বিশেষ সংখ্যা

অনন্যা

ওয়াহিদ সারো প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১২-২০১৯ ইং ০১:০১:৫১ | সংবাদটি ১৯৯ বার পঠিত

আজ ১২ ডিসেম্বর। রাগীব-রাবেয়া ডিগ্রি কলেজ তথা অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোঃ ফাউন্ডার বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর ত্রয়োদশ মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৬ সালের এই দিনে তিনি আমাদের ছেড়ে না-ফেরার দেশে চলে যান।
মানুষ বাঁচে তাঁর কর্মের মাধ্যমে। মহৎ কর্মগুলোই অমরত্বের কষ্টিপাথরে খোদাই করে মানুষের অন্তরের বন্দরে সযতেœ পরম ভালোবাসায় স্থান করে নেয়। দ্যুতিময় হয়ে উঠে ইতিহাসের পাতা। সেখানে বিত্তের বেসাতির গরমায়ী কিংবা বংশকৌলিন্যের ঔদ্ধত্ত জীবনাচার আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর অঢেল ধন সম্পদ ও বংশমর্যাদা থাকা সত্ত্বেও তাঁর মধ্যে ছিলনা কোন অহংবোধের ছাপ, ছিলনা কোন কর্তৃতের হম্বি তম্বি, চলনে বলনে ছিলনা কোন প্রাচুর্যের লম্পজম্ফ। যারা তাঁকে দেখেছেন তারা দ্বিধাহীন কন্ঠে স্বীকার করবেন, তিনি আঠপৌরে পোশাক পরিধান করতেন এবং সহজ সরল জীবন যাপনে অভ্যস্ত ও সাচ্ছন্দে ছিলেন। তিনি মানুষের সুখ দুঃখে এমনভাবে মিশে যেতেন, অতি সাধারণও ভেবে নিতো তিনি তাদেরই মতো। তিনি দৈহিক সৌন্দর্যের মোহকে অবলীলায় অতিক্রম করে শাশ্বত সুন্দর ও কল্যাণের পথে নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন বলেই তিনি আজ মৃত্যুঞ্জয়ী। বর্তমান বিশ্বের ক্রমবর্ধমান ঈর্ষনীয় জনপ্রিয় ফার্সী ভাষার কবি মৌলানা জালাল উদ্দিন রুমির মসনবী থেকে দুটি পঙক্তি উচ্চারণ করার লোভ সামলাতে পারছিনা;
‘ঈঁজাহা কুহাস্ত ওফেলে মা নেদা,/ছুয়ে মা আয়েদ নেদাহারা ছদা।’
‘এ জগত পাহাড়স্বরূপ, আর আমাদের কাজকর্ম আওয়াজ স্বরূপ। পাহাড়ের নিকটবর্তী আওয়াজ করলে প্রতিধ্বনিরূপে তা আমাদের প্রতি ফিরে আসবেই।অর্থাৎ প্রত্যেকের কর্মের প্রতিফলন তাঁর উপর আসবেই।’
দানবীর ড. রাগীব আলী ও তাঁর সহধর্মীনী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর কর্মেও আওয়াজ পাহাড় স্বরূপ। জগতের মধ্যে বাতাসে শুধু প্রতিধ্বনিই করছেনা, তাদের প্রতিষ্ঠিত নিদর্শনগুলো কল্পনাকেও অতিক্রম করে বাস্তবে বিরাজিত।
দানবীর রাগীব আলী সাহেবের সুনাম ও খ্যাতি আজ চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তার পেছনে যাঁর সব চাইতে বেশি অবদান তিনি মহীয়সী নারী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। তাঁর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা না-থাকলে তিনি সমাজকল্যাণ কিংবা মানবকল্যাণে এতটা ব্রতী হতে পারতেন কিনা সন্দেহের অবকাশ থাকে। যিনি নিজের সুখ সমাজকে বিলিয়ে দিয়েছেন। নিজের ব্যক্তিগত সুখ স্বাচ্ছন্দকে পাত্তা না-দিয়ে অসহায়-দুঃখী মানুষের আনন্দের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছেন। আজকের সমাজ বাস্তবতার নিরিখে অঢেল ধনসম্পদ ও প্রাচুর্যের মধ্যে উচ্চশ্রেণিতে যাদের বসবাস। তাদের চিন্তা-চেতনা সাধারণের থেকে যোজন যোজন মাইল দূরে, স্বপ্নে ও ধরা যায় না। বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত এসব মানুষ সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে না, অসহায় গরিব-দুঃখী মানুষের দিকে তাকায় না। আর যারা তাকায় তারা ব্যতিক্রমী, হয়তো তাদের জন্যই দুনিয়া টিকে আছে।
তাদের একজন বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। যিনি সাধারণ মানুষের কল্যাণে চিন্তায় নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে মানুষের মনের গহিনে ঠাঁই করে নিয়েছেন।
‘সেই ধন্য নরকুলে/লোকে যারে নাহি ভুলে/মনের মন্দিরে নিত্য সর্বজন।’
বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর কর্মই আজ মানুষের কাছে ধন্য হয়েছে। তাঁর কর্মই তাঁকে স্থান করে দিলো ইতিহাসের পাতায়। অমরত্বের কষ্টি পাথরে নিষিক্ত হয়ে ধ্রুবতারার মতো তাঁকে দিয়েছে উজ্জ্বলতা। সেই উজ্জ্বল আলোর দ্যুতিময়তা ঠিকরে ঠিকরে পড়ছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।
বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ধনসম্পদ ও প্রাচুর্যের মোহে অন্ধ না-হয়ে অতি সাধারণ আটপৌরে জীবনকে বেঁচে নেন। সোনা গয়না নামিদামি অলংকারের খোলসে নিজেকে আবৃত না-করে তথাকথিত অভিজাত শ্রেণিকে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করে মাটি ও মানুষের কল্যাণে নিমগ্ন হয়ে স্বামীকে শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবার জন্য অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ দেন। সেই উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় ১৯৭১ সালের তাঁর শ্বশুর হাজি রাশীদ আলীর নামে বৃহত্তর কামালবাজার এলাকায় প্রথম হাইস্কুল ‘হাজি রাশীদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়’ গড়ে তোলেন দানবীর রাগীব আলী। বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী স্বপ্ন ও আদর্শে গড়া এই বিদ্যাপীঠ এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেবার ক্ষেত্রে বিশেষ করে নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব জাগরণের সূচনা করে। তবে এখানেই থেমে নেই তাঁর অনুপ্রেরণা। রাগীব আলী সাহেব এলাকার গরিব-দুঃখী অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য গড়ে তোলেন ‘রাবেয়া বানু জেনারেল হাসপাতাল’। পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের যতেœর জন্য গড়ে তোলেন ‘রাবেয়া বানু মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র’। ‘জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’, রাগীব-রাবেয়া দম্পতির গড়া বাংলার এক অনবদ্য সৃষ্টি, এক অনন্য ইতিহাস। সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটি তাদেরই আরেক উজ্জ্বল অবদান। তাদের জীবনের আদর্শ এক স্বপ্নময় জীবনের কথা বলে। তাদের উদ্দেশ্য, আদর্শ ও কর্মময় জীবনের সাথে বাস্তবতার পরখনীতি ও দর্শন জগৎময় উদ্ভাসিত হয়। কবির ভাষায় বিকশিত হয়ে ওঠে যেন এভাবেÑ
‘অন্নহীনে অন্নদান বস্ত্রহীনে বস্ত্র/তৃষ্ণাতুরে জলদান ধর্মহীনে ধর্ম/মূর্খজনে বিদ্যা দান বিপন্নে আশ্রয়/রোগীকে ঔষধ দান ভয়ার্তে অভয়/গৃহহীনে গৃহদান অন্ধরে নয়ন/স্বার্থ শূন্য হয় যদি এ দ্বাদশ দান/স্বর্গের দেবতা নহে দাতার সমান।’
দ্বাদশ দানের এ কাব্যিকতাকে অতিক্রম করে রাগীব-রাবেয়া দম্পতি গদ্যময় বাস্তবতার এক অসাধ্য সাধনের নজির সৃষ্টি করেছেন। বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় রাগীব আলী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দেশব্যাপী অসংখ্য অগণিত প্রতিষ্ঠান, জনহিতকর কার্যাবলী ও স্থাপত্য কীর্তি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। যার তালিকা কিংবা হিসাব একমাত্র তাদেরই প্রতিষ্ঠিত ‘রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন’ দিতে পারে। তারা নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা বিষয় নিয়ে কাজ করেননি। মানবকল্যাণের সকল দিগন্ত জুড়ে অত্যন্ত সফল ও বিস্ময়করভাবে কাজ করে কীর্তিমান হয়েছেন।
সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকেই নর এবং নারী একে অপরের পরিপূরক। জীবনের স্পন্দনে নরনারী সৃষ্টি সুখের উচ্ছ্বাস কিংবা উল্লাসে সমমুগ্ধতায় জয়গান গেয়েছে। মহান সৃষ্টিকর্তা নরনারীকে একে অন্যের পরিচ্ছদরূপে তার কালামে পাকে ঘোষণা করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব নারী স্বীয় প্রজ্ঞা, কর্ম ও গুণাবলী দ্বারা বিকশিত হয়েছেন, তাদের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। ফ্লোরেন্স নাইটেঙ্গেল, মাদার তেরেসা, স¤্রাজ্ঞী নূরজাহান, ঝাসির রানি, প্রীতিলতা, বেগম রোকেয়া, নবাব ফয়জুননেছা শাশ্বত নারী হৃদয়ের প্রতীক। তাদেরই আদর্শের এক নবধারার রূপায়িত উত্তরসূরী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বলরামের চক গ্রাম হচ্ছে বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর পিতৃপুরুষের আদি নিবাস। কিন্তু তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা সিলেট শহরের আম্বরখানার সাপ্লাই রোডের ঐতিহ্যবাহী (পাক্কাবাড়ি) মাহফিজ হাউজে। ১৯৪৬ সালের ৫ এপ্রিল তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মরহুম ইরফান আলী চৌধুরী ও মায়ের নাম মরহুমা নাঈমা বানু চৌধুরী। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। মা-বাবা তাঁকে আদর করে ডাকতেন ‘লনী’। পরবর্তীকালে দানবীর ড. রাগীব আলী সাহেবও তাঁর সহধর্মিণীকে আদর করে ‘লনী’ নামেই ডাকতেন। তিনি কিশোরী মোহন বালিকা বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাশ করে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি হন এবং এ সময়েই লন্ডন প্রবাসী সুদর্শন তরুণ রাগীব আলী সাহেবের সাথে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ে হয়।
মাতৃ¯েœহের তো কোনো পরিমাপ যন্ত্র নেই। কোনো কৃত্রিমতা নেই, এ ¯েœহ অকৃত্রিম এবং স্বর্গীয়। তাঁর কাছ থেকে আমি যে ¯েœহ পেয়েছি, সে ঋণ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করা যায় না। চাকরির সুবাদে ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে আমি রাগীব-রাবেয়া পরিবারভুক্ত। প্রাতিষ্ঠানিক কাজ ছাড়াও মালনিছড়া বাংলোয় যেকোনো আচার অনুষ্ঠান হলে আমি যেতাম। অসংখ্য অগণিত বার গিয়েছি, এখনো যাই, (পার্থক্য অনেক) আগে বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর সরব উপস্থিতি সমস্ত বাংলোয় আনন্দময় প্রাণের সঞ্চার ছিল। এখন কেমন একটা শূন্যতা হৃদয় জুড়ে হাহাকার করে। বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর কর্মময় জীবনের দ্যুতিময়তা বলে শেষ করা যাবে না। ১৯৯৫ সালে বিশ্বনাথ উপজেলার একমাত্র ডিগ্রি কলেজরূপে যখন দক্ষিণ সুরমা ও বিশ্বনাথের এক ব্যাপক জনপদ জুড়ে উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয় ‘রাগীব-রাবেয়া ডিগ্রি কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করে। সেই থেকে এলাকার ছেলে হিসেবে আমিও মনে করি রাগীব-রাবেয়া পরিবারের একজন গর্বিত সদস্য। গর্বিত এ কারণেই রাগীব-রাবেয়া দম্পতির পুত্রসম ¯েœহ ও ভালোবাসা আমাকে কৃতজ্ঞতার মায়া ডোরে বেঁধে নিয়েছে।
বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী অতি সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতেন। তাঁর মধ্যে কোনো গরিমা বা অহংকার কখনো দেখিনি। সাধারণ বেশভূষা ও শাড়ি পরে চলাফেরা করতেন। ডায়াবেটিসের কারণে নিজে পরিমিত আহার নিতেন কিন্তু অন্যকে আপ্যায়ন করিয়ে খুব আনন্দ পেতেন। ঢাকা থেকে বিভিন্ন স্বাদের মিষ্টি নিয়ে আসতেন। গাজরের হালুয়া নিজ হাতে বানাতেন। আমি যতবার বাংলোয় গিয়েছি একদম ডাইনিং টেবিলে বসিয়ে নিজ হাতে পরিবেশন করে আমাকে খাওয়াতেন। আমাদের খাইয়েই যেন তিনি আনন্দ পেতেন। তিনি ছিলেন খুবই বন্ধুসুলভ, সত্যকে অকপটে প্রকাশ করার তাঁর ছিল অসাধারণ সাহস ও ক্ষমতা। তিনি অন্তরঙ্গ মুর্হূতে অনেক কথাই আমাদের বলতেন। তাঁর শৈশবের কথা, স্কুল জীবনের কথা, কলেজ জীবনের কথা, বিবাহ পরবর্তী লন্ডনে অবস্থানকালীন কর্মময় জীবনের কথা। শ্বশুরবাড়ির কথা। ১৯৬৩ সালে যখন বিয়ে হয়ে প্রথম শ্বশুরবাড়িতে আসেন, সেই সময়কার কামালবাজার এলাকার অবকাঠামো ও আর্থসামাজিক অবস্থার কথা। পরিবেশ ও পরিস্থিতির কথা। সে সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাহীন এক বিচ্ছিন্ন জনপদ ছিল কামালবাজার এলাকা। বাসিয়া নদীর ওপর কোনো ব্রিজ না-থাকায় খেয়া নৌকার সাহায্যে পার হয়ে তবেই শহরে যাবার একমাত্র ব্যবস্থা ছিল। বিয়ের সময় রাস্তাঘাট না-থাকায় শুকনো মওসুমে শুকিয়ে যাওয়া নদীর ভিতর দিয়ে ও জমির আল কেটে ডাইর্ভাশন করে নব বধূর গাড়ি প্রথম শ্বশুরবাড়িতে প্রবেশ করে। সেই সময়ের স্মৃতি তার মধ্যে দাগ কাটে। যার ফলশ্রুতিতে স্বামী দানবীর রাগীব আলী সাহেবকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার যে সঞ্জীবনী শক্তি যোগান, তাতেই সৃষ্টি হয় বাসিয়া নদীর ওপর ‘রাগীব আলী সেতু’। যেটি বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ১৯৯১ সালে উদ্বোধন করেন। সেখানে রাস্তা বলতে জমির রাজআইল ছিল। কাঁদা আর ধুলিতে একাকার হয়ে শুধু মানুষজন চলাফেরা করত, যেখানে বিশাল পিচঢালা পথ তৈরি করেন দানবীর রাগীব আলী। আজ সে রাস্তা দিয়ে বড়ো বড়ো ট্রাক বাস ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দামি দামি গাড়ি চলাফেরা করে। যোগাযোগ ও শিক্ষার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অবদান রেখে আজ কামালবাজার এলাকা অত্যাধুনিক উপশহরে পরিণত হয়েছে। কী নেই সেখানে, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ফোন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ইউনিভার্সিটি, স্পোর্টস একাডেমি, হাসপাতাল, মাতৃসদন, পোস্ট অফিস, অন লাইন ভিত্তিক বেতার ও টিভি সম্প্রচার কেন্দ্র সবই আছে। এসবের নেপথ্যশক্তি ও প্রেরণার উৎস বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। ফুলের সৌরভ ও সুগন্ধি প্রকৃতির অমোঘ নিয়মেই ছড়াবে, কে তাতে আস্বাদিত হলো কী হলো না, তাতে কিছুই যায় আসে না। মহৎ জীবন তার আপন মহিমায় বিকশিত হবে। কে স্বীকৃতি দিলো কিংবা দিলো না তাতে মহৎ কর্মের বল থেমে যায় না। ফুলের সৌরভ যেভাবে কাউকে তোয়াক্কা না-করে ছড়াবেই তেমনি মহৎ কর্ম মানুষের কাছে উজ্জীবিত হয়ে ইতিহাস হবেই।
লেখক : অধ্যক্ষ, রাগীব-রাবেয়া ডিগ্রি কলেজ, সিলেট।

 

 

 

 

 

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

বিশেষ সংখ্যা এর আরো সংবাদ
  • বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় কবি নজরুল
  • বঙ্গবন্ধুর জীবনালোচনায় কিছু কথা ও কাহিনী
  • বঙ্গবন্ধুকে কাছে থেকে দেখার টুকরো স্মৃতি
  • মুজিববর্ষের তাৎপর্য
  • মাতৃভাষা আন্দোলন ও সিলেট
  • ভাষাশহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা : ইসলামি দৃষ্টিকোণ
  • দেশে বিদেশে গৌরবের শহীদ মিনার
  • বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষা চর্চা
  • মানুষ জন্মগত বিজয়ী, পরাজয় মানে না
  • মুক্তিযুদ্ধ ও নদী
  • আমাদের মুক্তিযুদ্ধ
  • তিনি আজও আমার সব কর্মের প্রেরণা
  • রাগীব আলীর উন্নয়নের পৃষ্ঠপোষক
  • একজন বিচক্ষণ সম্পাদক আমার মা
  • একজন মহীয়সী নারী
  • রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ও সিলেটের ডাক
  • অনন্যা
  • স্মৃতিতে ভাস্বর রাবেয়া খাতুন চৌধুরী
  • বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী এক মহীয়সী নারীর কথা
  • তিনি বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী
  • Developed by: Sparkle IT