উপ সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গ

ড. এ কে আব্দুল মোমেন প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-১২-২০১৯ ইং ০০:৩০:০২ | সংবাদটি ২৪৮ বার পঠিত
Image

বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। এদেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার যেমন বাড়ছে, বাড়ছে মানুষের মাথাপিছু আয়, বাড়ছে কর্মসংস্থান। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির মাত্রা রয়েছে সহনীয় পর্যায়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার মজুত বেড়েছে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি হারে। বিরাজ করছে বিনিয়োগবান্ধব সুষ্ঠু পরিবেশ। নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য জনশক্তি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগব্যবস্থা, তথ্যপ্রযুক্তি প্রভৃতি খাতের ব্যাপক উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশ প্রাতিষ্ঠানিক মুনাফার দিক থেকে বর্তমানে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত বছর সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ ৬৮ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৩ দশমিক ৬১ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১১ সালের চেয়ে তিন গুণ বেশি।
শেখ হাসিনা সরকারের বিনিয়োগ অনুকূল বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে এদেশে বাড়ছে বৈদেশিক বিনিয়োগ। ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের ফলে আরো জোরদার হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের ব্যাপক চাহিদা এবং বিনিয়োগ অনুকূল পরিবেশের কারণে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হচ্ছে। গত ১৯ জুলাই শুক্রবার নিক্কেই এশিয়ান রিভিউর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ক্রমবর্ধমান বাজার হিসেবে দেখছে। দক্ষিণ এশিয়ার একটি অত্যন্ত কৌশলগত স্থানে অবস্থিত বাংলাদেশের ১৬ কোটি ৮০ লাখ জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের কম, এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে তারা।
ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ইউএনসিটিএডি) জানিয়েছে, গত বছর বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) পরিমাণ ৬৮ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৩ দশমিক ৬১ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে, ২০১১ সালের চেয়ে যা তিন গুণ বেশি। জাপান টোবাকো বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিগারেট নির্মাতা আকিজ গ্রুপের কোম্পানি ঢাকা টোবাকো ১ দশমিক ৫ বিলিয়ান মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ক্রয় করেছে। চীনের সাংহাই ও শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ২৫ শতাংশ স্টক কিনে নিয়েছে। এটি বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের একটি অংশ। চীনের আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিংয়ের কোম্পানি আলিপে মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী কোম্পানি বিকাশের ২০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। এর ফলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে গেছে অনেক।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নবান্ধব সরকার ইতোমধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছে। এ কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগপ্রবাহে ভাটা সত্ত্বেও বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রবাহ বেড়েছে। ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আঙ্কটাড) হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে এসে বাংলাদেশে এফডিআই-প্রবাহ বেড়েছে ৬৮ শতাংশ। নিক্কেই এশিয়ান রিভিউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান বিনিয়োগের ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৯ সালের জুন মাসের শেষ নাগাদ চলতি অর্থবছরের এফডিআই গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, যা হবে নিঃসন্দেহে এদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্য একটি বিরাট অর্জন।
বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে মেট্রোরেল, সেতু, টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিদ্যুেকন্দ্রসহ বেশ কিছু মেগা প্রকল্প নির্মাণ করছে। এতে শত শত কোটি মার্কিন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে। এর অধিকাংশই এসেছে চীন ও জাপান থেকে। দেশ জুড়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম প্রধান কৌশল। এর কারণে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে জাপানের সুমিতোতো, সোজিৎজ, নিপ্পন স্টিল, শিনওয়া ও মারুহিসার মতো কোম্পানিগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সব সময়ই যুক্তরাষ্ট্র ছিল সর্বোচ্চ বিনিয়োগকারী। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জায়গা দখল করে নিয়েছে চীন। গত বছর ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে চতুর্থ স্থানে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৮০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ১৯৯৫ সালে মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ। এরপরই নরওয়ের টেলিনর ও মিশরের ওরাশকমের মতো টেলিকম জায়ান্ট বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জ্বালানি চাহিদা মেটাতে লড়াই করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ২০০৮ ও ২০০৯ সালে জ্বালানির সংকট ছিল তীব্র। এর মধ্যে ২০১৩ সালে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড অবকাঠামো উদ্যোগের ঘোষণা দেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ বিনিয়োগ করতে চায়। এরই অংশ হিসেবে ২৩টি দেশে কয়লাচালিত বিদ্যুকেন্দ্র নির্মাণে ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ঋণ দেয় চীনা ব্যাংকগুলো। ২০১৬ সালের পর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে চীন। ফলে এই মুহূর্তে চীনই বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিনিয়োগকারী রাষ্ট্র।
