প্রথম পাতা

খালেদার জামিন আবেদন সর্বোচ্চ আদালতেও নাকচ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-১২-২০১৯ ইং ০৪:৩০:২৪ | সংবাদটি ১১২ বার পঠিত

ডাক ডেস্ক : জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দ-িত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন সর্বোচ্চ আদালতেও নাকচ হয়ে গেছে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ৬ বিচারকের আপিল বেঞ্চ গতকাল
বৃহস্পতিবার
সর্বসম্মত এই সিদ্ধান্ত দেন।
বিএনপি
চেয়ারপারসনের সম্মতি থাকলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
হাসপাতালের
মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দ্রুত ‘অ্যাডভানসড
ট্রিটমেন্ট’ দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে বলেছে আপিল বিভাগ।
জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাত বছরের সাজার রায়ের পর হাই কোর্টে আপিল করে জামিন চেয়েছিলেন তার আইনজীবীরা।
অপরাধের গুরুত্ব, সংশ্লিষ্ট আইনের সর্বোচ্চ সাজা এবং বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদাসহ অন্য আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত- এ তিন বিবেচনায় হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ৩১ জুলাই আবেদনটি খারিজ করে দিলে খালেদার
আইনজীবীরা
আপিল বিভাগে আসেন।
খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন জয়নুল আবেদীন ও খন্দকার মাহবুব হোসেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন মওদুদ আহমদ, নিতাই রায় চৌধুরী, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ আরও কয়েকজন।
অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জামিনের বিরোধিতা করে শুনানিতে অংশ নেন।
আদেশের পর খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “জামিন চেয়ে আমরা আইনি লড়াই চালিয়েছি। সাত বছরের সাজায় জামিন না দেওয়া নজিরবিহীন। এটি সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি কলঙ্কজনক ঘটনা হয়ে থাকবে।”
দুর্নীতির দুই মামলায় মোট ১৭ বছরের দ- মাথায় নিয়ে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত এপ্রিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এর আগে বিভিন্ন মামলায় জামিন হওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকিয়ে ছিলেন জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার জামিন শুনানির দিকে। এ মামলায় জামিন হলেই তার মুক্তির পথ খুলবে বলে তারা আশা করছিলেন। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতেও জামিন না মেলায় আপাতত তার মুক্তি মিলছে না।
হাইকোর্ট এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দিলে গত ১৪ নভেম্বর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৮ নভেম্বর আপিল বিভাগ জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন চায়।
গত ৫ ডিসেম্বর বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা প্রতিবেদন দিতে না পারায় এজলাসে তুমুল হট্টগোলের মধ্যে তাদের আরও ছয় দিন সময় দিয়ে ১২ ডিসেম্বর আদেশের দিন ঠিক করেন আদালত।
সেদিনের হট্টগোলের পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির আদালত কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নেয় হয় কড়া নিরাপত্তা।
আপিল বিভাগের তালিকাভুক্ত না হলে আইনজীবীদের আদালত কক্ষে ঢুকতে বাধা দেওয়ায় সকালে আদালত বসার পর প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সবাই ভেতরে ঢুকতে পারলেও বিএনপিপন্থিদের তালিকাভুক্তি আছে কি না তা দেখা হচ্ছে। এমনকি তার জুনিয়রকেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের মতামতের ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি দুই পক্ষের ৩০ জন করে আইনজীবী থাকার অনুমতি দেন।
ঠিক হয়, খালেদা জিয়ার মামলার শুনানি শুরুর আগে ৫ মিনিট সময় দেওয়া হবে। তখন সবাই বেরিয়ে গিয়ে আবার ঢুকবে। উভয় পক্ষের ৩০ জন করে আদালতকক্ষে থাকতে পারবে।
কিন্তু সকাল ১০টার কিছু সময় পর আপিল বিভাগে খালেদার মামলার শুনানি শুরু হলে দেখা যায় কোনো পক্ষই বেঁধে দেওয়া সংখ্যা মানেনি।
এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি দুই পক্ষের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা কেউ কথা শোনেননি।”
পরে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আগের ও বর্তমান দু’টি মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সেই প্রতিবেদনের সারমর্ম উপস্থাপন করেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, “আপিল বিভাগ ১০ বছর সাজার আসামিকেও জামিন দিয়েছে। পাকিস্তানের মত বর্বর দেশেও নওয়াজ শরীফকে মেডিকেল গ্রাউন্ডে জামিন দিয়েছে, লন্ডনে পঠিয়েছে। মানবিক বিবেচনায় আমরা তার (খালেদা জিয়া) জামিন চাইছি।”
বেলা ১১টার দিকে আদালত বিরতিতে যায়। সাড়ে ১১টায় আবার শুনানি শুরু হলে জয়নুল আবেদীন বক্তব্য উপস্থাপন করেন। জয়নুলের পর বক্তব্য উপস্থাপন করেন খালেদার আরেক আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
পরে রাষ্ট্রপক্ষে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, “দুই মামলায় তিনি (খালেদা জিয়া) ১৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। এটাকে শর্ট সেনটেন্স বলা যায় না। তাছাড়া দুই মামলাতেই আপিল শুনানির জন্য রেডি। এই অবস্থায় জামিন হওয়া উচিৎ নয়।”
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সর্বশেষ মেডিকেল রিপোর্ট থেকে উদ্ধৃত করে শুনানিতে বলেন, “চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার সম্মতি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চিকিৎসকরা তার যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারছেন না। আমরা তার জামিন আবেদন নাকচ করার আর্জি জানাচ্ছি।”
বেলা ১টায় শুনানি শেষে মিনিট দশেক বিরতি দিয়ে সিদ্ধান্ত জানায় আপিল বিভাগ। হাই কোর্টের জামিন খারিজের আদেশই তাতে বহাল থাকে।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • ‘মুজিববর্ষে শিক্ষার্থীদের বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হবে’
  • বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্বের কাছে একটি বিস্ময় -------------বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী
  • বাম হাত বেঁকে গেছে খালেদা জিয়ার, উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন: সেলিমা
  • বিএনপি’র বিজয়ের কোন ইতিহাস নেই : কাদের
  • আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত কমিটির জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন
  • জাতির পিতার নাম এখন আর কেউ মুছে ফেলতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী
  • দক্ষিণ সুরমার লাল মাটিয়ায় ট্রাকের ভেতর থেকে দুটি লাশ উদ্ধার
  • পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাশাপাশি রাজাকারদের অপকর্ম তুলে ধরা হবে -------- মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক
  • জগন্নাথপুরে অটোরিক্সা চাপায় শিশু নিহত
  • বাহুবলে বাস খাদে পড়ে মহিলাসহ ৩ জন নিহত ॥ আহত ২৫
  • সিলেট অভিমুখী পারাবতে আগুন
  • শৈত্যপ্রবাহ আরও থাকবে এরপর বৃষ্টি
  • ছবি
  • মৌলভীবাজারে ট্রাক চাপায় মহিলা নিহত
  •   সিলেটে চার মন্ত্রীর সফর সূচি আজ
  • এ সরকারের আমলে সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যার বিচার হবে না,   খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি
  • মিজানুর রহমান আজহারী ও তারেক মনোয়ারের ওয়াজের বিষয় সংসদে উত্থাপন
  • আইসিজের সিদ্ধান্ত মিয়ানমার যেন এড়িয়ে যেতে না পারে: জাতিসংঘ
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুকে ডক্টর অব লজ ডিগ্রি প্রদান করবে
  • দুর্নীতির ধারণাসূচক : বাংলাদেশের অবস্থান সামান্য পরিবর্তন
  • Developed by: Sparkle IT