বিশেষ সংখ্যা

শুধু নাম নয় একটি ইতিহাস 

মো. হাফিজুর রাহমান প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১২-২০১৯ ইং ০০:৪৮:৩৮ | সংবাদটি ১৩৭ বার পঠিত

বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী অকাল প্রয়াত একজন মহয়ীসী নারী। তাঁকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন নেই। উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর রাগীব আলী নামের সাথে রাবেয়া খাতুন নামটি খুবই মধুর। রাগীব-রাবেয়া নামটি যেন একে অন্যের পরিপূরক। কেউ কাউকে পরিত্যাগ করার কোনো সুযোগ নেই। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহর এক পরম সৃষ্টি দম্পতি। আজ যখন লিখতে বসেছি মনে হচ্ছিল কীÑ প্যাডগুলো যেন কাজ করছে না। আসলে কি প্যাড আমি চালাতে পারছি না! বুকের মধ্যে একটা ব্যথা অনুভব করি রাবেয়া খাতুনকে স্মরণ করতে গিয়ে। আমার বার বার মনে হচ্ছিল ‘দাদি’ কে নিয়ে কী লিখব। প্রতিবছর মৃত্যুবার্ষিকী এলে আমরা তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করি। নিজে নিজেকে প্রশ্ন করি, আমরা কি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছি? নাকি দায়িত্ব এড়াতে ব্যস্ত? রাবেয়া খাতুন চৌধুরীকে কি মূল্যায়নের চেষ্টা করেছি? আমার মনে হয় মনের অজান্তে অকপটে বেরিয়ে আসবে উত্তরগুলো। তাঁকে তো মন থেকে আমরা দোয়া করি। আসলে এটা হওয়া উচিত, প্রতিদিন প্রতিঘণ্টা প্রতিক্ষণ।
রাবেয়া খাতুন চৌধুরী এ যুগের এক পরম পরোপকারী নারী ছিলেন। তাঁর গুণের কীর্তি বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। আর গুণের যদি বিবরণ দেই তাহলে আমাদের চেয়ে আর কে ভালো বলতে পারবে? তাঁকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার সবচেয়ে বেশি সুযোগ হয়েছিল আমাদের। এলাকার ছোটো-বড়ো সবাইকে খুব স্নেহ করতেন। ভালোবাসতেন তিনি। রাবেয়া খাতুনের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা আজও আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায় আগামীর পথে অগ্রসর হতে। আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি কী হারিয়েছি। আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণের নয়। তাঁর মতো মহৎ নারী অতি প্রয়োজন। একজন নারী হয়ে আধুনিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর কৃতকর্মগুলো কালের সাক্ষী হয়ে ভাসমান ভেলায় বিচরণ করছে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।
অবশ্যই কামালবাজার এলাকার অনেক ক্ষতি হয়েছে দানবীর রাগীব আলী সাহেবের সহধর্মিণীকে হারিয়ে। আজ তিনি যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে কামালবাজার আরও ডেভেলপ হতো। তাঁর নতুন নতুন গবেষণা ইমপ্লিমেন্ট হতো নিজ এলাকাতে আমার দৃঢ়বিশ্বাস। মনের মাধুরী মিশিয়ে গড়ে তুলতেন একটি অসাধারণ ‘গ্লোবাল ভিলেজ’, যা যুগের পর যুগ দাঁড়িয়ে থাকত ইতিহাস হয়ে। হ্যাঁ, এটা হয়তো আমার ইমাজিনেশন। কিন্তু রাগীব আলী সাহেব উন্নয়নের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন সাহসিকতার সাথে নিজ এলাকাতে। থেমে নেই তাঁর আবিষ্কারের নেশা। প্রতিজ্ঞা করে বসেছেন এলাকাকে স্যাটেলাইট সিটি তৈরি করবেন। আমাদের দোয়া এবং প্রত্যাশা এই কাজটি যদি তিনি করে যান, তাহলে পরেরটা হবে ইতিহাস। আর ইতিহাস মানুষকে নিয়ে যায় অনন্য এক উচ্চতায়। সৃষ্টি হয় গবেষণার নতুন নতুন ক্ষেত্র।
বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ছিলেন দানবীর রাগীব আলীর এক সাহসী সহযোদ্ধা। তিনি তাঁকে আধুনিকায়নের সাথে সামাজিক উন্নয়নে যুগিয়েছেন উৎসাহ, যা আজকালকের দিনে খুবই বিরল। রাগীব আলী যত সামাজিক এবং মানবিক উন্নয়ন করেছেন তার পেছনে রাবেয়া খাতুনের সহযোগিতা বলেন, আর শক্তি যোগান যাই বলেন না কেন পরিস্ফোটন পরিলক্ষিত। কী না তিনি করেছেন বৃহত্তর এলাকা অর্থাৎ কামালবাজারবাসীর জন্য যদিও নিন্দুকেরা তা মানতে নারাজ। কিন্তু ইতিহাস কি বদলানো যায়? তাদের চেষ্টা বিফলে। কারণ রাবেয়া খাতুন ইতিহাস রচনা করে গেছেন। তিনি তাঁর গুণের প্রকাশ করে গেছেন মনের মাধুরী মিশিয়ে আপন মহিমায়।
রাবেয়া খাতুনের চিন্তা-চেতনা এবং ভাবনার সমস্তটাই জুড়ে ছিল নিজ এলাকা এবং সমাজের অবেহেলিত মানুষগুলোকে নিয়ে। আধুনিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য, বলার অপেক্ষা রাখে না। আজ ড. সৈয়দ রাগীব আলী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে তুলেছেন স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মেডিকেল এবং বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা কী একবার নিজের বিবেককে প্রশ্ন করেছি কেন তিনি এসব করছেন? না তা কেন করতে যাব, আমাদের সমাজব্যবস্থায় আসলে পচন ধরেছে। কৃর্তজ্ঞতাবোধ সমাজ থেকে বিলুপ্তির পথে। হ্যাঁ, এলাকাবসী অবশ্যই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে যদিও কিছুসংখ্যক দুষ্ট প্রকৃতির লোক ভিন্নখাতে মোড় দেয়ার জন্য ব্যাকুল।
আজ রাবেয়া খাতুন দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে পরপারে। তারপরও আমরা তাঁকে ভুলতে পারি না। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী আসলে মানুষ বিভিন্নভাবে স্মরণ করে। এটা থেকে কী প্রমাণিত হয়? নিশ্চয়ই তিনি মহৎ নারী ছিলেন। মহৎ এবং ভালোরা যুগ যুগ ধরে বহমান থাকে। রাবেয়া খাতুন চলে গেলেও তাঁর কর্ম, সৃষ্টি, উদ্যোগ এবং উদারতা কালের সাক্ষী হয়ে থাকবে চিরকাল। বিশেষ করে কামালবাজারে প্রতিষ্ঠিত তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিদিন স্মরণ করিয়ে দেয় মহীয়সী এই নারীকে।
পরিশেষে, একটি কথা বলব মানুষ তার কর্মের মাধ্যমে আজীবন বেঁচে থাকে। যেমনটা করে গেছেন বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। এই মহয়ীসী নারীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হবে আমাদের নারীসমাজ, এমনকি রাষ্ট্র পরিচালনায়ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবে। তাঁর মতো মহিলা ঘরে ঘরে জন্ম হোক। বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী আজ শুধু একটি নাম নয়, একটি ইতিহাসও বটে। দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী কি না করছেন তাঁর স্ত্রীকে ঐতিহাসিকভাবে স্মরণীয় করার জন্য। তবে তাঁর সব মহৎকর্ম সফল হবে যখন জ্ঞানপিপাসুরা ছুটে আসবেন কামালবাজারে রাগীব-রাবেয়াকে জানার অন্বেষণে।

