উপ সম্পাদকীয়

সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার অবকাঠামো

ফকির ইলিয়াস প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-১২-২০১৯ ইং ০০:৪১:৪০ | সংবাদটি ১৭৭ বার পঠিত

একজন মানুষেরর দেশপ্রেমের পাশাপাশি যে বিষয়টি খুবই জরুরী তা হলো,জীবনের নিরাপত্তা। নিউজিল্যান্ডের অধিবাসী ডাক্তার এড্রিক বেকার, এটাকে এডভ্যাঞ্চার হিসেবে নিয়েই টাঙ্গাইলের মধুপুরের কালিয়াকৈরে একটি ক্লিনিক চালু করেছিলেন। তিনি তাঁর জীবনের শেষ সময় দিয়ে মানুষের সেবা করে গিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁরই রেখে যাওয়া কাজে মনোনিবেশ করতে আমেরিকা থেকে ছুটে গিয়েছেন আরেক চিকিৎসক দম্পতি জেসিন ও মেরিন্ডি।
অবশ্যই তাঁদের সাহস ও ত্যাগ ধন্যবাদের দাবী রাখে। আমি মনে করি এটাও তাদের কাছে এডভ্যাঞ্চারিং চ্যালেঞ্জ। আমরা বাংলাদেশ ছেড়ে আমেরিকায় চলে আসছি। আর আমেরিকান কেউ বাংলাদেশে গিয়ে শিকড় গাড়ছেন, মানুষের সেবা করছেন। খুবই ভাবার বিষয়। একই সাথে এটাও ভাবার বিষয়, ঢালাও ভাবে বাংলাদেশী চিকিৎসকসমাজ কিন্তু সবাই ভোগবাদী নয়। তারা খারাপ মানুষও নয়। বিদেশে অনেক বাংলাদেশী ডাক্তারই সুনামের সাথে বড় বড় চিকিৎসা মিশনগুলো করছেন। তারা তা বাংলাদেশে পারেন না কেন? এই প্রশ্নের জবাব আমি দিতে পারলেও, দিতে চাই না। আপনারা দিন।
আমরা হলি আর্টিজানের কাথা ভুলে যাইনি। কারা এটা করেছিল? যারা প্রাণ দিয়েছিলেন- তাদের কতজন বিদেশী ছিলেন, তা মনে আছে নিশ্চয়ই সবার।
জেসিন ও মেরিন্ডি দম্পতি ওই একচালা টিনের ঘরে থাকছেন। তাদের সন্তানরা গ্রামের স্কুলে পড়ছে। তারা এই বিশ্বকে দেখছেন নান্দনিক আলোময় চোখ দিয়ে। এটা তো আমরাও দেখতে চেয়েছিলাম! কেন পারিনি ? এর জবাব রাজনীতিকদেরই দিতে হবে।
আমি আশ্চর্য হবো না, জেসিন ও মেরিন্ডি দম্পতির সন্তানেরা বড় হয়ে যদি কোনোদিন তাদের পিতামাতাকে প্রশ্ন করে-এ কোথায় তোমরা আমাদের নিয়ে এসেছিলে! অথবা এমনও তো হতে পারে-এরা বাংলাদেশী হয়েই বাংলাদেশে থেকে যাবে। আত্মনিয়োগ করবে বাংলাদেশের সেবায়। দুটোই হতে পারে। যে কথাটি বলতে চাই, জীবনের-সমাজের-চিন্তার-সুকর্মের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা পেলে বাংলাদেশের অনেক সন্তানই দেশের জন্য নিজ নিজ সেক্টরে কাজ করতে পারেন,পারবেন, পারতেন। এটা কেন করা যায় নি,যাচ্ছে না- সেই প্রশ্নটি আমি আবারও করছি।
বাংলাদেশে এখন একটি বড় সমস্যা খাদ্যে ভেজাল। বাংলাদেশে এখন নির্ভেজাল খাবার দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে মন্তব্য করে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন রাষ্ট্রপ্রতি মো. আবদুল হামিদ।
খাবারে ভেজাল নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “পৃথিবীর ৮০-৮৫টি দেশে আমি ঘুরেছি। পৃথিবীর কোনো দেশে খ্যাদ্যের মধ্যে এ ধরনের প্রতারণা কোথাও তারা করে না। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত-নেপালও খ্যাদ্যের মধ্যে ভেজাল দেয় না। খাদ্যে ভেজাল দেওয়ায় পৃথিবীর মধ্যে আমরাই চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছি।”
সংকটের মাত্রা সম্পর্কে তিনি বলেন, “কচু ছাড়া সব কিছুতেই ফরমালিন। নির্ভেজাল খাবার এখন দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে। খাদ্য ভেজালের কারণে ক্যান্সারসহ জটিল রোগ হচ্ছে। এ থেকে মানুষকে ফেরাতে হবে। নইলে জাতি হিসেবে আমরা পঙ্গু হয়ে যাব। এর হাত থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে হবে। নইলে জাতি হিসেবে আমরা কখনোই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব না।”
রাষ্ট্রপতি আরও বলেছেন- ‘মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না’ ভূপেন হাজারিকার এই গান কি আমরা ভুলে গেলাম! রাষ্ট্রপতি বলেন, “এখন বাংলাদেশের অবস্থা, মানুষই দানব হয়ে যাচ্ছে। এ থেকে ফেরাতে হবে মানুষকে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিতদের ভূমিকা রাখতে হবে। কারণ তোমরা তাদের ভালো করে বোঝাতে পারবে। এদের জাগ্রত করতে হবে এ সব ব্যবহার না করার জন্য।”
