ইতিহাস ও ঐতিহ্য

স্বতন্ত্র আবাসভূমির আন্দোলন

আবদুল হামিদ মানিক প্রকাশিত হয়েছে: ১১-১২-২০১৯ ইং ০০:০৯:৪০ | সংবাদটি ২১৬ বার পঠিত

(পূর্ব প্রকাশের পর)
ওপারে গণভোটের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া
১৯৪৬ থেকে ১৯৪৭-এর রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণভোট পরিহার করা যায়নি। গণভোটের আয়োজনের প্রতিবাদও কোনো পক্ষ থেকে উঠেছে বলে প্রমাণ নেই। উভয়পক্ষই ধরে নিয়েছিলেন জয় তাদের হবে। এভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি রেফারে-াম মেনে নেয়ার অর্থ হচ্ছে জয়-পরাজয়কে সহজভাবে মেনে নেয়ার অঙ্গীকার। এরপর পাকিস্তানভুক্ত এবং ভারতভুক্ত খ-িত সিলেটের অধিবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অর্থনৈতিক, সামাজিক ক্ষতির সম্মুখীন হন অসংখ্য সিলেটী। এপারে অর্থাৎ পাকিস্তানভুক্ত সিলেটীদের যন্ত্রণার ভিত্তি শুধু আবেগনির্ভর ছিল না। প্রকাশ্যভাবেই রেডক্লিফ ভোটের রায়কে তাচ্ছিল্য করে বিরাট এলাকা ভারতের ভাগে দিয়ে দেন। তাই এখানেই সিলেটের বিচ্ছিন্ন অংশ ফিরিয়ে আনার দাবি ও আন্দোলন গড়ে উঠতে পারতো। তা হয়নি। তবে গত পঞ্চাশ বছরে মাঝে মাঝে অনুচ্চকণ্ঠে কেউ কেউ এ আওয়াজ তুলেছেন। অপরদিকে ভারতে সামগ্রিক গণভোটের আয়োজনকে ভ্রান্ত দাবি করে সাম্প্রতিক জোর তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গণভোটের আয়োজনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে, নাও পারে। তবে ফলাফল এবং রেডক্লিফের পক্ষপাতিত্ব সর্বজনস্বীকৃত। এরপরও ভারতে সম্প্রতি যে তৎপরতা শুরু হয়েছে তা অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং বলা যায়, আমাদের সার্বভৌমত্বের জন্যে অপমানকর। এ প্রেক্ষিতে ভারতের শিলচর থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘যুগ শঙ্খ’-এর ১৪ সেপ্টেম্বর ’৯৭ সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায় বিভূতি গোস্বামীর নামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি উল্লেখের দাবি রাখে। সিলেট ফিরিয়ে আনার আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে বরাকে-' তিন কলাম শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি এইঃ
গণভোটের মাধ্যমে সিলেটকে অসম তথা ভারতের বাইরে ঠেলে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য তথা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাঙালিদের মনে একটা চাপা ক্ষোভ রয়েই গেছে। গত পঞ্চাশ বছরে এই ব্যাপারটি নিয়ে রাজনৈতিক স্তরে কোনও বড় ধরনের নাড়াচাড়া লক্ষ্য করা যায়নি ঠিকই, কিন্তু ভিতরে ভিতরে এই ট্র্যাজেডি নিয়ে নানা মহলে কথাবার্তা জারি রয়েছে। অসমের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেমন দেশভাগ এখন এক ইতিহাস হয়ে গেছে, তেমনি অসম থেকে সিলেট বিশেষ করে বারো থানা বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার ঘটনাটিও এক ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি ছাড়া আর কিছু নয়। লর্ড