বিশেষ সংখ্যা

সফল সমাজকর্মী বেগম রাবেয়া

মো. আতাউর রহমান খান শামছু প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১২-২০১৯ ইং ০০:৫৬:০০ | সংবাদটি ২৫৭ বার পঠিত
Image

সমাজহিতৈষী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী সমাজের কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। তিনি তাঁর জীবনসঙ্গী দানবীর ড. রাগীব আলী সাহেবকে সাথে নিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধা, বিধবা, হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে সদা কাজ করে গেছেন। তাঁর অনুপ্রেরণা ও সুপরামর্শে দানবীর ড. রাগীব আলী সাহেব শিক্ষা চিকিৎসাসহ নানাবিধ কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। এই মহীয়সী নারীর অবদান মানুষ কখনও ভুলবে না। চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন প্রতিটি নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষের অন্তরে।
দানবীর রাগীব আলী সাহেবের সহধর্মিনী রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর উৎসাহ ও প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অসংখ্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সিলেটের প্রথম বেসরকারি মেডিকেল কলেজ জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। যা বৃহত্তর সিলেটের সর্বস্তরের মানুষের সুচিকিৎসার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে তিনি বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশটির এক বিশাল জনগোষ্ঠী প্রতিবন্ধীতার শিকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশের শতকরা ১০% লোক কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। এই বিশাল প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭৫% লোকই দরিদ্র। তারা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থানের ন্যায় মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং সবচেয়ে অবহেলিত। এদেশের বেশির ভাগ প্রতিবন্ধী দরিদ্রতার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই প্রেক্ষাপটে মহানুভবতার পরিচয় দিয়ে মানবীয় গুণাবলীর অধিকারী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ও তাঁর জীবনসঙ্গী ড. রাগীব আলী সাহেবের গড়া প্রতিষ্ঠান ‘রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন’ এর মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আর্থিক অনুদান পেয়ে থাকে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সর্বক্ষেত্রে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গড়ে তোলেন শাহজালাল রাগীব-রাবেয়া প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্র। সিলেটের শিক্ষাক্ষেত্রে অনন্য নজির স্থাপনকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘লিডিং ইউনিভার্সিটি’। আরও রয়েছে অসংখ্য মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজ যা সমাজের অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করে শিক্ষার আলোর বিস্তার করেছে।
মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এ সকল সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ছিল তাঁর সদা বিচরণ। আজ যদিও তিনি আমাদের মধ্যে উপস্থিত নেই, কিন্তু তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবেন চিরকাল। তাঁর স্মৃতি অম্লান হয়ে আছে তার সান্নিধ্য পাওয়া প্রত্যেকটি মানুষের হৃদয়ে। প্রতি বছর ১২ ডিসেম্বর পালিত হয় বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী। রাগীবনগরে তাঁর সমাধিস্থলে জড়ো হন শত সহস্র মানুষ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত মানুষের ঢল নামে উক্ত স্থলে। সেদিন দেখা যায় কেউ কবর জিয়ারত করছেন, কেউ বা মরহুমার মাগফিরাত কামনা করছেন, আবার কেউ বা কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন। সবাই ভারাক্রান্ত অশ্রুসজল নয়নে আবেগ আপ্লুত হচ্ছেন। তাই তো কবির ভাষায় বলতে হয়-
‘এমন জীবন করো হে গঠন,
মরিলে হাসিবে তুমি, কাঁদিবে ভুবন।’
এই মানবদরদী মহিয়সী নারীর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মানুষের সেবা ও কল্যাণ সার্বোত্তম এবাদত। আর এই এবাদতেই রত ছিলেন বেগম রাবেয়া খাতুন সর্বদা। উনার জীবনের উদ্দেশ্যই হয়ত ছিল ¯্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি মানবসেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা। তাই জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি মানুষের সেবায় কাজ করে গেছেন। এই মহান ব্যক্তিত্ব আজ আমাদের ছেড়ে পরকালে চলে গেছেন। আমরা তাঁর পরকালের জীবনের শান্তি কামনা করি। আল্লাপাক যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।
লেখক : সভাপতি, রহমানিয়া প্রতিবন্ধী কল্যাণ ফাউন্ডেশন, সিলেট

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

বিশেষ সংখ্যা এর আরো সংবাদ
  • আদর্শ সাংবাদিকতার ধারক
  • শুভ কামনা দৈনিক সিলেটের ডাক
  • শুভ জন্মদিনে আলোকপাত
  • তরুমনি, জন্মদিনে যাচ্ছি
  • সিলেটের ডাক : সিলেটের সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
  • জন্মদিনের শুভেচ্ছা
  • সাঁইত্রিশের তারুণ্যে উদ্দীপ্ত আমরা
  • পাঠক-প্রত্যাশার সবটুকুই পূরণ করতে চাই
  • বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও সিলেটের ডাক
  • জন্মদিনের শুভেচ্ছা
  • সিলেটের ডাক : সময়ের সাথে প্রাসঙ্গিক একটি সংবাদপত্র
  • সিলেটের ডাক : আমাদের সংবাদপত্র
  • পাঠকের নির্ভরযোগ্য বন্ধু
  • সিলেটের ডাক এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কিছু কথা
  • সিলেট অঞ্চলের শীর্ষ দৈনিক
  • দৈনিক সিলেটের ডাকের জন্মদিনে
  • বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় কবি নজরুল
  • বঙ্গবন্ধুর জীবনালোচনায় কিছু কথা ও কাহিনী
  • বঙ্গবন্ধুকে কাছে থেকে দেখার টুকরো স্মৃতি
  • মুজিববর্ষের তাৎপর্য
  • Image

    Developed by:Sparkle IT