উপ সম্পাদকীয়

সড়ক দুর্ঘটনা কি থামানো যায় না?

মো. হাফিজুর রাহমান প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-১২-২০১৯ ইং ০০:৩২:২৮ | সংবাদটি ১১৮৬ বার পঠিত
Image

দুর্ঘটনা কখনো সুখকর হতে পারে না, একটি দুর্ঘটনা তছনছ করে দেয় ব্যাক্তি, পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রকে। যে কোন দুর্ঘটনার পরবর্তী যে সংকট দেখা দেয় তা খুবই করুণ এবং ভয়ানক একটি পরিবার বা রাষ্ট্রের জন্য। মেঘে ঢাকা সূর্যের মত আচ্ছন্ন করে দেয় দুর্ঘটনা কবলিত পরিবার বা রাষ্ট্রকে। দুর্ঘটনার ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয় তা কখনো পোষণ করা মত নয়। বাংলাদেশে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কের বেহাল অবস্থা দেখে আতংকিত না হয়ে পারি না। মানুষজন ঘর থেকে বের হয় অজানা সব শংকা নিয়ে। কিন্তু এটা কী হওয়ার কথা? এ যেন নিত্যদিনকার রুটিনমাফিক বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়েছে। সড়কের বিশৃঙ্খলা থামার কোন লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না যা আমাদের খুবই আশাহত করে। স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছরে এসেও কেন আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা এত পিছিয়ে রয়েছে?
নিরাপদ সড়ক বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাণের দাবি। মানুষ তার গন্তব্যে যাত্রা করে নিরাপদে পৌছাবে এটাই কাম্য যা প্রতিটা মানুষ চায়। কিন্তু পথিমধ্যে যদি কোন অনাকাংক্ষিত দুর্ঘটনা অনবরত ঘটতে থাকে তখন যে কোন রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্য একটা সংশয় দেখা দেয় যা পরবর্তীতে ক্ষোভে রূপ নেয়। আর সেই ক্ষোভ হতে পারে প্রিয়জন হারানোর অথবা ত্রুটিপূর্ণ সিস্টেমের নতুবা ব্যর্থ জনপ্রতিনিধিদের উপর। আক্রোশ ছড়িয়ে পড়ে তড়িৎ গতিতে এবং নাড়া দেয় সব বিবেকবান মানুষদের। তারপরও তারা শান্তশিষ্ট হয়ে আশায় বুক বাধে হয়তবা পরিবর্তন আসবে, সড়কের দানবগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। যা আমরা দেখেছি স্কুলের বাচ্চারা কীভাবে নিরাপদ সড়কের জন্য মিছিল করেছে।
নিরাপদ সড়কের জন্য কত আন্দোলন, ধর্মঘট, মিছিল, সমাবেশ এবং হরতালও ডাকা হয়। কিন্তু কোন পরিবর্তন আসে না। সবকিছু যেই সেই। আমরা যেন কোথায় আটকে আছি। আসলে এই বর্বরোচিত সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর জন্য দায়ি কে? চালকরা কী আইন কানুন মেনে চলে? না কী চালকদের দিয়ে মানুষ হত্যা করানো হয়? এরা এত বেপরোয়া কেন? তাদের কী জান-মালের ভয় হয় না? আসলে ভয় নামক শব্দটি তাদের কাছে কেমন যেন অভয়ের মত মনে হয়। তা না হলে কেন এমন হবে?
ইদানীং লক্ষ্য করেছি নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের উদ্যোক্তা ইলিয়াছ কাঞ্চনকে কুচক্রীমহল বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। যা চরম অন্যায় এবং অগ্রহণযোগ্য ষড়যন্ত্র, খুবই মর্মাহত হয়েছি। যে মানুষটি নিরাপদ সড়কের জন্য বছরের পর বছর আন্দোলন করে যাচ্ছে তাকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি আমাদের শুধু হতাশ করেনি অবাক করেছে বটে। অনাকাক্সিক্ষত এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার প্রিয়তম স্ত্রী হারানোর পর তিনি দৃঢ়ভাবে নিরাপদ সড়ক চাই স্লোগান নিয়ে ক্যামপেইন শুরু করেন যা বর্তমানে জাতীয় স্লোগানে পরিণত হয়েছে। অথচ এই দেশপ্রেমিক মানুষটিকে কাদা ছোড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সভ্যতা বোধ হয় মিরজাফরদের বোয়ালঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছে। সমাজে পচন ধরেছে এটা আর এখন বলতে দ্বিধা নেই। যে মানুষ সারাটা জীবন নিজের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে জনসাধারণের জন্য কাজ করে গেলেন অথচ তাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য পিছিয়ে পড়া আফ্রিকান উগান্ডার গন্ডারদে স্মরণ করিয়ে দেয়।
ইলিয়াছ কাঞ্চনকে নিয়ে যারা বিদ্রুপ করছেন তারা নিজে নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করুন, কাটায় কাটায় মেপে বলতে পারি দম বন্ধ হয়ে যাবে। ইলিয়াছ কাঞ্চন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন কাদের জন্য করছেন? তার দেওয়া প্রস্তাবনা যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে কে লাভবান হবে? সড়কে কারা যাতায়াত করে? ইলিয়াছ কাঞ্চন আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, সমাধান কিন্তু আমাদের করতে হবে।