এটলি এবং অসমের স্বাধীনতা আন্দোলনের জনাকয়েক নেতার সৌজন্যে সিলেটের বাঙালিদের জীবনে যে অস্থিতিশীলতা এবং দুর্যোগ নামিয়ে আনা হয় তা নিয়ে অনেক ক্ষোভ থাকলেও ‘এ নিয়ে এখন আর কিছু করার নেই’-এ ধরনের এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। যারা পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকে বারো থানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে দিল্লিতে মাঝে মাঝে নাড়া দিয়েছিলেন তারাও ইতিমধ্যে ক্ষান্ত হয়ে বসে পড়েছেন।
তবে ‘ভারতের ইতিহাসের বিস্মৃত দিকগুলো’ জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং তা সংস্কারের কাজে নিয়োজিত একটি মহল সিলেট সম্পর্কিত এই দিকটি নিয়ে নাড়াচাড়া করার চেষ্টা সম্প্রতি হাতে নিয়েছে। ভারতীয় ইতিহাস সঙ্কলন সমিতির দক্ষিণ অসম শাখা সিলেট বিশেষ করে বারো থানাকে ‘ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার’ ব্যাপারে একটি গণআন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি হিসাবে উপত্যকায় এক সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। সঙ্কলন সমিতির দক্ষিণ অসম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডঃ সুজিত ঘোষ জানান, প্রাথমিক উদ্যোগ হিসাবে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে শিলচরে ‘সিলেট গণভোট’ সম্পর্কে এক আলোচনাচক্রের আয়োজন করা হয়েছে। এতে অঞ্চলের তথ্যাভিজ্ঞ এবং প-িত ব্যক্তিরা অংশ নেবেন। এ সম্পর্কে ঐতিহাসিক তথ্য আহরণে সুবিধার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ। বুদ্ধিজীবী মহলে এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি নিয়ে একটা সচেতনতা সৃষ্টির সুযোগ এর মাধ্যমে পাওয়া যাবে। ডঃ ঘোষ মনে করেন, সিলেট ফিরিয়ে আনার আন্দোলনের এটা এক প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসাবেও মনে করা যেতে পারে।
আসলে ইতিহাস সঙ্কলন সমিতি একটি সর্বভারতীয় সংগঠন। ১৯৭৪ সালে এটির প্রতিষ্ঠা করেন বাবা সাহেব আপতে। এরপরই দেশের নানা প্রান্তে শাখা গঠিত হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও এটির শাখা বিস্তার লাভ করেছে। মিজোরাম, মণিপুর, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, দক্ষিণ অসম নিয়ে গঠিত কমিটির নাম উদয়াচল দক্ষিণ। এই অঞ্চলে সমিতির কাজকর্ম শুরু করার ব্যাপারে প্রথমে বড় ধরনের উদ্যোগ নেন শিলচরের পান্না লাল বক্সী। এখন অমলেন্দু ভট্টাচার্য, অর্চনা চক্রবর্তী, নন্দিতা দত্ত রায় সহ অনেক শিক্ষাবিদ ও ইতিহাসবিদ এগিয়ে এসেছেন। তাদের চিন্তাধারা ছড়িয়ে দিতে ‘ইতিহাস বীক্ষণ’ নামে একটি সাময়িক পত্রিকাও বেরুচ্ছে।