দেশের চিকিৎসক ও নার্সদের সমালোচনা করে আবদুল হামিদ বলেন, “পাশের দেশ ভারতের কলকাতায় গিয়ে দেখা যাবে সেখানকার হাসপাতালে যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের ৮০ ভাগই বাংলাদেশের। সামান্য অসুখ হলেও তারা কলকাতায় যায় চিকিৎসা করাতে। কিন্তু কেন? আমাদের দেশেও তো চিকিৎসক কম নেই। তিনি যোগ করেন-“ভারতের চিকিৎসকরা রোগীর পেছনে যে সময় দেয়, তাদের নার্সরা রোগীর সাথে যে আচরণ করে সেটি আমাদের দেশের চিকিৎসক-নার্সরা করে না। এটা কেন হবে? এ থেকে আমাদের নিষ্কৃতি পাওয়া প্রয়োজন। আমাদের রাজনীতিবিদ, শিক্ষক ও ছাত্রসমাজকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে সবাইকে বুঝাতে হবে।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, “২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার যে মহাপরিকল্পনা সরকার হাতে নিয়েছে, তা বাস্তবায়নের প্রধান কারিগর হচ্ছে প্রকৌশলীরা। সুতরাং প্রকৌশলীদের স্ব স্ব বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে।”
আমরা দেখছি বাংলাদেশে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু দেশে মানবিক উন্নয়ন ঘটছে কি? কেন ঘটছে না? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকেই দেখতে হয় সবকিছু। অন্য কি কেউ দেখার নেই? কেন নেই? এই প্রশ্নটি আজ গোটা বাঙালী জাতির। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সমাজের এই ‘অসুস্থতাগুলো’ দূর করতে হবে। জলবায়ু সম্মেলন উপলক্ষে তিন দিনের সফরে স্পেনে পৌঁছে মাদ্রিদের হোটেল ভিলা ম্যাগনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস দমন, জঙ্গি দমন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার যে অভিযান শুরু করেছে, তা অব্যাহত থাকবে। সরকার প্রধান বলেন- “সৎ পথে কামাই করে লবণ ভাত খাওয়াও ভালো অসৎ পথে বিরানি খাওয়ার থেকে। এটা আমি মনে করি। যা জাতির পিতা শিখিয়েছেন। আমাদের সেইভাবে প্রজন্মকে শিখিয়ে যেতে হবে।” দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক শুদ্ধি অভিযানের দিকে ইংগিত করে তিনি বলেন, “ঘুষ, দুর্নীতি করে কিংবা ছিনতাই, সন্ত্রাস করে টাকা বানিয়ে সেই টাকা দিয়ে একেবারে ফুটানি দেখিয়ে মনে করত ‘আমরা যেন কি হয়ে গেছি!’ মানে ‘মুই কি হনুরে’ ভাব। তিনি বলেন, “প্রবাসী যারা আছেন, আপনাদের যথেষ্ট অবদান আমাদের এই উন্নয়নে। আমাদের রিজার্ভের টাকা দিয়ে, আমাদের নিজেদের ব্যাংকের টাকা দিয়ে আমরা ড্রিমলাইনার কিনলাম। অন্য ব্যাংক থেকে, বিদেশ থেকে আমরা ধার নেব কেন? আমাদের ব্যাংকের টাকা দিয়ে আমরা করব। কাজেই এখানে আপনাদের, প্রবাসীদের বড় অবদান রয়েছে।”
বিশ্বে আজ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর হচ্ছে। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগামী বছর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে ২৫তম বার্ষিক কনফারেন্স অব পার্টিস (কপ-২৫) সম্মেলনের এর উদ্বোধনী দিনে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলডা হাইন প্রস্তাব দিলে তাতে রাজি হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সবাই যদি চায় তাহলে আমি সিভিএফ এর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে রাজি আছি।”
এটা বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই আনন্দের সংবাদ। বিজয়ের মাসে এ আরেক বিজয়। বাংলাদেশকে যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে তা হলো গণমানুষের নিরাপত্তা। দেশে কতিপয় মানুষের অরাজকতা চলতে পারে না। চলতে দেয়া যায় না। দুর্নীতিবাজরা যে দাপট দেখাচ্ছে-এর সুরাহা দরকার।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল চলছে দেশব্যাপী। এই সময়ে অনুপ্রবেশকারী সুবিধাবাদীদের চিহ্নিত করা দরকার। তা করতে না পারলে, দল দেশ মানুষ-সকলেরই ক্ষতি হবে চরমভাবে।
লেখক : কবি, কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা প্রসঙ্গে
  • স্যার ফজলে হাসান আবেদ
  • সামাজিক অবক্ষয় আয়শা আক্তার নিশু
  • রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের পথ উন্মুক্ত হল
  • নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি
  • মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু রোধে সাফল্যের পথে বাংলাদেশ
  • নারী নির্যাতন প্রসঙ্গ
  • বাংলাদেশ: আগামী দিনের স্বপ্ন দেখে
  • বৃক্ষনিধন রোধে চাই জনসচেতনতা
  • ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি
  • প্রসঙ্গ : সুন্দরী শ্রীভূমি
  • একই বচন পুনর্বার
  • নারী নিপীড়ন ও অপরাধ প্রসঙ্গ
  • সভ্যতার পেছনে দৃষ্টিপাত
  • উন্নয়নে বিশ্বের রোল মডেল
  • নতুন সূর্যের প্রত্যাশায়
  • ভেজাল ও নকল ওষুধের দৌরাত্ম্য
  • বকুল ফুলের মালা
  • লিবিয়ায় তুরস্কের সেনা মোতায়েনের কারণ
  • প্রসঙ্গ ফসলের ন্যায্যমূল্য
  • Developed by: Sparkle IT