শেষের পাতা বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

‘হুমকি’ হয়ে উঠতে পারে নিপা ভাইরাস

ডাক ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে: ১০-১২-২০১৯ ইং ০২:০৯:৫৩ | সংবাদটি ৮২ বার পঠিত

 দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বহু আগেই থেকে পরিচিত বাদুড়বাহিত নিপা ভাইরাস ‘মারাত্মক মহামারীর’ কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
১৯৯৯ সালে প্রথম মালয়েশিয়ায় শনাক্ত হওয়া এই ভাইরাস পরবর্তীতে ভারত ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিপা আক্রান্তদের চিকিৎসায় এখনও কোনো ওষুধ কিংবা টিকা উদ্ভাবন না হওয়ায় এতে মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৯০ শতাংশ।
সোমবার সিঙ্গাপুরে শুরু হওয়া নিপা ভাইরাস বিষয়ক এক সম্মেলনে সহ-আয়োজক কোয়ালিয়শন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস- সিইপিআই’র প্রধান নির্বাহী রিচার্ড হ্যাচেট জানান নিপা ভাইরাসের হুমকি সম্পর্কে।
“এটি (নিপা ভাইরাস) শনাক্তের পর ২০ বছর কেটে গেছে, কিন্তু নিপা ভাইরাসের কারণে তৈরি হওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকি সমালানোর মতো পর্যাপ্ত উপকরণ এখনও বিশ্বে নেই।”
রোগতত্ত্ববিদ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী ও নাগরিক সংগঠন নিয়ে ২০১৭ সালে গড়ে ওঠা সিইপিআই মূলত নতুন, অজ্ঞাত রোগের প্রতিষেধক তৈরি ও উন্নয়নে কাজ করে থাকে।
সংগঠনটি যেসব রোগ নিয়ে কাজ করছে, তার মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছে নিপা, যে ভাইরাসটি মূলত বাদুড় এবং শূকরের মাধ্যমে ছড়ায়। তাছাড়া এই ভাইরাস সরাসরি মানুষের মাধ্যমে এবং দূষিত খাবার থেকেও ছড়াতে পারে।
শনাক্তের দুই বছরের মধ্যেই ২০০১ সালে বাংলাদেশে নিপা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে মেহেরপুর, নওগাঁ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ ও রংপুরে মানব দেহে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়।
২০১১ সালে বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।
আর গত বছর ভারতের কেরালায় নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হয়।
রিচার্ড হ্যাচেট বলেন, “নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সীমাবদ্ধ, তবে এটি মারাত্মক মহামারীর রূপ নিতে পারে। কারণ এই ভাইরাসের বাহক টেরোপাস (ফ্লাইং ফক্স নামেও পরিচিত) বাদুড় গ্রীষ্মম-লীয় এবং উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে বেশি দেখা যায়, যেখানে প্রায় ২০ লাখের বেশি মানুষের বসবাস।”
তাছাড়া যেহেতু মানুষের মাধ্যমেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে, সেক্ষেত্রে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এটির ছড়িয়ে পড়াটাও খুব স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিঙ্গাপুরে দুইদিন ব্যাপী নিপা সম্মেলনের আরেক আয়োজক হচ্ছে ডিউক-এনইউএস মেডিকেল স্কুল।
সম্মেলনের কো-চেয়ার ডিউক-এনইউএস মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক ওয়াং লিনফা প্রথমদিনের অধিবেশনে বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগটিকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখলেও নিপা ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ কিংবা প্রতিষেধক টিকা এখনও নেই।”
তবে এই সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে বিশেষজ্ঞরা নিপা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথ খুঁজে পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • জাফলংয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, মালামাল ধ্বংস
  • জার্মানিতে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৬
  • লিডিং ইউনিভার্সিটির বার্ষিক বনভোজন
  • নগরীতে রাত ১২টার আগে ট্রাক চলাচল বন্ধের দাবীতে সড়ক অবরোধ
  • করোনাভাইরাস ঠেকাতে চীনের ১০ শহরে গণপরিবহন, মন্দির বন্ধ
  • শিশুকে সুশিক্ষিত করতে পারলে দেশ ও জাতি আলোকিত হবে -------প্রফেসর হাসান ওয়ায়েজ
  • সুস্থ রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে মানুষের মন জয় করতে হবে
  • সিলেটে আবগারী ও ভ্যাট বিভাগ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাজার পরিদর্শন
  • বড়লেখায় জমিজমা নিয়ে দু’পক্ষের মারামারি
  • প্রথম বিলের টাকা না পেয়ে পিআইসিরা হতাশ
  • কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে জালালাবাদ ইমাম সমিতির সমাবেশ
  • কোম্পানীগঞ্জে ‘মরা ধলাই খাল’ ভরাট করে শতাধিক স্থাপনা
  • একরাতে ১২ গাছ চুরি গাড়িসহ গাছ উদ্ধার
  • কমলগঞ্জের পাত্রখোলা লেইক অতিথি পাখিদের অভয়াশ্রম
  • এ অঞ্চলের মানুষ ধর্মভীরু হলেও বেশি দুর্নীতি করে: দুদক কমিশনার
  • পদ্মা সেতু : ২২তম স্প্যানে দৃশ্যমান ৩৩০০ মিটার
  • শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে
  • গাম্বিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিএনপি
  • নবীগঞ্জে মাদ্রাসা মার্কেটে অগ্নিকান্ড ৯টি দোকান পুড়ে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি
  •  শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের সমান সফলতা আসে --এম কাজী এমদাদুল ইসলাম
  • Developed by: Sparkle IT