ড. ঘোষ জানান, সিলেট গণভোটে যেসব ভলান্টিয়ার ছিলেন তাদের প্রত্যক্ষ বিবরণ সংগ্রহ করা গেলে গণভোটকে কেন্দ্র করে যে ‘ষড়যন্ত্র’ হয়েছিল তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব হবে। দেশভাগ এবং সিলেট গণভোটের প্রেক্ষাপট নিয়ে সেমিনার ছাড়াও সমিতি অন্যান্য কর্মসূচিও হাতে নিচ্ছে। সিলেট ফিরিয়ে আনার' আন্দোলনের ব্যাপারে সঙ্কলন সমিতি এ জন্যই আত্মবিশ্বাসী যে, এই সমিতির উদ্যোগেই ভারতের পশ্চিম উপকূলে দ্বারকার পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। সমিতির মতে, র‌্যাডক্লিফ অ্যাওয়ার্ড বের হয়ে গেলে সিলেট গণভোটের আসল রহস্য বেরিয়ে পড়বে। যা আজ পর্যন্ত চেপে রাখা হয়েছে। এই ইতিহাস প্রকাশের দাবি জানাচ্ছে সঙ্কলন সমিতি। সমিতি মনে করে, সিলেট হস্তান্তর নিয়ে কংগ্রেসের ভূমিকা, তৎকালীন অসমীয়া নেতৃত্বের ‘সংকীর্ণ’ মনোভাব এবং কী ভাবে পাঁচ লক্ষ সাঁওতাল চা শ্রমিককে গণভোটে অংশ নেওয়া থেকে বঞ্চিত করা হয় তার উদঘাটন দরকার। ‘অন্যায়ভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সিলেটকে জুড়ে দেওয়ার’ প্রতিবাদ এবং তা ভারতকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এক সুকঠিন আন্দোলনের সূচনা করা সঙ্কলন সমিতির উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য, গত কয়েক দশক আগে শিলচরেরই প্রণয় চন্দের উদ্যোগে সিলেট তথা বারো থানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছিল। এতে শামিল ছিলেন করিমগঞ্জের বেশ কজন নেতাও। দিল্লিতেও এনিয়ে দৌড়ঝাপ হয়েছিল। কিন্তু সেই আন্দোলন মাঝপথেই থেমে যায়। সঙ্কলন সমিতি এ ধরনেরই এক অসম্পূর্ণ উদ্যোগ ফের হাতে নিচ্ছে।
যুগশঙ্খের এ প্রতিবেদনে ওপারের একটি মনোভাব জানা যাচ্ছে। আবেগ এবং মনোবেদনার স্থানকাল পাত্র এবং জাত ধর্মের বিভেদ নেই। বেদনা এপার-ওপারে সমান সত্য। কিন্তু বাস্তবতা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং যুক্তি আবেগ-ধর্মে চলে না। যুক্তির কথা হচ্ছে, সিলেট এখন সার্বভৌম একটি দেশের অঙ্গ। ’৪৭ খ্রিষ্টাব্দে গণভোটে ভারতভুক্ত অংশের বা ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান। আজ সে পাকিস্তান এখানে নেই। অর্থাৎ এ ভূখ-ে ভারতের তৎকালীন প্রতিপক্ষ অনুপস্থিত। পক্ষান্তরে সিলেটের সাড়ে তিন থানা যারা কৌশলে কুক্ষিগত করার কাজে সফল হয়েছিলেন তারা এখনো বর্তমান। তাই বাংলাদেশ বরং ভারতের সাথে হারানো অংশ নিয়ে দেন-দরবার করতে পারে। ওপারের সাবেক সিলেটীরা যাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনছেন, তাদের সাথে সংগ্রাম করতে পারেন ন্যায় বা অন্যায় যেভাবেই হোক সিলেট বিভক্ত হয়েছে। বড় অংশ এখন বাংলাদেশে। খ-িত ক্ষুদ্র অংশই প্রয়োজনে বড় অংশের দিকে আসবে-যদি একান্তই অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়। এটাই যুক্তির কথা এবং স্বাভাবিক ধর্ম।
ওপারে বলা হচ্ছে, চা শ্রমিকদের ভোটাধিকার ছিল না। এ কথাটি এপারেও এভাবে আছে যে, মুসলমান গরীবের সংখ্যা বেশি থাকায় সবাই ভোট দিতে পারেনি। এছাড়া চা শ্রমিকদের সবাই ওদিকে ভোট দিতই-এমন কথা হলফ করে বলা যায় না। তবু ওপারে বেশ তোড়জোড় চলছে। প্রতিবেদনে বর্ণিত সেমিনারও হয়েছে। পেপারস নিয়ে ‘ইতিহাসবীক্ষণ’ নামে সংকলনও বেরিয়েছে। বাস্তবতা ওপারের লেখক-বুদ্ধিজীবীরা ঠিকই বুঝছেন। তাই এপারে কেউ কেউ ঐ তৎপরতাকে নিছক পাগলামো অথবা তাদের অভ্যন্তরীণ স্বার্থ হাসিলের একটি ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছেন।
