সম্পাদকীয়

বাড়ছে সীমান্ত চোরাচালান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-১২-২০১৯ ইং ০০:৩৮:০০ | সংবাদটি ১৭২ বার পঠিত


সীমান্ত চোরাচালান বাড়ছে। এই সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি এই পত্রিকায়। এতে বলা হয়-সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তে বাড়ছে চোরাচালান। শুধুমাত্র এই উপজেলার সীমান্তের অন্তত দশটি স্পট দিয়ে আসছে চোরাচালানের মালামাল। অতীতে অস্ত্র চোরাচালানের জন্য ব্যাপক আলোচিত এই সীমান্ত দিয়ে অতি সম্প্রতি এসেছে মোবাইল সেট এবং ওষুধের চালান। চোরাচালানের মালামাল বহনকারীরা মাঝে মধ্যে আটক হলেও মূল হোতারা থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এতে উদ্বিগ্ন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। গত মাসে সিলেটে ছয়টি চোরাচালানের মালামাল জব্দ করা হয়। এর বেশীরভাগ মালামালই এসেছে গোয়াইনঘাট সীমান্ত দিয়ে। জানাগেছে, প্রায় প্রতিদিনই আসছে মোবাইল সেটের চালান। সিলেটের বিভিন্ন স্থল বন্দর দিয়ে বৈধ পথে ভারতীয় মালামাল যেমন আসছে, তেমনি বাংলাদেশি পণ্যও রপ্তানী হচ্ছে। বৈধপথে পণ্য আমদানী-রপ্তানী সম্প্রতি বেড়েছে যেমন, তেমনি বেড়েছে চোরাইপথে মালামাল আদান প্রদান।
সীমান্ত চোরাচালান একটি পুরনো ‘ব্যবসা’। শুধু গোয়াইনঘাট নয়, সিলেট বিভাগের সর্বত্র সীমান্তপথে চোরাই পণ্য আদান প্রদান হচ্ছে। সীমান্ত এলাকার অসংখ্য মানুষের পেশাই হচ্ছে চোরাই মালামাল আদান প্রদান। বলা যায়, এরা বংশ পরম্পরায় এই পেশার সঙ্গে জড়িত। মূলত একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই চোরাচালান ব্যবসা পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চার হাজার একশ’ ৫৬ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে সীমান্ত এলাকা। এটি বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম ভূমি সীমানা। এরমধ্যে রয়েছে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ। আর বাংলাদেশের রয়েছে সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগ। সীমান্ত পথের তিন হাজার নয়শ’ ৭৬ কিলোমিটারই স্থল এবং একশ’ ৮০ কিলোমিটার নৌপথ। এই উভয় পথেই চোরাচালান পণ্য আদান প্রদান হয়। এছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত পথ রয়েছে আরও দুইশ’ ৭১ কিলোমিটার। এরমধ্যে দু’শ আট কিলোমিটারই স্থল এবং ৬৩ কিলোমিটার নৌপথ। এই পথে মিয়ানমার থেকেও অবৈধ পথে আসছে নানা পণ্য, আবার বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছেও। অর্থাৎ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত এবং মিয়ানমারের সর্বমোট চার হাজার চারশ’ ২৭ কিলোমিটার সীমান্ত পথের বিভিন্ন স্থান দিয়ে চোরাইপণ্য আসা-যাওয়া করছে।
সীমান্ত চোরাচালান বন্ধ করতে হবে। এর জন্য তৎপর হতে হবে সীমান্তরক্ষীদের। এর জন্য উভয় দেশের সরকারের সম্মিলীত প্রতিশ্রুতি দরকার। [সীমান্ত প্রহরা একটা পবিত্র কাজ। এটিকে একটি ইবাদত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে মহাগ্রন্থ আল কুরআনে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সীমান্ত পাহারা শরিয়ত প্রদত্ত অপরিহার্য কর্তব্য। আমাদের সীমান্ত পাহারায় রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। এই বাহিনীতে সাম্প্রতিক সময়ে জনবল বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণসহ নানা ধরণের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। যে কারণে তাদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।] একটি দক্ষ ও শক্তিশালী সীমান্তরক্ষী বাহিনীই পারে দেশের সীমান্ত নিñিদ্র রাখতে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT