শেষের পাতা

সুনামগঞ্জের সাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন বালার দুর্নীতির তদন্ত শুরু

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-১২-২০১৯ ইং ০৪:৩৩:০৪ | সংবাদটি ৪৮৮ বার পঠিত

সুনামগঞ্জ থেকে শাহজাহান চৌধুরী ঃ সুনামগঞ্জের সাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন বালার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মূল্যায়ন বিভাগের উপ-পরিচালক খোরশেদা বেগম তদন্ত শুরু করেছেন। এ তদন্তে সাক্ষ্য দিয়েছেন অভিযোগকারী শিক্ষক ও শিক্ষিকাবৃন্দ।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান, জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুন রশিদসহ একাধিক অভিযোগকারী শিক্ষক ও শিক্ষিকা তদন্ত শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত সাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পঞ্চানন বালাসহ অভিযোগকারী শিক্ষক ও শিক্ষিকাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, গত বছর সুনামগঞ্জ জেলায় প্রাথমিক বিদ্যায়লগুলোতে সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব হিসেবে (জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে) প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন নিয়ে রমরমা বাণিজ্য ও টাকার বিনিময়ে শিক্ষকদের পছন্দের বিদ্যালয়ে বদলীর অভিযোগ করেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক। এছাড়াও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং মন্ত্রী ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশ অগ্রাহ্যের অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
সূত্র আরো জানায়, সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায় ৫০৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমসংখ্যক সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদায়ন করার কথা। এর মধ্যে সম্পূর্ণ অনিয়ম তান্ত্রিকভাবে ৪৯৯ জনকে পদায়ন করেন পঞ্চানন বালা।
গত বছর জাতীয়করণকৃত সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৯টি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিট থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষককে পদায়ন না করার জন্য তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সুপারিশ করেন। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশ অমান্য করে বিদ্যালয়গুলোতে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক পদায়ন করা হয়।
বিদ্যালয়গুলো হলো সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী কুদরত উল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শেখেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোয়ারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চুয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাহিরপুর উপজেলার মনবোজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসন্তীপুর বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হিম্মতেরগাঁও সরকার্ িপ্রাথমিক বিদ্যালয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, কয়েকজন শিক্ষক নেতার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নিয়ে শিক্ষকদের পছন্দের স্কুলে পদায়নের জন্য জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে আদায় করেছে শিক্ষা অফিস। জেলা শিক্ষা অফিসার পঞ্চানন বালা যেসব শিক্ষকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন তাদেরকে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্যাডে সুপারিশ নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়ে পদায়ন করেছেন। জেলার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার, দিরাই, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার ও বিশ্বম্ভরপুরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় নতুন সরকারি হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্ব হিসেবে প্রধান শিক্ষক পদায়ন করেন।
ওইসব বিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষকরা জানান, তাদের বিদ্যালয়ে যাতে অন্য কোন প্রধান শিক্ষক দেয়া না হয়। সে জন্য তারা উচ্চ আদালতে রিট করেছেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও শিক্ষা অফিস ওইসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করেছেন।
শুধু তাই নয় তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর সুপারিশ এনেছিলেন দিরাই সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা চম্পা রানী। তিনি দিরাই পৌরসভার বাসিন্দা। তাই পৌরসভার রাধারনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়নের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর সুপারিশ নিয়ে এলেও মন্ত্রীর সুপারিশ রাখেননি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
দিরাই উপজেলার শিক্ষকরা জানান, দিরাই উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ ৬৫টি। এর মধ্যে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চলতি দায়িত্ব হিসেবে ৩৭ জন শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। প্রজ্ঞাপনে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রত্যেকের নিকটস্থ বিদ্যালয়ে পদায়নের নীতিমালা থাকলেও অর্থের বিনিময়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গ্রামের শিক্ষকদের শহরে পদায়ন এবং আর্থিক সুবিধা প্রদানে অক্ষম শহরের শিক্ষকদের গ্রামের বিদ্যালয়ে পদায়ন করেছেন।
দিরাই উপজেলার শিক্ষক অসীম রায় চৌধুরী জানান, নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষকদের কাছের বিদ্যালয়ে পদায়ন করার কথা। কিন্তু এ নীতিমালাও মানছেন না জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। এ উপজেলার ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মামলায় জড়িত আছে। এ বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে- দিরাই উপজেলার পূর্বচন্ডিপুর, ধাপকাই, রাধানগর, নতুন কর্নগাঁও, পশ্চিম শরিফপুর, পিতাম্বরপুর ও ভাটিধল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ৭টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলমান। তাই বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে স্থগিতাদেশ রয়েছে। তারপরও আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে সেখানেও পদায়নের আদেশ দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
একই উপজেলার শিক্ষিকা নমিতা রায় জানান, তাকে দিরাই শহরের কাছাকাছি চানপুর সরকারি বিদ্যালয় থেকে বদলী করে উপজেলার একটি প্রত্যন্ত বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী তাকে তার শ্বশুর বাড়ি দিরাই শহরের পার্শ্ববর্তী কর্ণগাঁও বিদ্যালয়ে দেয়ার কথা।

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • সিলেটে ৪ দিনব্যাপী জাতীয় পিঠা উৎসব শুরু আজ
  • শিক্ষার উন্নতিতে সকলকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে
  • শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় জগন্নাথপুর পৌর মেয়রকে শেষ বিদায়
  • ফেনারবাঁকে মরহুম ফেরদৌসী ও আলী আমজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
  • জকিগঞ্জ শহরে আগুন লেগে ২০ দোকান পুড়ে ছাই
  • এক বছরের মধ্যে সকল নদীর অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে
  • নগরীতে দেশের প্রথম ভূ-গর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইনের উদ্বোধন
  • গ্রামীণফোনের প্রথম বাংলাদেশি সিইও সুনামগঞ্জের ইয়াসির আজমান
  • জিয়াউর রহমানের জন্মদিনে জেলা বিএনপি’র আলোচনা সভা কাল
  • সিলেটে সংস্কার শেষে ইসকন শিব মন্দিরের উদ্বোধন
  • এক বছরে বিমানে লাভ ২৭৩ কোটি টাকা ---------------বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী
  • লালাদিঘীর পাড় ‘জামেয়া ইসলামীয়া দারুল আকরাম মাদ্রাসা’র ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন
  • বরইকান্দিতে ইছালে ছওয়াব ও তাফসির মাহফিল আজ
  • সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের এপিএস কামরুল আর নেই
  • দু’দিনের সফরে আসছেন সাংবাদিকদের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতবিনিময় আজ
  • দুই নারীসহ ৮ আসামীর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড
  • জগন্নাথপুর পৌর মেয়র আব্দুল মনাফ’র লাশ দেশে এসেছে আজ দাফন
  • বহুমাত্রিক সামাজিক নিরাপত্তা সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে .... মোহাম্মদ জয়নুল বারী
  • আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে শিল্প সচিব শিল্প রক্ষা ও বিকাশের স্বার্থে বর্তমান সরকার বদ্ধ পরিকর
  • আন্তরিকভাবে সেবা দিতে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগাতে হবে ..... সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ
  • Developed by: Sparkle IT