শেষ কথাঃ গণভোট ছিল সিলেটের রাজনৈতিক বিকাশের ধারাবাহিকতায় একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। সময়ের প্রয়োজনে সিলেটবাসী তখন গ্রহণ করে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও সিলেট সময়ের ডাকেই সাড়া দিয়েছিল। ইতিহাসের কোনো অধ্যায়কেই ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেয়া যায় না। দেয়াটা সমীচীনও নয়। পূর্ব-পুরুষের রচিত ইতিহাস ও সাফল্যের প্রাসাদে পা রেখেই আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। ১৯৪৭ খ্রীষ্টাব্দে গণভোটের রায় বিপরীত হলে আমাদের আজকের অবস্থান অন্য রকম হতো। তাই গণভোট সিলেটের সংগ্রামী ঐতিহ্যের এবং স্বাতন্ত্রের পরিচায়করূপে স্মরণীয়।
গণভোটের সময় আসামে কংগ্রেস ক্ষমতাসীন ছিল। গভর্ণর স্যার আকবর হায়দরী ছিলেন কংগ্রেস ঘেঁষা। সামরিক বাহিনীর কর্তৃত্বে ছিলেন শিখ অফিসার লেঃ কর্ণেল মহিন্দর সিং। মুসলমানদের মধ্যেও কংগ্রেস সমর্থক রয়েছেন। সর্বোপরি কমিশনার এইচ, এ, স্টর্ক মুসলিম বিদ্বেষীরূপে পরিচিত ছিলেন। এ ধরনের বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য রেফারে-াম বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। এর সভাপতি ছিলেন আব্দুল মতিন চৌধুরী এবং সম্পাদক ছিলেন আবু আহমদ আব্দুল হাফিজ। বোর্ডের মূল অফিস লালদীঘির পারে- হাজী উসমানের একটি আড়ত খালি করে স্থাপিত হলো। দ্বিতীয় অফিস ছিল ধোপাদীঘির পারে বোর্ডের সম্পাদকের বাড়ি।
গণভোটের সময় সর্বস্তরে সাড়া জেগেছিল। মোটামুটি সচেতন ব্যক্তি মাত্রই খেটেছেন। তাদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় কয়েকজনের নামের একটি তালিকা দিয়েছেন গবেষক সৈয়দ মোস্তফা কামাল। তালিকাটি হুবহু উদ্ধৃত করা হলোঃ
মরহুম আব্দুল মতিন চৌধুরী (মন্ত্রী, ভাদেশ্বর, গোলাপগঞ্জ, সিলেট), মরহুম মাওলানা সাখাওয়াতুল আম্বিয়া (রফিপুর, গোলাপগঞ্জ, সিলেট), মরহুম মোদাব্বির হোসেন চৌধুরী, (মন্ত্রী, মোস্তফাপুর, নবিগঞ্জ, হবিগঞ্জ), মরহুম মকবুল হোসেন চৌধুরী, (বিন্যাকুলি, সুনামগঞ্জ), মরহুম মফিজ চৌধুরী, এম, এল, এ, (ছৈলা, ছাতক, সুনামগঞ্জ), মরহুম আব্দুল্লাহ (বানিয়াচঙ্গ, হবিগঞ্জ), মরহুম নাসির উদ্দীন আহমদ চৌধুরী, (মন্ত্রী, পিয়াইন, মাধবপুর, হবিগঞ্জ), মরহুম নুরুল হোসেন খান এম, এল, এ, (সাগর দিঘির পশ্চিম পাড়, বানিয়াচঙ্গ, হবিগঞ্জ), দেওয়ান আব্দুল বাসিত, (মন্ত্রী, রাজনগর, মৌলভীবাজার), মরহুম আব্দুল বারী চৌধুরী, এম, এল, এ, (আশারকান্দি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ), মরহুম দেওয়ান আব্দুর রব চৌধুরী, (মন্ত্রী, গহরপুর, বালাগঞ্জ, সিলেট), মাহমুদ আলী (মন্ত্রী, সুনামগঞ্জ), এ. এইচ, ফয়জুল হাসান, এম, এল, এ (লংপুর, গোয়াইনঘাট, সিলেট), মরহুম রফিজ উদ্দীন আহমদ চৌধুরী, এম, এল, এ (দৌলতপুর, বাহুবল, হবিগঞ্জ), মরহুম ইনাম উল্লাহ, এম, এল, এ, (সালারে জিলা, মুসলিম লীগ ন্যাশনাল গার্ড, মৌলভীবাজার), মরহুম সৈয়দ সাইদ উদ্দীন আহমদ, এম. এল. এ. (নয়াপাড়া, মাধবপুর, হবিগঞ্জ), মরহুম আব্দুল হেকিম চৌধুরী এম, এল, এ, (ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জ, মুসলিম লীগ ন্যাশনাল গার্ডের এরিয়া কমান্ডার), মরহুম আবু হানিফা আহমদ, (সালারে জিলা, মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল গার্ড সুনামগঞ্জ), মরহুম আব্দুস সালাম (বারুতখানা, সিলেট, সালারে জিলা, মুসলিম লীগ ন্যাশনাল গার্ড, সিলেট), মরহুম আব্দুর রহমান সিংকাপনী (সিংকাপন, মৌলভীবাজার), জনাব আব্দুস সালাম, মন্ত্রী (কানাইঘাট, সিলেট), মরহুম আশরাফ উদ্দীন চৌধুরী (পিয়াইম, মাধবপুর, হবিগঞ্জ), মোহাম্মদ আব্দুর রহমান এম, এল, এ, (শ্রীকুটা, চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ), মরহুম আব্দুল হাই, (পাটলী, মাধবপুর, হবিগঞ্জ), মরহুম উসমান মিয়া সদাগর (কুমার পাড়া, সিলেট), মরহুম মাওলানা সহুল উসমানী (মুহাদ্দিস, সিলেট সরকারী আলীয়া মাদ্রাসা), মরহুম মাওলানা রমিজ উদ্দীন আহমদ সিদ্দিকী (তুরুকভাগ গোলাপগঞ্জ, সিলেট), মরহুম মাওলানা হরমুজ উল্লাহ শায়দা, (তুরুকখলা, সিলেট), মরহুম ডাঃ আব্দুল মজিদ (হাজরাই, সিলেট সদর), মরহুম মাওলানা ওয়াছিব উল্লাহ (লাউয়াই, সিলেট), মাওলানা আব্দুর রশীদ (টুকের বাজার, সিলেট), মরহুম জসীম উদ্দীন আহমদ এডভোকেট (রাজনগর মৌলভীবাজার), মরহুম এম, এ, বারী ধলাবারী (মজলিশ আমীন, চারাদীঘির পাড়, সিলেট), জনাব শামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (গনিপুর, জকিগঞ্জ), মরহুম আব্দুল খালিক মার্চেন্ট (কুয়ারপাড়, সিলেট), মরহুম তোতা উল্লাহ খান (ছড়ারপাড়, সিলেট), ফজলুর রহমান (গ্রুপ কেপ্টেইন (অবঃ) শারীঘাট, জৈন্তাপুর, সিলেট), মরহুম মতসির আলী (পাঠানপাড়া, সিলেট), মরহুম আব্দুল খালিক জায়গীরদার তমঘায়ে খেদমত (রাজাপুর, বালাগঞ্জ, সিলেট) মরহুম লাল বারী (কুমারপাড়া, সিলেট), মরহুম বসির উদ্দীন (বসু মিয়া) (মানিকপীর রোড, নয়াসড়ক, সিলেট), মরহুম আব্দুস সোবহান দুদু মিয়া (বারুতখানা, সিলেট), মরহুম মনোয়ার আলী (মন্ত্রী, সুনামগঞ্জ), মরহুম আব্দুল কাদিম চৌধুরী ও মরহুম আব্দুল হাই চৌধুরী, (সুনাইত্যা, কসবা, নবিগঞ্জ, হবিগঞ্জ), জনাব আব্দুল মন্নান ছানু মিয়া (এম, পি প্রবাসী নেতা ঘোলডুবা, নবিগঞ্জ, হবিগঞ্জ), মরহুম দেওয়ান মুজিবুর রহমান চৌধুরী (ইজপুর, নবিগঞ্জ, হবিগঞ্জ), মৌলভী আবুল কালাম আজাদ (পহেলাবাড়ী, ছতিয়াইন, মাধবপুর, হবিগঞ্জ), জনাব সি, এম, আব্দুল ওয়াহেদ (কদুপুর, বানিয়াচঙ্গ, হবিগঞ্জ), আব্দুর রহমান (সিলেট, সভাপতি, সিলেট জেলা মুসলিম লীগ), মরহুম দেওয়ান আব্দুর রহিম চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী জোবেদা রহিম চৌধুরী, (পানি উমদা, নবিগঞ্জ, হবিগঞ্জ), খান সাহেব মরহুম মহুতাব আলী এম, এল, এ (আজমিরীগঞ্জ, হবিগঞ্জ) মরহুম সৈয়দ মোহাম্মদ ইদ্রিস (নরপতি, চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ), জনাব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বি, এল, এম, এল, এ (বসিনা, বাহুবল, হবিগঞ্জ), জনাব আব্দুল জালাল চৌধুরী (এডভোকেট, ইসলামী চিন্তাবিদ, হাজীপুর কানিহাটি, মৌলভীবাজার), জনাব শামসুল ইসলাম চৌধুরী, ( এডভোকেট, প্রেসিডেন্ট, সিলট একাডেমী, জকিগঞ্জ, সিলেট), জনাব মতিউল বর চৌধুরী, (সাবেক মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বাংলাদেশ, বহরা, মাধবপুর, হবিগঞ্জ), নেওয়ান মোয়াজ্জম আহমদ চৌধুরী, ছাত্র নেতা (পানিউমদা, নবিগঞ্জ, হবিগঞ্জ), মরহুম শহীদ আলী (এডভোকেট, বিশ্বনাথ, সিলেট), মরহুম মোকাররম খান (জনাব আব্দুল মুকিত খান এম, পি’র পিতা, গোপশহর, সিলেট), দেওয়ান ফরীদ গাজী, (ছাত্রনেতা, দেবপাড়া, নবিগঞ্জ), মরহুম হাজী বদরুদ্দীন হায়দার, (গজনাইপুর, নবিগঞ্জ, হবিগঞ্জ), জনাব নজমুল হোসেন খান (তারা মিঞা) (প্রবীণ রাজনীতিবিদ যতরপুর, সিলেট) সিলেটে রেফারে-ামে পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করার জন্যে বাইরে থেকে এসেছিলেন জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, খাজা নাজিম উদ্দীন, হবিবউল্লা বাহার, তদানিন্তন ছাত্রনেতা শাহ আজিজুর রহমান, শেখ মুজিবুর রহমান, ফজলুল কাদির চৌধুরী, মরহুম মৌলভী ফরিদ আহমদ, দেওয়ান শফিউল আলম।
তথ্যসূত্রঃ
১. H. Rahman, Political Science & Government. Constitutional Evolution from 1935 to 1947, P-55. Ideal Publication, Eighth edition, 1970-7l, 
২. দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, বাংলাদেশে ইসলাম, পৃঃ ১৬৭, ১৬৮, ইফা, ঢাকা-১৯৯৫।
৩. ‘সিলেটের ইতিহাসে অনন্য এক অধ্যায় গণভোট’ শিরোনামে লেখকের এ নিবন্ধটি দৈনিক বাংলা বাজার পত্রিকা-১৮ জানুয়ারী ’৯৮ সংখ্যায় প্রকাশিত।
৪. এ অধ্যায়ে তথ্য নেয়া হয়েছে (ক) Bangladesh District Gazetteer, Sylhet, 1975 ১৯৭৫ (খ) জালালাবাদের কথা- দেওয়ান নুরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী (গ) সিলেটের মাটি সিলেটের মানুষ, ফজলুর রহমান (ঘ) এম.সি কলেজ, স্মৃতি বিস্মৃতির জাগ্রত অতীত-সৈয়দ মোস্তফা কামাল এবং (ঙ) সিলেট গাইড-প্রভৃতি গ্রন্থ থেকে। (সমাপ্ত)

 

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • শহীদ মিনারের ইতিকথা
  • সিলেটের লোকসংগীত : ধামাইল
  • পর্যটক ইবনে বতুতার কথা
  • বই এল কোথা থেকে?
  • লোক সাহিত্যে মননশীলতা
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • স্বাধীন বাংলাদেশে জনতার উদ্দেশ্যে প্রথম ভাষণ
  • সাচনাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়
  • একাত্তরের শরণার্থীর স্মৃতি
  • আরব বিশ্বের অনন্য শাসক
  • জননেতা আব্দুস সামাদ আজাদ
  • বালাগঞ্জের আজিজপুর উচ্চবিদ্যালয়
  • হারিয়ে যাচ্ছে ডাকপিয়ন ও ডাকবাক্স
  • সুনামগঞ্জের লোকসংস্কৃতি
  • সিলেটে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ও শাবি
  • মরমী কবি শেখ ভানু
  • মুক্তিযুদ্ধে কানাইঘাট
  • বিপ্লবী এম.এন.রায়
  • শতাব্দীর বন্দরে জামেয়া রেঙ্গা
  • রেফারেণ্ডাম ও সিলেটে বঙ্গবন্ধু
  • Developed by: Sparkle IT