বিশেষ সংখ্যা

রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ও সিলেটের ডাক

ব্রজেন্দ্র কুমার দাস প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১২-২০১৯ ইং ০১:০৩:২৬ | সংবাদটি ৪০৯ বার পঠিত
Image

সংবাদপত্র তথা পত্র পত্রিকার জগৎটি এমন এক জগৎ যা সরাসরি জনগণের সাথে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে পাঠক সমাজের চিন্তা-চেতনা-মনমানসিকতা-সাহিত্য-সংস্কৃতি-রাজনীতি সমাজনীতি, ধর্ম ভাবনা ইত্যাদিসহ জীবনের সব কিছুকে নিয়েই সংবাদপত্রের চলাফেরা। নিজস্ব আদর্শ-উদ্দেশ্য ধারণ করে টিকে থাকা। মানুষের মনের চাহিদা পূরণ করা। সাংবাদিকতার একটা নীতি আছে। আছে আদর্শ। সেই আদর্শ বা নীতি থেকে সরে দাঁড়ালেই ঘটে যত বিপর্যয়। তবে সে পথ কখনো ফুল বিছানো ছিল না। আজও নেই। শত্রু থাকে মানুষের। পত্র-পত্রিকার আবার শত্রুমিত্র কিসের। অবশ্যই এখানে শত্রুমিত্রের বিষয়টি জড়িত আছে। শত্রু মানুষের দেহের নয়, মনের। ধরে নিতে পারি। একাত্তরে তো দেশে অনেক পত্র পত্রিকাই ছিলো কিন্তু কোনটির ওপরইতো পাকিরা হামলা করেনি! গুড়িয়ে দিয়েছিলো ঐ দুটির অফিস। বন্ধ করেছিলো এগুলোর প্রকাশনা। কিন্তু সেগুলো তো আজো টিকে আছে আপন মহিমায়। অন্যসবই তো হারিয়ে গেছে কালের ¯্রােতে।
প্রশ্ন আসে- এমনটি কেন হলো? এতে কি এমন যাদু আছে এর পেছনে? উত্তর একটাই দক্ষ পরিচালনা শক্তি। নীতি আদর্শ। যেকোন পত্রিকার প্রাণশক্তি সম্পাদকের দক্ষতা, নিষ্ঠা, দূরদর্শিতা। সেটা যেমন জাতীয় যেকোন পত্রিকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তেমনি স্থানীয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রেও তেমনিভাবে প্রযোজ্য। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় জেলা শহর, বিভাগীয় শহর থেকে বেশ কিছু সংখ্যক সাপ্তাহিক, পাক্ষিক মাসিক ত্রৈমাসিক এবং দৈনিক পত্রিকা বের হয়ে থাকে কিন্তু কিছুদিন প্রকাশিত হবার পর বন্ধ হয়ে যায় প্রকাশনা। শুধু স্থানীয়ই নয় জাতীয় পত্রিকার ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে থাকে। যে যাই বলুন না কেন, এক্ষেত্রে দৈনিক ‘সিলেটের ডাক’ পত্রিকাটির অবস্থান বাস্তবিকই অন্য রকম। এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ‘সিলেটের ডাক’ এর সম্পাদকের দায়িত্বভার নেবার পর থেকে পত্রিকাটিকে আর পেছনের দিকে তাকাতে হয়নি। সুনামের সঙ্গে অগণিত পাঠকের মনোযোগ বা দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছে। এখনো দাপটের সঙ্গেই টিকে আছে। যার ভিত্তি গড়ে গেছেন ‘সিলেটের ডাক’ এর প্রয়াত সম্পাদক রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। আজকের ‘সিলেটের ডাক’-কে অনেকে বলেন, ‘সিলেটের প্রথম আলো’। এর সত্য মিথ্যা জানি না। তবে এর বিন্দুমাত্রও যদি সত্য হয় তার অবদান রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর। কারণ এর ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন সফল সম্পাদক রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। যতটুকু জানা যায় ‘ডাক’ পরিবারের ছোট বড় সকল সদস্যের প্রতি ছিলো অমায়িক ব্যবহার। তার মাতৃ¯েœহ ঋদ্ধ আচার-ব্যবহারের জন্য সবাই আন্তরিকতার সহিত করে যাবার ফলেই টিকে আছে শক্ত অবস্থানে সিলেটের ডাক।
আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন,
‘এজগতে যাহা কিছু কল্যাণকর
তার অর্ধেক করেছে নারী অর্ধেক তার নর।’
এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ রাবেয়া খাতুন চৌধুরী।
কি ব্যক্তি জীবন, কি পারিবারিক-সাংসারিক জীবন সর্বক্ষেত্রেই তিনি একজন সফল নারী ছিলেন। তিনি সারাটা জীবন ছায়ার মতো কর্মবীর স্বামীর পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন, অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তাঁর সুযোগ্য স্বামী শিক্ষানুরাগী ডক্টর রাগীব আলী সিলেটসহ সারা দেশে শিক্ষা বিস্তারে যে ঈর্ষণীয় অবদান রেখেছেন এর পেছনে শক্তি জুগিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন সুযোগ্যা সহধর্মিনীর ভূমিকায় প্রয়াত রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। এর ফলশ্রুতিতেই সিলেটবাসী পেয়েছেন সিলেটে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটি, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি স্বামীর সুযোগ্য ব্যবসায়ীক পার্টনারও ছিলেন রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। বাংলাদেশের একজন নারীর ক্ষেত্রে এটা কি কম কথা! অবশ্যই নয়।
সিলেটের ডাক এর সফল সম্পাদক রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর প্রয়ান দিবসে জানাই গভীর শ্রদ্ধা।
লেখক : মুক্তিযোদ্ধা, কলামিস্ট

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

বিশেষ সংখ্যা এর আরো সংবাদ
  • আদর্শ সাংবাদিকতার ধারক
  • শুভ কামনা দৈনিক সিলেটের ডাক
  • শুভ জন্মদিনে আলোকপাত
  • তরুমনি, জন্মদিনে যাচ্ছি
  • সিলেটের ডাক : সিলেটের সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
  • জন্মদিনের শুভেচ্ছা
  • সাঁইত্রিশের তারুণ্যে উদ্দীপ্ত আমরা
  • পাঠক-প্রত্যাশার সবটুকুই পূরণ করতে চাই
  • বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও সিলেটের ডাক
  • জন্মদিনের শুভেচ্ছা
  • সিলেটের ডাক : সময়ের সাথে প্রাসঙ্গিক একটি সংবাদপত্র
  • সিলেটের ডাক : আমাদের সংবাদপত্র
  • পাঠকের নির্ভরযোগ্য বন্ধু
  • সিলেটের ডাক এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কিছু কথা
  • সিলেট অঞ্চলের শীর্ষ দৈনিক
  • দৈনিক সিলেটের ডাকের জন্মদিনে
  • বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় কবি নজরুল
  • বঙ্গবন্ধুর জীবনালোচনায় কিছু কথা ও কাহিনী
  • বঙ্গবন্ধুকে কাছে থেকে দেখার টুকরো স্মৃতি
  • মুজিববর্ষের তাৎপর্য
  • Image

    Developed by:Sparkle IT