প্রথম পাতা

খালেদার জামিন আবেদন সর্বোচ্চ আদালতেও নাকচ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-১২-২০১৯ ইং ০৪:৩০:২৪ | সংবাদটি ২৪৫ বার পঠিত
Image

ডাক ডেস্ক : জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দ-িত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন সর্বোচ্চ আদালতেও নাকচ হয়ে গেছে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ৬ বিচারকের আপিল বেঞ্চ গতকাল
বৃহস্পতিবার
সর্বসম্মত এই সিদ্ধান্ত দেন।
বিএনপি
চেয়ারপারসনের সম্মতি থাকলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
হাসপাতালের
মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দ্রুত ‘অ্যাডভানসড
ট্রিটমেন্ট’ দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে বলেছে আপিল বিভাগ।
জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাত বছরের সাজার রায়ের পর হাই কোর্টে আপিল করে জামিন চেয়েছিলেন তার আইনজীবীরা।
অপরাধের গুরুত্ব, সংশ্লিষ্ট আইনের সর্বোচ্চ সাজা এবং বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদাসহ অন্য আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত- এ তিন বিবেচনায় হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ৩১ জুলাই আবেদনটি খারিজ করে দিলে খালেদার
আইনজীবীরা
আপিল বিভাগে আসেন।
খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন জয়নুল আবেদীন ও খন্দকার মাহবুব হোসেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন মওদুদ আহমদ, নিতাই রায় চৌধুরী, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ আরও কয়েকজন।
অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জামিনের বিরোধিতা করে শুনানিতে অংশ নেন।
আদেশের পর খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “জামিন চেয়ে আমরা আইনি লড়াই চালিয়েছি। সাত বছরের সাজায় জামিন না দেওয়া নজিরবিহীন। এটি সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি কলঙ্কজনক ঘটনা হয়ে থাকবে।”
দুর্নীতির দুই মামলায় মোট ১৭ বছরের দ- মাথায় নিয়ে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত এপ্রিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এর আগে বিভিন্ন মামলায় জামিন হওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকিয়ে ছিলেন জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার জামিন শুনানির দিকে। এ মামলায় জামিন হলেই তার মুক্তির পথ খুলবে বলে তারা আশা করছিলেন। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতেও জামিন না মেলায় আপাতত তার মুক্তি মিলছে না।
হাইকোর্ট এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দিলে গত ১৪ নভেম্বর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৮ নভেম্বর আপিল বিভাগ জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন চায়।
গত ৫ ডিসেম্বর বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা প্রতিবেদন দিতে না পারায় এজলাসে তুমুল হট্টগোলের মধ্যে তাদের আরও ছয় দিন সময় দিয়ে ১২ ডিসেম্বর আদেশের দিন ঠিক করেন আদালত।
সেদিনের হট্টগোলের পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির আদালত কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নেয় হয় কড়া নিরাপত্তা।
আপিল বিভাগের তালিকাভুক্ত না হলে আইনজীবীদের আদালত কক্ষে ঢুকতে বাধা দেওয়ায় সকালে আদালত বসার পর প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সবাই ভেতরে ঢুকতে পারলেও বিএনপিপন্থিদের তালিকাভুক্তি আছে কি না তা দেখা হচ্ছে। এমনকি তার জুনিয়রকেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের মতামতের ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি দুই পক্ষের ৩০ জন করে আইনজীবী থাকার অনুমতি দেন।
ঠিক হয়, খালেদা জিয়ার মামলার শুনানি শুরুর আগে ৫ মিনিট সময় দেওয়া হবে। তখন সবাই বেরিয়ে গিয়ে আবার ঢুকবে। উভয় পক্ষের ৩০ জন করে আদালতকক্ষে থাকতে পারবে।
