সম্পাদকীয় সুন্দর করে কথা বলা একটা আর্ট (কৌশল)। এই আর্ট আয়ত্বে থাকলে সহজে মানুষকে আপন করা যায়। -হেনরিভন ডাইক।

আসছে গোল্ডেন রাইস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-১২-২০১৯ ইং ০০:২৪:২৭ | সংবাদটি ১৫২ বার পঠিত

আসছে ‘গোল্ডেন রাইস’। এটি হচ্ছে জেনেটিক্যালি মোডিফায়েড পদ্ধতির ধান। প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশই এই ধান চাষের অনুমতি দিতে যাচ্ছে। উদ্ভাবকদের দাবী হচ্ছে, উন্নয়নশীল বিশ্বের শিশুদের অন্ধত্ব ও মৃত্যু ঠেকাতে জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে এই জাতের ধান। তবে এই জাতের চাষ উন্নয়নশীল বিশ্বে স্বাস্থ্যগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ বলেই অভিমত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ। আর বাংলাদেশে এটি নিয়ে গবেষণা করেছেন এমন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হচ্ছে- এই ধান চাষের অনুমোদন পাওয়া অসাধারণ বিষয় হবে। দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশার পর এটি অনুমোদন পেতে যাচ্ছে বলে আমরা আশাবাদী। তাদের প্রত্যাশা হচ্ছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২১ সাল নাগাদ গোল্ডেন রাইস আবাদ করতে পারবে বাংলাদেশের কৃষকেরা।
[জেনেটিক্যালি মোডিফায়েড বা জিএম শস্য গোল্ডেন রাইস এর ইতিহাস পুরনো। প্রায় ২০ বছর আগে এটি সংবাদ শিরোনাম হয়। এতোদিন ধরে এই শস্যটি নিয়ে চলছে গবেষণা, বিতর্ক। এই শস্য উদ্ভাবকদের দাবী, মানবতার সম্ভাব্য উপকারের উদাহরণ হতে পারে এটি। ফিলিপাইনের লস ব্যানোসের আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট উদ্ভাবন করে গোল্ডেন রাইস।] গবেষকরা ধান-২৯ নামে প্রচলিত একটি জাতকে নতুন একটি জিন সংযোজনের মাধ্যমে গোল্ডেন রাইস-এ রূপান্তর করেছেন। বাংলাদেশে শুষ্ক মওসুমে এই জাতের ধানের ব্যাপক চাষ হয়। বার্ষিক ফলনের ১৪ শতাংশ আসে এই জাত থেকে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের গবেষকরা ইতোমধ্যেই এই ‘ধান-২৯ গোল্ডেন রাইস’ এর পরীক্ষামূলক চাষ চালিয়েছেন। এতে তারা আশানুরূপ সফলতা পেয়েছেন বলেও জানা যায়। ২০১৭ সালে গোল্ডেন রাইস সংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। বর্তমানে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত আট সদস্যের কমিটি ফসলটির পরিবেশগত ঝুঁকি পর্যালোচনা করেছে।
সবকিছু মিলিয়ে গোল্ডেন রাইস রয়েছে এখনও গবেষণা পর্যায়ে। তবে সময়ের তাগিদে নতুন কিছুকে স্বাগত জানানোর একটা মানসিকতা বিরাজ করে সবার মধ্যে। সোনালী বর্ণের চাল আকৃষ্ট করবে ভোক্তাদের, এটাই স্বাভাবিক। কারণ প্রচলিত সব ধরণের চালই সাদা বর্ণের। নতুন একটা রং নিয়ে বাজারে চাল আসলে কৃষকদের কাছেও সেটা হবে নতুন অভিজ্ঞতা। সবকিছু নির্ভর করছে অনুকূল পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর। গোল্ডেন রাইস যদি আমাদের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে যদি তা খাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়, সর্বোপরি এটি যদি স্বাস্থ্য সম্মত হয়, তবে কৃষকদের হাতে হাতে পৌঁছে যাক। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT