বিশেষ সংখ্যা

কীর্তিমান মহীয়সী নারী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী

ফজলে এলাহি মামুন প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১২-২০১৯ ইং ০০:৪৭:৪৪ | সংবাদটি ১৪৯ বার পঠিত

আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত সিলেটের যে কজন মহীয়সী নারী তাদের মহৎ চরিত্রের মাধ্যমে সামাজিক অঙ্গনে নিজেদের সর্বসাধারণের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিতে পেরেছেন। যুগে যুগে পৃথিবীতে কিছু মানবহিতৈষী মানুষের আবির্ভাব হয়; যাদের মাঝে বহুবিধ গুণের সমাবেশ ঘটে। যারা সর্বদা মানবকল্যাণে কাজ করে গেছেন। মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়েছেন। যারা বিশেষ ক্ষেত্রে অবদান রেখে মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম একটি নাম হচ্ছে বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী।
তিনি মানবকল্যাণ, চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রেখে মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। তিনি ছিলেন বহু গুণের অধিকারী। মহীয়সী নারী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী সততা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, দানশীলতা, বুদ্ধিমত্তাসহ আরও অনেক গুণে গুণান্বিত এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। তিনি আপাদমস্তক এক মানবদরদি ও কল্যাণকামী মানুষ ছিলেন। তিনি তাঁর জীবনের একটা বড়ো অংশ মানবকল্যাণে ব্যয় করেছেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত কর্মদক্ষ ও উদার মনের অধিকারিণী। সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সমাজের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য তিনি সদা-সর্বদা চিন্তা-ভাবনা করতেন।
তিনি তাঁর অঢেল সম্পদ মানবকল্যাণে ব্যয় করেছেন। তিনি বিশ^াস করতেনÑসুখ, শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি শিক্ষার সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি মনেপ্রাণে বিশ^াস করতেন যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত। বিলাসী জীবন ও নামিদামি অলংকারের খোলসে নিজেকে আবৃত না-করে তথাকথিত অভিজাত শ্রেণিকে বৃদ্ধাঙুল দেখিয়ে মাটি ও মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত হয়ে স্বামীকে শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার কাজে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দেন। তাই তিনি সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেন।
দানবীর ড. রাগীব আলী স্যারের সহযোগী হিসাবে সমাজকে কুসংস্কার ও অশিক্ষার করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করে শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত করতে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ইউনিভার্সিটি, মেডিকেল কলেজসহ আরও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে বৃহত্তর সিলেটের শিক্ষা বিাস্তারে অবদান রেখেছেন এবং সমাজকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করেছেন। বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী অত্যন্ত নিরহংকারী মানুষ হওয়ায় সমাজের সকল পেশার মানুষ তাঁর সাথে কথা বলতে পারতেন। তাঁর অমায়িক ব্যবহার ও সুন্দর আচরণে সকলে মুগ্ধ হতেন। সর্বজনীন কল্যাণই ছিল তাঁর জীবনের পরমব্রত।
বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর ধনসম্পদ ও প্রাচুর্যের মোহে অন্ধ না-হয়ে অতি সাধারণ আটপৌরে জীবনকে বেছে নেন। যার কথা মানুষ অনাগতকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তিনি হাজার হাজার বছর বেঁচে থাকবেন মানুষের অন্তরের অন্তঃস্থলে; বেঁচে থাকবেন তাঁর কাজের মাঝে, তাঁর কর্মের মাঝে। চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন হাজারো মনের মণিকোঠায়। তার জীবদ্দশায় তিনি লিডিং ইউনিভার্সিটির জন্য যে উন্নত ও সুন্দর স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্বপ্ন দেখতেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার প্রয়াসে তাঁরই স্বপ্নদ্রষ্টা ড. সৈয়দ রাগীব আলী স্যার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যার ফলশ্রুতিতে আজ রাগীবনগরে লিডিং ইউনিভার্সিটির নিজস্ব সুবিশাল ক্যাম্পাস শোভা পাচ্ছে।
পরিশেষে পরম করুণাময় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে এ কীর্তিমান নারীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ যেন তাঁর মহৎ কর্মের জন্য তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। আমিন।

লেখক : বিভাগীয় প্রধান (ভারপ্রাপ্ত), ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

বিশেষ সংখ্যা এর আরো সংবাদ
  • বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় কবি নজরুল
  • বঙ্গবন্ধুর জীবনালোচনায় কিছু কথা ও কাহিনী
  • বঙ্গবন্ধুকে কাছে থেকে দেখার টুকরো স্মৃতি
  • মুজিববর্ষের তাৎপর্য
  • মাতৃভাষা আন্দোলন ও সিলেট
  • ভাষাশহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা : ইসলামি দৃষ্টিকোণ
  • দেশে বিদেশে গৌরবের শহীদ মিনার
  • বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষা চর্চা
  • মানুষ জন্মগত বিজয়ী, পরাজয় মানে না
  • মুক্তিযুদ্ধ ও নদী
  • আমাদের মুক্তিযুদ্ধ
  • তিনি আজও আমার সব কর্মের প্রেরণা
  • রাগীব আলীর উন্নয়নের পৃষ্ঠপোষক
  • একজন বিচক্ষণ সম্পাদক আমার মা
  • একজন মহীয়সী নারী
  • রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ও সিলেটের ডাক
  • অনন্যা
  • স্মৃতিতে ভাস্বর রাবেয়া খাতুন চৌধুরী
  • বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী এক মহীয়সী নারীর কথা
  • তিনি বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী
  • Developed by: Sparkle IT