দৃষ্টিহীন রোকসানার দৃষ্টান্ত

আহমাদ সেলিম প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-১২-২০১৯ ইং ০২:৪৬:০০ | সংবাদটি ১৩১ বার পঠিত



দু’চোখে আলো নেই। জন্ম থেকে সে চোখে দেখছে না। তবু পরিবারের বোঝা হয়নি। কোনো প্রতিবন্ধকতা দমিয়ে রাখতে পারেনি এই মেয়েটিকে। সে লেখাপড়া করছে সিলেটের একটি বেসরকারি কলেজে। আগামী বছর উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা দেবে। মনের আলোয় পথচলে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এই জন্মান্ধ মেয়েটির নাম রোকসানা।
পুরো নাম রোকসানা বেগম। বাড়ি ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের জিয়াপুর গ্রামে। তার বাবা আনোয়ার পাশা একজন কৃষক এবং মা রেহানা আক্তার গৃহিনী। পাঁচ ভাই, চার বোনের মধ্যে রোকসানা দ্বিতীয়। পরিবারের অন্য সবার মতো সুস্থ স্বাভাবিক হয়ে জন্মায়নি রোকসানা। একদিকে জন্মান্ধ অন্যদিকে কৃষক পরিবার-সবমিলিয়ে পরিবারে বাড়তি দু:শ্চিন্তা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
২০০৮ সাল। কোনো এক মাধ্যমে রোকসানার আশ্রয় হয় সিলেটের গ্রীণ ডিজএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশন (জিডিএফ) নামের একটি সংস্থায়। এই ফাউন্ডেশনের অবস্থান সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায়। সরকারিভাবে পাওয়া একটি ভবনে এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। যেখানে তার মতো আরো অনেক দৃষ্টিহীন শিশুদের মাথা গোজার ঠাঁই হয়েছে। ফাউন্ডেশনে আসার পর থেকে অন্ধ এই মেয়েটির পথচলা শুরু হয় অন্য আলোয়, অন্য বাকে। শুরু হয় লেখাপড়ার সংগ্রাম। বলা যায়, এখান থেকেই তার লেখাপড়ার হাতেখড়ি। বিদ্যার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখে অভিভূত হন ফাউন্ডেশনের কর্ণধার প্রয়াত রজব আলী খান নজিব। তাকে ভর্তি করা হয় রসময় মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে। লেখাপড়া শুরু হয় ব্রেইল পদ্ধতিতে। প্রথমবার পরীক্ষা দিয়েই এসএসসি পাস করেন ২০১৭ সালে। এসএসসি’র পর তাকে ভর্তি করা হয় মির্জাজাঙ্গল বৃটানিকা উইমেন্স কলেজে-মানবিক বিভাগে। বর্তমানে এই কলেজ থেকেই সে এইচএসসি’র জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ফাউন্ডেশন থেকে কলেজের দূরত্ব পাঁচ মিনিটের। প্রতিদিন শুধু যাবার বেলা রিকসায় তুলে দেন নূরজাহান বেগম। তারপর বাকি পথ তাকে একাই যেতে হয়। রিকসা থেকে নেমে একা একা শ্রেণী কক্ষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় নিজের অদম্য ইচ্ছশক্তির উপর ভর করে। কলেজ ছুটি হবার পর আবার কেউ রিকসায় তুলে দিলে বাড়ি ফিরতে ভুল হয় না। রিকসা থেকে নেমে কারো সাহায্য ছাড়াই ঘরে প্রবেশ করতে পারে মেয়েটি।
ফাউন্ডেশনে রোকসানার মতো আরো কয়েকজন একইভাবে লেখাপড়া করছেন। তাদের থাকা খাওয়া সব কিছু বহন করছে ফাউন্ডেশন। নূরজাহান বেগম এই পরিবারের একজন সদস্য। তিনি দৃষ্টিহীন পরিবারের সবাইকে দেখাশুনার দায়িত্ব পালন করেন। শুধু দেখাশোনা নয়, প্রত্যেককে মাতৃ¯েœহে লালন পালন করে তিনি সবার আপনজন হয়ে উঠেছেন। কেউ অসুস্থ হলে তিনি তাদের ওষুধ খাইয়ে দেন। সেই নূরজাহান বেগম জানান, সুস্থ মানুষও তাদের মতো চলাফেরা করতে পারবে না। তারা তাদের ঘরোয়া যাবতীয় কাজ নিজেরাই করে। নিজেরা খাওয়া-ধাওয়া করতে পারে। গোসল করে ঘরের বাইরে গিয়ে কাপড় শুকাতে দিয়ে আসে। জিডিএফ মহাসচিব বায়োজিদ খান জানান, ‘আমরা শুধু সাপোর্ট দিচ্ছি। বাকি কাজগুলো যেমন লেখাপড়া, নিজেদের কাপড় গোছানো-তারা নিজেরাই করে।’ ফাউন্ডেশনের আরেক কর্মকর্তা স্বপন মাহমুদ বলেন, ‘রোকসানা খুবই মেধাবী। পাড়ালেখার পাশাপাশি ভালো গান গাইতে পারে। সে সিলেট বেতারের নিয়মিত শিল্পী।’ শারমিন আর দশজন মানুষের মতো সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়। সে জানায় ‘আমি এইচ.এস.সি পাশ করার পর আরো লেখাপড়া করতে চাই। উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে। কিন্তু আগামী দিনগুলো আমার কীভাবে যাবে, জানিনা। তবে রোকসানার স্বপ্নপূরণ হওয়ার জন্য প্রয়োজন সমাজের বিত্তবান থেকে শুরু করে সবার সার্বিক সহযোগিতা।

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • অভিজিতের বাবা অজয় রায় আর নেই
  • চিকিৎসক-ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ নেবে জাপান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
  • ছবি
  • দুর্নীতি প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নেই
  • বেগম রোকেয়ার সংগ্রামের পথ ধরে নারীদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে
  • দৈনিক সিলেটের ডাক বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথিকৃত
  • ‘হুমকি’ হয়ে উঠতে পারে নিপা ভাইরাস
  • কমলগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবক নিহত
  • ৭ আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
  • মহানগর আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
  • ওসমানীনগরে অজ্ঞাত তরুণীর মস্তক উদ্ধার
  • লিডিং ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষায় স্কলারশীপ প্রাপ্তি বিষয়ক সেমিনার
  • রুম্পার ‘প্রেমিক’ চারদিনের রিমান্ডে
  • বিজয়ের মাস
  • বিশ্ব মানবাধিকার দিবস জেলা বিএনপির শোভাযাত্রা কাল
  • আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস আজ
  • ছবি
  • শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিল শাবি প্রশাসন ॥ ক্যাম্পাসে বিজয় মিছিল
  • সাফল্যের জন্য লক্ষে অবিচল থাকতে হবে ॥ প্রফেসর কামরুজ্জামান চৌধুরী
  • সাংস্কৃতিক জাগরণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয়
  • Developed by: Sparkle IT