বাংলাদেশে ইকোনমিক জোনস অথোরিটি (বেজা) জানিয়েছে, সোজিৎজ একাই বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি বেসরকারি বন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ১৭.৯ বিলিয়ান বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
একটি দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির সংযোগ প্রাপ্তি, বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ, নিষ্কণ্টক জমির প্রাপ্যতা প্রভৃতি বিষয় নিয়ামক ভূমিকা পালন করে থাকে। বাংলাদেশে সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে সুগম হচ্ছে বিনিয়োগের পথ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে এদেশে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৩৬১ কোটি ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার, এর মধ্যে ইকুইটি ক্যাপিটাল বা নতুন বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১১২ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১০৮ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) বলছে, এটাই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ। অবশ্য একটা চিত্র সুখকর নয়। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আট বছরে বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগ নিবন্ধন চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ সময়ে প্রকল্পের সংখ্যা ২৩ শতাংশ ও বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৮৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে কর্মসংস্থানের প্রস্তাব কমেছে ১৭ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন প্রযুক্তির কারণে বিনিয়োগের বিপরীতে কর্মসংস্থান ততটা হচ্ছে না। যেসব কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, সেখানে যোগ্য লোক পাওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষার সঙ্গে বাজারের চাহিদার মিল নেই। এই লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর দেশে ইকুইটি ক্যাপিটাল প্রবাহের পরিমাণ ছিল ১১২ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা ২০১৭ সালে ছিল ৫৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। এ হিসবে এক বছরে ইকুইটি ক্যাপিটাল বা নতুন বিদেশি বিনিয়োগ ১০৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণের প্রবাহ ছিল ৩৩ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ২০১৮ সালে এটি বেড়ে হয়েছে ১১৮ কোটি ৬০ হাজার ডলার। অন্যদিকে ২০১৭ সালে আয়ের পুনর্বিনিয়োগ ছিল ১২৭ কোটি ৯৪ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা ২০১৮ সালে বেড়ে ১৩০ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। নতুন বিনিয়োগ, আয়ের পুনর্বিনিয়োগ ও আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ তিনটি মিলে গত বছর দেশে নিট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৩৬১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার, যা ২০১৭ সালে ছিল ২১৫ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
বিশ্বব্যাংকের ‘ইজি অব ডুয়িং বিজনেস-২০১৯’ বা সহজে ব্যবসা করার সূচক-২০১৯-এ ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৭৬তম। এ সূচকটি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য করা হয়। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুই অঙ্কে বা কমপক্ষে ৯৯তম অবস্থানে নিয়ে আসার লক্ষ্য ঠিক করেছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার জন্য কর্মপরিকল্পনা ঠিক করেছে বিডা। সে অনুযায়ী আইন, বিধি ও প্রক্রিয়ায় সংস্কার চলছে।
সাম্প্রতিক কালে, বাংলাদেশ সরকার বেসরকারি বিনিয়োগে একটি সহায়ক ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নীতির ক্ষেত্রে বেশ কিছু পুরাতন ব্যবসার সংস্কার করেছে। দেশে বর্তমানে বিনিয়োগ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সহায়ক স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে।
অর্থনৈতিক নীতিসমূহের ক্ষেত্রে সরকার দ্রুত সুনির্দিষ্ট সংস্কার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং সবার জন্য উন্মুক্ত বিনিয়োগ নীতি প্রণয়ন করেছে। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা অনুঘটকের, কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রকের নয়। নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধকে ন্যূনতম একটি পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। সরকার সুষম গতিতে বাণিজ্য ক্ষেত্রে উদারীকরণ করেছে। শুল্কমুক্ত বাণিজ্যসুবিধা, যৌক্তিক শুল্ক নির্ধারণ এবং রপ্তানী সুবিধা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অর্জন সাধিত হয়েছে।
বর্তমানে দেশের বৈদেশিক বিনিয়োগপ্রবাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় যে সঠিক পথেই হাঁটছে দেশের অর্থনীতি। বৈদেশিক বিনিয়োগের যে উর্বর ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছে দেশে তা অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য হবে অত্যন্ত সহায়ক। অগ্রগতির এ ধারা অব্যাহত থাকলে রূপকল্প ২০২১ অর্জন তথা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া সহজ হবে।
লেখক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • পুষ্টি-অপুষ্টি প্রসঙ্গ
  • পুষ্টি-অপুষ্টি প্রসঙ্গ
  • সত্য যখন উক্তি হয়ে ফিরে আসে
  • প্রসঙ্গ : মহামারিতে ধৈর্য ধারণ
  • মা-বাবার সাথে থাকি
  • নব্যউদারনীতিবাদ নিয়ে কিছু কথা
  • মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  • বাউল সম্রাট ও গ্রামীণ সংস্কৃতি
  • সমাজসেবা ও দেশপ্রেম
  • ক্ষণজন্মা সৈয়দ মহসীন আলী
  • শিক্ষার সাথে চরিত্র গঠনও প্রয়োজন
  • জাতীয় প্রবীণ নীতিমালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
  • ম. আ. মুক্তাদির : বিপ্লবীর স্বপ্নের দেশ
  • স্মরণ: শেখ তজমুল আলী চেয়ারম্যান
  • করোনাকালে সঙ্কটে প্রবাসীরা
  • ব্যাংক খাত ও সাইবার নিরাপত্তা
  • আমাদের অসাধারণ মানুষের গল্প
  • প্রগতি জাতির প্রকৃতিগত অধিকার
  • নিজেকে দূরে রাখুন, সচেতন থাকুন
  • প্রগতি জাতির প্রকৃতিগত অধিকার
  • Image

    Developed by:Sparkle IT