লেখক : কলামিস্ট

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

বিশেষ সংখ্যা এর আরো সংবাদ
  • বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় কবি নজরুল
  • বঙ্গবন্ধুর জীবনালোচনায় কিছু কথা ও কাহিনী
  • বঙ্গবন্ধুকে কাছে থেকে দেখার টুকরো স্মৃতি
  • মুজিববর্ষের তাৎপর্য
  • মাতৃভাষা আন্দোলন ও সিলেট
  • ভাষাশহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা : ইসলামি দৃষ্টিকোণ
  • দেশে বিদেশে গৌরবের শহীদ মিনার
  • বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষা চর্চা
  • মানুষ জন্মগত বিজয়ী, পরাজয় মানে না
  • মুক্তিযুদ্ধ ও নদী
  • আমাদের মুক্তিযুদ্ধ
  • তিনি আজও আমার সব কর্মের প্রেরণা
  • রাগীব আলীর উন্নয়নের পৃষ্ঠপোষক
  • একজন বিচক্ষণ সম্পাদক আমার মা
  • একজন মহীয়সী নারী
  • রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ও সিলেটের ডাক
  • অনন্যা
  • স্মৃতিতে ভাস্বর রাবেয়া খাতুন চৌধুরী
  • বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী এক মহীয়সী নারীর কথা
  • তিনি বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী
  • Developed by: Sparkle IT