পৃথিবীর সব দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে তবে তুলনামূলক কম। আর এক্ষেত্রে বাংলাদেশে দুর্ঘটনার মাত্রা এত বেশি যে প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও হরহামেশা মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে এই যানদানব গুলো। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে বিদুৎ গতিতে কিন্তু বাংলাদেশ মনে হচ্ছে প্রতিদিন পিছিয়ে পড়ছে। আমাদের পরিকল্পনায় অনেকগুলো দুর্বলতা রয়েছে যার প্রভাব সড়কে পরিলক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু এটা কী আদৌ কাম্য? বাংলাদেশে অনেক নামকরা বিখ্যাত প্রকৌশলী রয়েছেন তাদের কী একটুও টনক নড়ে না? তবে এটা সত্য, কিছু সংখ্যক ইঞ্জিনিয়ার ভাল ভাল পরামর্শ দিচ্ছেন কীভাবে দুর্ঘটনা কমানো যায় যদিত্ত তা আমলে নিচ্ছেন না রাষ্ট্রের কর্তারা। আমাদের বুয়েটের প্রকৌশলীরা কিন্তু বিশ্বমানের তাদের পরামর্শ এবং পর্যবেক্ষণ এনে দিতে পারে সড়কের আমূল পরিবর্তন। এখানে সরকারের সদিচ্ছা প্রয়োজন।
বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই) দুর্ঘটনার কারণ-সংক্রান্ত পুলিশের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে থাকে। ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনার বিশ্লেষণ করে এআরআই বলছে, দেশে ৫৩ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে। আর চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও গতির কারণে ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে। আর পরিবেশ-পরিস্থিতিসহ অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনার পরিমাণ ১০ শতাংশ। তাদের গবেষণা বলছে, সড়ক দুর্ঘটনার ৪৩ শতাংশই ঘটছে জাতীয় মহাসড়কগুলোতে (প্রথম আলো, ২৭ ফেব্রয়ারি ২০১৮)। দৈনিক প্রথম আলো প্রতিবেদনটি যখন ছাপে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল আমার কাছে তারপরও কেন প্রশাসনের নজরে পড়ে না? রহস্য থেকেই যাচ্ছে।
আমাদের দেশে অনেক আইন আছে কিন্তু কতজন তা মানে। যেমন, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ হলেও প্রয়োগ কতখানি হচ্ছে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। আইনের যদি প্রয়োগ না হয় তাহলে সে আইন দিয়ে হবে বা কি। মানুষের সৃষ্টি প্রাণঘাতি দুর্ঘটনার সঠিক কোন হিসাব নেই আমার হাতে তবে সরকারি হিসাবে গত ১০ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ প্রাণ হারিয়েছে ৩৪ হাজার ৯১৮ জন। গড়ে প্রতি বছর মারা গেছে ৩ হাজার ৪৯১ জন। এটা সরকারী তথ্য কিন্তু আসল পরিসংখ্যান আরো বেশি হবে যা হিসাবের বাইরে রয়ে যাচ্ছে। বেসরকারি হিসাবে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় ২০ হাজার ৩৪ জন। অনেক দুর্ঘটনা রয়েছে যা আইনের জটিলতার কারণে হিসাব থেকে সটকে পড়ে।
আর ভয়ংকর তথ্য দিয়েছে বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআরআর)। তারা গত ১১ মে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন যেখানে দেখা যায় জানুয়ারিতে ৩৮৩টি দুর্ঘটনায় ৫৩ নারী ও ৭১ শিশুসহ ৪১১ জনের প্রাণহানি এবং ৭২৫ জন আহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ৪০১টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছে যথাক্রমে ৪১৫ জন ও ৮৮৪ জন আহত। নিহতের তালিকায় ৫৮ নারী ও ৬২ শিশু রয়েছে। মার্চে ৩৮৪টি দুর্ঘটনায় ৪৬ নারী ও ৮২ শিশুসহ ৩৮৬ জন নিহত ও ৮২০ জন আহত হয়েছে। এপ্রিলে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩২৭টি। এতে ৩৪০ জন নিহত ও ৬১০ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৮ নারী ও ৫৩ শিশু রয়েছে।
শুধু কি সড়ক, আজকাল রেলপথও নিরাপদ নয় অথচ এই রেলপথকে একসময় সবচেয়ে বেশি নিরাপদ চলাচলের মাধ্যম ধরে নেওয়া হতো। গত ১১ নভেম্বর সোমবার দিবাগত রাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা ও সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন দুটির মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে রেলপথ কী অনিরাপদ এর তালিকায়? এটা যদি হয় বাস্তব চিত্র, তাহলে আমাদের সর্বশেষ আস্থার জায়গাটি বোধহয় হারাতে বসছি।

