বিশেষ সংখ্যা

একজন মহীয়সী নারী

সাদিকা জান্নাত চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১২-২০১৯ ইং ০১:০৪:১১ | সংবাদটি ৩৯৯ বার পঠিত
Image

আমি একজন মহীয়সী নারীর কথা বলছি। দানবীর রাগীব আলীর সামাজিক কর্মকান্ড সম্পর্কিত সকল কার্যক্রমে তাঁর ছায়া আমি দেখি। তাঁর ¯েœহ-সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য আমার হয়নি। কারণ তাঁর সাজানো গোছানো সংসারে আমি যুক্ত হয়েছি এই মহীয়সী নারীর প্রয়াণের পরে। তিনি নেই। কিন্তু ছায়ার মত সব সময় যেন তিনি আমার সঙ্গে আছেন। এই মহীয়সী নারী আমার শাশুড়ি মা বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। ২০০৬ সালের ১২ ডিসেম্বর এই মহীয়সী নারী চারপাশের মানুষকে কাঁদিয়ে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমান।
আমার শ্বশুর আব্বা দানবীর ড. রাগীব আলী একজন গোছানো মানুষ। এতো বড় একজন মানুষ তিনি, এতো এতো প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার, এতো এতো ব্যস্ততা, তবুও রুটিনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনা তাঁর। রুটিনমাফিক চলে তাঁর জীবনযাত্রা। এতো রুটিন মেনে চলা মানুষ আমি জীবনে খুব কম দেখেছি। তাঁর প্রতিটি দিনের কর্মকান্ডে একটি চেইন বিদ্যমান। যেন আগে থেকে স্ক্রিপ্ট তৈরি করা। এই যে এতো ডিসিপ্লিন, এটা তাঁর জীবনসঙ্গীনীর প্রভাবে। কারণ আমার শাশুড়ি বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী অসম্ভব গোছানো একজন মহিলা ছিলেন। তিনি ছিলেন আমার শ্বশুর আব্বার প্রধান পরামর্শক, নিবেদিত ছায়াসঙ্গী। তিনি ছিলেন আদর্শ গৃহিণী। আদর্শ স্ত্রী। আদর্শ মা। একটা সংসার কীভাবে সাজাতে হয়, তাঁর ছায়া না দেখলে আমি বুঝতে পারতাম না।
বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ছিলেন দানবীর ড. রাগীব আলীর প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের কো-ফাউন্ডার। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, দাতব্য প্রতিষ্ঠানসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার দেখভাল করতেন তিনি। সুষ্ঠুভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের-কর্মকর্তা কর্মচারীদের সুখ-দুঃখের অংশীদার ছিলেন তিনি। ছিলেন অত্যন্ত নিরহংকার ব্যক্তিত্বের অধিকারী। অনায়াসে মিশতেন সবার সাথে। সবার সুখ-দুঃখের গল্প শুনতেন। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। ছিলেন সকলের মধ্যমণি। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁকে ভালোবেসে খালাম্মা বলে ডাকতেন। তিনি ছিলেন সবার প্রিয় খালাম্মা। ছিলেন একজন ত্যাগী মহিলা। গরীব দুঃখী মানুষের আপনজন। কোনো মানুষ তাঁর কাছে এসে খালি হাতে যেতো না।
অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের কো-ফাউন্ডার এই মহিলা প্রাত্যহিক নানা কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি একটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতেন। সেটা হলো এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় খবরের কাগজ দৈনিক সিলেটের ডাকের সম্পাদনা। তিনি ছিলেন দৈনিক সিলেটের ডাকের সফল সম্পাদক। নিজের সংসারটাকে যেমন সাজিয়ে গুছিয়ে পরিপাটি রাখতেন, তেমনি দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকাটিকে সাজিয়েছিলেন পরম যতেœ। যে কারণে পত্রিকাটি সিলেটের মাটি ও মানুষের মুখপত্রে পরিণত হয়। আজ মহীয়সী এই নারীর ত্রয়োদশ মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর রেখে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চোখের জলে আজ তাকে স্মরণ করবেন। চোখের জল ফেলে তাঁর জন্য মোনাজাত করবেন। মহান প্রভুর দরবারে তাঁর মাগফেরাত কামনা করবেন। তাঁর জন্য জান্নাতের উঁচু মাকাম কামনা করবেন। যেমনটা কামনা করেছেন বিগত ১২টি বছর ধরে। আমি মহান আল্লাহপাকের দরবারে এই মহীয়সী নারীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহপাক তাকে জান্নাতের উচ্চস্থানে সমাসীন করুন। আমিন!
লেখক : সদস্য, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

বিশেষ সংখ্যা এর আরো সংবাদ
  • বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় কবি নজরুল
  • বঙ্গবন্ধুর জীবনালোচনায় কিছু কথা ও কাহিনী
  • বঙ্গবন্ধুকে কাছে থেকে দেখার টুকরো স্মৃতি
  • মুজিববর্ষের তাৎপর্য
  • মাতৃভাষা আন্দোলন ও সিলেট
  • ভাষাশহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা : ইসলামি দৃষ্টিকোণ
  • দেশে বিদেশে গৌরবের শহীদ মিনার
  • বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষা চর্চা
  • মানুষ জন্মগত বিজয়ী, পরাজয় মানে না
  • মুক্তিযুদ্ধ ও নদী
  • আমাদের মুক্তিযুদ্ধ
  • তিনি আজও আমার সব কর্মের প্রেরণা
  • রাগীব আলীর উন্নয়নের পৃষ্ঠপোষক
  • একজন বিচক্ষণ সম্পাদক আমার মা
  • একজন মহীয়সী নারী
  • রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ও সিলেটের ডাক
  • অনন্যা
  • স্মৃতিতে ভাস্বর রাবেয়া খাতুন চৌধুরী
  • বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী এক মহীয়সী নারীর কথা
  • তিনি বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী
  • Image

    Developed by:Sparkle IT