কিন্তু সকাল ১০টার কিছু সময় পর আপিল বিভাগে খালেদার মামলার শুনানি শুরু হলে দেখা যায় কোনো পক্ষই বেঁধে দেওয়া সংখ্যা মানেনি।
এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি দুই পক্ষের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা কেউ কথা শোনেননি।”
পরে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আগের ও বর্তমান দু’টি মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সেই প্রতিবেদনের সারমর্ম উপস্থাপন করেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, “আপিল বিভাগ ১০ বছর সাজার আসামিকেও জামিন দিয়েছে। পাকিস্তানের মত বর্বর দেশেও নওয়াজ শরীফকে মেডিকেল গ্রাউন্ডে জামিন দিয়েছে, লন্ডনে পঠিয়েছে। মানবিক বিবেচনায় আমরা তার (খালেদা জিয়া) জামিন চাইছি।”
বেলা ১১টার দিকে আদালত বিরতিতে যায়। সাড়ে ১১টায় আবার শুনানি শুরু হলে জয়নুল আবেদীন বক্তব্য উপস্থাপন করেন। জয়নুলের পর বক্তব্য উপস্থাপন করেন খালেদার আরেক আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
পরে রাষ্ট্রপক্ষে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, “দুই মামলায় তিনি (খালেদা জিয়া) ১৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। এটাকে শর্ট সেনটেন্স বলা যায় না। তাছাড়া দুই মামলাতেই আপিল শুনানির জন্য রেডি। এই অবস্থায় জামিন হওয়া উচিৎ নয়।”
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সর্বশেষ মেডিকেল রিপোর্ট থেকে উদ্ধৃত করে শুনানিতে বলেন, “চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার সম্মতি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চিকিৎসকরা তার যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারছেন না। আমরা তার জামিন আবেদন নাকচ করার আর্জি জানাচ্ছি।”
বেলা ১টায় শুনানি শেষে মিনিট দশেক বিরতি দিয়ে সিদ্ধান্ত জানায় আপিল বিভাগ। হাই কোর্টের জামিন খারিজের আদেশই তাতে বহাল থাকে।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • ওসমানী মেডিকেলের আউটসোর্সিং কর্মচারীদের চাকুরী বহালের দাবিতে অনশন
  • দেশে করোনায় আরও ৪৬ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৪৮৯
  • কুলাউড়া হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পুনরায় শুরু
  • কুলাউড়া হাসপাতালে অত্যাধুনিক অক্সিজেন কন্সেনটেটর প্রদান
  • বারুতখানায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৬ জন আহত
  • জুড়ীতে অগ্নিকান্ডে দু’টি দোকান পুড়ে ছাই দশ লাখ টাকার ক্ষতি
  • কণ্ঠশিল্পী সেলিম চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিলেটে চিকিৎসাধীন
  • এমপি কাজী পাপুলের বিরুদ্ধে দেশেও তদন্ত হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের করোনাজয়ী সদস্যরা সংবর্ধিত
  • রাজনগরে ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন, আটক ৬
  • বিজিবি’র ১১৯ মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলে প্রজ্ঞাপন হাইকোর্টে স্থগিত
  • সিলেটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অস্তিত্ব সংকটে
  • সিলেট বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ১১৯, মৃত্যু ১, সুস্থ ৯৪
  • দেশে ২৪ ঘণ্টায় ৫৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩০২৭
  • ছাতকে হুমকির মুখে সোনাই নদী বেড়িবাঁধ ও রাবার ড্যাম প্রকল্প
  • সিলেটে করোনায় শামসুদ্দিন হাসপাতালের আরেক নার্সের মৃত্যু
  • সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্ত ৫২৬২, মৃত্যু ৮৯
  • শায়েস্তাগঞ্জে মোবাইল টাওয়ার থেকে পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু
  • দানবীর ড. রাগীব আলীর শোক প্রকাশ
  • দৈনিক সিলেটের ডাক এর মুদ্রণ ব্যবস্থাপক কানুলাল দেবনাথ আর নেই
  • Image

    Developed by:Sparkle IT