ইউরোপ আমেরিকার দিকে যদি একটু দৃষ্টিপাত করি দেখতে পাই বিরাট তফাত। আমি বিগত এক যুগ ধরে যুক্তরাজ্যের যান চলাচল বা ড্রাইভিং এর আইন কানুন দেখে আসছি। এখানে একজন ড্রাইভার লাইসেন্স পেতে হলে কি যে ধখল পোহাতে হয় তা স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। দুটি ধাপে পরীক্ষা নেওয়া হয়, প্রথমত থিওরী টেষ্ট দিতে হয় যা অতি জরুরী একটা পার্ট ড্রাইভারদের জন্য যেখান থেকে জানা যায় নিয়ম-কানুন এবং আইন মোটকথা হাতে কলমে পরিপক্ষ করা হয়। দ্বিতীয়, প্রেক্টিকেল টেষ্ট, ডিভিএল এর ইন্সটেক্টর পাশে বসে প্রায় ৪৫-৬০ মিনিট পূর্ণ পর্যবেক্ষণ এর মধ্য রেখে গাড়ি চালনার পরিক্ষা নেয়। এখানে প্রতিটা সেকেন্ড ড্রাইভারকে চোখ কান সজাগ রাখতে হয়। সিগন্যাল দেওয়ার সময় যদি ভুলবশত মিরর না দেখেন নিঘাত ফেল। প্রতিটি মোভমেন্ট দক্ষতার সাথে অতিক্রম করতে হয়। এভাবে অর্জন করা হয় লাইসেন্স। এ ত লাইসেন্সধারী হওয়া কিন্তু টেষ্টে যাওয়ার পূর্বে নিতে হয় একগাধা লেসন যা পরিক্ষার্থীকে পুরোপুরি দক্ষ ড্রাইভার তৈরি করতে সহায়তা করে। এমনকি যতদিন পর্যন্ত ইন্সটাক্টর আপনার ড্রাইভিং এর উপর সন্তুষ্ট না হন ততদিন পর্যন্ত আপনাকে টেষ্টে দেওয়া হবে না। এখন চিন্তা করুন এই ড্রাইভার রাস্তায় কি পরিমাণ সচেতন এবং সেইফ হতে পারে।
মানলাম, বাংলাদেশে এখন উন্নত বিশ্বের মত প্রেক্ষাপট তৈরি হয়নি। কিন্তু একজন ড্রাইভারকে লাইসেন্স দেওয়ার পূর্বে যদি কয়েক ধাপে পরীক্ষা নেওয়া হয় তখন চালক আর সচেতন এবং দক্ষ হয়ে উঠতে পারে। দুর্নীতি না করে বরং চালকদের সঠিক পদ্ধতিতে লাইসেন্স দেওয়া হয় তবে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা প্রায় ৮০% কমে আসবে, বলার অপেক্ষা রাখে না। সড়কে আইন কানুন মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ চালকদের জন্য। এই ধরুন ব্রিটেনে যান চালনার সময় কেউ যদি হেডফোন ছাড়া সেল ফোন হাতে নেয় এবং পুলিশের নজরে চলে আসে তখন ঐ চালকে সাথে সাথে লাইসেন্স এর মধ্য ৬ পয়েন্ট দিয়ে দিবে এমনকি জরিমানা করা হয়। ফলে ভয়ে কেউ ফোন হাতে নিতে সাহস পায় না। একজন ড্রাইভার যখন ড্রাইভিং করার সময় ফোন ব্যাবহার করে তখন তার পুরো মনোযোগ কিন্তু ফোনের মধ্য থাকে যা যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কাজেই চালকরা যদি নিয়ম কানুন মেনে গাড়ি চালায় তাহলে প্রাণঘাতি দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। আমরা চাই নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা।
লেখক : কলামিস্ট

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • আমাদের রাজনীতির কবি ও জাতীয় কবি
  • বেকারত্ব বর্তমান সময়ে হুমকি
  • বঙ্গবন্ধুর সাংবাদিকতা
  • সমকালীন কথকতা
  • চামড়া শিল্প কি ধ্বংস হয়ে যাবে!
  • ‘সিসা বিষে’ আক্রান্ত শিশু
  • ‘সিসা বিষে’ আক্রান্ত শিশু
  • সম্ভাবনাময় যুব সমাজ : অবক্ষয় এবং উত্তরণের উপায়
  • নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে সচেতন হতে হবে
  • কোভিড-১৯ মানব ইতিহাসে বড় চ্যালেঞ্জ
  • একটি খেরোখাতার বয়ান
  • পরিবেশ রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
  • পর্নোগ্রাফির বিষবাষ্প থেকে মুক্তি মিলবে কবে?
  • জীববৈচিত্র এবং মনুষ্য সমাজ
  • করোনার ছোবলে জীবন-জীবিকা
  • মানুষ কেন নিমর্ম হয়
  • করোনায় আক্রান্ত শিক্ষা ব্যবস্থা
  • প্রসঙ্গ : ব্যাংকিং খাতে সুদহার এবং খেলাপি ঋণ
  • করোনা, ঈদ এবং ইসলামে মানবতাবোধ
  • ত্যাগের মহিমায় চিরভাস্বর ঈদুল আযহা
  • Image

    Developed by:Sparkle IT